Monthly Archives: নভেম্বর 2011

“শেখ হাসিনার গণতন্ত্র ও একটি ব‍্যক্তিগত পত্র”


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। হ‍্যালো “এক্স ভাই”, শুভেচ্ছা। আপনার সঙ্গে কথা বলে ভালো লাগলো। আপনার নামের সঙ্গে অনেক আগে থেকেই পরিচিত ছিলাম। আজ সরাসরি কথা হলো/দেখা হলো সামাজিক মিডিয়ার কল‍্যাণে। জলবায়ু পরিবর্তন এর পেক্ষিতে বাংলাদেশের সমস‍্যা নিয়ে আমি একটা ছোট্র লেখা লিখেছিলাম। সেটা আমার অনলাইনে ছাপা হয়েছে। ওটার একটা লিংক দিলাম। http://www.eurobangla.org/?p=1274
আমার ক্ষেত্র মূলত. মানবাধিকার ও রাজনীতি। তবে আমি মনে করি এই দুই বিশাল বিষয়ের ভেতরেই আছে অন‍্য সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি। যেমন পরিবেশ, অর্থনীতি দারিদ্র‍্যতা, দুর্নীতি, সাম্রজ‍্যবাদ, শোষণ, নিপীড়ন, বৈষম‍্য ইত‍্যাদি। আমার একটি অনলাইন সংবাদপত্র আছে, যার নাম =ইউরো বাংলা=। এছাড়া আমার বাংলা ব্লগ =পেন আকাশ=, ইংরেজী ব্লগ। জার্মানিতে অনলাইন সাংবাদিকতা ও টিভি সাংবাদিকতার ওপর দুটি কোর্স করেছি। এখন নরওয়েতে শান্তি ও মানবাধিকার বিষয়ে পড়ার ইচ্ছে আছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ‍্যালয় থেকে দর্শন বিষয়ে অনাসর্/মাস্টার্স এবং সাংবাদিকতায় ডিপ্লোমা নেয়ার পর মানবাধিকার রক্ষা ও শোষণ/দুর্নীতমুক্ত এক সমাজ দেখার প্রত‍্যাশায় স্রোতের বিপরীতের সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। হয়ত সেটাই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল। যার খেসারত দিয়েই চলেছি ভিনদেশী ভাষা, সংস্কৃতি, সমাজের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টার মধ‍্য দিয়ে। জানি না এর শেষ কোথায়। যে প্রতিশ্রুতিশীল যুবকটি রাজশাহী থেকে ঢাকা যেতেও আগ্রহী ছিল না সেই এখন সমগ্র মাতৃভূমির আলো/ছায়া, স্নেহ/মমতার বাইরে, অনেক দূরে। আমিতো চাই নি কোনদিন দেশ ছাড়তে। কিন্তু দুর্বৃত্ত রাজনীতির শিকার আমি। না আমি হতাশাবাদী নই, তবে সত‍্য বলতে চাইলে অনেক কথা চলে আসে বা বলতে হয়, এবং যা শুনতে হতাশাবাদি লাগে। রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের বর্তমান মেয়র আর র‍্যাব আমাকে হত‍্যা করতে চেয়েছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন তাদের সফল হয়নি। তবে আমার শরীর ও মনে তারা অসংখ‍্য চিহ্ন আঁকতে সক্ষম হয়েছে। যা আমার উপলব্ধিতে মাঝে মাঝে এখন দোলা দেয় এবং আমার মনে তখন প্রচন্ড ঘৃণা ও ক্ষোভের সঞ্চার হয় এই বলে যে, কেন আমি দেশপ্রেম কিংবা সাম‍্যশিক্ষা পেলাম সমাজর একটা অংশ থেকে বা পরিবার থেকে বা ছাত্র ইউনিয়ন থেকে? আমার চেয়ে কম বেতনে সাংবাদিকতার চাকরি করতেন বা করেন তারা আমার চেয়েও ভাল ছিলেন বা আছেন, এবং তারা যান বা সবার কাছেই প্রিয়! মোটা দাগে আমাদের প্রিয় স্বদেশভূমিতে সততার কোন মূল‍্যই নেই। হাসিনা স্বৈরশাসক এরশাদের সঙ্গে জোট বেঁধেছেন। আর খালেদা যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে। উভয়ের আশা/প্রত‍্যাশায় কোন ফারাক আছে বলে মনে করি না আমি। উভয়ই চান ক্ষমতা, জনতা জনকল‍্যাণ মুখ‍্য নয় উনাদের কাছে। হাসিনার মহাজোট সরকারে ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে কতিপয় “বামপন্থি”ও আবার এখন বুজর্োয়াদের তপ্লিবাহকের ভূমিকায়। দু’চারজন মুজাহিদুল ইসলাম কিই বা করতে পারেন বলুন? গোটা সমাজ পচে গলে যাচ্ছে। দুগর্ন্ধ ছড়াচ্ছে সবর্ত্রই। সুবিধাবাদিতা, স্বার্থপরতা, পরনিন্দা আর “সবাই খারাপ একমাত্র আমিই ভালো” কিংবা “সিদ্ধান্ত মানি তবে তালগাছটি আমারই” এমন এক সমাজ যেখানে বিরাজমান সেখানে আর কি প্রত‍্যাশা করা যায়? অনেক হতাশা, কষ্ট আর সবর্নাশের মাঝেও আমি কিন্তু আশার আলো দেখতে পাই। আশা জেগে আছে দেশের সুবিধাবঞ্ছিত সহজ-সরল সাধারণ কৃষক-শ্রমিক ও জনতার সংযমের ওপরই। কিন্তু এই বৃহৎ জনগোষ্ঠী যেদিন বাগবে সেদিন কিন্তু পালানোর পথ খুঁজে পাবে না লুটেরা ধনবাদী শাসকশ্রেণী। এই বিশ্বাসটি আমার আছে। জনতা একদিন জাগবে জাগবেই। যাহোক, আমি খুবই দু:খিত এই জন‍্য যে আপনার কাছে অনেক অবান্তর কথা লিখে ফেললাম। আমাকে ক্ষমা করবেন। ভালো থাকুন। নিজের শরীরের প্রতি খেয়াল রাখবেন। পরিবারের সবার প্রতি রইলো আমার শ্রদ্ধা। বিনয়াবনত-আকাশ ২৬ নভেম্বর, ২০১১
উল্লেখ‍্য, ব‍্যক্তিগত এই চিঠিটি এক প্রবাসী বাঙালিকে লিখেছি কিছুক্ষণ আগে। ই/মেইলে পাঠিয়েছি পত্রখানা। আমার মনে হলো পত্রখানা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করা দরকার। যাঁকে উদ্দেশ‍্য করে লেখা এই পত্র তাঁর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আর ছবিটি রাজশাহীর ডালাস হোটেলে ২০০২ সালে তোলা। ছবিতে বিচারপতি মানবাধিকার সংগঠক বিশিষ্ট সমাজবাদী নেতা প্রয়াত কে এম সোবহান, মানবাধিকার সংগঠন বিআরসিটির প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব বর্তমান আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস‍্য আকরাম হোসেন চৌধুরী, সাবেক আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস‍্য রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের র্নিবাচিত সভাপতি এডভোকেট তাজুল ইসলাম মোহাম্মদ ফারুক (যিনি দীর্ঘ চার দশকের অধিক সময় ধরে আওয়ামী লীগকে করে আসছেন (১৯৬৭ সালে পাবনার ঈশ্বরদীতে স্থানীয় স্কুলে পড়ার সময় ছাত্রলীগ করা শুরু করেন, এরপর ধাপে ধাপে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান এবং সর্বশেষ ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন, তিনি স্কুলে শিক্ষকতাও করেছেন), যাঁকে কোন কারণ ছাড়াই এবং সামান‍্যতম সম্মান প্রদর্শন ছাড়াই সভাপতির পদ থেকে বাদ দিয়েছেন শেখ হাসিনা. ডা. খলিলুর রহমান, শুশু রজুফা তৎকালিন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের ক‍্যাডারদের হাতে ধর্ষিত হয়েছিলেন এবং আমাকে দেখা যাচ্ছে। editor.eurobangla@yahoo.de, http://www.eurobangla.org/

এক কঠিন ঝড় বইয়ে দাও!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ॥ বাংলাদেশের বড় দুই দলে সামান্য কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া সাধু বা দুর্নীতিমুক্ত রাজনীতিক আছে নাকি? হয়ত সংখ্যা বা মাত্রাগত কিছু পার্থক্য আছে বটে! ঘাতক-যুদ্ধাপরাধী ও স্বৈরাচারিদের ব্যাপারে আমরা সবাই জানি। কিন্তু মুখে আর বক্তৃতায় গণতন্ত্রী এবং দুর্নীতিমুক্ত হলেও বাস্তবে আমরা তার প্রমাণ খুব কমই পাই বড় দুইটি রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে। যারা এই সম্ভাবনাময় দেশটিকে স্বামী কিংবা পিতার কেনা সম্পদ মনে করে চিরদিন ক্ষমতায় থাকতে চায়। বিএনপি-জামায়াত জোট আমলের দুর্নীতি-দু:শাসন সবারই জানা। কিন্তু আজকের বাংলাদেশের বাস্তব অবস্থাটা কি তার চেয়ে খুব বেশি সুখের, শান্তির? দেশের সংবাদমাধ্যমগুলির ওপরে চোখ রাখলেই দেখা যায় হত্যা-খুন, ধর্ষণ, সংখ্যালঘু-আদিবাসি র্নিযাতন এবং রাষ্ট্রীয় হত্যার মহাউৎসব! আগেই বলেছি পরিমাণ বা মাত্রাগত পার্থক্য আছে দুই দলের শাসনামলের মাঝে। আরও আছে ঐতিহ্য ও ইতিহাসগত সুনির্দিষ্ট কতিপয় ব্যবধান। একজন এক টাকা চুরি করলো, আরেকজন এক’শ টাকা চুরি করে। পুঁথিগত বা যুক্তিবিদ্যার ভাষায় উভয়ই চোর।
বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত এক নারী এখন স্কানডিনাভিয়ান দেশ সুইডেনের নাগরিক। যিনি বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামে প্রিয় মানুষটিকে হারিয়েছেন। তিনি একটি বিশেষ দলের এক নেতার জন্মদিনকে উদ্দেশ্য করে ফেইসবুকে লিখেছেন যে, “চোরের রাজার জন্মদিনে চারটি কেক! চোর আর সন্ত্রাসীর জন্মদিনে জাতির আনন্দের আজ সীমা নেই! আহা কি দেশ! কি রাজনীতি! আমরা চোরের জন্মদিন পালন করি!”
আমরা বাঙালি, বাংলাদেশের মানুষ। দলনিরপেক্ষ হয়ে সার্বজনীন সত্যের কাছে যেতে চাই না, আমরা। আমার ভীষণ কষ্ট হয়, যখন দেখি সচেতন মানুষ অন্ধ রাজনৈতিক বিশ্বাসকে জীবন্ত রাখতে গিয়ে পরোক্ষভাবে শোষক-দুর্নীতিবাজদেরই পক্ষ নিয়ে কথা বলেন। না, সবার কথা বলছি না আমি। ব্যতিক্রম আছে, যার শত সহস্র উহাহরণ দেয়া যায়। কিন্ত্র ব্যতিক্রমকে তো আর উদাহরণ হিসেবে নেয়া যায় না।
রাজনৈতিক ইতিহাস সৃষ্টি কিংবা একটি দেশের স্বাধীনতা এনে দেয়ার মানে সেই দেশটটাকে নিজের বাপ-দাদার সম্পদ ভাবা কতটা সমীচীন তা পাঠকরাই বিবেচনা করবেন। দেশের মানুষের কল্যাণ-সুখ-শান্তি প্রতিষ্ঠা করা এবং দেশের অর্থনৈতিক বুনিয়াদকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করতে পারাটাই বড় কথা। সেই জায়গায় দুই দলের অবস্থান কোথায় তারও বিচার করবেন দেশের মানুষই।
হে, আমার প্রকৃতি তুমি আর চুপ করে থেকো না! প্রকৃতি তোমার কাছে আমাদের ফরিয়াদ মিনতি, র্প্রাথনা। বাংলার দুই নেত্রীর মন ও হ্রদয়ের জেদ, হিংসা-বিদ্বেষ এবং তাবৎ গণতন্ত্রহীনতাকে ভেঙ্গে তছনছ করে দেয়ার মতো এক কঠিন ঝড় বইয়ে দাও! যে ঝড়ের তান্ডবলীলায় তাদের ক্ষমতালিপ্সাকে দেশপ্রেমের জাগরণে জাগরিত করবে। দেশের মানুষ শান্তি ফিরে পাবে। কার্টুনের এই ছবিটি নেযা হয়েছে ইন্টারনেট থেকে। editor.eurobangla@yahoo.de, http://www.eurobangla.org/

অশনিসংকেত: হাসিনা ও বাংলাদেশ!!!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ॥ দেশের জনগণের দুর্ভাগ্য যে শেখ হাসিনার একগুয়েমি, অগণতান্ত্রিক মানসকতা আর একক সিদ্ধান্তের কারণে হয়ত বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের সাথে নিয়ে আগামিতে ক্ষমতায় বসতে যাচ্ছে! এর দায়ভার আওয়ামী সমর্থনকারি তরুণ প্রজন্মকেও নিতে হবে। কারণ স্তাবক, সুবিধাবাদি, চাটুকারদের এবং অথর্ব মেরুদন্ডহীন বুদ্ধিদাতাদের কাছ থেকে আওয়ামী লীগ একটা পরীশীলিত গণতান্ত্রিক দলে রুপ দেয়াটা তাদের একটা বড় কাজ। সেটা কী তারা করতে সক্ষম হয়েছে? নাকি বর্তমান হরিবোল অবস্থা থেকে দল হিসেবে আওয়ামী লীগ বা সরকার বেরুতে পারবে কী আগামি দুই বছরের মধ্যে? না হলে যুদ্ধাপরাধীদের গাড়িতে আবার শহীদের রক্তে রঞ্জিত লালখচিত পতাকা আবার উড়বে। নইতো তৃতীয় অপশক্তি সেনাবাহিনী ক্ষমতা নেবে। এতে জনগণের কোন সন্দেহ নেই। শুধু হাসিনা, তাঁর গুণধর পুত্র, বোন আর অন্ধ-দালাল সাগরেদ-পরামর্শদাতারা ঘুমিয়ে আছেন। দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা না দিলে যা হবার তাই হবে। খালেদা কিংবা হাসিনা কার কী আসে যায় তাতে? মহাজোটের অংশীদার স্বৈরাচারি এরশাদকে নিয়ে বলার কিছু নেই। তাঁকে এই দুই নেত্রী রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করলো আবার। অথচ নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পরই যার রাজনীতির কবর রচিত হয়েছিল।
মহাজোটের অন্য শরীক দলগুলিও ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে আনন্দে বিভোর। দেশ গল্লায় গেলে তাদের কিছু আসে যায় কী? আরেক স্বৈরাচারি জেনারেল জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন মুক্তযোদ্ধা। তাঁর অনুসারিরা জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক বলে দাবি করে থাকেন। কন্তু সেই জিয়াই যুদ্ধাপরাধীদের রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার গুরু দায়িত্বটি পালন করে গেছেন। এই মহাসত্য জনগণ ভোলেনি। এনিয়ে রাজনৈতিক তর্ক-লড়াই করার কোন মানে নেই। অসাম্প্রদায়িক-মুক্তযুদ্ধের চেতনার লড়াকু সৈনিক আর সাধারণ জনগণের জন্য এক কঠিন দুর্বিষহ সময় হয়ত নিকট অতীতে অপেক্ষায় আছে!
হাসিনা বা মহাজোট সরকারের ভুল গোটা জাতিকে এক কঠিন অন্ধকারে নিয়ে যাবে এতে গণতন্ত্র ও মানবিকগুণ-বোধসম্পন্ন কেউই অস্বীকার করবেন না-আমার বিশ্বাস। আসলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নয় হাসিনা-খালেদা তাঁদের নিজেদের ওপরেই বিশ্বাস রাখতে পারেন কিনা তা নিয়েও যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। কারণ তাঁদের কাছে জনগণ, দেশ, জনসেবা আর মুখ্য কোন ব্যাপারই নয়। তাঁদের স্পিরিচুয়াল প্রত্যাশা হলো যেনতেন প্রকারে ক্ষমতায় যাওয়া কিংবা ক্ষমতায় চিরজীবনের মতো টিকে থাকা। নইলে খুনি বা খুনের মদদদানকারি ও দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়িদেরকে তাঁরা সংসদ সদস্য কিংবা মন্ত্রি বানাতেন না। খুন বা খুনের মদদদানের অভিযোগ বহু সংসদ সদস্য বা মন্ত্রির বিরুদ্ধেই ইতোমধ্যে উঠেছে-এই সরকারের আমলেও।
বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট আমলের মন্ত্রী-এমপিদের দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার আর সন্ত্রাস, টেন্ডারবাজি, ধর্ষকদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দান করা, লুটপাটসহ নানান অভিযোগ দেশে-বিদেশে বহুল আলোচিত বিষয়। শুধু হাসিনার মহাজোট সরকারই নয় গোটা বাংলাদেশ বাঙালি/বাংলাদেশি জাতির জন্যই এক অশনিসংকেতের পূর্বাভাষের জন্ম দিচ্ছে সরকার নিজ হাতেই। ত্যাগি-দীর্ঘদিনের পরীক্ষীত নেতাদের কারণে অকারণে দূরে সরিয়ে দিয়েছেন স্বয়ং হাসিনা। বাংলাদেশের বড় দুইটি আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে হাসিনা ও খালেদার সিগন্যাল ছাড়া কেউ টু-শব্দটি পর্যন্ত করার সাহস রাখেন না। কাজেই প্রকৃত গণতন্ত্র চর্চাতো সুদূর পরাহত ব্যাপার। এই অবস্থায় অন্যায়-অবিচার, অগণতান্ত্রিক মানসিকতা, বৈষম্যসহ নানান অনিয়মের জালে আটকেপড়া দেশপ্রেমিক জনতা বড্ড অসহায়!!! হাসিনা ও মহাজোট সরকারের কর্মকান্ড নিয়ে পরবর্তীতে আরও লেখার ইচ্ছে রইলো। editor.eurobangla@yahoo.de, http://www.eurobangla.org/

সাইবার অপরাধীদের শাস্তি!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ॥ আমার এক প্রিয় শিক্ষক কাবেরী গায়েন। উনার নীতিবোধ আর মানবিকতা ও অসাম্প্রদায়িক মানসিকতা আমাকে দারুণভাবে আকৃষ্ট করে। যদিও তিনি আমার সরাসরি শিক্ষক নন। কিন্তু আমি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতাম সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য একটি বিভাগের শিক্ষক ছিলেন তিনি। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিশবিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেইসবুকে তিনি একটা স্ট্যাটাস লিখেছেন। তা থেকে জানা গেলো-উনার ইয়াহু একাউন্টটি হেক করেছে সাইবার ক্রাইমের সাথে যুক্ত কেউ। উনি আবার সেই অপরাধীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন! আমিও ব্যক্তিগতভাবে এমন একটা অনাকাঙ্খিত অস্বাভাবিক অবস্থার মুখোমুখি হয়েছি। তাও আবার যখন আমি ইউরোপে আছি তখন এই ঘটনা। সাইবার অপরাধী আমার মর্যাদাহানি ও আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করার মতো এক কঠিন অপকর্মে জড়িত হয়েছিলেন। জানি না এই কাজে সেই সুচতুর অপরাধী ক্রিমিনাল কতটা লাভবান হতে পেরেছে?
যাহো, আপা কাবেরী গায়েন, আপনি খুব স্সুবাভাবিক ও ন্দরভাবে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। আশা করি উনি উপকৃত হতে পারবেন। আমারও একটা অভিজ্ঞতা আছে। আমার ইয়াহু একাউন্টটাও একবার হেক হয়েছিল। আমার একাউন্টটা হেক করে আবার কাছাকাছি নাম পছন্দ করে আরেকটা নতুন একাউন্ট খুলেছিল আমার নামে। এরপর আমার নাম দিয়ে আমার হাজার হাজার কন্টাক্ট এ মেইল করেছিল টাকার জন্য। আমার ধারণা যে ব্যক্তি এই কাজটি করেছিল সেই ব্যক্তিটি আবার আমার সমস্ত কন্টাক্ট পারসনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে উপকৃতও হয়েছেন-আমার ধারণা। যারা এক্সপার্ট এই সাইবার ক্রাইমে তাদের কাছে ই-মেইল একাউন্ট হেক করা কোন ব্যাপারই নয়। কিন্তু অপরাধীদের ধরার উপায় কী, কিভাবে তাদের শাস্তি হতে পারে তার কোন পথ আমার জানা নেই। তাই আমার মতো লোকেরা বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি আমরা। কিন্তু অপরাধীরা ঠিকই তাদের সুবিধাটা আদায় করে চলেছে। এটা খুবই যন্ত্রণাদায়ক। আমি যেটা বুঝতে পেরেছি সেটা হলো-আমার একাউন্ট হেককারি একটি ডাহা মিথ্যা গল্প বানিয়ে আবার ইউরোপে রাজনৈতিক আশ্রয় নেবার চেষ্টা চালাচ্ছেন। সেই ব্যক্তিটি আবার সরকারের একটি বিশেষ বাহিনীর সঙ্গে ওতোপ্রতোভাবে জড়িত। আমার মতো নাদান-অকেজো মানুষদের পক্ষে কী-ই বা করার আছে বলুন?
সাইবার অপরাধীদেরতো শাস্তি হওয়া চাই। কিন্তু এটা কিভাবে সম্ভব? নইলে তারাতো একের পর এক প্রাইভেসী অধিকার হরণ করেই যাবে। editor.eurobangla@yahoo.de, http://www.eurobangla.org/