নরওয়েজিয়ান ফিরোজা আপনজনদের খোঁজে বাংলায় যাবেন!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ॥ ফিরোজা নামের সেই ছোট্র মেয়েটির বয়স এখন পঞ্চাশ ছুঁই ছুঁই করছে। ইউরোপের অন্যতম ধনী দেশ নরওয়ের নাগরিক। কে তার বাবা-মা কোথায় তার বোনেরা? বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত এই মানুষটি এসবের কিছুই জানেন না। কিন্তু রক্তের বন্ধন কী যায় ছেড়া? ফিরোজা আজও খুঁজে ফেরেন তার প্রিয় ভাই ও বোনদেরকে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালোরাতে পাক শত্রুরা অতর্কিত হামলা করে নিরীহ ঘুমন্ত মানুষগুলির ওপর। এরপর বাংলাদেশের মানুষ মুক্তি সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়ে। র্দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর শত্রুপক্ষ বুঝতে পারে যে তাদের আত্মসমর্পণ ছাড়া কোন উপায় নেই। তাইতো বাংলাদেশ যখন স্বাধীনতার দ্বারপ্রান্তে তখন পাক শত্রুরা নির্বিচারে মানুষ হত্যা করে। স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলার ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হন, আহত হন আর্ও লক্ষ লক্ষ মানুষ। দুই লাখ মা-বোন তাদের মর্যাদা হারান পাক শত্রুদের দ্বারা। বহু শিশু এতিম হয়েছেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকালে। তাদেরই একজন ফিরোজা। পাক শত্রুদের সর্বোতভাবে সহায়তা করে ঘাতক রাজাকার বাহিনী জামায়াত।
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর সকালবেলার কথা। আজকের রাজধানী ঢাকার কাঁটাবন বস্তি এলাকা। রেডক্রসের অ্যাম্বুলেন্স সেখান থেকে বহু গুলিবিদ্ধ মানুষকে তুলে নিয়ে যায় হলিফ্যামিলি হাসপাতালে। আহতদের মধ্যে ফিরোজাও ছিল। ফিরোজার বয়স তখন ৭ বা আট। এর বেশি নয়। ১৯৭২ সালের ২৮ জানুয়ারি বাংলা সংবাদপত্রে দৈনিক বাংলা’য় (সম্ভবত) একটি বক্স রিপোর্ট ছাপা হয়। সেই রিপোর্ট থেকে জানা যায়, একাত্তরের ১৫ ডিসেম্বর রাতে ফিরোজা গুলিবিদ্ধ হন। তার বাম উরুতে গুলি লাগে। ফিরোজারা ছিল চার বোন এবং এক ভাই।তার আরেক বোনের নাম রোকেয়া। ফিরোজা তার বাবা-মায়ের নাম জানাতে পারেননি সেইসময়। ফিরোজার বাবা-মা কী পাক বাহিনীর হাতে শহীদ হয়েছেন? ফিরোজার ভাই ও বোনেরা কী আজও বেঁচে আছেন?
১৯৭২ সালের ১২ মার্চ ফিরোজাকে দত্তক নেন নরওয়ের এক মানবতাবাদী মানুষ। পেয়ার ওট্রো ইসভেয়ারকোরুড নরওয়ের রাজধানী ওসলোর অনতিদূরের একটি শহর এলফেরুম শহরে নিয়ে আসেন ফিরোজাকে। মি.পেয়ার তার পরিবারে নিজের সন্তানের স্নেহে ফিরোজাকে মানুষ করেন। ফিরোজা আজ অনেক বড়। সম্প্রতি ট্রমসো লাইব্রেরীর সিগরিড এর মাধ্যমে আমার পরিচয় হয় আরেক মানবতাবাদী বেয়ারনে জোহাননেস কাস্টনেস’র সঙ্গে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি বাংলাদেশে কাজ কর্মরত ছিলেন। তিনিই ফিরোজার সম্পর্কে জানালেন। বেয়ারনে জানান,ফিরোজা তার বাবা-মা ও বোনদের খোঁজে শিগগিরই বাংলাদেশে যাবেন। ফিরোজারা বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যদের হারিয়ে এতিম হয়েছেন। কিন্তু যারা এর জন্য দায়ী সেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হলো না আজও! লেখক: শান্তি ও মানবাধিকারবিষয়ক অনলাইন সংবাদপত্র “ইউরো বাংলা’র সম্পাদক (editor.eurobangla@yahoo.de), (http://www.eurobangla.org/)।

One response to “নরওয়েজিয়ান ফিরোজা আপনজনদের খোঁজে বাংলায় যাবেন!

  1. Md. Nazrul Islam

    Dear,If Firoza want , I shall help her in this work in my capacity. 01711225247

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s