Daily Archives: 17/10/2011

হাসিনার মহাজোট সরকার রাষ্ট্রধর্ম প্রথা কী বাতিল করবে?


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। এরশাদ, যিনি স্বৈরাচারী, ডা. মিলনের হত্যাকারী, দীর্ঘ নয় বছর বাংলাদেশে সেনা শাসন চালিয়েছেন। সেই নষ্ট-দুঃশ্চরিত্রবান স্বৈরশাসক জেনারেল এইচ এম এরশাদ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলাম অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। অবশ্য আরেক জেনারেল জিয়াউর রহমান যিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং পরবর্তীতে স্বাধীনতাবিরোধীদের পুনর্বাসনকারি হিসেবে পরিচিত। তিনিই বাংলাদেশের সংবিধানে প্রথম সাম্প্রদায়িকতার কালো টিপ পরিয়ে দিয়েছিলেন।
যাহোক, এরশাদ এখন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের অন্যতম শরিক। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনের আগে আমি আমি আমার এক লেখায় প্রশ্ন রেখেছিলাম যে, “যদি এই মহাজোট ২৯ ডিসেম্বরের পর সরকার গঠন করলে রাষ্ট্রধর্ম প্রথা কী বাতিল করে দেশকে রাষ্ট্রীয়ভাবে অসাম্প্রদায়িক করার উদ্যোগ নেবে?”
বিএনপি-জামায়াত জোটের অত্যাচার-নির্যাতন আর দুর্নীতির যাতাকলে পড়ে দেশবাসি হাসিনা-এরশাদের মহাজোটকে বেছে নেন নির্বাচনের মাধ্যমে। ব্রুট মেজরিটির মহাজোট সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণ করে। কিন্তু আজও রাষ্ট্রধর্ম প্রথা বাতিল করেনি। ক্ষমতার মসনদে বসার তিন বছর হতে চলেছে হাসিনার। কিন্তু “ইসলাম” সেখানে এখনও বহাল আছে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান আর আদিবাসি সমন্বয়ে ১৯৭১ সালের মুক্তিসংগ্রামে দেশের আপমর জনতা ঝাপিয়ে পড়েছিলেন। একমাত্র স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত ও কতিপয় উগ্র বামপন্থি স্বাধীনতার বিরোধিতা করে। জামায়াত খুনি পাক বাহিনীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে বাংলার ইনটেলেকচুয়ালগোষ্ঠীকে শেষ করে দিতে চেয়েছিল। তারা বেছে বেছে হত্যা করে মেধাবি সাংবাদিক, ডাক্তার ও অন্যান পেশাজীবীদের অনেকেকেই।
এরশাদ ঘাতক জামায়াতে ইসলামীর ন্যায় ব্লাশফেমী আইন প্রণয়ন ও দেশটাকে আটটি প্রদেশে বিভক্ত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন নির্বাচনী ইশতেহারে। সেই এরশাদ এখন হাসিনার আওয়ামী লীগের নেতৃত্যৌবাধীন মহাজোট সরকারের পার্টনার।
বঙ্গবন্ধু কন্যা বাংলাদেশকে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে ১৯৭২ এর সংবিধানের পরিপূর্ণ পুন:প্রবর্তন করবেন কতদিনে, তা জানতে বড় ইচ্ছে করে!