বাংলাদেশে ভেস্টেড প্রপার্টি অ্যাক্ট রাজনীতি ও হাসিনার মহাজোট সরকার!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ॥ আমার এক প্রিয় সহকর্মী চপল সাহা। বয়সে তিনি আমার চেয়ে অনেক বড়। বাংলাদেশের প্রথম ২৪ ঘন্টার খবরের টিভি চ্যানেলে আমরা একইসঙ্গে কাজ করেছি। তিনি আজ (২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১১) সামাজিক যোগাযোগের গণমাধ্যম ফেইসবুকে একটা স্টাটাস লিখেছেন। স্টাটাসটা এমন “আমাদের বাড়ি আছে। কিন্তু আমরা সেটার মালিক নই। কী আশ্চর্য্য! আইন শুধুমাত্র হিন্দুদের জন্য। আমাদের সম্পত্তি হলো ভেস্টেড। এই কালো আইনটি কে ভাঙবে?”
১৯৬৫ সালে “শত্রু সম্পত্তি আইন” নামে একটি আইন প্রণীত হয়েছিল। এটি একটি কালো, বৈষম্যমূলক ও চরম অমানবিক আইন। যা একটি বিশেষ ধর্মাবলম্বী মানুষদেরকে অধিকারহারা কিংবা বঞ্চিত করেছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পরে এই আইনের নাম পরিবর্তন করে ভেস্টেড বা “অর্পিত সম্পত্তি আইন” এ রুপ দেয়া হয়। এই আইনের কারণে অসংখ্য হিন্তু পরিবার তাদের সম্পদ হারিয়েছেন। কিন্তু আজও আইনটি বাতিল করা হয়নি।
আমার মনে হয় এই আইনটি বাতিল করার ক্ষমতা কিংবা মানসিকতা কারও নেই। কারণ প্রত্যেকেরই আছে স্বার্থ। স্বার্থ সংরক্ষণকারিরা ভিন্ন মতাবলম্বী বা রাজনীতির হলেও তাদের স্বার্থের রুপ একই রকম। মোটা দাগে বলতে গেলে প্রায় সব রাজনৈতিক দলেরই (সামান্য কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া) কিছু প্রভাবশালী লোকেরা হিন্দু সম্পত্তি দখল করে আছে।
বাংলাদেশে একটি সংগঠন আছে যার শাখা আছে ই্যউরোপ-আমেরিকায়। এই সংগঠন মাঝে মাঝে আওয়াজ তোলে আইনটি বাতিল করার জন্য। কিন্তু সেই আওয়াজ পক্ষপাতমূলক বিধায় তাতে কোন ফল আসে না। নেতৃত্ব, কর্তৃত্ব ও রাজনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় সংগঠন বহু ভাগে বিভক্ত। দেশে-বিদেশে যার চিত্র দেখা যায়।
কাজেই ন্যায়বিচার বা বিচার কিভাবে বঞ্চিত ও নিপীড়িত মানুষের সামনে আসবে? আমরা সেটা জানি না। হয়ত আপনারা আমাকে বলতে পারেন, আমি অপটিমিষ্ট নই! কিন্তু আমি সত্য বলতে পছন্দ করি। সত্য উদঘাটনে কাজ করেছি, করছি এবং করেই যাবো জীবনভর।
যদি শেখ হাসিনা বা তাঁর মহাজোট সরকার সব মানুষের জন্য সমান অধিকার দেখতে চাইতেন তাহলে সরকারের দুই বছরের মধ্যে এই আইনটি বাতিল করতেন। কিন্তু হাসিনা সরকারের আড়াই বছর অতিক্রান্ত হলেও তারা সেটা করেনি। বর্তমানে তারা খুবই ব্যস্ত সরকারের মেয়াদ পূর্ণ করতে এবং পুনরায় ক্ষমতায় আসার আকাঙ্খা পূরণে। জনগণের কল্যাণ হলো কি হলো না সেটা কোন বিষয় কী? খালেদা-নিজামীর সরকার অগ্নিকন্যা মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, রাশেদ খান মেনন বা অন্য আরও অনেককে রাজপথে পিটিয়েছে। তাই এখন হাসিনা সরকার জয়নাল আবেদীন ফারুকদেরকে পিটাচ্ছে। হাসিনা ও তাঁর বুদ্ধি-পরামর্শদাতারা বোধহয় এই পিটানোর মধ্যে কোন অন্যায় দেখতে চায় না!
অন্যদিকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এখনও শেষ হয়নি। হাসিনা সরকার বোধহয় এই মুলোটাকে আগামি নির্বাচনের জন্য ঝুলিয়ে রাখতে চায়। আসলে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে। কারণ দাঁত খাকতে দাঁতের মর্যাদা করতে হয়। সেটা তারা ভুলে গেছে। কারণ ক্ষমতার নেশায় তারা বুদ হয়ে আছে এখন।
যাহোক ভেস্টেড প্রপার্টি অ্যাক্টটি এক্ষুণি বাতিল করে দেয়া জরুরি। এই অন্যায্য আইনটি বাতিল করে সম্পত্তি ও ঘরবাড়িগুলি আসল মালিক হিন্দুদের কাছে ফিরিয়ে দেয়াটাই হবে হাসিনা বা যে কোন সরকারের জন্য আশির্বাদস্বরুপ।
দেশের মানুষ জানে আরেক নেতা খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধী জামায়াত-শিবিরগোষ্ঠীর প্রতি খুবই স্নেহপরায়ণ। ক্ষমতায় যাওয়া ও ক্ষমতা টেকসই করতেই তিনি এই স্নেহ বিলিয়ে যাচ্ছেন ঘৃণিত এই শক্তির প্রতি। সুতরায় খালেদা অর্পিত সম্পত্তি আইন বাতিল করবেন। এটা জনগণ বিশ্বাস করে না। কিন্তু হাসিনা কেন এই কাজটি করছেন না? তিনি কী নিজেই ধর্মনিরপেক্ষতা ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র বা আইনে বিশ্বাস করেন না? নাকি তিনি চাটুকার-তোষামদকারিদের মুখে স্তুতিগান শুনেই অন্ধ হয়ে আছেন?ভোট এল কেবল ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও আদিবাসিদের অধিকার নিয়ে বড় রাজনৈতিক দলগুলি বেশ হৈ-চৈ ফেলে দেয়। ওরা সংখ্যালঘু ও আদিবাসিদেরকে ভোট রাজনীতির পুতুল মনে করে!
অন্যায্য-বৈষম্যমূলক আচরণ জিইয়ে রেখে কোন সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায় কি? দেশে সাম্য, ন্যায্যতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় অর্পিত সম্পত্তি আইনটি বাতিল করার কার্যকর উদ্যোগ হাসিনা সরকার নেবে বলে আশা করি আমরা। Jahangir Alam Akash, Editor of Euro Bangla. http://www.eurobangla.org/

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s