ভয়েস অব আমেরিকার জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘হ্যালো ওয়াশিংটন’র কাছে একটি প্রশ্ন?


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ॥ আমি নরওয়ের যে শহরে থাকি এখানে এখন দিন রাত ২৪ ঘন্টাই অন্ধকার বা রাত। সূর্য্যিমামার দেখা মেলে না। উনি এখন অনেক দূরে আমাদের কাছ থেকে। এখানে বাঙালি ভাষাভাষী মানুষও বলতে গেলে নাই। হাতে গোনা দু’একটি পরিবার এখানে আমরা আছি যারা বাংলাদেশ থেকে। এরমধ্যে আমার পরিবার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া একটি কী দু’টি পরিবার আছে। ফলে বাংলায় কথা বলারও তেমন সুযোগ নেই নিজ পরিবার ছাড়া। এই অভাবটা দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর মত করে পূরণ হয় বাংলা সংবাদপত্র ও রেডিও-টিভির সংবাদ পড়ে বা শুনে।
২০০৯ সালে জার্মানিতে আসার পর থেকেই আমি ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা অনুষ্ঠান শুনছি। এরপর থেকে ধীরে ধীরে ভয়েস অব আমেরিকার প্রেমে পড়ে গেলাম। ভয়েস অব আমেরিকার অনুষ্ঠানগুলি বেশ সাহসী, সময়োপযোগী এবং অত্যন্ত সুন্দর পরিবেশনা। যেখানে নতুনত্ব ও মুন্সিয়ানা লক্ষ্য করার মতো। সুদূর প্রবাসে থেকে বাংলা ভাষাভাষী মানুষের কণ্ঠ শুনে মনে হয় যেন বাংলাদেশই আছি। অনেক চেনা মুখ, পরিচিত কণ্ঠ যখন ভেসে আসে তখন আরও বেশি ভালো লাগে।
যাহোক, ভয়েস অব আমেরিকার জনপ্রিয় একটি অনুষ্ঠান হ্যালো ওয়াশিংটন। এবারকার হ্যালো ওয়াশিংটনের বিষয় হলো “ইরাক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার এবং সম্ভাব্য ফলাফল “। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই অনুষ্ঠান শুরু হবে। এজন্য শ্রোতাদের কাছ থেকে প্রশ্ন আহবান করা হয়েছে ফেসবুকে ভয়েস অব আমেরিকার একাউন্ট থেকে। ভয়েস অব আমেরিকার প্যানেলের কাছে আমার প্রশ্ন আগাম লিখে রাখলাম ফেইসবুকের পাতায়। মিডিয়া জনমত গঠনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। যেভাবে আমাদের বাংলার মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশী-বিদেশী বহু মিডিয়া মহান দায়িত্ব পালন করেছিল বিশ্বজনমত গঠনে। সমাজে শান্তি, গণতন্ত্র এবং ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম।
আমার বিশ্বাস প্রিয় ভয়েস অব আমেরিকার এই অনুষ্ঠানটি খুবই জনপ্রিয়। আয়োজকদের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালবাসা রইলো। একই সঙ্গে শ্রদ্ধেয় প্যানেলসহ ভয়েস অব আমেরিকার সববাইকে জানাই শুভ বড়দিন ও ইংরেজী নতুন বছরের শুভেচ্ছা।
প্রিয় প্যানেলের কাছে আমার প্রশ্ন।কারণে-অকারণে যুদ্ধ, আগ্রাসন, দখল, পাল্টা দখলের কারণেই মূলত: আজ গোটা বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকি মাথায় নিয়ে নানান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যে কারণ বা অজুহাতে ইরাকে যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলায় সভ্যতা, নগর ও মানবতাকে ধবংস করা হলো, তা কী প্রমাণিত হয়েছে আন্তর্জাতিকভাবে? যদি না হয়ে থাকে তাহলে বিনা কারণে যুদ্ধ, ধবংসলীলার জন্য যারা দায়ী তাদের কী শাস্তি হবে ইহজনমে? অনেকেই মনে করেন আরব তথা মধ্যপ্রাচ্য বা আফ্রিকায় যত যুদ্ধ চলেছে বা চলছে তার পেছনে নাকি তেল এবং অন্যান্য আর্থিক স্বার্থই মুখ্য। শ্রদ্ধেয় প্যানেলও কি তাই মনে করেন? এই বিশ্বসমাজ কীভাবে বা কিসের বিনিময়ে যুদ্ধের হাত থেকে মানব সভ্যতা, সম্পদ এবং নগর ও সভ্যতা বাঁচাতে পারেন? ধন্যবাদ বিজ্ঞ প্যানেল ও ভয়েস অব আমেরিকাকে।
আশা করি আমার এই প্রশ্নটি জায়গা পাবে ভয়েস অব আমেরিকার আজকের অনুষ্ঠানে। বিজ্ঞ প্যানেল প্রশ্নের সাদামাটা ও রাজনৈতিক নেতার ন্যায় উত্তর না দিয়ে সমস্যার গভীরে গিয়ে সত্য ও বাস্তবনিষ্ঠ হয়ে উত্তর জানাবেন শ্রোতামন্ডলির কাছে। ছবি-ভয়েস অব আমেরিকার ফেইসবুক একাউন্ট থেকে নেয়া। editor.eurobangla@yahoo.de, http://www.eurobangla.org/

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s