“নির্বাসনে থেকে” ॥ বাংলাদেশের রাজনীতি-অর্থনীতিতেও একদিন সোনালী সূর্য্য উঠবে!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ॥ বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতে দু’দল আইনজীবী রীতিমতো সন্ত্রাসী মহড়া দিলেন সম্প্রতি। যদিও এমন রিহার্সেল নতুন কোন ঘটনা নয়। বাংলাদেশে এখন আর কোন খারাপ খবর ব্যতিক্রম কিছু মনে হয় না। ছোট বা বড় কোন ভালো কাজই এখন সবচেয়ে বড় ব্যতিক্রম ঘটনা সেখানে। সাংবাদিকতার পাঠ অনুযায়ী সেই ব্যতিক্রমগুলিই এখন আলোচ্য বিষয় হওয়া উচিৎ বলে মনে করি। আমার প্রিয় মাতৃভূমিতে ভালো মানুষের, ভালো কাজের আকাল, এটা বলবো না, বলা যায় না, যাবে না। আমার দৃঢ় বিশ্বাস আশি শতাংশেরও বেশি মানুষ সৎ এবং পুরোপুরি ভালো। অশিক্ষা, দারিদ্রতা, অজ্ঞানতা আর সহজ-সরল এই সংখ্যাগরিষ্ট মানুষগুলি রাজনীতির মারপ্যাচে সেখানে এক বড্ড অসহায়! যারা দুর্বৃত্তায়ন রাজনীতির কাছে জিম্মি। জীবন, পরিবার, সংসার চালাতে যারা হিমশিম খান প্রতিনিয়ত, তারা কী একটা শক্ত অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারেন কোন সাহসী-অহিংস মাহাত্মা গান্ধীর ন্যায় নেতৃত্ব ছাড়া? সেরকম কোন ব্যক্তি ও নেতৃত্বে সেখানে নেই তাও বলা যাবে না, বলছি না। কিন্তু সিস্টেম তাদেরকে এগুতে দেয় না। হয়ত নিকট ভবিষ্যতে কোন বড় গণবিপ্লব অপেক্ষা করছে! যে সংগ্রামে সেই সুপ্ত মানুষ ও নেতৃত্ব জেগে উঠবে! কিন্তু অবশিষ্ট কুড়ি শতাংশ মানুষ যারা অন্ধ রাজনীতির সমর্থক এবং বড় দু’টি রাজনৈতিক দলের সাথে কোন না কোনভাবে যুক্ত তারাই আছে সব সমস্যার মূলে। আর এই সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর দ্বারাই মূলত: হাসিনা-খালেদা পরিচালিত হন তাদের স্তাবক, চাটুকার, দালাল নিয়ন্ত্রিত হয়ে। এসব চাটুকার-সুবিধাবাদীদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য থেকে শুরু করে ছাত্র সংগঠনের নেতা পর্যন্ত আছেন।
আইনজীবীদের সাম্প্রতিক এই কর্মকান্ডটি নিয়ে কানাডা প্রবাসী সাংবাদিক শওগাত আলী সাগর সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেইসবুকে একটি মন্তব্য করেছেন। মন্তব্যটি হলো- “বাংলাদেশের আইনজীবীদের জন্যও একটা ‘আদব লেহাজের’ শিক্ষা দেওনের ইস্কুল খোলা দরকার!” সাগর ভাইয়ের এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানাতে চাইছি।
আমারতো মনে হয়, বাংলাদেশের সর্বনাশের মূলে কিন্তু প্রধানত: রাজনৈতিক অসুস্থ্যতাই দায়ী। সবকিছুর মূলে কিন্তু অসুস্থ্য রাজনৈতিক চর্চা আর অবিচার, অনিয়ম, দুর্নীতি। এসবকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে আমাদের অসুস্থ্য রাজনৈতিক কালচার। আমরা কিন্তু সবাই কমবেশি দায়ী! পেশাদারিত্ব কী কোথাও আছে আমাদের সোনার বাংলাদেশে? শুধু কী আইনজীবীদের মাঝেই এটা লক্ষ্যণীয়, নাকি আমাদের সাংবাদিকতায়ও এটা দেখা যায়? যেমন ধরুন, বসুন্ধরা গ্রুপ অথবা ট্রান্সকম গ্রুপ অথবা এক্স ব্যবসায়ী গ্রুপ ওয়াই ব্যবসায়ী গ্রুপ সমর্থিত সংবাদপত্র/মিডিয়া সেই সন্ত্রাসী/বখাটেপনা আইনজীবীদের মতোই লেখালেখি করেন না কী? ক্ষমতা, অর্থ, স্বার্থ আর অন্যায্যতা-অবিচারের মধ্যে কী আমরা সবাই ডুবে নাই? এসবের অগ্রভাগে আছেন দুই রাজনীতিক। সরাসরিই বললে দোষের কিছু নেই। তারা হলেন হাসিনা আর খালেদা। মোটা দাগে এই দুই নেতার তলে কী সব প্রফেশনাল গ্রুপগুলি নেই? মোটা দাগেই বলি, দুই নেতা, দল ও ক্ষমতার কাছাকাছিতো সংসদ বিচারালয়, আইনজীবী, সাংবাদিক, সম্পাদক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, শিক্ষক, শ্রমিক নেতা, ব্যবসায়ী এককথায় সবাই! সমস্যাটাতো সেখানেই। সংসদ সদস্যদের কথা না হয় বাদই দিলাম। এমপিদের স্ব স্ব এলাকায় তাদের কথা ছাড়া নাকি গাছের পাতাগুলিও আর নড়ে না এখন। জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা কোথাও আছে কী? ব্যতিক্রমতো আছেই, কিন্তু সেটাতো উদাহরণ হয় না।
“শরীরের সর্ব অংশে ব্যথা ওষুধ দিবো কোথা” কিন্তু কেউ কেউ তার একটি ছোট অংশ নিয়েই ব্যস্ত আছি আমরা। নির্বিচারবাদিতা নয় কী? যেখানে দেশের প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেয়া হয় রাজনৈতিক বিবেচনায় জ্যেষ্ঠতা লংঘণ করে!!! যে যত কথাই বলেন না কেন ভাই আসল সমস্যাটা রাজনীতির। মাথা পচলে কী শরীর চলে? রাজনীতি ঠিক হলে অন্য সব ঠিক হবে-ধীরে ধীরে। ভুল বললাম কিনা জানি না। এভাবেই ভাবছি আমি।
যাহোক, দেশটাতে যদি আইনের শাসন, নিয়মের শাসন, ন্যায়বিচারের শাসন থাকতো তাহলে কিন্তু ওই একই আইনজীবীর আচরণ অন্যরকম হতো। তাই নয় কী? ডানপন্থি তথা বিএনপি ও তাদের সমর্থিত জোটের সমর্থকদের মতে “বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রগতিকে এগিয়ে নেয়ার জন্য চাই সাবেক সেনা শাসক স্বাধীনতার ঘোষক জেনারেল জিয়াউর রহমান’র মতো রাজনীতিক”। আবার স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও তাদের সমমনা সমর্থিতরা বলবে “জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর দলই পারে বাংলাদেশটাকে সোনার বাংলায় পরিণত করতে”।
দেশের মানুষ কী কখনও এই দুই পক্ষকে জাতীয় প্রয়োজনে এক কাতারে দাঁড়াতে দেখেছেন? ঠিক নরওয়ে যেভাবে ক’দিন আগে ঐক্যবদ্ধভাবে শান্তির পক্ষে দাঁড়ালো। বাংলাদেশে শান্তি-গণতন্ত্র রক্ষায় দুই নেত্রী বা দুই গ্রুপ এক হতে পারে না কেন?
সমস্যার কথাতো বলাই যায়, অনেক বড় বড় বইও লিখা যায় কিন্তু সমাধানের পথটা কোথায়? বিচার-বুদ্ধি, বিশ্লেষণ ও বিবেচনা ছাড়াও অন্ধ সমর্থন কী আমাদের গোটা জাতিটাকেই অন্ধকারে নিয়ে যাচ্ছে না? সুতরাং, যে আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক পরিবেশ-পরিস্থিতির মধ্যে ডুব আছে আমার বাংলাদেশ সেখানে নতুন কোন স্কুল খুলে কী পার পাওয়া যাবে প্রিয় সাগর ভাই? বাংলাদেশে আলোর পথটি দেখাবে কে এবং কিভাবে? একদিন বাংলাদেশের রাজনীতি-অর্থনীতিতেও সোনালী সূর্য্য উঠবে-সেই প্রত্যাশায় রইলাম আমরা সবাই। ছবি-ইন্টারনেট (গুগল) জাহাঙ্গীর আলম আকাশ, শান্তি-মানবাধিকারবিষয়ক অনলাইন সংবাদপত্র “ইউরো বাংলা”র সম্পাদক (http//www.eurobangla.org/),(https://penakash.wordpress.com/),(editor.eurobangla@yahoo.de)।

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s