অশনিসংকেত: হাসিনা ও বাংলাদেশ!!!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ॥ দেশের জনগণের দুর্ভাগ্য যে শেখ হাসিনার একগুয়েমি, অগণতান্ত্রিক মানসকতা আর একক সিদ্ধান্তের কারণে হয়ত বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের সাথে নিয়ে আগামিতে ক্ষমতায় বসতে যাচ্ছে! এর দায়ভার আওয়ামী সমর্থনকারি তরুণ প্রজন্মকেও নিতে হবে। কারণ স্তাবক, সুবিধাবাদি, চাটুকারদের এবং অথর্ব মেরুদন্ডহীন বুদ্ধিদাতাদের কাছ থেকে আওয়ামী লীগ একটা পরীশীলিত গণতান্ত্রিক দলে রুপ দেয়াটা তাদের একটা বড় কাজ। সেটা কী তারা করতে সক্ষম হয়েছে? নাকি বর্তমান হরিবোল অবস্থা থেকে দল হিসেবে আওয়ামী লীগ বা সরকার বেরুতে পারবে কী আগামি দুই বছরের মধ্যে? না হলে যুদ্ধাপরাধীদের গাড়িতে আবার শহীদের রক্তে রঞ্জিত লালখচিত পতাকা আবার উড়বে। নইতো তৃতীয় অপশক্তি সেনাবাহিনী ক্ষমতা নেবে। এতে জনগণের কোন সন্দেহ নেই। শুধু হাসিনা, তাঁর গুণধর পুত্র, বোন আর অন্ধ-দালাল সাগরেদ-পরামর্শদাতারা ঘুমিয়ে আছেন। দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা না দিলে যা হবার তাই হবে। খালেদা কিংবা হাসিনা কার কী আসে যায় তাতে? মহাজোটের অংশীদার স্বৈরাচারি এরশাদকে নিয়ে বলার কিছু নেই। তাঁকে এই দুই নেত্রী রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করলো আবার। অথচ নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পরই যার রাজনীতির কবর রচিত হয়েছিল।
মহাজোটের অন্য শরীক দলগুলিও ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে আনন্দে বিভোর। দেশ গল্লায় গেলে তাদের কিছু আসে যায় কী? আরেক স্বৈরাচারি জেনারেল জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন মুক্তযোদ্ধা। তাঁর অনুসারিরা জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক বলে দাবি করে থাকেন। কন্তু সেই জিয়াই যুদ্ধাপরাধীদের রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার গুরু দায়িত্বটি পালন করে গেছেন। এই মহাসত্য জনগণ ভোলেনি। এনিয়ে রাজনৈতিক তর্ক-লড়াই করার কোন মানে নেই। অসাম্প্রদায়িক-মুক্তযুদ্ধের চেতনার লড়াকু সৈনিক আর সাধারণ জনগণের জন্য এক কঠিন দুর্বিষহ সময় হয়ত নিকট অতীতে অপেক্ষায় আছে!
হাসিনা বা মহাজোট সরকারের ভুল গোটা জাতিকে এক কঠিন অন্ধকারে নিয়ে যাবে এতে গণতন্ত্র ও মানবিকগুণ-বোধসম্পন্ন কেউই অস্বীকার করবেন না-আমার বিশ্বাস। আসলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নয় হাসিনা-খালেদা তাঁদের নিজেদের ওপরেই বিশ্বাস রাখতে পারেন কিনা তা নিয়েও যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। কারণ তাঁদের কাছে জনগণ, দেশ, জনসেবা আর মুখ্য কোন ব্যাপারই নয়। তাঁদের স্পিরিচুয়াল প্রত্যাশা হলো যেনতেন প্রকারে ক্ষমতায় যাওয়া কিংবা ক্ষমতায় চিরজীবনের মতো টিকে থাকা। নইলে খুনি বা খুনের মদদদানকারি ও দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়িদেরকে তাঁরা সংসদ সদস্য কিংবা মন্ত্রি বানাতেন না। খুন বা খুনের মদদদানের অভিযোগ বহু সংসদ সদস্য বা মন্ত্রির বিরুদ্ধেই ইতোমধ্যে উঠেছে-এই সরকারের আমলেও।
বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট আমলের মন্ত্রী-এমপিদের দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার আর সন্ত্রাস, টেন্ডারবাজি, ধর্ষকদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দান করা, লুটপাটসহ নানান অভিযোগ দেশে-বিদেশে বহুল আলোচিত বিষয়। শুধু হাসিনার মহাজোট সরকারই নয় গোটা বাংলাদেশ বাঙালি/বাংলাদেশি জাতির জন্যই এক অশনিসংকেতের পূর্বাভাষের জন্ম দিচ্ছে সরকার নিজ হাতেই। ত্যাগি-দীর্ঘদিনের পরীক্ষীত নেতাদের কারণে অকারণে দূরে সরিয়ে দিয়েছেন স্বয়ং হাসিনা। বাংলাদেশের বড় দুইটি আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে হাসিনা ও খালেদার সিগন্যাল ছাড়া কেউ টু-শব্দটি পর্যন্ত করার সাহস রাখেন না। কাজেই প্রকৃত গণতন্ত্র চর্চাতো সুদূর পরাহত ব্যাপার। এই অবস্থায় অন্যায়-অবিচার, অগণতান্ত্রিক মানসিকতা, বৈষম্যসহ নানান অনিয়মের জালে আটকেপড়া দেশপ্রেমিক জনতা বড্ড অসহায়!!! হাসিনা ও মহাজোট সরকারের কর্মকান্ড নিয়ে পরবর্তীতে আরও লেখার ইচ্ছে রইলো। editor.eurobangla@yahoo.de, http://www.eurobangla.org/

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s