র্নিবাচিত স্বৈরতান্ত্রিক শাসন!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ার একটি উন্নয়নশীল দেশ। আমার প্রিয় দেশ বাংলাদেশ তার জন্মের ৪০তম বছর পূণর্ করলো মাত্র একদিন আগে। একটি দেশ তার স্বাধীনতার চার দশক অতিক্রান্ত করা কিন্তু কম সময় নয়। যে দেশটি তার স্বাধীনতা অর্জনের জন‍্য ৩০ লাখ মানুষকে এবং দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম হারিয়েছে সেই দেশটির মানুষ আজও চোখের জল ফেলেন দু’বেলা দু’মুঠো ভাত খেয়ে শান্তিতে ঘুমোনোর নিশ্চয়তাটুকু পাবার জন‍্য। হায়রে দুবৃর্ত্তায়নযুক্ত রাজনীতি! যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রশ্নেও জাতি বিভক্ত। সর্বগ্রাসী অনৈতিকতা, দুনর্ীতি আর সংঘাতময় রাজনীতির কারণে সমস্ত পেশাজীবী বিভক্ত রাজনৈতিক দুই শিবিরে। মুক্তিযোদ্ধারা রিকশা চালিয়ে সংসার সংগ্রামে রত। আর নিজামী-মুজাহিদদের গাড়িতে শহীদের রক্তে রাঙানো পতাকা উড়ে! ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা পায় রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা। সরকার দলীয় মন্ত্রি-সংসদ সদস‍্যরা রাষ্ট্রীয় সফরের নামে সফরকে দলীয় ও পারিবারিক সফরে পরিণত করে কৃষক-শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের পরিশ্রমের টাকার লোপাট করে চলেছে!
১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী হত‍্যা দিবস। বাংলাদেশ দিনটিকে শহীদ বুদ্ধিজীবী দবস হিসেবে পালন করে। এর দুইদিন পর ১৬ ডিসেম্বর দেশটি পূণর্ করলো স্বাধীনতার ৪০ বছর। ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশর বিজয় দিবস। স্বাধীনতার চার দশক অতিক্রান্ত। কিন্তু স্বাধীনতার যে উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য এবং চেতনা তা পূরণ হয়নি আজও। স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারি দল আওয়ামী লীগ এবং স্বাধীনতাবিরোধীদের লালনকারী বিএনপি উভয় দলই প্রমাণ করেছে তারা একটি পূর্ণ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে ব্যর্থ। কালোটা ও ব্যবসানির্ভর সংসদ, সর্বগ্রাসী দুর্নীতির সরব উপস্থিতি আর সত্যিকারের গণতান্ত্রিক চর্চার অভাবেই দেশের ৭০ থেকে ৮০ ভাগ মানুষ আজ চরম বৈষম্য ও অবিচারের যাতাকলে পিষ্ট। এই দুই দলকে দিয়ে দেশে আগামি ১০০ বছরে বড় ধরণের কোন ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব কিনা তা নিয়ে সন্দেহ করার মতো শত-সহস্র কারণ আছে। এই প্রজন্মের আমরা কী আশার আলো দেখতে পারবো কোনদিন? আশাবাদিতার ভানকারি অথবা অন্ধ রাজনৈতিক কমর্ী হয়ত বলবেন বাংলাদেশ এগুচ্ছে! কিন্তু তার প্রকাশ কিসে তার কোন সৎ জবাব তারা দিতে পারবেন কিনা তা নিয়েও সন্দেহ করা যায় অনায়াসেই।
আমার এক রাজনৈতিক বন্ধু হাসান তারেক বাংলাদেশের একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন সম্প্রতি। তিনি লিখেছেন, ‘৪০ বছর বয়সী বাংলাদেশে বিজয়োৎসব কার জন্য? ১৯৭২ সালে ভূমিহীন পরিবারের সংখ্যা ছিল ১৯.৫%। আর বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২% এর উপরে। দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে মাত্র ২২ পরিবার ছিল কোটিপতি। সেখানে ৭ জন ছিলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের। ১৯৭৫ সালে বিভিন্ন ব্যাংকে যাদের হিসাব বা অ্যাকাউন্ট ছিল তাদের মধ্যে কোটিপতি ছিলেন মাত্র ৪৭ জন। আর ২০১১ সালের মার্চে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্যে বলা হচ্ছে, দেশে এখন ২২ হাজার ২৩২ জন কোটিপতি রয়েছে। ওই হিসাবে ধরা পড়েনি এ রকম আরও কয়েক হাজার কালো টাকার মালিক চোরাচালানি ও দুর্নীতিবাজ রাজনীতি-আমলা-মাস্তান-চাঁদাবাজ। যাদেরকে যোগ করলে এ দেশে কমবেশি ৫০ হাজারের মতো কোটিপতির সৃষ্টি হয়েছে বলা চলে। জাতিসংঘ ঘোষিত দারিদ্র্যসীমা ১.২৫ ডলার অনুযায়ী ২০১১ সালে দারিদ্র্যসীমার নিচে মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে আট কোটি।’
এদিকে জামর্ানিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদুত মসয়ুদ মান্নান বলেছেন সতি‍্যকার অর্থেই ভালো বন্ধুরাষ্ট্র জার্মানি। সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনার জার্মান সফর এবং জার্মান রাষ্ট্রপতি ক্রিস্টিয়ান ভুলফ’র বাংলাদেশ সফর নিয়ে মান্নান ডয়েচেভেলেকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে একথা বলেন। ‎তাঁর এই মন্তব‍্য প্রসঙ্গে আমার মনে একটা প্রতিক্রয়ার জন্ম নিয়েছে। সেটি আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাই। এই বন্ধুত্বকে যদি ব‍্যক্তি বা গোষ্ঠীস্বার্থের পরিবর্তে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে লাগানো যেতো”! মানবাধিকারের উন্নয়ন এবং গার্মেন্টসসেক্টরের হাড়ভাঙ্গা খাটুনিতেব্রত আমাদের মা-বোন, ভাই-বাবাদের ন‍্যায‍্য মজুরি প্রদান করার জন‍্য জার্মানি অনেকদিন ধরেই বাংলাদেশ সরকারকে অনুরোধ করে আসছে। সেটাতো বাস্তবায়ন করা হয়নি, এটা পূরণে কারও ইচ্ছে আছে বলেও কোন লক্ষ‍্যণ দেখা যাচ্ছে না। শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে জার্মান-বাংলাদেশের যে সম্পকর্ তার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ ব‍্যক্তি-পরিবার ও দলতন্ত্রের উপরে ওঠে সাচ্চা দেশপ্রেম দেখাতেও পুরোপুরি ব‍্যর্থ। এর দায়ভার মিডিয়া, নাগরিক সমাজ, আমি, আপনি, হাসিনা-খালেদা কেউই এড়াতে পারি কী? আসল কথা হলো বাংলাদেশে নামেই গণতন্ত্র চলছে। বাস্তবে তার কোন লক্ষ‍্যণ নেই। সেখানে মূলতঃ বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত‍্যাকান্ডের পর থেকে সামরিক স্বৈরতন্ত্র আর নির্বাচিত স্বৈরতান্ত্রিক শাসনই চলছে! এই অশুভ অবস্থা থেকে জনগণের পরিত্রাণের উপায় কী? ছবি ইন্টারনেট থেকে। editor.eurobangla@yahoo.de, http://www.eurobangla.org/

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s