“শেখ হাসিনার গণতন্ত্র ও একটি ব‍্যক্তিগত পত্র”


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। হ‍্যালো “এক্স ভাই”, শুভেচ্ছা। আপনার সঙ্গে কথা বলে ভালো লাগলো। আপনার নামের সঙ্গে অনেক আগে থেকেই পরিচিত ছিলাম। আজ সরাসরি কথা হলো/দেখা হলো সামাজিক মিডিয়ার কল‍্যাণে। জলবায়ু পরিবর্তন এর পেক্ষিতে বাংলাদেশের সমস‍্যা নিয়ে আমি একটা ছোট্র লেখা লিখেছিলাম। সেটা আমার অনলাইনে ছাপা হয়েছে। ওটার একটা লিংক দিলাম। http://www.eurobangla.org/?p=1274
আমার ক্ষেত্র মূলত. মানবাধিকার ও রাজনীতি। তবে আমি মনে করি এই দুই বিশাল বিষয়ের ভেতরেই আছে অন‍্য সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি। যেমন পরিবেশ, অর্থনীতি দারিদ্র‍্যতা, দুর্নীতি, সাম্রজ‍্যবাদ, শোষণ, নিপীড়ন, বৈষম‍্য ইত‍্যাদি। আমার একটি অনলাইন সংবাদপত্র আছে, যার নাম =ইউরো বাংলা=। এছাড়া আমার বাংলা ব্লগ =পেন আকাশ=, ইংরেজী ব্লগ। জার্মানিতে অনলাইন সাংবাদিকতা ও টিভি সাংবাদিকতার ওপর দুটি কোর্স করেছি। এখন নরওয়েতে শান্তি ও মানবাধিকার বিষয়ে পড়ার ইচ্ছে আছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ‍্যালয় থেকে দর্শন বিষয়ে অনাসর্/মাস্টার্স এবং সাংবাদিকতায় ডিপ্লোমা নেয়ার পর মানবাধিকার রক্ষা ও শোষণ/দুর্নীতমুক্ত এক সমাজ দেখার প্রত‍্যাশায় স্রোতের বিপরীতের সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। হয়ত সেটাই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল। যার খেসারত দিয়েই চলেছি ভিনদেশী ভাষা, সংস্কৃতি, সমাজের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টার মধ‍্য দিয়ে। জানি না এর শেষ কোথায়। যে প্রতিশ্রুতিশীল যুবকটি রাজশাহী থেকে ঢাকা যেতেও আগ্রহী ছিল না সেই এখন সমগ্র মাতৃভূমির আলো/ছায়া, স্নেহ/মমতার বাইরে, অনেক দূরে। আমিতো চাই নি কোনদিন দেশ ছাড়তে। কিন্তু দুর্বৃত্ত রাজনীতির শিকার আমি। না আমি হতাশাবাদী নই, তবে সত‍্য বলতে চাইলে অনেক কথা চলে আসে বা বলতে হয়, এবং যা শুনতে হতাশাবাদি লাগে। রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের বর্তমান মেয়র আর র‍্যাব আমাকে হত‍্যা করতে চেয়েছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন তাদের সফল হয়নি। তবে আমার শরীর ও মনে তারা অসংখ‍্য চিহ্ন আঁকতে সক্ষম হয়েছে। যা আমার উপলব্ধিতে মাঝে মাঝে এখন দোলা দেয় এবং আমার মনে তখন প্রচন্ড ঘৃণা ও ক্ষোভের সঞ্চার হয় এই বলে যে, কেন আমি দেশপ্রেম কিংবা সাম‍্যশিক্ষা পেলাম সমাজর একটা অংশ থেকে বা পরিবার থেকে বা ছাত্র ইউনিয়ন থেকে? আমার চেয়ে কম বেতনে সাংবাদিকতার চাকরি করতেন বা করেন তারা আমার চেয়েও ভাল ছিলেন বা আছেন, এবং তারা যান বা সবার কাছেই প্রিয়! মোটা দাগে আমাদের প্রিয় স্বদেশভূমিতে সততার কোন মূল‍্যই নেই। হাসিনা স্বৈরশাসক এরশাদের সঙ্গে জোট বেঁধেছেন। আর খালেদা যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে। উভয়ের আশা/প্রত‍্যাশায় কোন ফারাক আছে বলে মনে করি না আমি। উভয়ই চান ক্ষমতা, জনতা জনকল‍্যাণ মুখ‍্য নয় উনাদের কাছে। হাসিনার মহাজোট সরকারে ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে কতিপয় “বামপন্থি”ও আবার এখন বুজর্োয়াদের তপ্লিবাহকের ভূমিকায়। দু’চারজন মুজাহিদুল ইসলাম কিই বা করতে পারেন বলুন? গোটা সমাজ পচে গলে যাচ্ছে। দুগর্ন্ধ ছড়াচ্ছে সবর্ত্রই। সুবিধাবাদিতা, স্বার্থপরতা, পরনিন্দা আর “সবাই খারাপ একমাত্র আমিই ভালো” কিংবা “সিদ্ধান্ত মানি তবে তালগাছটি আমারই” এমন এক সমাজ যেখানে বিরাজমান সেখানে আর কি প্রত‍্যাশা করা যায়? অনেক হতাশা, কষ্ট আর সবর্নাশের মাঝেও আমি কিন্তু আশার আলো দেখতে পাই। আশা জেগে আছে দেশের সুবিধাবঞ্ছিত সহজ-সরল সাধারণ কৃষক-শ্রমিক ও জনতার সংযমের ওপরই। কিন্তু এই বৃহৎ জনগোষ্ঠী যেদিন বাগবে সেদিন কিন্তু পালানোর পথ খুঁজে পাবে না লুটেরা ধনবাদী শাসকশ্রেণী। এই বিশ্বাসটি আমার আছে। জনতা একদিন জাগবে জাগবেই। যাহোক, আমি খুবই দু:খিত এই জন‍্য যে আপনার কাছে অনেক অবান্তর কথা লিখে ফেললাম। আমাকে ক্ষমা করবেন। ভালো থাকুন। নিজের শরীরের প্রতি খেয়াল রাখবেন। পরিবারের সবার প্রতি রইলো আমার শ্রদ্ধা। বিনয়াবনত-আকাশ ২৬ নভেম্বর, ২০১১
উল্লেখ‍্য, ব‍্যক্তিগত এই চিঠিটি এক প্রবাসী বাঙালিকে লিখেছি কিছুক্ষণ আগে। ই/মেইলে পাঠিয়েছি পত্রখানা। আমার মনে হলো পত্রখানা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করা দরকার। যাঁকে উদ্দেশ‍্য করে লেখা এই পত্র তাঁর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আর ছবিটি রাজশাহীর ডালাস হোটেলে ২০০২ সালে তোলা। ছবিতে বিচারপতি মানবাধিকার সংগঠক বিশিষ্ট সমাজবাদী নেতা প্রয়াত কে এম সোবহান, মানবাধিকার সংগঠন বিআরসিটির প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব বর্তমান আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস‍্য আকরাম হোসেন চৌধুরী, সাবেক আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস‍্য রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের র্নিবাচিত সভাপতি এডভোকেট তাজুল ইসলাম মোহাম্মদ ফারুক (যিনি দীর্ঘ চার দশকের অধিক সময় ধরে আওয়ামী লীগকে করে আসছেন (১৯৬৭ সালে পাবনার ঈশ্বরদীতে স্থানীয় স্কুলে পড়ার সময় ছাত্রলীগ করা শুরু করেন, এরপর ধাপে ধাপে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান এবং সর্বশেষ ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন, তিনি স্কুলে শিক্ষকতাও করেছেন), যাঁকে কোন কারণ ছাড়াই এবং সামান‍্যতম সম্মান প্রদর্শন ছাড়াই সভাপতির পদ থেকে বাদ দিয়েছেন শেখ হাসিনা. ডা. খলিলুর রহমান, শুশু রজুফা তৎকালিন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের ক‍্যাডারদের হাতে ধর্ষিত হয়েছিলেন এবং আমাকে দেখা যাচ্ছে। editor.eurobangla@yahoo.de, http://www.eurobangla.org/

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s