Author Archives: Pen-Akash for Peace Justice & Democracy

ফের সাংবাদিক নির্যাতন> নেপথ‍্যে দুবর্ৃত্ত রাজনীতি!

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। রাজশাহী আমার জন্মস্থান নয়। মানুষ তার জন্মস্থানকে সম্ভবত ভুলতে পারে না। আমার জন্মস্থান পঞ্চগড়। পড়ালেখার জন‍্য আমি আমার জীবনের সেরা সময়টুকু কাটিয়েছি এই রাজশাহীতে।

দীঘর্ বিশ্ববিদ‍্যালয় জীবন এবং সাংবাদিকতা মিলিয়ে পুেরা ১৬ টি বছর কেটেছে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের এই প্রাচীন বিভাগীয় শহরটিতে। রাজশাহীর অলি-গলি আমার চেনা। কী পেশাজীবী, রাজনীতিক, ব‍্যবসায়ী, সাধারণ মানুষ সবই আমার চেনা-জানা। কেউ কেউ আবার খুবই ঘনিষ্ট। তাই রাজশাহীতে েকান কিছু ঘটলে বিশেষত েকান খারাপ খবর েচাখে পড়লে মনে ব‍্যাথা লাগে। কষ্ট পাই, দারুণভাবে ভেঙ্গে পড়ি রাজশাহীর েকান দু:সংবাদে।

আর যখন আমার সহকমীর্, সতীথর্ সাংবাদিক বন্ধুরা নিগৃহীত, লাঞ্ছিত, অপমানিত ও হামলার শিকার হন তখন আর দু:খের শেষ থাকে না। লজ্জায় মাথা নত হয়ে আসে আমার। কারণ আমি আমার সহকমর্ীদের দুদর্িনে কাছে থাকতে পারছি না, সহানুভুতি জানাতে পারি না, পারি না হামলাকারিদের বিচার ও শাস্তির দাবি জানিয়ে রাজপথের মিছিলে সমবেত হতে। তাই দূর থেকেই কেবল েচাখের জল আর আন্তরিক শুভ প্রত‍্যাশার মাধ‍্যমেই আমার মনের আকুতির প্রকাশ ঘটে।

ডিজিটাল যুগের কল‍্যাণে এখন েকান খবর আর বেশি সময় লাগে না পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে যেতে। রাজশাহী মেডিক‍্যাল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ণী চিকিৎসকদের হামলায় ১০ জন সাংবাদিক বন্ধু আহত হয়েছেন। এদের মধ‍্যে একজনের অবস্থা খারাপ, তাকে উনাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। এধরণের হামলা ওখানে নতুন কিছু নয়। আমি যখন রাজশাহীতে সাংবাদিকতা করি তখনও এমন অনেক হামলার ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতালের তৎকালিন কতর্ৃপক্ষ হাসপাতালে সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। জানি না, সেই ফরমান এখনও বলবৎ আছে কি না।

এমন সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটলে মন্ত্রি, এমপি ও মেয়ররা ঘটনাস্থলে ছুটে যান, প্রশাসন ঘটনা তদন্তের জন‍্য কমিটি গঠন করে, সন্ত্রাসী যেই েহাক তার কঠিন  শাস্তি হবে বলে রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্তরা ফাঁপা বুলি আওড়ায়। এবারও তার ব‍্যতিক্রম ঘটেনি। েখাদ হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস‍্য ঘটনাস্থলে গিয়ে দায়িদের বিরুদ্ধে ব‍্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।

আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা বড়ই তেঁেতা। কারণ এধরণের বহু ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু অপরাধীরা শাস্তি পায়নি। হয়নি েকান সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতেনর বিচার। সারাদেশ ঝুড়ে এমন শত শত ঘটনার উদাহরণ দেয়া যাবে। বিশেষ করে রাজশাহীতে সাংবাদিক নির্যাতন-নিপীড়নের ঘটনাগুলির সাথে জড়িতদের সাথে পরবতর্ীতে সমেঝাতার নামে দায়িদের রক্ষা করার বহু নজির রয়েছে।

একটি ঘটনার উদাহরণ দিতে চাই, যদিও এই ঘটনাটি সাংবাদিক নিযর্াতেনর সঙ্গে সরাসরি জড়িত নয়। ২০০৭ সালের ১৮ মে রাজশাহীর বনগ্রামে ওয়াকর্াস পার্টির ওয়াডর্ নেতা মজনু শেখকে রাষ্ট্রীয় বাহিনী পিটিয়ে হত‍্যা করে। তার ওপর অনুসন্ধানীয় রিেপাটর্ এবং মেয়র লিটন, উনার চাচা েলাটনের সন্ত্রাস ও দুনর্ীতির প্রতিবেদন করার মূল‍্য দিতে গিয়ে আমাকেও নিশ্চিত মৃতু‍্যর দুয়ার থেকে ঘুরে আসতে হয়েছে, আর এখন স্বদেশহারা। যােহাক সেই মজনু হত‍্যা মামলাটির ব‍্যাপারে আমাদের সংসদ সদস‍্য বাদশা সাহেব কী উেদ‍্যাগ নিয়েছেন তাও আজ আমার জানা নেই। তবে শুনেছি সদস‍্য বিদায় ক্ষমতাসীন দলের মেয়র নাকি সেই হত‍্যা মামলাটি আেপাষ করতে মজনুর পরিবারের সদস‍্যদের কাছে বারবার ধরণা দিয়েছিলেন। সেই মজনু হত‍্যা মামলার ভাগ‍্যে কী ঘটেছে তার জন‍্য আমাদের সংসদ সদস‍্য বাদশা সাহেব কী েকান ব‍্যবস্থা নিয়েছেন?

আমি এসব সন্ত্রাসী ঘটনা ও হামলার ঘটনার জন‍্য ওই ইন্টাণর্ীদের দায়ি করতে চাই না। কারণ আমি মনে করি স্বদেশে দুবর্ৃত্ত রাজনীতির কারণে এসব গুন্ডাপান্ডারা একটার পর একটা ঘটনা ঘটােনার সাহস পাচ্ছে। আর সমাজে ন‍্যায়বিচার না থাকলে, সবর্ত্র সবর্গ্রাসী দুর্নীতি জিইয়ে থাকলে, দলবাজি বন্ধ না হলে সন্ত্রাস, হামলা, নির্যাতন, অবিচার কী বন্ধ করা যাবে কখনও? না, কখনও সম্ভব নয়।

আমার প্রত‍্যাশা, সাংবাদিক বন্ধুরা দলমত ভুলে একতাবদ্ধ হবেন। সাংবাদিকরা অবিচার আর অন‍্যায়ের সঙ্গে আেপাষ বা সমেঝাতা নয় বরং দুবর্ৃত্তদের বিরুদ্ধে ক্ষুরধার লেখনির মাধ‍্যমে সমাজের মানুষকে জাগিয়ে তুলবেন এসব সন্ত্রাসী হামলা ও গুন্ডামির বিরুদ্ধে।

আমি আশা করি এবার সাংবাদিক হামলাকারিদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব‍্যবস্থা হবে। এই ঘটনার পেছনে েতা আর রাষ্ট্রীয় এলিট বাহিনীর হাত নেই যে বাদশারা ভয় পাবেন!

পরিশেষে সাংবাদিক বন্ধু যারা পেশাগত কারণে নির্যািতত হলেন তাদের প্রতি সহানুভূতি জানাই। ধিক্কার দিচ্ছি হামলাকারি  সন্ত্রাসীদের। ধন‍্যবাদ জানাচ্ছি রাজশাহীর সংসদ সদস‍্য ফজলে েহাসেন বাদশা, আয়েনউদ্দিন ও মেয়র েমাসাদ্দেক েহাসেন বুলবুলকে যাঁরা সাংবাদিকদের ওপর হামলার খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে গিয়েছেন। আর আরেকদফায় উনাদের ধন‍্যবাদ জানােবা তখন, যেদিন হামলাকারিদের শাস্তি হবে।

 

দুবর্ৃত্ত রাজনীতির কী নিষ্ঠুরতম নির্মমতা!

জাহাঙ্গীর আকাশ ।। বীর মুক্তিযোদ্ধা সহিদুল হক (৬৫) সম্মানিভাতার বই বন্ধক রেখে ঋণ নিয়ে জীবনসংসারের চাকাটাকে সচল রাখার প্রাণপন প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দৈনিক প্রথম আলোতে একটি হৃদয়স্পশর্ী রিপোর্ট ছাপা হয়েছে।  চোখে জল চলে এলো ছোট্র এই রিপোর্টটি পড়ে। এটি কী আমার আবেগ, ভাবাবেগ নাকি স্বদেশ, সেখানকার  মানুষ ও জীবনের ওপর দুবর্ৃত্ত রাজনীতির নিষ্ঠুরতম নির্মমতার বিরুদ্ধে মানবমুক্তির আশার আলোর প্রতি আমার হৃদয়ের আকুলতা। সেটা আমার জানা নেই।  

মাতৃভূমির বীর সন্তানদের এই করুণ অবস্থার কারণ দুবর্ৃত্ত রাজনীতি। অথচ আমরা স্বদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রসার ও বিকাশ নিয়ে কত গলাবাজি করেই চলেছি। কোথায় হাসিনা, কোথায় খালেদা, আসলে উনারাতো পরিবার আর ক্ষমতা নিয়ে মেতে আছেন!!!

একজন পতিত স্বৈরাচারকে নিয়ে অপরজন যুদ্ধাপরাধী-জঙ্গিবাদিদের সাথে নিয়ে ক্ষমতার লড়াইয়ে দিনরাত লড়ে চলেছেন, কেউ গদি রক্ষায় আর কেউ চেয়ারে বসার প্রাণান্ত প্রচেষ্টায়। তাই কেউ এলিটফোর্স দিয়ে স্বাভাবিক মানুষকে অস্বাভাবিক দেখিয়ে হাসপাতালে সেবা দেবার নামে গ্রেফতার করছে, আবার কেউ সন্ত্রাসী-যুদ্ধাপরাধিদের ওপর ভর করে বাসা-বাড়ি ও  বাসে, গাড়িতে আগুন দিচ্ছে। জনগণ যেন গাছ, আর উনারা দুইজন হলেন করাত, কাজেই মানুষ যেদিকেই যাবেন কোন ভয় নেই আপনাদের-আপনারা কাটা পড়বেনই করাত দিয়ে!

আসলে মানুষের মুক্তি নেই ওখানে, কোথাও না, কোনভাবেই না যতদিন না লোভী, টাকাওয়ালারা আর দুনর্ীতির জন্মদাতারা জনগণকে শোষণ করা বন্ধ না করে-ততদিন! ওখানে কোন আশা, ভরসা করার মতো কিছু নেই। এভাবেই জীবন, মানুষ, মানবতার নিষ্পেষণই কেবল বাড়বে। প্রিয় মাতৃভূমিতে বাড়ছে কেবল মানুষের ওপর ক্ষমতাবান, লোভী, সুবিধাবাদি, চাটুকার আর দুনর্ীতিবাজ বদমায়েশ রাজনীতিকদের নির্মমতা ও নিষ্ঠুরতার কষাঘাত। এর থেকে পরিত্রাণের উপায় কী-তাও আমার জানা নেই। 

সুদের কারবার ও ক্ষুদ্রঋণ কিভাবে সহিদুলদের জীবনকে বন্ধকী অবস্থার জালে আটকে দিচ্ছে তারও চিত্র ফুটে উঠেছে প্রথম আলোর ছোট্র ওই রিপোর্টে। যাহোক, ওখানে মুক্তিযোদ্ধারা হতভাগ্য আর হাসিনা-খালেদা ও তাঁদের সাঙ্গপাঙ্গরা সর্বদাই ভাগ্যবান! মুক্তিযোদ্ধা সহিদুল হকের জীবনের এই বাস্তবতা যতদিন না বুঝবেন আমাদের রাজনীতিকরা, বিশেষত: হাসিনা-খালেদারা ততদিনই মানুষের মুক্তি, মঙ্গল হবে না, জ্বলবে না আশার আলো।

স্বদেশ বাঁচানোর কেউ নেই!

জাহাঙ্গীর আকাশ ।। যুদ্ধাপরাধ মামলার সাক্ষীকে মেরে ফেললো, সরকার কী ঘাস কাটে? মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? ওরা এখন আরও মরিয়া, নৃশংস, ভয়ংকর ও তান্ডবি হয়ে উঠবে, এতে কোনই সন্দেহ নেই। শুধুমাত্র বড় বড় গালগপ্প আর গণতন্ত্র গণতন্ত্র বলে হৈ-হুল্লোড় করলেই বুঝি সংঘাত, সন্ত্রাস ও সহিংসতা দমন করা যাবে না। ক্ষমতার মোহ পরিহার করার মতো নৈতিক শক্তি আর মনে-প্রাণে ও বাস্তবিকতায় গণতন্ত্রের অনুশীলন ছাড়া কালো ও বর্বর শক্তিকে মোকাবেলা করাটাও অত সহজ হবে না। মহাজোটিদের “ধরি মাছ না ছুঁই পানি” এমন আচরণ, আইনের শাসনহীনতা, ক্ষমতায় চিরস্থায়ী থাকার বাসনা আর দুবর্ৃত্তদের ছাড় দেবার মানসিকতা স্বদেশকে ক্রমাগত অন্ধকারেই নিয়ে যাচ্ছে। আর যারা যুদ্ধাপরাধী, স্বৈরাচার, স্বাধীনতাবিরোধী এবং এই অপশক্তিগুলির আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা রাজনৈতিক দল সম্পর্কে বলার কিছু নেই, কারণ তারাতো ওদের বাঁচাতেই চাইবে, কিন্তু চেতনাধারিরা দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে ওদের বিচারটা শেষ করতে পারলো না! কষ্ট হলো এই স্বদেশকে-এখন মিনি পাকিস্তান, আফগানিস্থান নতুবা একটা তালেবানি আইয়ামে জাহেলিয়াতির রাষ্ট্রে পরিণত করার পথকে সুগম করে দিলো “প্রগতিশীল” সরকারের দোদুল্লমানতা! কে বাঁচাবে আমার স্বদেশকে?

আর নয় জেদাজেদি-অসহিষ্ণুতা-অহমিকা ।। জয় হোক মানুষের, বেঁচে থাক স্বদেশ

Bangladesh

জাহাঙ্গীর আকাশ ॥ আমার, আমাদের ভাগ্য ভালো যে স্বদেশের প্রধানমন্ত্রি ও বিরোধীদলীয় নেত্রীর এই অসহিষ্ণু ঝগড়াটে “গণতন্ত্র”র মুখোশটা ইংরেজী, জার্মান কিংবা নরওয়েজিয়ান ভাষাভাষিরা কেউই বুঝবেন না। নইলে একজন প্রবাসি বাঙালি হিসেবে আমার মাথা লজ্জায় নূয়ে যেতো। বিরোধী নেত্রী উপর্যূপুরি কথা বলছেন, আর প্রধানমন্ত্রি অন্ত:ত কিছুটা ধৈর্য্যের সাথে জবাব দেবার প্রচেষ্টা করছিলেন। আসলে শিক্ষার গুণই আলাদা। এখন বলুন টেলিফোনেই কী মারমুখী আচরণ তাহলে মুখোমুখি সংলাপে বসলে কী অবস্থা হতে পারে?

যত বড়ই শত্রুতা থাকুক যখন কেউ কারও বাসায় আমন্ত্রণ জানান তার মর্যাদা দেয়াটা ব্যক্তি মানুষের ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করে।অন্ত:তপক্ষে বাঙালি সংস্কৃতির মধ্যেতো সৌজন্যতাবোধ এখনও উবে যায়নি! সেই সামান্য সৌজন্যতাটুকু অন্ত:ত বেগম জিয়া দেখাতে পারতেন। খালেদা জিয়া, আমন্ত্রণ নাও গ্রহণ করতে পারেন, বা পারতেন, কিন্তু ঝগড়া লাগানোর মধ্য দিয়ে উনার ব্যক্তিমানসিকতাটাও ফুটে উঠলো জাতির সামনে।

রাজনীতিতো আর সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে ঘর করলেই পরীশীলত হয় না। রাজনীতির জন্য দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম, ত্যাগ আর শিক্ষার দরকার। সেটা কার আছে তা ফোনালাপের ভেতরেই ফুটে উঠেছে, তা আর পরিস্কার করে বলার দরকার পড়ে না।
কে কতবড় গণতান্ত্রিক বা কে কত বেশি ঝগড়া করতে পারলেন অন্যের বিপক্ষে, কার কণ্ঠ রুঢ় আর কার ভাষা মার্জিত বোঝার জন্য কোন গবেষণার দরকার হয় না আর কোন পড়াশোনাও লাগে না। এই অডিও কণ্ঠ যিনিই শুনবেন বা শুনেছেন তিনিই বুঝবেন বা বুঝেছেন যে হাসিনা সহনশীল নাকি খালেদা সহনশীল?
প্রশ্নটা হলো-রাজনীতিটা কার জন্য? রাজনীতি কী মানুষের জন্য, দেশের জন্য নাকি কোন ব্যক্তি বা দলের জন্য? সত্যিই যদি কেউ বা কোন দল দেশের মঙ্গল ও মানুষের কল্যাণ চায় তাহলে হরতাল প্রত্যাহার করার জন্য সময় কোন অজুহাত হতে পারে না। ফোনালাপের ৩৭ মিনিট চলে গেলো পুরনো কাসুন্দি, অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই। উনারা অতীত নিয়ে ঘাটাঘাটি করতেই স্বাচ্ছন্দবোধ করলেন। উনারা বর্তমানের বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্নপথ, মানুষের মুক্তি আর দেশের স্বার্থচিন্তা করার ফুসরতই পেলেন না।
এই সংলাপ, সংলাপ খেলাটাতো আর নতুন কিছু নয় বাংলার মানুষের কাছে। সংলাপ, আলোচনা, পরমত সহিষ্ণুতা আর মিলেমিশে কাজ করার সংস্কৃতি কী আর বাংলাদেশের নেতৃত্ব (অন্ত:ত ভোট ও ক্ষমতার রাজনীতিতে) প্রদানকারি বড় দুইটি রাজনৈতিক দলে দেখা যায়, নাকি এই দল দু`‌টির শীর্ষ নেতারা এই সংস্কৃতিকে ধারণ করেন?
উনারা কী নিজেদের দলের ভেতরেই গণতন্ত্র চর্চা করেন? নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রদানের ক্ষেত্রে উনারা কী তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মতামতের গুরুত্ব প্রদান করেন নাকি কোটিপতি আর ব্যবসায়ীদের “অর্থ”র কাছে নতি স্বীকার করে দলের ত্যাগি ও পুরনো নেতাদের বাদ দিয়ে নব্যদের মনোনয়ন প্রদান করেন?
যাহোক, অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় উনারা অতীত নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে পছন্দ করলেও অতীত থেকে শিক্ষা নিতে চান না। এখানে উল্লেখ্য যে ২০০৬ সালেও দেশে একটা চরম অশান্তিকর অবস্থা তৈরী করা হয়েছিল কেবলমাত্র ক্ষমতার লোভ-মোহ আর পরস্পরবিরোধী অবিশ্বাস ও অসহিষ্ণু মানসিতার কারণে। আজ ঠিক আবার বাংলার আকাশ-বাতাস পেরিয়ে বিদেশভূমে বসেও স্বদেশের মাটিতে ২০০৬ সালের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে ২০১৩ তে এসে।
পরিশেষে বলবো আমাদের বাংলার রাজনীতিতে এই দুই “অত্যাবশ্যকীয়” নেতা যদি অন্ধকার, অসহিষ্ণুতা আর বিষোদগার পছন্দ করেন তবে তো কোন কথাই নেই! কিন্তু উনারা যদি কালো নয় আলোর স্বদেশ দেখতে চান তবে অবশ্যই তাঁদের উভয়কে “তালগাছ” ছেড়ে সংলাপে বসতে হবে, নইলে ভালো দিন কারো জন্যই আসবে না! সেটা তো উনারা উভয়ই টের পেয়েছেন “ড. ফখরুদ্দীন-মঈন উ.”র শাসনকালের দুই বছরে।
আশা করবো উনারা আর পেছনে হাটবেন না, সামনে চলবেন, সহজ ও মসৃণ পথে। খালেদা স্বাধীনতাবিরোধী-যুদ্ধাপরাধী-হেফাজতিদের রক্ষায় হরতাল না দিয়ে গণতন্ত্রচর্চার জন্য, সহনশীলতা বাড়ানোর জন্য, মানুষকে, দেশকে বাঁচানোর লক্ষ্যে শত হরতাল দেবেন! তবে বোমাবাজি-জ্বালাও-পোড়াও-ভাংচুর ও মানুষ মারার হরতাল বন্ধ করবেন।
আর গোটা বাংলাদেশ যে দলটির নেতৃত্ব স্বাধীনতা অর্জন করেছে সেই দলের নেত্রীও স্বৈরাচারের সঙ্গ ত্যাগ করে দলের ত্যাগি নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ণ করবেন, কোন কোটিপতি ব্যবসায়ীকে তার ব্যবসা রক্ষা করার জন্য আগামি নির্বাচনে মনোনয়ন দেবেন না এমন প্রত্যাশা করেই লেখার সমাপ্তি টানছি।
অবসান হোক জেদাজেদি আর অহমিকা-অসহিষ্ণুতার, জয় হোক মানুষের। পৃথিবীর বুকে বেঁচে থাক মোদের স্বদেশ, রবি ঠাকুর, নজরুল আর বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ। ছবি> গুগল থেকে সংগৃহিত।

কমিটি বাতিল নয়, গুন্ডাপান্ডাদের থামান!

14-9-2013 på 1000-Meteren-Akash

জাহাঙ্গীর আকাশ ।। ছাত্রলীগের কমিটি বাতিল আর নেতাদের সতর্ক করে কোন লাভ নেই। এসব স্ট্যান্ডবাজি, সস্তা বাহবা পাবার প্রত্যাশা ছাড়া আর কিছু নয়। অতীতে বহুবার এমন বাতিল, স্থগিত আর সতর্ক বাণী দেশবাসি শুনেছে-দেখেছে। কিন্তু অবস্থার বিন্দুমাত্র পরিবর্তন বাস্তবতা পায়নি। বরং ক্রমশ: শানিত হয়েছে গুন্ডা-পান্ডাদের সন্ত্রাস!
এই বাতিল, স্থগিত আর সতর্ক সংস্কৃতি ছেড়ে দিয়ে গুন্ডা-পান্ডা ও সন্ত্রাসী-ক্যাডারদের এখনই সামলান। নইলে “জয়যাত্রা” বলি আর ট্যাকটিসের রাজনীতি বলি কোনটাই আখেরে কাজে আসবে না। বরং জামাতি, হেফাজতি, মোল্লা-তালেবানি আর যুদ্ধাপরাধীদের হাতে মওকা তুলে দেয়ার পথটাই প্রশস্ত হবে।
সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম শুধু একটি নাম বা একটি দল নন, একটি আদর্শ এবং একটি চেতনার নাম। এই মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমরাই ১৯৭৫ এর ৫ আগষ্টের নৃশংসতম গণহত্যাকান্ডের প্রতিবাদে রাস্তায় বেরিয়ে এসে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন, আজকের প্রজন্মকে এই ইতিহাস কী বঙ্গবন্ধু তনয়া শিখতে দিচ্ছেন নাকি তাদেরকে সন্ত্রাসী হামলার জন্য প্রস্তুত রাখবেন তার একটা যথার্থ সদুত্তর জাতির পিতার কন্যার কাছে প্রত্যাশা করাটা বোধহয় খুব অসমীচীন হবে না!
আওয়ামী লীগ বা মহাজোট যদি সত্যি সত্যিই হেফাজতি-যুদ্ধাপরিধীদের ক্ষমতায় দেখতে না চায় তবে তাদের উচিত হবে শক্তিশালী বাম বিকল্প গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সহায়তা করা। দেশপ্রেমিক বামদের ওপর হামলা-হুমকি, মামলা-জেল-জুলুম করে বরং যুদ্ধাপরাধী-জঙ্গিদের সামনে আসার পথটাকেই সুগম করা হবে। দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা দিতে চাইলে ছাত্রলীগ থেকে গুন্ডা-পান্ডা, সন্ত্রাসী, ক্যাডারদেরকে শায়েস্তা করার মতো সাহস থাকা চাই।

প্রত্যাশার শুভেচ্ছা : চাইছি শান্তি আর সাম্যের স্বদেশ

ToppenavMovikhammaren6-8-2013b17

জাহাঙ্গীর আকাশ ।। ঈদ, পূজা, পার্বন এলে বাঙালি সমাজে শুভেচ্ছা জানানো আর ভালোবাসা প্রদর্শনের একটা হিড়িক পড়ে যায়! ফি বছর বাঙালি জীবনে এসব ফিরে আসে। ফের চলে যায়। কিন্তু লক্ষ-কোটি মানুষের জীবনে যাঁদের নুন আনতে পানতা ফুরোয় তাঁদের কাছে এসব শুভেচ্ছা বিনিময় ও লোক দেখানো আনুষ্ঠানিকতা কতটুকু আনন্দধারা সৃষ্টি করতে পারে-সেটা একটা বড় প্রশ্ন। 

ইন্টারনেটের বদৌলতে আমিও ফি বছর অসংখ্য শুভেচ্ছা পাই। এসব শুভেচ্ছা গতানুগতিক কিনা তাও বলতে চাই না। কিন্তু এটা জানি যে, আমিও বাধ্য হয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে থাকি একই সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে। তবে আমার শুভেচ্ছার মাঝে কেবল নিয়ম রক্ষার বা বন্ধুত্ব রক্ষার শুভেচ্ছা থাকে না। আমার স্বদেশ চিন্তা আমার দেশের মানুষের কল্যাণ ও রাজনীতির ভেতরে যে দুর্বৃত্তপনার দৌরাত্ব বেড়েছে তা যেন বন্ধ করা যায় তারই আশাবাদ প্রকাশ পায়। 

তাই এবারও বিদেশভূমে থেকে আমার বন্ধু, আত্মীয়-স্বজন, সুহৃদ, শ্রদ্ধাভাজনেষু ও প্রিয় দেশবাসি সকলকেই জানাচ্ছি ঈদ শুভেচ্ছা। শুভেচ্ছার সাথে থাকলো আমার প্রত্যাশাও। ঈদের আনন্দ প্রতিটি মানুষের জীবনকে আনন্দময় করে তুলুক। কেটে যাক স্বদেশ তথা বাংলাদেশের সকল অন্ধকার-অমানিশা, নিরসন হোক রাজনীতির সংকট, বন্ধ হোক দুর্নীতি, অবিচার আর হত্যা-নির্যাতনসহ সকল অনাচার। নিপাত যাক স্বৈরাচার, যুদ্ধাপরাধী, ঘাতক মানবতাবিরোধী সকল গোষ্ঠী, ব্যক্তি ও চক্র।

ন্যায়বিচার পাক মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদ, দুই লাখ মা-বোন (যাঁরা র্মযাদা হারিয়েছিলেন) মুক্তিযুদ্ধের শহীদের স্বজনেরা। পরিবারতন্ত্র, ব্যক্তিতন্ত্র, রাজতন্ত্র, ঘুষখোর, সুদখোর, খুনি-নির্যাতনকারি, এমপিতন্ত্র, সন্ত্রাস, জ্বালাও-পোড়াওয়ের রাজনীতি নয়, আমাদের বাংলায় সহনশীলতা, পরমত সহিষ্ণুতা ও পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের মাধ্যমে জনগণের শাসন বা তন্ত্র বা জনকল্যাণের রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হোক। মিডিয়া ও সাংবাদিকরা স্বাধীনতা পাক, সকল মানুষের জান-মাল ও মর্যাদা রক্ষার রাজনীতির সূচনা হোক আমাদের সোনার বাংলায়।

সাংবাদিক সাগর-রুনিসহ সকল সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতন ও অন্য সব হত্যা-নির্যাতনের বিচার হোক দ্রুত। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সবাই মানুষ হিসেবে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে একসাথে মিলেমিশে থাকি, এবং একে অন্যের প্রয়োজনে ভালবাসা ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবো। আমরা সকলেইতো চাইছি একটি সাম্য ও শান্তির বাংলাদেশ এবং পৃথিবী। ভালো থাকুন সবাই। 

সাংবাদিকতা, সহনশীলতা ও ক্রসফায়ারের নামে ডাইরেক্ট হত্যা!

Joy and Tarique

জাহাঙ্গীর আকাশ ।। একজন সাংবাদিক গর্ব আর অহংকারের সাথে ফেইসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিলেন “ক্রসফায়ার” র পক্ষাবলম্বন করে। ভাবখানা এমন যেন এই হত্যাকান্ডে উনি চরম খুশি! ক্ষমতাসীন দলের তল্পিবাহক এই সাংবাদিকের স্ট্যাটাসে একটা প্রতিক্রিয়া লিখেছি। সেটা এরকম- “একজন সাংবাদিকের মুখে এমন কথা মানায় না, কারণ যিনি সারাদিন, সারাক্ষণ অবিচারের বিপক্ষে কথা বলেন, সুন্দর সুন্দর গালভরা কথা লিখেন ফেইসবুকে, তিনি আবার মানুষ খুনকে সমর্থন করেন। এই হলো আমার স্বদেশ! সমাজে বিচার থাকলে, আইনের শাসন থাকলে, দুর্নীতি না থাকলে, দলবাজি না থাকলে, ক্ষমতার অবৈধ দাপট না থাকলে, আয়ের সাথে খরচের সমন্বয় থাকলে, রাজনীতিতে দুবর্ৃত্তায়ন ও পরিবারতন্ত্র না থাকলে, মিডিয়াগুলি তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান বাঁচাতে দুর্নীতির আশ্রয় না নিলে-এসব সন্ত্রাসী সন্ত্রাসী হয়ে উঠতে পারতো কী?” আমার এই প্রতিক্রিয়ার পর আরেক সাংবাদিক লিখলেন যে, ক্ষমতাসীন যুব সংগঠনের এক বড় নেতাকে বাঁচাতে এই ক্রসফায়ার ঘটানো হয়েছে! এরপর আমি আবার একটা ছোট্র প্রতিক্রিয়া লিখলাম সেই স্ট্যাটাসের ওপর। দ্বিতীয় প্রতিক্রিয়াটি ছিল এমন-” হায়দার সাহেব, আপনাদের মতো সাংবাদিকদের কারণেই আজ দেশে আইনের শাসন মার খাচ্ছে। আর আপনি নাহয় এটার কথা বলছেন, কোন ক্রসফায়ারের বিপক্ষে আপনার কলম চলেছে, ফেইসবুকে কিংবা সংবাদপত্রে? শেখ মামুন সাহেবের মতামতের বিশ্লেষণ করুন! আর এটা করতে না পারলে বলবো আপনার মাঝেও গলদ আছে, কিংবা ভাগ পাচ্ছেন (সেটা বিদেশযাত্রার সুযোগ হোক আর আর্থিক কোন সেবা হোক যে নামেই যেভাবেই হোক না কেন)? দালালি ভালো তবে এতো বেশি না! খুনের পরিকল্পনাকারিকে বাঁচাতে যখন কাউকে খুন করে রাষ্ট্রীয় বাহিনী তাহলে বুঝতে হবে গলদটা কোথায়? আর ওই রিপোটর্টা করার পর মামুন সাহেবও “…” না হয়ে যায়! আরেকটি প্রশ্ন- সাংবাদিক সাগর-রুনির খুনিদের ওরা ক্রসফায়ার করে না কেন?”
অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখি আমাকে সেই “মহান” সাংবাদিক ব্লক করে দিয়েছেন! গতবাক বা অবাক হইনি, ব্লক হবার কারণে আমার মনে কোন দু:খবোধও জন্মেনি। কারণ আমি জানি আমার স্বদেশে সহনশীলতার চাষ হয় না, অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাও প্রদর্শনের কোন শিক্ষা কোথাও পাওয়া যায় না। এই সহনশীলতা বা অপরের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থাকলে কী আর হাসিনা ও খালেদারা পরস্পরের বিপক্ষে সারাবেলা “যুদ্ধ” করতেন? না, উনারা দেশের মানুষের জন্য নয় ক্ষমতায় যাওয়া আর টিকে থাকার জন্যই এমন লড়াই চালাচ্ছেন!
কিছুক্ষণ পর স্বদেশের সংবাদমাধ্যমগুলির ওপর চোখ বুলালাম। দৈনিক মানবজমিনের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকৃত চিত্র ফুটে উঠেছে। যুবলীগের দুই পক্ষের এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও অর্থনৈতিক ভাগ বাটোয়ারার কারণেই যুবলীগ নেতা মিল্কি খুন হন। এ ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যুবলীগের আরেক নেতা তারেকসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করে। ব্যস, আর যায় কোথায় শুরু হয়ে গেলো পুরনো কাহিনী। তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধ! হত্যা হলো মিল্কীর সন্দেহভাজন “খুনি” তারেক। অভিযোগ উঠেছে, এলিট ফোর্স আরএবি যুবলীগের কোন বড় নেতাকে বাঁচানোর জন্যই তারেককে ক্রসফায়ারে হত্যা করেছে? এই প্যারামিলিটারি বাহিনীর কিছু লোক চাঁদাবাজি, মাজারের টাকা লুট থেকে শুরু করে ভাড়াটে ও ফরমায়েশি খুনের কাজও করছে বলে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলিতে প্রায়শ:ই লেখালেখি হচ্ছে। কিন্তু তারপরও তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধ থামছে না স্বদেশে! দেশে এখন চলছে দুই পুত্রের রাজনৈতিক চালবাজিতার লড়াই! যাদের একজন তারেক জিয়া অন্যজন সজীব ওয়াজেদ জয়। দেশবাসি জানেন, তারেকের মা ও নিজামির দল এই এলিট বাহিনীকে জন্ম দিয়েছিলেন। আর জয়ের মা সেই “সন্তান”কে পালন করে যাচ্ছেন। জয় নাকি “উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত”! তিনিও এই বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধ নামীয় বর্বর হত্যাযজ্ঞ বন্ধের ব্যাপারে কোন কথা বলছেন না। তাহলে বুঝুন “অল্পশিক্ষিত” যুবরাজ আর “উচ্চশিক্ষিত” জয়ের মধ্যে ফারাকটা কোথায়? আসলে ক্ষমতার লিপ্সার কাছে উভয়ের মাঝে দৃশ্যত কোন পার্থক্য আছে বলে দেশবাসির চোখে পড়ছেন না! দেশের মানুষের মনে একটা ধারণা ও বিশ্বাস জন্মেছে যে এলিট ফোর্সের বা পুলিশের হাতে যতগুলি বন্দুকযুদ্ধের নাটক বা ক্রসফায়ারের গল্প শোনা গেছে তার সবগুলিই ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধ নয় ডাইরেক্ট হত্যাকান্ড! নিহত (তারেকের গুলিতে মিল্কি আর আএবির গুলিতে তারেক) দুই যুবলীগ নেতাই অন্য দল থেকে যুবলীগে আসা। এদের মধ্যে একজন আবার কর্ণেল ফারুক-রশীদের ফ্রিডম পার্টির লোক ছিলেন বলে মানবজমিন লিখেছে।  যাহোক যতই বন্দুকযুদ্ধের নামে “সন্ত্রাসী” কিংবা মানুষ হত্যা করা হোক না কেন স্বদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা না গেলে এবং পরিবারতন্ত্র, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও দুর্নীতি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত সন্ত্রাসও বন্ধ করা যাবে না দেশটাকে সভ্য বলেও আন্তর্জাতিক দুনিয়ায় পরিচয় দেয়া যাবে না। আর দেশে সত্যিকারের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির প্রবর্তন করতে চাইলে সহিষ্ণুতা ও পরমতের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ প্রদর্শনের মতো মানসিকতা গড়ে তোলার কোন বিকল্প নেই। আমাকে ব্লক করে দেয়া সাংবাদিক বন্ধুটির মাঝে সহনশীলতা ও পরমতের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ গড়ে উঠতে শুরু করলে নিশ্চয়ই তারেক ও জয়ের মাঝেও তার চর্চা গড়ে উঠেব, তবেই দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, মানুষ হত্যা ও অন্যান্য সন্ত্রাসও বন্ধ হবে বলে আমার বিশ্বাস। ছবি গুগল থেকে সংগৃহীত।