Author Archives: Pen-Akash for Peace Justice & Democracy

দুবর্ৃত্ত রাজনীতির কী নিষ্ঠুরতম নির্মমতা!

জাহাঙ্গীর আকাশ ।। বীর মুক্তিযোদ্ধা সহিদুল হক (৬৫) সম্মানিভাতার বই বন্ধক রেখে ঋণ নিয়ে জীবনসংসারের চাকাটাকে সচল রাখার প্রাণপন প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দৈনিক প্রথম আলোতে একটি হৃদয়স্পশর্ী রিপোর্ট ছাপা হয়েছে।  চোখে জল চলে এলো ছোট্র এই রিপোর্টটি পড়ে। এটি কী আমার আবেগ, ভাবাবেগ নাকি স্বদেশ, সেখানকার  মানুষ ও জীবনের ওপর দুবর্ৃত্ত রাজনীতির নিষ্ঠুরতম নির্মমতার বিরুদ্ধে মানবমুক্তির আশার আলোর প্রতি আমার হৃদয়ের আকুলতা। সেটা আমার জানা নেই।  

মাতৃভূমির বীর সন্তানদের এই করুণ অবস্থার কারণ দুবর্ৃত্ত রাজনীতি। অথচ আমরা স্বদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রসার ও বিকাশ নিয়ে কত গলাবাজি করেই চলেছি। কোথায় হাসিনা, কোথায় খালেদা, আসলে উনারাতো পরিবার আর ক্ষমতা নিয়ে মেতে আছেন!!!

একজন পতিত স্বৈরাচারকে নিয়ে অপরজন যুদ্ধাপরাধী-জঙ্গিবাদিদের সাথে নিয়ে ক্ষমতার লড়াইয়ে দিনরাত লড়ে চলেছেন, কেউ গদি রক্ষায় আর কেউ চেয়ারে বসার প্রাণান্ত প্রচেষ্টায়। তাই কেউ এলিটফোর্স দিয়ে স্বাভাবিক মানুষকে অস্বাভাবিক দেখিয়ে হাসপাতালে সেবা দেবার নামে গ্রেফতার করছে, আবার কেউ সন্ত্রাসী-যুদ্ধাপরাধিদের ওপর ভর করে বাসা-বাড়ি ও  বাসে, গাড়িতে আগুন দিচ্ছে। জনগণ যেন গাছ, আর উনারা দুইজন হলেন করাত, কাজেই মানুষ যেদিকেই যাবেন কোন ভয় নেই আপনাদের-আপনারা কাটা পড়বেনই করাত দিয়ে!

আসলে মানুষের মুক্তি নেই ওখানে, কোথাও না, কোনভাবেই না যতদিন না লোভী, টাকাওয়ালারা আর দুনর্ীতির জন্মদাতারা জনগণকে শোষণ করা বন্ধ না করে-ততদিন! ওখানে কোন আশা, ভরসা করার মতো কিছু নেই। এভাবেই জীবন, মানুষ, মানবতার নিষ্পেষণই কেবল বাড়বে। প্রিয় মাতৃভূমিতে বাড়ছে কেবল মানুষের ওপর ক্ষমতাবান, লোভী, সুবিধাবাদি, চাটুকার আর দুনর্ীতিবাজ বদমায়েশ রাজনীতিকদের নির্মমতা ও নিষ্ঠুরতার কষাঘাত। এর থেকে পরিত্রাণের উপায় কী-তাও আমার জানা নেই। 

সুদের কারবার ও ক্ষুদ্রঋণ কিভাবে সহিদুলদের জীবনকে বন্ধকী অবস্থার জালে আটকে দিচ্ছে তারও চিত্র ফুটে উঠেছে প্রথম আলোর ছোট্র ওই রিপোর্টে। যাহোক, ওখানে মুক্তিযোদ্ধারা হতভাগ্য আর হাসিনা-খালেদা ও তাঁদের সাঙ্গপাঙ্গরা সর্বদাই ভাগ্যবান! মুক্তিযোদ্ধা সহিদুল হকের জীবনের এই বাস্তবতা যতদিন না বুঝবেন আমাদের রাজনীতিকরা, বিশেষত: হাসিনা-খালেদারা ততদিনই মানুষের মুক্তি, মঙ্গল হবে না, জ্বলবে না আশার আলো।

স্বদেশ বাঁচানোর কেউ নেই!

জাহাঙ্গীর আকাশ ।। যুদ্ধাপরাধ মামলার সাক্ষীকে মেরে ফেললো, সরকার কী ঘাস কাটে? মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? ওরা এখন আরও মরিয়া, নৃশংস, ভয়ংকর ও তান্ডবি হয়ে উঠবে, এতে কোনই সন্দেহ নেই। শুধুমাত্র বড় বড় গালগপ্প আর গণতন্ত্র গণতন্ত্র বলে হৈ-হুল্লোড় করলেই বুঝি সংঘাত, সন্ত্রাস ও সহিংসতা দমন করা যাবে না। ক্ষমতার মোহ পরিহার করার মতো নৈতিক শক্তি আর মনে-প্রাণে ও বাস্তবিকতায় গণতন্ত্রের অনুশীলন ছাড়া কালো ও বর্বর শক্তিকে মোকাবেলা করাটাও অত সহজ হবে না। মহাজোটিদের “ধরি মাছ না ছুঁই পানি” এমন আচরণ, আইনের শাসনহীনতা, ক্ষমতায় চিরস্থায়ী থাকার বাসনা আর দুবর্ৃত্তদের ছাড় দেবার মানসিকতা স্বদেশকে ক্রমাগত অন্ধকারেই নিয়ে যাচ্ছে। আর যারা যুদ্ধাপরাধী, স্বৈরাচার, স্বাধীনতাবিরোধী এবং এই অপশক্তিগুলির আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা রাজনৈতিক দল সম্পর্কে বলার কিছু নেই, কারণ তারাতো ওদের বাঁচাতেই চাইবে, কিন্তু চেতনাধারিরা দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে ওদের বিচারটা শেষ করতে পারলো না! কষ্ট হলো এই স্বদেশকে-এখন মিনি পাকিস্তান, আফগানিস্থান নতুবা একটা তালেবানি আইয়ামে জাহেলিয়াতির রাষ্ট্রে পরিণত করার পথকে সুগম করে দিলো “প্রগতিশীল” সরকারের দোদুল্লমানতা! কে বাঁচাবে আমার স্বদেশকে?

আর নয় জেদাজেদি-অসহিষ্ণুতা-অহমিকা ।। জয় হোক মানুষের, বেঁচে থাক স্বদেশ

Bangladesh

জাহাঙ্গীর আকাশ ॥ আমার, আমাদের ভাগ্য ভালো যে স্বদেশের প্রধানমন্ত্রি ও বিরোধীদলীয় নেত্রীর এই অসহিষ্ণু ঝগড়াটে “গণতন্ত্র”র মুখোশটা ইংরেজী, জার্মান কিংবা নরওয়েজিয়ান ভাষাভাষিরা কেউই বুঝবেন না। নইলে একজন প্রবাসি বাঙালি হিসেবে আমার মাথা লজ্জায় নূয়ে যেতো। বিরোধী নেত্রী উপর্যূপুরি কথা বলছেন, আর প্রধানমন্ত্রি অন্ত:ত কিছুটা ধৈর্য্যের সাথে জবাব দেবার প্রচেষ্টা করছিলেন। আসলে শিক্ষার গুণই আলাদা। এখন বলুন টেলিফোনেই কী মারমুখী আচরণ তাহলে মুখোমুখি সংলাপে বসলে কী অবস্থা হতে পারে?

যত বড়ই শত্রুতা থাকুক যখন কেউ কারও বাসায় আমন্ত্রণ জানান তার মর্যাদা দেয়াটা ব্যক্তি মানুষের ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করে।অন্ত:তপক্ষে বাঙালি সংস্কৃতির মধ্যেতো সৌজন্যতাবোধ এখনও উবে যায়নি! সেই সামান্য সৌজন্যতাটুকু অন্ত:ত বেগম জিয়া দেখাতে পারতেন। খালেদা জিয়া, আমন্ত্রণ নাও গ্রহণ করতে পারেন, বা পারতেন, কিন্তু ঝগড়া লাগানোর মধ্য দিয়ে উনার ব্যক্তিমানসিকতাটাও ফুটে উঠলো জাতির সামনে।

রাজনীতিতো আর সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে ঘর করলেই পরীশীলত হয় না। রাজনীতির জন্য দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম, ত্যাগ আর শিক্ষার দরকার। সেটা কার আছে তা ফোনালাপের ভেতরেই ফুটে উঠেছে, তা আর পরিস্কার করে বলার দরকার পড়ে না।
কে কতবড় গণতান্ত্রিক বা কে কত বেশি ঝগড়া করতে পারলেন অন্যের বিপক্ষে, কার কণ্ঠ রুঢ় আর কার ভাষা মার্জিত বোঝার জন্য কোন গবেষণার দরকার হয় না আর কোন পড়াশোনাও লাগে না। এই অডিও কণ্ঠ যিনিই শুনবেন বা শুনেছেন তিনিই বুঝবেন বা বুঝেছেন যে হাসিনা সহনশীল নাকি খালেদা সহনশীল?
প্রশ্নটা হলো-রাজনীতিটা কার জন্য? রাজনীতি কী মানুষের জন্য, দেশের জন্য নাকি কোন ব্যক্তি বা দলের জন্য? সত্যিই যদি কেউ বা কোন দল দেশের মঙ্গল ও মানুষের কল্যাণ চায় তাহলে হরতাল প্রত্যাহার করার জন্য সময় কোন অজুহাত হতে পারে না। ফোনালাপের ৩৭ মিনিট চলে গেলো পুরনো কাসুন্দি, অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই। উনারা অতীত নিয়ে ঘাটাঘাটি করতেই স্বাচ্ছন্দবোধ করলেন। উনারা বর্তমানের বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্নপথ, মানুষের মুক্তি আর দেশের স্বার্থচিন্তা করার ফুসরতই পেলেন না।
এই সংলাপ, সংলাপ খেলাটাতো আর নতুন কিছু নয় বাংলার মানুষের কাছে। সংলাপ, আলোচনা, পরমত সহিষ্ণুতা আর মিলেমিশে কাজ করার সংস্কৃতি কী আর বাংলাদেশের নেতৃত্ব (অন্ত:ত ভোট ও ক্ষমতার রাজনীতিতে) প্রদানকারি বড় দুইটি রাজনৈতিক দলে দেখা যায়, নাকি এই দল দু`‌টির শীর্ষ নেতারা এই সংস্কৃতিকে ধারণ করেন?
উনারা কী নিজেদের দলের ভেতরেই গণতন্ত্র চর্চা করেন? নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রদানের ক্ষেত্রে উনারা কী তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মতামতের গুরুত্ব প্রদান করেন নাকি কোটিপতি আর ব্যবসায়ীদের “অর্থ”র কাছে নতি স্বীকার করে দলের ত্যাগি ও পুরনো নেতাদের বাদ দিয়ে নব্যদের মনোনয়ন প্রদান করেন?
যাহোক, অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় উনারা অতীত নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে পছন্দ করলেও অতীত থেকে শিক্ষা নিতে চান না। এখানে উল্লেখ্য যে ২০০৬ সালেও দেশে একটা চরম অশান্তিকর অবস্থা তৈরী করা হয়েছিল কেবলমাত্র ক্ষমতার লোভ-মোহ আর পরস্পরবিরোধী অবিশ্বাস ও অসহিষ্ণু মানসিতার কারণে। আজ ঠিক আবার বাংলার আকাশ-বাতাস পেরিয়ে বিদেশভূমে বসেও স্বদেশের মাটিতে ২০০৬ সালের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে ২০১৩ তে এসে।
পরিশেষে বলবো আমাদের বাংলার রাজনীতিতে এই দুই “অত্যাবশ্যকীয়” নেতা যদি অন্ধকার, অসহিষ্ণুতা আর বিষোদগার পছন্দ করেন তবে তো কোন কথাই নেই! কিন্তু উনারা যদি কালো নয় আলোর স্বদেশ দেখতে চান তবে অবশ্যই তাঁদের উভয়কে “তালগাছ” ছেড়ে সংলাপে বসতে হবে, নইলে ভালো দিন কারো জন্যই আসবে না! সেটা তো উনারা উভয়ই টের পেয়েছেন “ড. ফখরুদ্দীন-মঈন উ.”র শাসনকালের দুই বছরে।
আশা করবো উনারা আর পেছনে হাটবেন না, সামনে চলবেন, সহজ ও মসৃণ পথে। খালেদা স্বাধীনতাবিরোধী-যুদ্ধাপরাধী-হেফাজতিদের রক্ষায় হরতাল না দিয়ে গণতন্ত্রচর্চার জন্য, সহনশীলতা বাড়ানোর জন্য, মানুষকে, দেশকে বাঁচানোর লক্ষ্যে শত হরতাল দেবেন! তবে বোমাবাজি-জ্বালাও-পোড়াও-ভাংচুর ও মানুষ মারার হরতাল বন্ধ করবেন।
আর গোটা বাংলাদেশ যে দলটির নেতৃত্ব স্বাধীনতা অর্জন করেছে সেই দলের নেত্রীও স্বৈরাচারের সঙ্গ ত্যাগ করে দলের ত্যাগি নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ণ করবেন, কোন কোটিপতি ব্যবসায়ীকে তার ব্যবসা রক্ষা করার জন্য আগামি নির্বাচনে মনোনয়ন দেবেন না এমন প্রত্যাশা করেই লেখার সমাপ্তি টানছি।
অবসান হোক জেদাজেদি আর অহমিকা-অসহিষ্ণুতার, জয় হোক মানুষের। পৃথিবীর বুকে বেঁচে থাক মোদের স্বদেশ, রবি ঠাকুর, নজরুল আর বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ। ছবি> গুগল থেকে সংগৃহিত।

কমিটি বাতিল নয়, গুন্ডাপান্ডাদের থামান!

14-9-2013 på 1000-Meteren-Akash

জাহাঙ্গীর আকাশ ।। ছাত্রলীগের কমিটি বাতিল আর নেতাদের সতর্ক করে কোন লাভ নেই। এসব স্ট্যান্ডবাজি, সস্তা বাহবা পাবার প্রত্যাশা ছাড়া আর কিছু নয়। অতীতে বহুবার এমন বাতিল, স্থগিত আর সতর্ক বাণী দেশবাসি শুনেছে-দেখেছে। কিন্তু অবস্থার বিন্দুমাত্র পরিবর্তন বাস্তবতা পায়নি। বরং ক্রমশ: শানিত হয়েছে গুন্ডা-পান্ডাদের সন্ত্রাস!
এই বাতিল, স্থগিত আর সতর্ক সংস্কৃতি ছেড়ে দিয়ে গুন্ডা-পান্ডা ও সন্ত্রাসী-ক্যাডারদের এখনই সামলান। নইলে “জয়যাত্রা” বলি আর ট্যাকটিসের রাজনীতি বলি কোনটাই আখেরে কাজে আসবে না। বরং জামাতি, হেফাজতি, মোল্লা-তালেবানি আর যুদ্ধাপরাধীদের হাতে মওকা তুলে দেয়ার পথটাই প্রশস্ত হবে।
সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম শুধু একটি নাম বা একটি দল নন, একটি আদর্শ এবং একটি চেতনার নাম। এই মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমরাই ১৯৭৫ এর ৫ আগষ্টের নৃশংসতম গণহত্যাকান্ডের প্রতিবাদে রাস্তায় বেরিয়ে এসে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন, আজকের প্রজন্মকে এই ইতিহাস কী বঙ্গবন্ধু তনয়া শিখতে দিচ্ছেন নাকি তাদেরকে সন্ত্রাসী হামলার জন্য প্রস্তুত রাখবেন তার একটা যথার্থ সদুত্তর জাতির পিতার কন্যার কাছে প্রত্যাশা করাটা বোধহয় খুব অসমীচীন হবে না!
আওয়ামী লীগ বা মহাজোট যদি সত্যি সত্যিই হেফাজতি-যুদ্ধাপরিধীদের ক্ষমতায় দেখতে না চায় তবে তাদের উচিত হবে শক্তিশালী বাম বিকল্প গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সহায়তা করা। দেশপ্রেমিক বামদের ওপর হামলা-হুমকি, মামলা-জেল-জুলুম করে বরং যুদ্ধাপরাধী-জঙ্গিদের সামনে আসার পথটাকেই সুগম করা হবে। দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা দিতে চাইলে ছাত্রলীগ থেকে গুন্ডা-পান্ডা, সন্ত্রাসী, ক্যাডারদেরকে শায়েস্তা করার মতো সাহস থাকা চাই।

প্রত্যাশার শুভেচ্ছা : চাইছি শান্তি আর সাম্যের স্বদেশ

ToppenavMovikhammaren6-8-2013b17

জাহাঙ্গীর আকাশ ।। ঈদ, পূজা, পার্বন এলে বাঙালি সমাজে শুভেচ্ছা জানানো আর ভালোবাসা প্রদর্শনের একটা হিড়িক পড়ে যায়! ফি বছর বাঙালি জীবনে এসব ফিরে আসে। ফের চলে যায়। কিন্তু লক্ষ-কোটি মানুষের জীবনে যাঁদের নুন আনতে পানতা ফুরোয় তাঁদের কাছে এসব শুভেচ্ছা বিনিময় ও লোক দেখানো আনুষ্ঠানিকতা কতটুকু আনন্দধারা সৃষ্টি করতে পারে-সেটা একটা বড় প্রশ্ন। 

ইন্টারনেটের বদৌলতে আমিও ফি বছর অসংখ্য শুভেচ্ছা পাই। এসব শুভেচ্ছা গতানুগতিক কিনা তাও বলতে চাই না। কিন্তু এটা জানি যে, আমিও বাধ্য হয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে থাকি একই সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে। তবে আমার শুভেচ্ছার মাঝে কেবল নিয়ম রক্ষার বা বন্ধুত্ব রক্ষার শুভেচ্ছা থাকে না। আমার স্বদেশ চিন্তা আমার দেশের মানুষের কল্যাণ ও রাজনীতির ভেতরে যে দুর্বৃত্তপনার দৌরাত্ব বেড়েছে তা যেন বন্ধ করা যায় তারই আশাবাদ প্রকাশ পায়। 

তাই এবারও বিদেশভূমে থেকে আমার বন্ধু, আত্মীয়-স্বজন, সুহৃদ, শ্রদ্ধাভাজনেষু ও প্রিয় দেশবাসি সকলকেই জানাচ্ছি ঈদ শুভেচ্ছা। শুভেচ্ছার সাথে থাকলো আমার প্রত্যাশাও। ঈদের আনন্দ প্রতিটি মানুষের জীবনকে আনন্দময় করে তুলুক। কেটে যাক স্বদেশ তথা বাংলাদেশের সকল অন্ধকার-অমানিশা, নিরসন হোক রাজনীতির সংকট, বন্ধ হোক দুর্নীতি, অবিচার আর হত্যা-নির্যাতনসহ সকল অনাচার। নিপাত যাক স্বৈরাচার, যুদ্ধাপরাধী, ঘাতক মানবতাবিরোধী সকল গোষ্ঠী, ব্যক্তি ও চক্র।

ন্যায়বিচার পাক মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদ, দুই লাখ মা-বোন (যাঁরা র্মযাদা হারিয়েছিলেন) মুক্তিযুদ্ধের শহীদের স্বজনেরা। পরিবারতন্ত্র, ব্যক্তিতন্ত্র, রাজতন্ত্র, ঘুষখোর, সুদখোর, খুনি-নির্যাতনকারি, এমপিতন্ত্র, সন্ত্রাস, জ্বালাও-পোড়াওয়ের রাজনীতি নয়, আমাদের বাংলায় সহনশীলতা, পরমত সহিষ্ণুতা ও পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের মাধ্যমে জনগণের শাসন বা তন্ত্র বা জনকল্যাণের রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হোক। মিডিয়া ও সাংবাদিকরা স্বাধীনতা পাক, সকল মানুষের জান-মাল ও মর্যাদা রক্ষার রাজনীতির সূচনা হোক আমাদের সোনার বাংলায়।

সাংবাদিক সাগর-রুনিসহ সকল সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতন ও অন্য সব হত্যা-নির্যাতনের বিচার হোক দ্রুত। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সবাই মানুষ হিসেবে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে একসাথে মিলেমিশে থাকি, এবং একে অন্যের প্রয়োজনে ভালবাসা ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবো। আমরা সকলেইতো চাইছি একটি সাম্য ও শান্তির বাংলাদেশ এবং পৃথিবী। ভালো থাকুন সবাই। 

সাংবাদিকতা, সহনশীলতা ও ক্রসফায়ারের নামে ডাইরেক্ট হত্যা!

Joy and Tarique

জাহাঙ্গীর আকাশ ।। একজন সাংবাদিক গর্ব আর অহংকারের সাথে ফেইসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিলেন “ক্রসফায়ার” র পক্ষাবলম্বন করে। ভাবখানা এমন যেন এই হত্যাকান্ডে উনি চরম খুশি! ক্ষমতাসীন দলের তল্পিবাহক এই সাংবাদিকের স্ট্যাটাসে একটা প্রতিক্রিয়া লিখেছি। সেটা এরকম- “একজন সাংবাদিকের মুখে এমন কথা মানায় না, কারণ যিনি সারাদিন, সারাক্ষণ অবিচারের বিপক্ষে কথা বলেন, সুন্দর সুন্দর গালভরা কথা লিখেন ফেইসবুকে, তিনি আবার মানুষ খুনকে সমর্থন করেন। এই হলো আমার স্বদেশ! সমাজে বিচার থাকলে, আইনের শাসন থাকলে, দুর্নীতি না থাকলে, দলবাজি না থাকলে, ক্ষমতার অবৈধ দাপট না থাকলে, আয়ের সাথে খরচের সমন্বয় থাকলে, রাজনীতিতে দুবর্ৃত্তায়ন ও পরিবারতন্ত্র না থাকলে, মিডিয়াগুলি তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান বাঁচাতে দুর্নীতির আশ্রয় না নিলে-এসব সন্ত্রাসী সন্ত্রাসী হয়ে উঠতে পারতো কী?” আমার এই প্রতিক্রিয়ার পর আরেক সাংবাদিক লিখলেন যে, ক্ষমতাসীন যুব সংগঠনের এক বড় নেতাকে বাঁচাতে এই ক্রসফায়ার ঘটানো হয়েছে! এরপর আমি আবার একটা ছোট্র প্রতিক্রিয়া লিখলাম সেই স্ট্যাটাসের ওপর। দ্বিতীয় প্রতিক্রিয়াটি ছিল এমন-” হায়দার সাহেব, আপনাদের মতো সাংবাদিকদের কারণেই আজ দেশে আইনের শাসন মার খাচ্ছে। আর আপনি নাহয় এটার কথা বলছেন, কোন ক্রসফায়ারের বিপক্ষে আপনার কলম চলেছে, ফেইসবুকে কিংবা সংবাদপত্রে? শেখ মামুন সাহেবের মতামতের বিশ্লেষণ করুন! আর এটা করতে না পারলে বলবো আপনার মাঝেও গলদ আছে, কিংবা ভাগ পাচ্ছেন (সেটা বিদেশযাত্রার সুযোগ হোক আর আর্থিক কোন সেবা হোক যে নামেই যেভাবেই হোক না কেন)? দালালি ভালো তবে এতো বেশি না! খুনের পরিকল্পনাকারিকে বাঁচাতে যখন কাউকে খুন করে রাষ্ট্রীয় বাহিনী তাহলে বুঝতে হবে গলদটা কোথায়? আর ওই রিপোটর্টা করার পর মামুন সাহেবও “…” না হয়ে যায়! আরেকটি প্রশ্ন- সাংবাদিক সাগর-রুনির খুনিদের ওরা ক্রসফায়ার করে না কেন?”
অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখি আমাকে সেই “মহান” সাংবাদিক ব্লক করে দিয়েছেন! গতবাক বা অবাক হইনি, ব্লক হবার কারণে আমার মনে কোন দু:খবোধও জন্মেনি। কারণ আমি জানি আমার স্বদেশে সহনশীলতার চাষ হয় না, অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাও প্রদর্শনের কোন শিক্ষা কোথাও পাওয়া যায় না। এই সহনশীলতা বা অপরের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থাকলে কী আর হাসিনা ও খালেদারা পরস্পরের বিপক্ষে সারাবেলা “যুদ্ধ” করতেন? না, উনারা দেশের মানুষের জন্য নয় ক্ষমতায় যাওয়া আর টিকে থাকার জন্যই এমন লড়াই চালাচ্ছেন!
কিছুক্ষণ পর স্বদেশের সংবাদমাধ্যমগুলির ওপর চোখ বুলালাম। দৈনিক মানবজমিনের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকৃত চিত্র ফুটে উঠেছে। যুবলীগের দুই পক্ষের এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও অর্থনৈতিক ভাগ বাটোয়ারার কারণেই যুবলীগ নেতা মিল্কি খুন হন। এ ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যুবলীগের আরেক নেতা তারেকসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করে। ব্যস, আর যায় কোথায় শুরু হয়ে গেলো পুরনো কাহিনী। তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধ! হত্যা হলো মিল্কীর সন্দেহভাজন “খুনি” তারেক। অভিযোগ উঠেছে, এলিট ফোর্স আরএবি যুবলীগের কোন বড় নেতাকে বাঁচানোর জন্যই তারেককে ক্রসফায়ারে হত্যা করেছে? এই প্যারামিলিটারি বাহিনীর কিছু লোক চাঁদাবাজি, মাজারের টাকা লুট থেকে শুরু করে ভাড়াটে ও ফরমায়েশি খুনের কাজও করছে বলে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলিতে প্রায়শ:ই লেখালেখি হচ্ছে। কিন্তু তারপরও তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধ থামছে না স্বদেশে! দেশে এখন চলছে দুই পুত্রের রাজনৈতিক চালবাজিতার লড়াই! যাদের একজন তারেক জিয়া অন্যজন সজীব ওয়াজেদ জয়। দেশবাসি জানেন, তারেকের মা ও নিজামির দল এই এলিট বাহিনীকে জন্ম দিয়েছিলেন। আর জয়ের মা সেই “সন্তান”কে পালন করে যাচ্ছেন। জয় নাকি “উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত”! তিনিও এই বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধ নামীয় বর্বর হত্যাযজ্ঞ বন্ধের ব্যাপারে কোন কথা বলছেন না। তাহলে বুঝুন “অল্পশিক্ষিত” যুবরাজ আর “উচ্চশিক্ষিত” জয়ের মধ্যে ফারাকটা কোথায়? আসলে ক্ষমতার লিপ্সার কাছে উভয়ের মাঝে দৃশ্যত কোন পার্থক্য আছে বলে দেশবাসির চোখে পড়ছেন না! দেশের মানুষের মনে একটা ধারণা ও বিশ্বাস জন্মেছে যে এলিট ফোর্সের বা পুলিশের হাতে যতগুলি বন্দুকযুদ্ধের নাটক বা ক্রসফায়ারের গল্প শোনা গেছে তার সবগুলিই ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধ নয় ডাইরেক্ট হত্যাকান্ড! নিহত (তারেকের গুলিতে মিল্কি আর আএবির গুলিতে তারেক) দুই যুবলীগ নেতাই অন্য দল থেকে যুবলীগে আসা। এদের মধ্যে একজন আবার কর্ণেল ফারুক-রশীদের ফ্রিডম পার্টির লোক ছিলেন বলে মানবজমিন লিখেছে।  যাহোক যতই বন্দুকযুদ্ধের নামে “সন্ত্রাসী” কিংবা মানুষ হত্যা করা হোক না কেন স্বদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা না গেলে এবং পরিবারতন্ত্র, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও দুর্নীতি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত সন্ত্রাসও বন্ধ করা যাবে না দেশটাকে সভ্য বলেও আন্তর্জাতিক দুনিয়ায় পরিচয় দেয়া যাবে না। আর দেশে সত্যিকারের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির প্রবর্তন করতে চাইলে সহিষ্ণুতা ও পরমতের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ প্রদর্শনের মতো মানসিকতা গড়ে তোলার কোন বিকল্প নেই। আমাকে ব্লক করে দেয়া সাংবাদিক বন্ধুটির মাঝে সহনশীলতা ও পরমতের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ গড়ে উঠতে শুরু করলে নিশ্চয়ই তারেক ও জয়ের মাঝেও তার চর্চা গড়ে উঠেব, তবেই দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, মানুষ হত্যা ও অন্যান্য সন্ত্রাসও বন্ধ হবে বলে আমার বিশ্বাস। ছবি গুগল থেকে সংগৃহীত।

সরকারের পিঠে রনির চাবুক!

GMRoni

জাহাঙ্গীর আকাশ ।। একজন নিপীড়িত সংবাদকর্মী হিসেবে আমি দারুণ খুশি এই জন্যে যে সরকার একজন সাংবাদিক নির্যাতনকারিকে গ্রেফতার করেছে। অভিযুক্ত নির্যাতনকারি আবার খোদ সরকারদলীয় সংসদ সদস্য। কিন্তু তারপরও কতগুলি প্রশ্নের উদয় হলো আমার মনে। তাই এই লেখাটা আমার  ছোট্র একটা প্রতিক্রিয়া।
দেখলেন তো টাকার কত জোর? বিশেষত: স্বদেশে সবার উপরে টাকা সত্য, তাহার উপরে এলিট ফোর্স। এক দরবেশের ক্ষমতার দাপটে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মাওলার জেলগমন! আহা, কী সুন্দর দেশ, মাগো জন্মেছিলাম তোমার কোলে! সব খুনি, সব নির্যাতনকারিই যদি এমনিভাবে হতো আটক, দেশে আইনের শাসন আছে বলা যেতো! সাগর-রুনির খুনিরা যদি দরবেশ বাবার অপোনেন্ড হতো, আহ! হয়ত সরকার এখন বলার সুযোগ পাবে এই বলে যে, দেখুন আমাদের সময়ে আমরা দলের সংসদ সদস্যকেও গ্রেফতার করছি! অনেক দলীয় মিডিয়াকর্মী এই প্রচারণা এখনই চালাতে শুরু করেছে স্যোশালমিডিয়ায়। আহ! কী দারুণ আইনের শাসন, অন্য খুনিরা, অন্য নির্যাতনকারিদের ধরা হয় না। মিডিয়া মালিক আর টাকাওয়ালার দাপট কত দেখছেন তো! সাগর-রুনির খুনি ধরা হলো না। পরিশেষে সরকার ও সরকার সমর্থকদের বলছি একটি কথা। সেটি হলো-সংসদ সদস্য রিনির ফেইসবুক স্ট্যাটাসটি ভালো করে পড়ুন। সেই স্ট্যাটাসের মর্মার্থ বোঝার চেষ্টা করুন। যদি বুঝতে পারেন তবে দেখবেন সরকারের পিঠে কী কঠিন চাবুক ঠুকে দিয়েছেন রনি গ্রেফতার হতে যাবার ঠিক পূর্ব মুহুর্তে? সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর-রুনিসহ সব সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতনকারিকে গ্রেফতার করে প্রমাণ করুন যে আপনারা কোন দরবেশের টাকা ও দাপটের কাছে নতজানু নন!!! ছবি-মানবজমিনের ওয়েবপাতা থকে নেয়া।

জয় এখন জ্যোতিষী!

SWJ

জাহাঙ্গীর আকাশ ।।মা প্রধানমন্ত্রি ও দলীয় প্রধান, নানা জাতির পিতা। আর এসুবাদেই তিনি আকস্মিকভাবেই আওয়ামী লীগের নেতা তথা মুথপাত্র বনে গেলেন! না উনি আর কেউ নন, সজিব ওয়াজেদ জয়। উনার কাছে নাকি তথ্য আছে, আওয়ামী লীগ আবারও দেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসবে! এই তথ্যটা উনাকে কে দিলো, কিসের ভিত্তিতে উনি এমন আগাম বার্তা পেলেন, দেশে কী সাধারণ নির্বাচন হয়ে গেছে, যার ফলাফলের ভিত্তিতে তিনি এই তথ্যটা জাতিকে জানালেন? গায়েবি এই তথ্যতো কেবল দেশের মানুষেরই জানার কথা, অন্য কেউ না। জয় এখন জ্যোতিষীর ন্যায় আগাম সবকিছু বলে দিতে পারেন! অন্ত:ত উনার সাম্প্রতিক এক মন্তব্য তাই প্রমাণ করে!

হ‍্যাঁ, যদি ৫১ শতাংশ ভোটার উনাকে এমন দস্তখত লিখে দিয়ে থাকেন তাহলে কোন কথা নেই! তবে “নবীন ও তরুণ” এমপিদের কর্মতৎপরতা আর পুরনো ও দলে যাঁদের অবদান সেইসব তৃণমূল মানুষরা যেভাবে অভিমান করে আছেন আর সংগঠনগতভাবে দলের আজকের যে অবস্থা তাতে এমন আগবাড়িয়ে দম্ভ প্রকাশ করাকে সাধারণ ভোটাররা কিভাবে নেবেন তা বলতে পারছি না। তবে হেফাজতি ও যুদ্ধাপরাধীদের কোনপক্ষের সাথে কোনপ্রকারের নতি স্বীকার স্বাধীনতাকামি, অসাম্প্রদায়িক, মুক্তচিন্তার মানুষ বরদাশত করবে বলে আমার মনে হয় না।

সরকারের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হতে চললো আজ অবধি একি পাবলিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপাচার্য নির্বাচন করার মতো সরকার সাহস দেখায়নি! আর সিটি নির্বাচনে যা ঘটলো তাতো আর পর্যালোচনা করে বলার দরকার আছে বলে মনে করি না। যদি আমাদের বঙ্গবন্ধুর মেয়ের ভাষণ অনুযায়ী “দুর্নীতিবাজ”রাই সিটি করপোরশেনের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু পরাজিতরা যে ধুয়া তুলসিপাতা, অন্ত:ত দুর্নীতির ক্ষেত্রে তার প্রমাণ আমার কাছে নেই, হয়ত জনগণের কাছেই আছে। যে জাতির পিতা বাহাত্তরের সংবিধান প্রণয়ন করতে পারেন সেই পিতার মেয়ে ব্রুট মেজরিটির জনমত পেয়েও বাহাত্তরের মূল সংবিধানে ফিরে যেতে ভয় করেন এবং নিজেদের “সাম্প্্রদায়িকতা”র মানসিকতাটুকুর প্রকাশ ঘটান!

খালেদা-নিজামির গর্ভে জন্ম হওয়া এলিটবাহিনীর তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধ আজও থামালো না মহাজোট সরকার, উপরন্তু মানুষ, রাজনীতক গুম হয়ে যাচ্ছে, কোন হদিস মিলছে না! দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে এমন কাউকে আজও বরখাস্ত করার মতো সৎ মানসিকতার পরিচয় দতে পারেনি মহাজোট সরকার, বিশেষত: বঙ্গবন্ধুর মেয়ে, সরকারপ্রধান।

যত অভিযোগ, অনুরাগ, অভিমানই থাকুক, দূর থেকে সারাক্ষণের কামনা আমার স্বদেশে যেন আর কোন যুদ্ধাপরাধীর গাড়িতে জাতীয় পতাকা না উড়ায়, হেফাজতিরা যাতে দেশে শরিয়া আইনের মতো কোন অমানবিক আইন দেশের মানুষের উপর চাপিয়ে দিতে না পারে। তবেই ৩০ লাখ শহীদের আত্মা, মর্যাদা হারানো দুই লাখ মা-বোনের সম্মান রক্ষা হবে।  ছবি গুগল থেকে নেয়া।

সংসদে আরও কত মাওলা রনি আছেন?

Jahangir Akash

জাহাঙ্গীর আকাশ ।। সাংবাদিক একের পর এক মার খাবে। এতে কার কী আসে যায়? সাংবাদিক মারলে কী হয়? কিচ্ছু না! সাংবাদিক নির্যাতন আর হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটবে। একের পর এক এমন ঘটনা ঘটেই চলেছে এবং তা অব্যাহত রবে। অতীতে এমন অমানিবক নির্যাতন হত্যাকান্ড ঘটেছে। আজও ঘটছে। আগামিতেও ঘটবে। সাংবাদিকরা কী শুধু “সন্ত্রাসী” এমপি কিংবা অনৈতিক “ক্ষমতাবান” রাজনীতিকদের হাতে মার খাচ্ছে? নাকি সাংবাদিকদের পুলিশও মারে, প্যারামিলিটারি ফোর্সের সদস্যরাও মারে। সন্ত্রাসী, গুন্ডা, মাদক ব্যবসায়ি, কে মারে না মিডিয়াকর্মীদের? উত্তর-দক্ষিণ, পূর্ব-পশ্চিম সব দিক থেকেই আঘাত আসছে সংবাদকর্মীদের ওপর। সাংবাদিক নির্যাতন ও হত্যাকান্ড ঘটবে, সাংবাদিক নেতারা গলাবাজি করবে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী বলবে তদন্ত হচ্ছে, রাজনীতিকরা বা মন্ত্রি-এমপিরা বলবে অপরাধি যেই হোক তার শাস্তি হবেই হবে! সরকারি পক্ষকে সমর্থন করে এমন সংবাদকর্মী যদি সরকারিপক্ষের কারও দ্বারা আক্রান্ত হয় তবে সরকার সমর্থক সাংবাদিক নেতা, ইউনিয়ন ব্যাপারটি আপোষ করার চেষ্টা করবে। আর আঘাত যদি সরকারবিরোধিদের কাছ থেকে আসে তবে সরকার সমর্থক সংবাদকর্মী ও নেতৃত্ব জোর গলায় কথা বলবে, রাজপথে নেমে হামলাকারির তুলোধুনো করবে এবং বিচার ও শাস্তি চাইবে। আবার কিছুদিন যেতে না যেতেই সব ফিঁকে হয়ে যাবে। সবকিছু আবার আগের জায়গায় আসবে। সরকারসমর্থক মিডিয়াকর্মী সরকার সমর্থকদের হাতে আক্রান্ত হলে সরকারবিরোধী মিডিয়াপল্লী ডুগডুগি বাজাতে শুরু করবে। আর সরকারবিরোধী মিডিয়াকর্মী সরকার সমর্থকদের হাতে আঘাতপ্রাপ্ত হলে ঠিক একইভাবে ডুগডুগি বাজাবে সরকার সমর্থনকারি মিডিয়াপরিবার। এইতো পাল্টাপাল্টি খেলা আর আঙুল চুষার মধ্যেই হামলাকারি, আঘাতকারির পার পেয়ে যাওয়ার পথ সহজতর হওয়া। আবার যদি প্যারামিলিটারি ফোর্সের দ্বারা কোন সাংবাদিক নিযাতিত হয় তবে মিডিয়াপল্লীর সবপক্ষ তথা ডান কিংবা বাম সকলেই চুপসে পড়বে। কেউ কেউ আবার নির্যানকারিদের পক্ষ নিয়ে দালালিতেও নেমে পড়বে। কারণ বাঘের খাঁচায় পড়েও বাঁচার পথ খোঁজা যায়। কিন্তু এই এলিটফোর্সের ছোঁয়া পড়া মানে জীবন বরবাদ। কারণ অবশ্য একটা আছে সেটা হলো ওরা যে কাউকে যে কোন অজুহাতে প্রকাশ্যে খুন, গুম এমনকি লাশটিকেও গায়েব করে দিতে পারে। জীবনের এই রিস্ক মোকাবেলা করতে কে ওতো ঝুঁকি নেবে, আর নেবেই বা কেন? যেখানে খোদ হাসিনা এবং খালেদাও এই ফোর্সকে এগিয়ে নিতে চাইছেন, নিচ্ছেন সেখানে সুবিধাবাদ ও তোষামোদির এই বাংলায় কে অন্যায়-অবিচার আর নির্যাতনের বিপক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়ে একটা খুনি বাহিনীর বিপরীতে পেশা, পেশার মর্যাদা ও সহকর্মীদের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহস দেখাতে পারে? এমন আশা করাটাও এক ধরণের বাড়াবাড়িই বটে! সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সাংবাদিক নির্যাতনের সর্বশেষ ঘটনায় সরকার দলের এক সংসদ সদস্য সরাসরি জড়িত। আমরা জানি বর্তমান সংসদে এমন বহু রনি আছেন যারা সাংবাদিক নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত। কোন নির্যাতনেরই বিচার হয়নি। তবে হামলাকালে ক্ষতি হওয়া ক্যামেরা, মানিব্যাগ কিংবা মোটরসাইকেল ভাঙচুর বাবদ ক্ষতিপূরণের টাকার পরিমাণ নিয়ে দরকষাকষিতে পারঙ্গম কতিপয় সাংবাদিক নেতা ও ক্ষতিগ্রস্ত মিডিয়াকর্মী ক্ষতিপূরণের অর্থ পেয়েই যেন বেজায় খুশি! ঘটনা ঘটলেই শালিশ বা সমঝোতার নামে ক্ষতিগ্রস্তপক্ষ ও হামলাকারি পক্ষকে এক টেবিলে বসনো হবে। সেই টেবিলে উভয়পক্ষের মুরুব্বিরাও থাকবে। এরপর অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের রাগ-অভিমানি বক্তব্য শেষে সববাই মিলে চা-চক্র কখনও কখনও “ভূড়িভোজ” চলে। আর ১০০ টাকার ক্ষতি হলে ক্ষতিপূরণের অংকটা ১০০০ টাকায় গিয়ে পৌঁছে। ব্যস, হামলাকারিও বাঁচে, নির্যাতনভোগকারিও খুশি মোটা অংকের ক্ষতিপূরণ পেয়ে। ফলে এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে বারংবার। স্বাধীনতার ৪২ বছরেও দেশে সাংবাদিকতার একটা কার্যকর নীতিমালা গড়ে তোলা যায়নি। আমি যে দেশে এখন থাকি সেই দেশে সাংবাদিকতার নীতিমালা মেনেই মিডিয়া তার দায়িত্ব পালন করে। সাংবাদিক, মিডিয়া সকলেই স্বাধীন। নীতিমালা অনুসরণ করে স্বাধীনভাবে সবাই যার যার দায়িত্ব পালন করে। পেশা, পেশাগত মর্যাদা ও পেশার স্বাধীনতার প্রশ্নে সাংবাদিক ও মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলি দলমতের উর্দ্ধে ওঠে ঔক্যবদ্ধভাবে কাজ করে। ফলে গণতন্ত্র শাণিত হয়, জনসমস্যা-সংকট ও আকাঙ্খারও প্রতিফলন ওঠে আসে মিডিয়ায়। কিন্তু আমার স্বদেশ।  কী হয় সেখানে? কুড়ি বছরের সাংবাদিকতা জীবনে সেখানে দেখে এলাম শুধু ল্যাং মারামারি আর রাজনৈতিক দলবাজির সাংবাদিকতা! হয় আওয়ামীলিগ বা তার মহাজোটের হয়ে সাংবাদিকতা করা নতুবা বিএনপি বা তার ১৮ দলীয় জোটের পক্ষে নতজানু সাংবাদিকতা! সেখানে তৃতীয় ধারার কথা বলা হয় মাঝেমধ্যেই। এই তৃতীয় ধারাও কখনও কখনও বিলীন হয়ে যায় উপরোল্লিখিত জোট বা মহাজোটের আঁচলে। স্বাধীন ও সৎ সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হয় পেশার রাজনীতিকীকরণের মধ্য দিয়ে। কাজেই এমন মার খাওয়া আর সমঝোতার আলোচনা ও ক্ষতিপূরণ আদায়ের খেলা চলতেই থাকবে আমার স্বদেশে। তাইতো সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতনের বিপরীতেও সাংবাদিক সমাজ এক হতে পারে না, পারবেও না কেয়ামতের পরেও না! সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর-রুনির খুনিদের আজও ধরা হলো না, বিচারতো প্রশ্নই ওঠে না! ক্ষমা চাইলে আর বয়কট কললেই কী সমাধান মিলে? দূর প্রবাসে থেকে দেশমাতার জন্য মন কাঁদে, কষ্ট জাগে। হতাশ হবো না, আমি আশাবাদি এসব  মুখে বললেই কী হতাশাকে জালে পুরে রাখা যায় নাকি আশার আলো দেখা যায় দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতির অবসান না হওয়া পর্যন্ত???

পুরোপুরি শত্রুমুক্ত ও গ্লানিমুক্ত হোক স্বদেশ!

Bangladesh

জাহাঙ্গীর আকাশ ।। হাসিনার মহাজোট সরকার কী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে “তামাশা” মনে করে? নাকি এই ইসু্যকে জিইয়ে রেখে আগামি র্নিবাচনে ভোটের রাজনীতি করতে চায়? যে পথেই যাক মহাজোট সরকার, আগামি র্নিবাচনে জয়লাভ করাটা কতটা সহজ তা কেবল সময়ই বলে দেবে! কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের নিয়ে কোন ছিনিমিনি, ছলচাতুরি দেশের মানুষ (জামাত-শিবির, হেফাজত, যুদ্ধাপরাধী ও পাকিস্তানপন্থিরা ছাড়া) মেনে নেবেন না। হেফাজতকে ছাড় দিয়ে, যুদ্ধাপরাধীদের আইনজীবী ও সাম্রাজ্যবাদি প্রভুদের নিয়ে গোপন বৈঠক করে কিংবা সাপকে যতই দুধ-কলা দিয়ে পোষ মানানোর চেষ্টা করা হোক না কেন, সাপ তার নিজ ধর্ম অনুযায়ী ফণা তুলবেই, তুলবে।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনা কিছুদিন আগে বলেছেন যে, তাঁর সরকারের মেয়াদেই যুদ্ধাপরাধিদের বিচারের রায় কার্যকর করা হবে! আর এখন জাতীয় নেতা ক্যাপ্টেন মুনসুর আলীর সন্তান, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনাকে জয়ী করার মাধ্যমে পুনরায় ক্ষমতায় আনলে দেশে যুদ্ধাপরাধীদের রায় কার্যকর হবে।’ (সূত্র-ইত্তেফাক)। কিছু মন্ত্রি-এমপির লাগামহীন দুর্নীতি, সরকারি দলের ছাত্র সংগঠনের বাড়াবাড়ি, “নবীন ও নতুন” এমপিদের এলাকায় এমপিতন্ত্র আর দলীয় ত্যাগি নেতা-কর্মীদের অবমূল্যায়ণসহ শাসন ব্যবস্থার নানান ত্রুটির কারণে ফ্লোটিং নেগেটিভ ভোটের সমর্থন কিন্তু মহাজোটের ঘরে আসবে না! বিএনপি-জামাতের আমলেও তাদের বিশেষ ভবন, দুর্নীতি, দলীয়করণ, জঙ্গিবাদ ও দু:শাসনের কারণে নেগেটিভ ভোটবিপ্লবের জোয়ারে মহাজোট বিজয়ী হয়েছে বলে অনেকের ধারণা। ঠিক একই অবস্থা হয়তো আগামি নির্বাচনে বিরোধীপক্ষের ঘরে বিজয় এনে দেবে। এঅবস্থাই যুদ্ধাপরাধ ইসু্যর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ইসু্যতে সরকার প্রধান ও সরকারের ক্ষমতাবান নেতাদের পরস্পরবিরোধী মন্তব্য বা বক্তব্য আখেরে সরকারি দলেরই ক্ষতি বৈ লাভ হবে না।
যাহোক এতোদিন জেনে এসেছি যে, অপরাধ, অপরাধের ধরণ ও মাত্রা দেখে অপরাধীর সাজা বা শাস্তি নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। কিন্তু এখন নতুন ধারণা দিলো আমাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইবু্যনাল নাকি রাজাকার শিরোমণি, যুদ্ধাপরাধী গোলাম আজমের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগেরই প্রতিটিই প্রমাণিত হবার পরও বয়স ও শারীরীক অবস্থা বিবেবচনায় নিয়ে সর্বোচ্চ শাস্তি না দিয়ে ৯০ বছরের কারাদন্ড দিয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে এবং নীতিগত কারণে আমি সর্বোচ্চ শাস্তি তথা মৃতু্যদন্ডকে কখনই সমর্থন করি না। গোলাম আজমইতো মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তানিদের পক্ষে তথা গণহত্যার বেসামরিক প্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন। এটা সর্বজন স্বীকৃত একটা সত্য। যে গোলাম আজম মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে, গণহত্যার সঙ্গে জড়িত সেই কুখ্যাত ব্যক্তির বয়স ও শারীরীক অবস্থা বিবেবচনায় নেয়া হলো কোন আইনের বলে? এই প্রশ্নটি করা কী আদালত অবমাননার মধ্যে পড়ে? যদি পড়েও তবুও সেই অবমাননাটুকু করতে কোন দ্বিধা নেই এই কারণে যে, একাত্তরের শহীদ ৩০ লাখ আত্মা, দুই লাখ মা বোনের আত্ম মর্যাদার ওপর আঘাত এবং এসব মানুষের স্বজনদের মনোবেদনার চেয়েও কী একজন গনহত্যাকারির বয়স ও শারীরীক অবস্থা বড় হয়ে দেখা দিতে পারে? যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কী শুধু আওয়ামী লীগ বা হাসিনার সরকারের অভিলাষ নাকি এটা গোটা জাতির (হ্যাঁ, জামাত-শিবির-ঘাতক-যুদ্ধাপরাধী ও তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা রাজনৈতিক দল ছাড়া সকলেই) দাবি?
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কোন খেলা নয়, এটা জাতির জন্য একটা দায়। ৪২ বছর ধরে বাঙালি জাতি কলংক বয়ে বেড়াচ্ছে। সেই কলংক মোচনের একটা উদ্যোগ হলো যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। জাতি সেদিনই কলংকমুক্ত হবে, জাতির দায় সেদিনই ঘুচবে যেদিন দেশে জীবীত সব রাজাকার-যুদ্ধাপরাধীর বিচার হবে (সেটা যাবজ্জীবনই হোক, ৯০ বছরই হোক আর সর্বোচ্চ শাস্তিই হোক)। আর তখনই কেবল শহীদের আত্মা শাস্তি পাবে। শহীদদের স্বজনেরা যেদিন বলতে পারবেন যে আমরা বিচার পেয়েছি সেদিনই জাতি কলংকমুক্ত ও দায়মুক্ত হতে পারবে।
ট্রাইবু্যনালের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, “জামাত একটি সন্ত্রাসী সংগঠন।” বাংলাদেশের সংবিধান মতে কোন সন্ত্রাসী সংগঠন রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধিত হতে পারে না। এখন দেখার বিষয় সরকার এই সন্ত্রাসী সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ কের কিনা? এই জামাত-শিবিরের সন্ত্রাস, তান্ডব এখনও চলছে।
বিএনপি যদি রাজনৈতিক দল হিসেবে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে চায় তাহলে জামাত-শিবিরের সঙ্গ ত্যাগ করতে হবে, নইলে এই সন্ত্রাসী সংগঠনটি একদিন পুরো বিএনপিকে গিলে খাবে- এতে কোন সন্দেহ নেই!
মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দলকেই (ঘাতক-যুদ্ধাপরাধী-জামাত-শিবির ছাড়া) পরিস্কার পথ বেছে নিতে হবে, যুদ্ধাপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া বন্ধ করতে হবে, নইলে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ রক্ষা করা যাবে কিনা-সেই প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই! সরকারকে বলবো জামাত-শিবিরকে এখনই নিষিদ্ধ করো, নইলে ওদের তান্ডবলীলা থামানো যাবে না। ওরা আরও মরিয়া হয়ে উঠবে!!! পুরোপুরি শত্রুমুক্ত ও গ্লানিমুক্ত হোক স্বদেশ-এটাই তো আমার প্রত্যাশা। ছবি-গুগল থেকে নেয়া।