Monthly Archives: জানুয়ারি 2012

সংঘাতে স্বদেশ ।। নিজের পায়ে কুড়াল মারছেন হাসিনা!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। স্বদেশ আবার অশান্ত। শুরু হলো সংঘাত আর সংঘষর্। দেশ এক চরম নৈরাজ‍্যকর অবস্থার দিকে চলে যাচ্ছে। মানুষের জীবনের নেই কোন নিরাপত্তা। শান্তির পায়রা উড়ে গেছে অচিন দেশে। মানুষ কষ্টে থাকুক, দেশ গল্লায় যাক, অর্থনীতি, কৃষি, জাতীয় সম্পদ ধ্বংস হয়ে যাক। তাতে কিছুই আসে যায় না। চাই শুধু ক্ষমতা। কেউ ক্ষমতায় চিরস্থায়ী হতে আবার কেউ ক্ষমতায় যাবার জন‍্য ব‍্যস্ত। অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ, কর্মসূচী পাল্টা কর্মসূচীর সংগ্রামে মুখর ক্ষমতাবান রাজনৈতিক দল ও নেতার ফুসরত নেই জনগণের জানমালের খোঁজ নেবার। মানুষের হতাশা বেড়েই চলেছে। অসহিষ্ণু গণতন্ত্র আর হিংসাত্মক রাজনৈতিক মানসিকতার কারণে বেশ কিছুদিন ধরেই বাংলাদেশে একটা অস্থিরতা বিরাজ করছিল। আজ তা সরাসরি সংঘাতে পরিণত হয়। চাঁদপুর লক্ষ্মীপুরসহ দেশের বিভিন্নস্থানে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে কিংবা পুলিশের গুলিতে অন্ত:ত চারজন নিহত হয়েছে। একইসময়ে আহত হয়েছে দুই শতাধিক মানুষ। নিহত চারজনের মধে‍্য একজন দরিদ্র রিকশাচালক ও একজন ভ‍্যানচালকও আছেন। এই দরিদ্র রিকশাচালকের পরিবারে এখন কী হবে তা কী হাসিনা ও খালেদা ভাববেন কোনদিনও? না উনাদের তো ভাবার কোন কারণ নেই। উনারা মানুষকে রক্ষা নয় বরং মানুষ মেরে ক্ষমতায় যেতে কিংবা ক্ষমতায় থাকতে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন বেশি!
হাসিনার আওয়ামী লীগ ও মহাজোট সরকার কাযর্ত: এখন আনাঢ়ী এমপিতন্ত্র, ভুল পরামর্শদাতা আর আমলাতন্ত্রের জালে বন্দি। নতুবা হাসিনার একগুয়েমি ও একক ডিকটেটরশিপের কাছে নতি স্বীকার করেছে আওয়ামী লীগ ও মহাজোট সরকার। এই দুই মতের কোনটা ঠিক তা আমরা জানি না। তবে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় উচ্চশিক্ষিত হাসিনার অদূরদর্শিতা ও দেশচালানোর টেকটিস যে অল্পশিক্ষিত (প্রাতিষ্ঠানিক) খালেদার রাজনৈতিক টেকটিসের কাছে ইদানিং মার খেতে শুরু করেছে তা আর ব‍্যাখ‍্যা করে বলার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। দেশের মানুষ এটার প্রমাণ পেলো সাম্প্রতিক দেশের রাজনৈতিক ঘটনা, সিদ্ধান্ত ও কাযর্ক্রমের মধ‍্য দিয়ে। হাসিনা, তাঁর দল এবং সরকার বোধহয় নিজেই চাইছে দেশে একটা সংঘাতময় অবস্থা। যার প্রকাশ ঘটলো চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুরে পুলিশের গুলিতে চারজন মানুষ নিহত হবার ঘটনায়। আওয়ামী লীগ যে রাজনৈতিক খেলা খেলছে তাতে স্পষ্ট বোঝা যায় এটা নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারার মতো ঘটনা। হয়ত পরোক্ষভাবে হাসিনার সরকার চাইছে না যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারেরর কাজটি সম্পন্ন হোক স্বাভাবিকভাবে। তানাহলে কেন আওয়ামী লীগ একের পর এক মওকা তুলে দিচ্ছে বিরোধীদলের হাতে সরকারবিরোধী আন্দোলন চাঙ্গা করার জন‍‍্য?
আওয়ামী লীগের কী দরকার ছিল বিএনপির গণমিছিলের দিনে পাল্টা কর্মসূচী ঘোষণার? হাসিনা কী এখন আনাঢ়ী হানিফের নির্দেশে বা নিয়ন্ত্রণে চলছেন? দেশের মানুষকে বোকা ভাবেন যারা তারা কিন্তু বোকার স্বর্গেই বাস করছে। কারণ মানুষ অনেক সচেতন এবং তাঁদের চোখ কান সবই সচল। এই সাধারণ কথাটা কেবল হাসিনা এবং তাঁর দল ও সরকারই বোধহয় বুঝতে পারছে না বা চাইছে না। ২৯ জানুয়ারির গণমিছিলের কর্মসূচীটা বিএনপি আগেই ঘোষণা করেছিল। কিন্তু বিএনপির হাতে একটা মওকা তুলে দিতে এবং বিএনপির প্রতি মানুষের সহানুভূতি বাড়ে এমন একটা পাল্টা কর্মসূচী তাও আবার একই দিনে ঘোষণা করার মতো কাজ কী একটি দীর্ঘ সংগ্রামী রাজনৈতিক দলের কাছে জাতি আশা করে? দেশে নাশকতা সৃষ্টির বা জঙ্গি তৎপরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে কিংবা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ব‍্যাহত বা বানচাল করার জন‍্য দক্ষিণপন্থিরা একজোট হবে এতে কী কোন নতুনত্ব আছে? কিন্তু যারা এসব অপকর্ম করছে বা করতে পারে তাদেরকে তথ‍্য-প্রমাণ দিয়ে গ্রেফতার না করে সরকার কেন সংঘাতের পথ বেছে নিলো তা আমার ছোট্র জ্ঞান বুঝতে সহায়তা করছে না। অবস্থাটা এমন দাঁড়ালো তাতে মনে হচ্ছে আওয়ামী লীগই বিরোধীদলে, আর খালেদা যেন সরকারে থেকে সহনশীলতার পরীক্ষা দিচ্ছেন! কার কাজ কে করে? হানিফ, আওয়ামী লীগ কিংবা হাসিনাদের ভুলের কারণে গোটা জাতি আবার সেই পঁচাত্তরের ১৫ আগষ্টের মতো অন্ধকারে তলিয়ে যাবার সম্ভাবনা কী উড়িয়ে দেয়া যায়? নাকি হাসিনা ও মহাজোট সরকারে এখন নব‍্য মোশতাকরাই বেশি ক্ষমতাবান? এমন নানান প্রশ্ন মানসপটে চিত্রিত হচ্ছে।
বিএনপি কর্মসূচী দিল আগে। আওয়ামী লীগ পাল্টা কর্মসূচী দিলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। এই অবস্থায় সরকার পুলিশকে দিয়ে সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। উভয় দলের কর্মসূচী পালনের কথা ছিল আজ রোববার ২৯ জানুয়ারি। কিন্তু প্রশাসনের ১৪৪ ধারা জারির কারণে খালেদা তাদের কর্মসূচী একদিন পিছিয়ে ৩০ জানুয়ারি পালনের নতুন ঘোষণা দেন দলের মাধ‍্যমে। আর আওয়ামী লীগ প্রথমে ২৯ জানুয়ারির কর্মসূচী স্থগিতের ঘোষণা দেয়। কিন্তু পরক্ষণেই আবার তারা বিএনপির ঘোষিত কর্মসূচীর দিনেই অর্থাৎ ৩০ জানুয়ারি আওয়ামী লীগও সমাবেশ করার ঘোষণা দেয়। জনগণই বিচার করবেন কোন ব‍্যক্তি এবং কোন দল সহিষ্ণু আর কারা অস্থির। দেশটাকে জাহান্নামে নেয়ার আগেই হাসিনা-খালেদার হাত থেকে রক্ষার উপায় কী? দুই নেত্রী মাইনাস অর্থ তৃতীয় শক্তি হিসেবে সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতা তুলে দেয়া নয়, চাই গণবিপ্লব। যে বিপ্লবের হাত ধরে দেশ শোষণ, বঞ্চনা, নির্যাতন, দুর্নীতি, লুটপাট আর পরিবারতন্ত্রের যন্ত্রণা থেকে মুক্তির স্বাদ পাবে। মানুষ পাবে স্বাধীনতার স্বাদ, সাম‍্য, ভ্রাতৃত্ব মৈত্রীর জয় হবে। জয় হোক মানুষের ক্ষমতালোভীদের নয়। ছবি/গুগল থেকে নেয়া, ইংরেজী দৈনিক ডেইলী স্টারে প্রকাশিত। editor.eurobangla@yahoo.de, http://www.eurobangla.org/

Advertisements

হাসিনা-খালেদার খপ্পড়ে বাংলাদেশ!

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। কাগজে-কলমে বাংলাদেশ, আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি একটা গণতান্ত্রিক দেশ। বাস্তবে তার কতটুকু প্রয়োগ জনগণ দেখতে পান সেই প্রশ্নের উত্তর দেশের মানুষই দিতে পারবেন। কিন্তু আমাদের দেশের শাসক শ্রেণী বা তাদের সমর্থকরা প্রায় বলে যে জনগণ পাঁচ বছরের জন‍্য ম‍্যান্ডেট দিয়েছে। এই পাঁচ বছর পূর্ণ হবার এক সেকেন্ড আগেও তারা ক্ষমতা ছাড়বে না। তা যদি দেশ সমুদ্রগর্ভেও চলে যায় যাক! তবে ক্ষমতা ছাড়া হবে না। হ‍্যাঁ সতি‍্যকথা। এটা সংবিধানেও বর্ণিত আছে স্পষ্ট করেই যে সরকার নির্বাচিত হবে পাঁচ বছরের জন‍্য। তবে সংশ্লিষ্ট দল যদি দেশ পরিচালনায় ব‍্যর্থ হয় তাহলে কী হবে তার বর্ণনা সংবিধানে আছে কিনা তা আমার জানা নেই। এটা হয়ত সংবিধান বিশেষজ্ঞ কিংবা শিক্ষিত সুশিল সমাজের প্রতিনিধিরাই বলতে পারবেন। আমার মত চাষাভুষা এক নগন‍্য মানুষের পক্ষে এ বিষয়ে বলা সমীচীন নয়।
জনগণ কোন রাজনৈতিক দলকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেন কোন রাজনৈতিক দলকে সরকার/দেশ পরিচালনা করার লক্ষে‍্য পাঁচ বছরের জন‍্য ম‍্যান্ডেট দেন, জনগণ। তার মানে এই নয় যে পুরো টার্মজুড়েই সরকারি দলের কর্মী/সমর্থকরা কিংবা সরকার লুটপাট, অন‍্যায়-অনিয়ম, দুর্নীতি, নির্যাতন, সন্ত্রাস, বিচারবহিভর্ূত হত‍্যাকান্ড, সংখ‍্যালঘুদের বাড়িঘর জায়গাজমি অন‍্যায় অবৈধভাবে দখল করবে! বিএনপি-জামাত বা খালেদা-নিজামীরা যা করেছে, হাসিনা-এরশাদ-মেনন-ইনুদের সরকারও তাই করবে, এই বালখিল‍্য যুক্ত দর্শন কী যুক্তিযুক্ত? আসলে দেশটা বাপ-দাদার তালুকে পরিণত করেছেন এই দুই মহামানবী!
খালেদা-নিজামীর শাসনামলে হাসিনা অস্থির ও অধৈয‍্য হয়েছিলেন ক্ষমতাসীন হবার জন‍্য। তখন হাসিনা সংসদ বর্জন করেছিলেন। আর এখন হাসিনার শাসনামল। খালেদা চরম অস্থির হয়ে আছেন ক্ষমতায় যাবার নিবিড় প্রত‍্যাশায়। এখন খালেদা সংসদে অনুপস্থিত। কী চমৎকার মিল এই দই নেত্রীর মাঝে! জনগণ, গণপ্রত‍্যাশা, জনসমস‍্যা, জাতীয় উন্নয়ন, দেশের ভাবমূর্তি এসবকিছুই অতি নগন‍্য তাদের কাছে। তারা কেবল ক্ষমতায় যেতে চান। কেউ ক্ষমতা ধরে রাখতে আর কেউ ক্ষমতায় যেতে যতটা ব‍্যাকুল জনগণের কল‍্যাণে তারা ততটাই উদাসীন। ক্ষমতার স্বাদ পেতে একজন যুদ্ধাপরাধীদের তোষণ এবং লালন পালন করে চলেছে। অপরজন চরিত্রহীন এক দুনর্িতীবাজ স্বৈরশাসক যিনি গণআন্দোলনের মুখে গণবিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিলেন তিনি আজ গণতন্ত্র গণতন্ত্র বলে বেশ গলা পাটানো বক্তব‍্য দিয়ে যাচ্ছেন, তথাকথিত গণতান্ত্রিকদের কাঁধে ভর করে তিনি এখন রাজনীতিতে পুন:প্রতিষ্ঠিত!
দুর্নীতি, ধর্মান্ধতা আর সাম্প্রদায়িকতা স্বাধীনতার ৪০ বছরেও দেশকে কাঙ্খিত অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিতে দেয়নি। পালাক্রমে ক্ষমতায় আরোহণকারি বড় দুই দলের প্রতিযোগিতা ক্ষমতার চেয়ারে বসার। বিএনপি জামাতের দু:শাসন আর দুর্নীতি থেকে বাঁচতে মানুষ ম‍্যান্ডেট দিয়েছিলেন হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারকে। কিন্তু হাসিনা সরকার জনজীবনে শান্তু ও স্বস্তি বিনির্মাণ করতে ব‍্যর্থ হয়েছে। হাসিনা খালেদার খপ্পড় থেকে দেশ বাঁচাতে দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দলগুলিকে কারও লেজুড়বৃত্তি না করে নিজস্ব সত্ত্বা নিয়ে জনগণের ভালোবাসা নিয়ে এগিয়ে যাবার প্রচেষ্টা চালানোর কোন বিকল্প আছে কী? দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল যত ছোটই হোক না কেন, দুর্নীতিবাজ ও সাম্প্রদায়িক চক্রান্তের বিরুদ্ধে এবং জনকল‍্যাণমুখী রাজনৈতিক কর্সামসূচী নিয়ে সাহসের সাথে এগিয়ে যেতে পারলে জনগণ নিশ্চয়ই তা বিবেচনায় নেবেন। এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়। ছবি: গুগল থেকে নেয়া। editor.eurobangla@yahoo.de, http://www.eurobangla.org/

মিডিয়া ও সন্ত্রাস


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ।। জামাত-শিবির সম্পকর্ে বলার কিছু নেই। দেশবাসি জানেন তারা কী ভয়ংকর সন্ত্রাস ও হাত-পায়ের রগকাটার বেলায়। সেটা অন‍্য কথা। জামাতি মিডিয়া আগে খবর পায় নাকি প্রগতিশীল মাধ‍্যমগুলি ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসীদের ছবি এড়িয়ে যায়, আমি এই প্রশ্নের উত্তর জানি না। বিখ‍্যাত এ ব্লগার অমি রহমান পিয়াল। বাংলাদেশের জগন্নাথ বিশ্ববিদ‍্যালয়ে সন্ত্রাস নিয়ে একটি পোষ্ট দিয়েছেন ফেইসবুকে। পিয়াল লিখেছেন, “ছাত্রলীগ ইদানিং অ্যাকশনের আগে নয়াদিগন্ত, আমার দেশ আর দৈনিক সংগ্রামের ফটোগ্রাফারগো খবর দেয়”। তারই প্রতিক্রয়ায় আমি লিখছি দু’একটি বাক‍্য। পিয়াল সাহেব, ঘটনাতো ঘটছে। ঘটনা আর ছবিগুলিকেতো আর অস্বীকার করা যাবে না। যায় কী? রাজনীতিপ্রেমী বা পক্ষাবলম্বনকারি লেখকরাও (সাংবাদিক, কলামিষ্ট, ব্লগার, আমি, আপনি, উনি, উনারা, দেশী-বিদেশী মিডিয়া, সবখানেই হাসিনা-খালেদা এই দুই দলে বিভক্তি স্পষ্ট বোঝা যায়) কিন্তু দেশে গণতন্ত্রহীনতা ও দুনর্ীতি লালন-পালনে কম দায়ী নন। তাদের ভয় এই ভেবে যে, যদি নেত্রী অখুশি হন। দেশ-বিদেশ ঘুরা কিংবা বিভিন্ন আকষর্ণীয় পদে বসতে পারা যাবে না। এসব হিসাব-নিকেশের কারণেই হয়ত প্রগতিশীল মিডিয়াপাড়া জেগে জেগেই ঘুমিয়ে থাকেন! পরাধী ও স্বৈরাচার সওয়ার করেছে এই দুই নেতৃত্বের কাঁধের ওপর ভর করে। কেউ কী এটা অস্বীকার করবেন? ছবি-ফেইসবুক থেকে নেয়া।
আমার এই মন্তব‍্যের পরে আসাদ জামান আসাদ নামে একজন একটি সুন্দর মন্তব‍্য করেন। তার জবাবে জনাব পিয়াল লিখেন, “ইনফিলট্রেশন আর পোষা ভিন্ন জিনিস। এরা প্ল্যানফুলি ছাত্রলীগে ঢুকছে। তবে তালিকা করা শুরু হয়ে গেছে অলরেডি। হার্ডলি ছয় মাসের মধ্যে প্রতিটা ঘটনা আর এর নেপথ্যের জারিজুরি ফাঁস হবে” আমি লিখি, এইটা কোন সমাধান না পিয়াল সাহেব। প্রশ্নটা হলো ঢুকছে কিভাবে সেই নেতাদের আগে শায়েস্তা করতে হবে। কিন্তু কে করবে? যেহারে লাগামহীন বক্তব‍্য দিচ্ছেন পাটর্ির শীষর্ নেতারা???জবাবে পিয়াল আবার লিখলেন যে, “আকাশ, এখানে দায় এড়ানো হচ্ছে না। বরং একটা সন্দেহ ভয়ঙ্কর বাস্তব হিসেবে ধরা দিতেছে। কিছু জিনিস কখনও গতানুগতিক থিওরিতে কাজ করে না। তাই গতবাধা কথা না আউরাই”। আমার জবাব, সোনার বাংলায় অন্ধ দলপ্রীতিই এক নম্বর সমস‍্যা, দুনর্ীতি ও দারিদ্র‍্যতার চেয়েও হয়তবা! পিয়াল এবার লিখলেন, “ওই আবারও একই ডায়লগ। বললাম তো গতবাধা কথা আউরেতেছেন। প্রাচীন পুথি থেকে কোট করা ছাড়েন। আরেকটু আধুনিক হন, নিজের বোধবুদ্ধি খাটান, ধারকরা কথা আর কতো। আমার পাল্টা জবাব গেলো এভাবে, ফিরে তাকান ৯৬-২০০১, আমি না আপনি সেই বিচার এর ভার আমার ওপর নেই। পিয়ালের জবাব এলো এবার, “আমি আরো আগে থেকে দেখি। কিভাবে কি তা বলা লাগবে না আমারে।” আমি লিখি, থলের বেড়ালটা বেরিয়ে ফেললেন? পিয়াল লিখলেন এবার, “উফফ! জ্বি, ম্যাও কইরা ডাক দিলো মাত্র।” আমি জবাবে বলি, “সমস‍্যাটা কোন ফিকসন নয় যে যতখুশি রং লাগাবেন, মনের মাধুরী মিশিয়ে লিখবেন? সমস‍্যা অনেক গভীর, সমাধান কোথায়? বড় বড় লেকচার সবাই মারতে পারে, কিন্তু সমধান দিতে পারে না!!!” এবার পিয়াল ব‍্যক্তগত আক্রমণে চলে গেলেন। তিনি বললেন যে, “সেটা তো আমিও বলতেছি। লেকচার ছাইড়া সমাধান খুজতে হবে, তার উপর প্রাচীনকালের লেকচার। আকাশ আপনি কোন আকাশ? রাজশাহীর সাংবাদিক? ওই র‌্যাব কেইস? পরে বিদেশ যাইতে পারছিলেন?”
পাল্টা জবাব গেলো আমার। আমি বললাম, “সেটা বলেছেন কিনা তা পাঠকই বলবেন, আমি তকর্ে নেই, আমি কোন ান্ধ রাজনীতির সমর্থন করি না। আপনার সঙ্গে অযথা অনর্থক তকর্ করার মানসিকতাও আমার নেই। ব‍্যক্তিগতভাবে আমি কাউকে আক্রমণ করেও লিখি না কিছু, যা সত‍্য তাই বলার চেষ্টা করি কোন ভনিতা ছাড়াই। আর কোন মন্তব‍্য লিখবো না এখানে। কারণ পূর্বেই বলেছি। ভালো থাকুন। স্বদেশ ভালো চলুক। এই প্রত‍্যাশাই থকলো।” পিয়াল এবার লিখলেন, “আল্লাহ আপনারে সহি সালামতে রাখুক”। আমি আমার জবাবে জানাই, “কী বুঝাইলেন আমারে র‍্যাব ধরেছিল তা বলে। আমি বুঝিনি। কিন্তু আপনার কূপমন্ডুকতা আর দীনতাই ফুটিয়ে তুলেছেন স্বহস্তে। আমি মমর্াহত হলেও আশাহত নেই। তার কারও আগেই লিখেছি। লেখকদের রাজনৈতিক বিশ্বাস বা পছন্দ অপছন্দ থাকে, তবে অন্ধদলবাজি থাকাটা সমীচীন কিনা তাও জনগণই বিচার করবে। আমি তার বিচারক নই। তবে মানুষের প্রকৃত রুপ কমর্েই ফুটে ওঠে! আপনিও ভালো থাকুন। শুভবুদ্ধির উদয় হোক, আমার মত মুর্থদের না হোক আপনার মত জ্ঞানী-জনপ্রিয় লেখকদের সেটা থাকাটা বাঞ্ছনীয় কিনা তারও বিচার পাঠকরাই করবেন-এ বিশ্বাস আমার আছে। মানুষের জন‍্য কাজ করতে গিয়ে অত‍্যাচার করেছে ওরা। কান অন‍্যায়-অপরাধের জন‍্য নয়। কিন্তু আপনি কিসের ইঙ্গিত দিয়েছেন তা আপনিই ভালো জানেন।”
এবার খন্দকার মারসুস নামে এক সাংবাদিক লিখলেন, “এই বিষয়টা মানতে পারলাম না। ভাই আমি জনকন্ঠের সাংবাদিক ছিলাম অনেকদিন। আমি আমার ক্যাম্পাসের ছাত্রলীগের সবাইকে ভাল করে চিনি। কুয়েট ,বুয়েট , জাহান্ঙিরনগরের ও অধিকাংশকেই চিনি। সত্যকে মিথ্যার আড়ালে লুকানোও একটা দোষ। যাই হোক ভাই আর যা বলেন ছাত্রলীগ সম্পর্কে এ কথাগুলো বললে ডাকা মিথ্যা কথা ছাড়া আর কিছুই বলা যাবে না। যেহেতু আমি এখনও ক্যাম্পাসে অবস্থান করছি…তাই আমার চেয়ে ভাল কেউ বলতে পারবেনা যারা ক্যাম্পাসে নেই। ….….বতর্মান সরকারের ব্যথতার লিস্ঠ করলে ছাত্রলীগকে আমি 1 নম্বরে দিব। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই”।
প্রিয় পাঠক আপনারাই বিচার করুন আমাদের লেখক, ব্লগার, বিশেষ করে বাংলাদেশের এই সুশিলরা কতটা কুশীল হতে পারি অন্ধ রাজনৈতিক পছন্দ আর অপছন্দের কারণে। তারা আবার দেশ-বিদেশে অনেক নামকরা ব‍্যক্তিত্ব! এই লেখাটি পরবর্তীতে ইংরেজীতে অনুবাদ করার ইচ্ছে রইলো।
editor.eurobangla@yahoo.de, http://www.eurobangla.org/,

স্বদেশ ভালো নেই!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। “কেউ কাউকে মানে না, সবাই স্বাধীন। পুলিশ মানে না কোটর্। বাস চালকও মানে না পুলিশকে। বিনা লাইসেন্সে সবই চলে। হত‍্যাকান্ডও চলে একইভাবে। কোন সম্ভাবনা নেই স্বাভাবিক মৃত্যুরও। সবসময় একটা ঝুঁকি জীবনের ওপরে। আমি জানি না কী অপেক্ষা করছে আমার শিশুসন্তানদের জন‍্য। এখন খুবই কঠিন সময় অর্থের অভাবে প্রতিবেশী দেশ ভারতেও যেতে পারছি না চিকিৎসার জন‍্য।” বাংলাদেশের একটা সার্বিক চিত্র এভাবেই তুলে ধরলেন আমার এক পরিচিত সরকারি চাকুরিজীবী। যিনি বাংলাদেশের একটি বিশেষ প্রফেশনাল গ্রুপে কমর্রত। গত ২ সেপ্টেম্বর তার সঙ্গে আমার অনলাইনে কথা হয়। জানতে চেয়েছিলাম কেমন আছে আমার স্বদেশ? তারই উত্তরে তিনি উপরোক্ত বিষয়গুলি তুলে ধরেন। আশা করি আপনারা দেশের অবস্থাটা কেমন তার একটা ধারণা পেলেন।
বঙ্গবন্ধু কন‍্যা হাসিনা তাঁর মহাজোট সরকারের তিন বছর পূর্তিতে সম্প্রতি বলেছেন দেশ ভালোই চলছে! হাসিনা আরও বলেন আমরা দেশ চালাতে কোন অবহেলা করিনি এবং করছি না। বিরোধীদল সহযোগিতার পরিবর্তে ষড়যন্ত্র করছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই বক্তব‍্যের সাথে বাস্তব পরিস্থিতিটা মিলিয়ে নেয়ার মানসিকতা থেকেই আজকের এই লেখা। আসলে কী দেশ ভালো আছে? নাকি মিথ‍্যা বলাটা আর সত‍্যটাকে চাপা দেয়া রাষ্ট্রনায়কদের একটা সহজাত ও পুরনো প্রবৃত্তি?
সরকারি এই চাকুরের মন্তব‍্য থেকে পরিস্কার বোঝা যায় স্বদেশ এখন কোন পর্যায়ে। কিন্তু বোঝেন না কেবল সরকারি দল। সংবাদপত্রের পাতা কিংবা টিভি চ‍্যানেলগুলির খবর শুনলে দেশের হতাশাজনক অন‍্যান‍্য চিত্রও ধরা পড়ে সহজেই। মুখের জোরে বা ক্ষমতার মোহে অথবা বাহুবল দিয়ে যতই বলার চেষ্টা করা হোক না কেন বাস্তবতাকে আঁড়াল করা যায় না কখনও। বাস্তবতা তার নিজ শক্তিতেই বেরিয়ে আসবে সবার সামনে। তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে আমাদের ক্ষমতালোভী রাস্ট্রনায়ক এবং তাদের স্তাবক তোষামদকারী চাটুকারের দল এই মহাসত‍্য স্বীকার করতে চায় না। অতীতে কখনও কোন সরকারই তা স্বীকার করেনি। এটাও একটা বাস্তবতা। বতর্মানে বিরোধী দল বিএনপি বলছে দেশ ভালো নেই, মহাজোট সরকার দেশ পরিচালনায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ। বিরোধিতার খাতিরে এবং ক্ষমতার মোহে বিরোধীদল এভাবে কথা বলবে এটা বাংলাদেশে খুবই স্বাভাবিক।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে বিএনপি এ ভাষায় কথা বলে। আবার বিএনপি ক্ষমতায় গেলে আওয়ামী লীগ ঠিক একই ভাষায় কথা বলে থাকে। দেশের মানুষ এই পরস্পরবিরোধিতার কারণো বোঝেন। কিন্তু যখন নিজ জোট ও দলের নেতা বলেন দেশ ভালো নেই তখন বিরোধিদের বক্তব‍্যর অসাঢ়তা প্রমাণ করা কঠিন। আমার স্বদেশ বাংলাদেশের রাজনীতিক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, এমনকি সরকারি দলের বহু নেতা বলছেন দেশ ভালো চলছে না। সাধারণ মানুষেরতো নাভিশ্বাস অবস্থা নানা কারণে। দ্রব‍্যমূল‍্য, বিদ্যুত-গ‍্যাস, তেল এবং নিত‍্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে লাগামহীনভাবে। শেয়ারবাজারের তোঘলকি কান্ডতো এখন দেশজুড়েই আলোচিত বিষয়।
বিচারবহিভূর্ত হত‍্যাকান্ড, গুপ্তহত‍্যা, অপহরণ, ধষর্ণ, সড়ক দূঘর্টনাসহ নানান মানবাধিকার লংঘণের ঘটনা দেশে এক চরম আতংকাবস্থার সৃষ্টি করেছে। স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির জন‍্য যুদ্ধাপরাধীদের কোন ষড়যন্ত্র করার দরকার নেই। সেখানে ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাস, ধষর্ণ, চাঁদাবাজি আর অন্তর্কলহই যথেষ্ট। সাতক্ষীরায় ছাত্রলীগ নেতা কতর্ৃক এক নৃত‍্যশিল্পী ধষর্ণ ঘটনা এখন দেশের মানুষের মুখে মুখে। ইভটিজারদের হামলায় কলেজ শিক্ষক, অভিভাবক মারা পড়ছেন। অনভিজ্ঞ আনাড়ী চালকদের শিকার হচ্ছেন মেধাবী সাংবাদিক মিশুক মুনীর, তরুণ সাংবাদিক নিখিল ভদ্র ও চলচিত্র নিমর্াতা তারেক মাসুদ। যৌন হযরাণির সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসী চক্রের হাত থেকে বাঁচতে সম্ভাবনাময় তরুণ নারীরা একের পর এক নিজের জীবন জলাঞ্জলি দিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের বুকে চাবুক মেরে চলেছে। কিন্তু যৌন হয়রাণি বন্ধ হবার লক্ষ‍্যণ নেই। সমাজও জাগছে না।
বিভিন্ন সংবাদপত্রের খবরে প্রকাশ-ধর্মীয় সংখ‍্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের জায়গা-জমি বাড়ি-ঘর সরকারি দলের নেতা-কমর্ীরা দখল করে নিচ্ছে। খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিনের উৎসবের মধ‍্যেই পাবনায় বেশ কিছু খ্রিষ্টান পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখা এবং যশোরে খ্রিষ্টানচাচর্ে হামলা হয়েছে। ওদিকে পার্বত‍্যচট্রগ্রামে আদিবাসীদের মাঝে শান্তি ফিরে আসেনি আজও। আদিবাসি হত‍্যা-ধর্ষণ ও বাড়িঘরে আগুন দেয়ার মতো অমানবিক ঘটনার খবর মাঝেমধ‍্যেই সংবাদপত্রের শিরোনাম হয়ে ওঠে আসে। সেখানকার আদিবাসিরা আজও ফিরে পাননি ভূমির অধিকার।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন হয়নি। বাহাত্তরের সংবিধান পুন:প্রতিষ্ঠা করেনি এই সরকার। বিচারবহিভূর্ত হত‍্যাকান্ড বন্ধ হয়নি। এসবকিছুই হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি। সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল হাসিনার সরকার। সেই প্রতিশ্রুতিও পূরণ করেনি। বরং সাংবাদিক নির্যাতন অব‍্যাহত। আরটিভির প্রতিশ্রুতিশীল সাংবাদিক অর্পণা সিংহ। তিনি দুর্নীতির রিপোর্ট করতে গিয়েছিলেন রাজধানীর একটি স্কুলে। সেই স্কুলের ব‍্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সরকার দলীয় সংসদ সদস‍্য কামাল আহম্মেদ মজুমদার। তিনি এই তরুণ নারী সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করলেন। একের পর এক সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা প্রমাণ করছে দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কিংবা প্রেসের স্বাধীনতায় ক্ষমতাসীনদের অবস্থানটা কোথায়?
বাংলাদেশে যে মানুষের জীবনের কোন অধিকার নেই তা নানাভাবে আলোচিত হচ্ছে দেশে বিদেশে। দেশের একটি মানবাধিকার সংগঠনের রিপোটর্ে মানবাধিকার পরিস্থিতির একটা চরম হতাশা ও উদ্বেগজনক পরিসংখ‍্যান উঠে এসেছে। গতকাল দেশের সবক’টি সংবাদপত্রে এই খবরটি গুরুত্ব সহকারে প্রকাশিত হয়। রিপোটর্ে বলা হয়, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালে ক্রসফায়ারের নামে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে ১৫৪টি। ২০১০ সালে এ সংখ্যা ছিলো ১২৭। ২০১১ সালে তা কমে ৮৪ তে দাঁড়ায়। রিপোটর্ মতে, দেশে ক্রসফায়ারের নামে হত‍্যাকান্ড কমলেও গুপ্তহত‍্যা বেড়েছে আশংকাজনকহারে, যা রাষ্ট্রেরই নয়া কৌশল। ২০০৯ সালে ২টি গুমের ঘটনার কথা জানা গেলেও ২০১০ সালে হয় ১৮টি। আর ২০১১ সালে গুপ্তহত্যার শিকার হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। ২০১১ সালে ৭১১ জন নারী ধর্ষণ, ৫১৬ জন যৌতুকের কারণে সহিংসতা এবং ৬৭২ জন বখাটেদের যৌন হযরাণির শিকার হয়েছেন। মানবাধিকার সংগঠনটির রিপোটর্ের মূল‍্যায়ণ অংশে বলা হয়, “গত তিন বছরে এটিই প্রমানিত হয়েছে যে, অগণতান্ত্রিক ও জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী কাঠামো বজায় রেখে শুধুমাত্র একটি নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচিত কোনো দলকে শাসন করতে দিলে তা জনগণের কোনো কাজে আসে না।”
হাসিনা সরকারের জনপ্রিয়তায় ইতিমধ‍্যে ধস নামতে শুরু করেছে। তারই প্রমাণ মেলে দেশের জনপ্রিয় বাংলা দৈনিক পত্রিকা প্রথম আলোর অনলাইন জনমত জরিপ রিপোটর্ে। রিপোটর্ অনুযায়ী শতকরা ৮৩ শতাংশের বেশি মানুষ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব‍্যের ওপর আস্থা রাখেন না। প্রধানমন্ত্রী হাসিনা সম্প্রতি বলেছিলেন যে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুষ্ঠু ভোট হলে পরাজয় মেনে নিতে প্রস্তুত তিনি। রাজশাহী অঞ্চলে কমর্রত একজন ম‍্যাজিষ্ট্রেট কিছুদিন আগে বলেছিলেন যে সরকারদলীয় লোকজনদের উৎপাত আর অন‍্যায় আবদারে চাকরি করা যাচ্ছে না। রাজনৈতিক চাপ অতীতের সব সরকারকে হার মানিয়েছে। সরকারদলীয় লোকজনদের কেবল ‘খাই খাই, চাই চাই’ ভাব। পাল্টা প্রশ্ন করে জানতে চেয়েছিলাম এই বলে যে, আপনিতো হাসিনার দলেরই সমর্থক এবং ছাত্রজীবনেও আপনি ছাত্রলীগ করেছেন। তাহলে সমস‍্যা কোথায়, আপনার জন‍্যতো এখন সুসময়। আমার কথা শোনার তিনি রীতিমতো ক্ষেপে যান। এরপর তিনি আরো জানান, এখন সমস‍্যা আরও বেশি, বিএনপি-জামাত আমলেও এমন অবস্থা মোকাবেলা করিনি কোননদিন।
ঢাকা বিশ্ববিদ‍্যালয়ের একজন অধ‍্যাপকের সঙ্গে কথা হলো এইতো সেদিন। এই অধ‍্যাপকের মুখেও হাসিনা সরকারের কমর্কান্ড নিয়ে হতাশার কথা শোনা গেলো। তিনি জানান, হাসিনার কাছে ত‍্যাগি মানুষের কোন দাম নেই। বরং যিনি কেবল প্রশংসা আর সব কথা ও কাজে ‘জি’ বলতে পারেন তারাই তাঁর কাছে প্রিয়। অথচ দু:সময়ে যাদের পাওয়া যায়না। অন‍্য একটি বিশ্বিবদ‍্যালয়ের আরেক অধ‍্যাপকের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে আমার। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রশ্নে তিনি হতাশা ব‍্যক্ত করে বলেন, “অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে সরকার নিজেই চায় না তাদের বিচার হোক। শুধুমাত্র ঘাতকরা ছাড়া দেশের প্রতিটি মানুষই চান এই ঘাতকদের বিচার। কিন্তু ক্ষমতাসীনদের নানানরকমের অন‍্যায় বেপরোয়া কমর্কান্ড যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কাজকে হয়তো বাধাগ্রস্ত করবে।”
দেশে কালো টাকা ছাড়া রাজনীতিক হওয়া এখন বেশ দুস্কর। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও প্রধান বিরোধীদল বিএনপিতে কালো টাকার প্রভাব এখন ওপেনসিক্রেট। বাংলাদেশের রাজনীতিতে কালো টাকার প্রভাব কতটুকু তা দেশের বয়োজ‍্যেষ্ঠ রাজনীতিক আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলির সদস‍্য তোফায়েল আহমেদের কথার মধ‍্যে তা পরিস্কার ফুটে উঠেছে। তিনি বলেন, দলের শীর্ষ নেতাদের সন্তুষ্ট করতে পারলেই নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়া যায়। জনাব তোফায়েলের বক্তব‍্য বাংলাদেশের রাজনীতির স্বরুপটাকে ফুটিয়ে তুলেছে।
বাংলাদেশের রাজনীতিও সোজাপথে হাঁটছেনা। পারিবারিকীকরণ তার একটা বড় প্রমাণ। হাসিনা তাঁর আমেরিকাপ্রবাসী পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে উপদেষ্টা বানিয়েছেন। জীবনের বেশিরভাগ সময় যিনি দেশের বাইরে তিনি দেশ সম্পর্কে কি ধারণা রাখেন তা নিয়ে আছে নানাজনের নানান মত। আবার হাসিনা বা খালেদার উপদেষ্টা যাঁরা আছেন তাঁরা কতটুকু সাহসের সঙ্গে প্রকৃত উপদেশ দেন তা নিয়েও আছে সন্দেহ। উপদেশ দিলেও তা এই দুই নেত্রী গ্রহণ করেন কিনা তাও বোঝা মুশকিল। তবে এটা নিশ্চিত যে অনেকেই নিজ নিজ ধান্দা, সুবিধা ও চাকরি রক্ষায় ব‍্যস্ত। তোষামদ আর অকারণ প্রশংসায় হাসিনা খালেদা বেশামাল। উভয়ে অবশ‍্য তোষামদ পছন্দ করেন না তাও হলফ করে বলার কোন কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। আবদুর রাজ্জাকের মতো ত‍্যাগী নেতার প্রতি শেখ হাসিনা যে অবহেলা দেখালেন তা থেকে একটা বিষয় পরিস্কার যে হাসিনা কতটুকু প্রতিহিংসাপরায়ণ! অথচ রাজ্জাকের অপরাধটা কিসের? তিনিতো দলের ভেতরে গণতন্ত্র চর্চার পথ যাতে পরিপক্ক হয় তারই মত প্রকাশ করেছিলেন জরুরি অবস্থায়। প্রকৃত গণতন্ত্রের চর্চা ও গণতান্ত্রিক মানসিকতায় হাসিনা বিশ্বাস করেন কিনা তা নিয়েও জনমনে সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ আছে।
হাসিনার মহাজোট সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার ওয়াকর্স পার্টি। এই পার্টির সভাপতি ও সংসদ সদস‍্য রাশেদ খান মেনন কিছু সত‍্য কথা জাতির সামনে তুলে ধরেছেন। যার মধ‍্য দিয়ে হাসিনা যে মিথ‍্যা ভাষণ দিয়েছেন তারও একটা প্রমাণ পাওয়া যায়। মেনন বলেন, “সাধারণ মানুষ বলছে দেশ ঠিক পথে চলছে না। তিন বছরের মাথায় যখন উৎসব করার কথা, তখন জনগণের কাছ থেকে অভিযোগ শুনতে হচ্ছে। এতে ক্ষোভে, রাগে, দুঃখে, লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যায়। আমরা অনেক কিছুই পারলাম না, অনেক কিছুই করলাম না। সিন্ডিকেট ভাঙলাম না। দুর্নীতির ও লুটপাটের অর্থনীতির বন্যায় আমরা ভেসে চলে গেলাম। দেশ ঠিক পথে চলছে না। এটা শুধু কোনো পত্রিকার জরিপ নয়। বাসে, ট্রেনে, লঞ্চে যেখানে মানুষ জড়ো হয়, সেখানেই এ ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ হচ্ছে।”
অনেক সময় সরকারদলীয় সংসদ সদস্যরা প্রকাশ্যে বলছেন যে তারা নিরাপদ নন। শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোহাম্মদ আতিউর রহমান আতিক বলেন, “আমি নিরাত্তাহীনতায় ভুগছি।” বিডিনিউজ’র রিপোর্ট অনুযায়ী, দুই সপ্তাহের মধ্যে এই সংসদ সদস্যের বাড়িতে চুরি এবং খড়ের গাদায় আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।দেশের আইনপ্রণেতারা যেখানে নিরাপদ নন, তাদের বাড়িতে ডাকাতি, চুরি ও আগুন দেয়ার মতো দু:সাহসিক ঘটনাগুলি ঘটছে সেখানে সাধারণ মানুষের কী অবস্থা তা আর ভেঙ্গে বলার অপেক্ষা রাখে না।
বেগম জিয়া না হয় ক্ষমতায় বসার জন‍্য হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে মিথ‍্যা ভাষণ দিচ্ছেন, ষড়যন্ত্র করছেন! কিন্তু মেননরাতো ক্ষমতায় এবং হাসিনার সরকারেই আছেন। তাহলে আমরা আমজনতা কাকে সত‍্যবাদী বলে ধরবো-হাসিনা নাকি মেননকে? এই প্রশ্নের বিবেচনা করবেন দেশের মানুষ, জনগণ। অগণতান্ত্রিক মন আর ক্ষমতার মোহ কী কখনও সত‍্য মেনে নিতে পারে? লুকোনোর কিছু নেই। সত‍্য হলো স্বদেশ সোজাপথে হাঁটছে না! ছবি-ইন্টারনেট থেকে নেয়া। editor.eurobangla@yahoo.de, http://www.eurobangla.org/

ফেইসবুকে লিটনের অনুরোধ, আমার জবাব!

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। রাজশাহীর মেযর এএইচ এম খাযরুজ্জামান লিটন, পিতা জাতীয় নেতা এএইচ এম কামারুজ্জামান। গতকাল তিনি আমাকে ফেইসবুকে বন্ধুত্বের একটা অনুরোধ পাঠিয়েছেন। সঙ্গতকারণেই আমি বন্ধুত্ব অনুমোদন করিনি। সুপ্রিয় পাঠক কেন করিনি তা বিবেচনা করবেন আপনারা। আমি শুধু কতগুলি ঘটনা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করছি মাত্র। জনাব লিটন বন্ধুত্বের যে অনুরোধ পাঠিয়েছেন তা খায়ের জামান নামে। অনুরোধ পাবার পর ফেইসবুক ঘাটাঘাটি করে আবিস্কার করলাম উনার আরেকটি একাউন্ট রয়েছে ফেইসবুকে। প্রসঙ্গ সেটা নয়। খাযরুজ্জামান লিটন বতর্মানে বাংলাদেশের একজন অন‍্যতম ক্ষমতাবান (জনপ্রিয়তার বিচারে কিংবা গণতান্ত্রিক মান/মযর্াদায় নয়) রাজনীতিক। তিনি রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের ছায়া সাধারণ সম্পাদক এবং একাধারে মেযর। তাঁর এক ভাই আছেন তিনি রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস‍্য। যিনি ২০০১ সালের ১ মে খোলস বদল করে হাসিনার হাতে ফুলের তোড়া ধরিয়ে দিয়ে আওয়ামী লীগে ঢুকেছিলেন একদিনও আওয়ামী রাজনীতি না করে। উনার মা আবার জামাতের প্রভাবশালী নেতা। এটার আমার কথা নয়, রাজশাহীর মানুষ এগুলি নিয়ে মাঝে মাঝেই সমালোচনায় মেতে ওঠেন চায়ের আড্ডায়। দল বদলের ঘটনা ওখানে নতুন কিছু নয়, বাংলাদেশে এসব ঘটনা মামুলি ব‍্যাপার। বিশেষ করে বড় দুইটি রাজনৈতিক দলে। লিটনের আরেক চাচা মাহফুজুল আলম লোটন, যিনিও ফারুক চৌধুরীর সঙ্গে একইদিনে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। বতর্মানে তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। মোটাদাগে বলতে গেলে বলা যায় রাজশাহী জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ মূলত: এখন পারিবারক সম্পত্তি খাযরুজ্জামান লিটনদের। যেটা এই রাজনীতিক ও তাঁর নব‍্য আওয়ামী লীগার ভাইয়ের দীর্ঘদিনের খায়েশ ছিল। এটাও কোন নতুন বিষয় নয় বাংলার মানুষের কাছে। দুই ভাই ও এক চাচার কূটকৌশলের কাছে শেখ হাসিনা ও তাঁর দল আওয়ামী লীগ শেষ অবধি কী নিলর্জ্জভাবে নতি স্বীকার করে একজন নিবর্র্াচিত নেতাকে দল থেকে বাদ দিয়েছেন কোন কারণ না দেখিয়েই! অথচ যিনি দীঘর্ চার দশকের অধিক সময় ধরে আওয়ামী লীগ করে আসছেন নিরবিচ্ছিন্নভাবে। এমন অগণতান্ত্রিক চচর্ায়ও আমি আর হতাশ বা মমর্াহত হই না। কারণ এসবে নতুন কিছু নেই। ক্ষমতা, অথর্ আর অন‍্যায় দাপট বাংলাদেশের রাজনীতি ও জনগণের বুকে এক জগদ্দল পাথর হয়ে উঠে আছে। তবে আমি আশাবাদী, জনগণ বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম নিশ্চয়ই আর বেশিদিন অপেক্ষা করবে না এই জগদ্দল পাথরের বুকে একতার লাথি মেরে মানবতার হাতুড়ির আঘাতে চুণর্বিচূণর্ করতে। সেদিন আর বেশিদূরে নয়। কারণ মানুষের কষ্ট আর যন্ত্রণার পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লার নিবর্াচনে জনগণ তারই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। যদিও এই দুই নিবর্াচনে ক্ষমতাসীনদের পরাজয় তাদের ভুলগুলিকে শোধরানোর একটা শিক্ষা দিলেও হাসিনা তোষামদকারি, সুবিধাবাদী চক্র আর অগণতান্ত্রিক একগুয়েমিতার জায়গা থেকে একচুল পরিমাণও নড়েনি এখনও। খালেদা বা তাঁর দল নিয়ে আমাদের বলার কিছু নেই। কারণ মুক্তিযুদ্ধ এবং অসাম্প্রদায়িকতাপ্রিয় মানুষের প্রত‍্যাশা হাসিনা এবং তাঁর দলের কাছেই বেশি। সেটার দিকে হাসিনার নজর পড়লেই ভাল। প্রসঙ্গ আর বাড়াতে চাই না। আমার ধারণা জনাব লিটন আমার সাথে বন্ধুত্বের জন‍্য নয় বরং আমাকে মানসিকভাবে এক ভয় হুমকির হিসাব জানানোর জন‍্যই এই অনুরোধ পাঠিয়েছেন। এটা ভাবার একটা কারণ অবশ‍্যই আছে। আমি যে দেশে আছি সেই দেশের অনেক গণ‍্যমান‍্য ব‍্যক্তির সঙ্গে উনার সখ‍্যতা আছে সামাজিক মিডিয়াবন্ধুও আছেন তাদের মধ‍্যে অনেকেই। এই অবস্থায় হয়তো উনি আমাকে বোঝাতে চেয়েছেন এটাই যে উনার হাতটা অনেকদূর পযর্ন্ত যেতে পারে! এখানেও একটা অন‍্যায় বা অন‍্যায‍্য ঘটনা ঘটিয়ে দেয়া তাঁর জন‍্য কোন ব‍্যাপারই নয়। হয়ত এই বাতর্াটিই উনি আমাকে দিতে চেয়েছেন বন্ধুত্বের অনুরোধ জানানোর মাধ‍্যমে। উনি হয়ত এটা ভুলেই গেছেন যে এটা বাংলাদেশ নয়। এটা গণতন্ত্র, মানবাধিকার, ন‍্যায়বিচার, নিরাপত্তা এবং শান্তির দেশ। যাহোক, খাযরুজ্জামান লিটনের বন্ধুত্বের অনুরোধ পাবার পর উনাকে একটা জবাব লিখেছি। সেই জবাবের কপিটা আপনাদের কাছে হুবহু শেয়ার করছি।
“জনাব এ এইচ এম খাযরুজ্জামান লিটন, শুভেচ্ছা জানবেন। আপনি ফেইসবুকে বন্ধু হবার জন‍্য একটি অনুরোধ পাঠিয়েছেন। না, আমি এতে আশ্চযর্ হইনি মোটেও। কারণ আপনারা সবই পারেন। সাংবাদিককে হত‍্যার পরিকল্পনা করতে পারেন, জরুরি অবস্থায় গোয়েন্দাদের কোলে উঠে হাসিনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে পারেন, আবার হাসিনা ক্ষমতায় এলে তার তোষামদি করে একেবারেই প্রিয় হয়ে ওঠেন। আপনারা নিজের সন্তানের ফল জোর করে ভালো করানোর জন‍্য শিক্ষাবোডর্ের চেয়ারম‍্যানকেও হত‍্যার হুমকি দেন। নিশ্চয়ই আপনার মনে পড়ছে এখন রাজশাহী শিক্ষাবোডর্ের চেয়ারম‍্যান অধ‍্যাপক দীপককে কিভাবে আপনি হযরাণি করিয়েছেন। না এগুলি আমার কথা নয় বরং বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ইংরেজী দৈনিক স্টার এই ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত লিখেছিল। সরকারের প্রতিনিধি হবার সুবাদে জনগণের রক্ত/ঘাম ঝরানো টাকায় দেশ-বিদশ ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আপনিও একজন মেযর, তুতীয় বিশ্বের একটি দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশের একটি বিভাগীয় শহরের মেযর। আপনি কি বলতে পারেন আপনার সঙ্গে জামর্ানি, অষ্ট্রিয়া, নরওয়ে কিংবা ডেনমাকর্ের মেয়রদের মাঝে কি পার্থক‍্য? অবশ‍্যই বুঝতে পারেন, কিন্তু সেটার অনুশীলন করেন না কেবল স্বদেশে। এসব দেশের মেয়ররা একদম সাধারণ মানুষের মতো চলাফেরা করেন। তাদের দেখে বোঝার উপায় নেই যে তারা মেয়র। অনেক মেযর আছেন যাঁরা আবার সাইকেল চালিয়ে সাধারণ মানুষের মতো হাট-বাজার করেন। উন্নত গণতান্ত্রিক চচর্া আর বৈষম‍্যহীন সমাজের মেয়ররাই কেবল এমনটা করতে পারেন। যেখানে গণতন্ত্রের কোন বালাই নেই, সবখানে দুনর্ীতি আর বৈষম‍্য, রাজনীতিবিদরাই (অবশ‍্যই সবাই নন, ব‍্যতিক্রম আছে) সেখানে গণতন্ত্রকে হত‍্যা করছে প্রতিনিয়ত নানাভাবে। যাহোক আসল কথায় আসি। আপনি জানেন একমাত্র আপনি, আপনার চাচা জনাব লোটন এবং র‍্যাব ও র‍্যাবের মেজর রাশেদ এর কারণে আমি আজ মাতৃভূমি ছাড়তে বাধ‍্য হয়েছি। আপনারা আমাকে হত‍্যা করতে চেয়েছিলেন। চোখ বেঁধে ১৫ ঘন্টা ধরে উপরে ঝুলিয়ে রেখে আমার উপর যে ববর্ররতা চালানো হয়েছিল তার ক্ষতচিহৃ এখনও আমি বয়ে বেড়াচ্ছি। কিন্তু আমারতো কোন অপরাধ ছিল না! আমি শুধু কথা বলেছি অসাম্প্রদায়িকতা, গণতন্ত্র, সাম‍্য আর মানবাধিকারের পক্ষে এবং দুনর্ীতি, লুটপাট, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে। হাসিনাকে হত‍্যাপ্রচেষ্টার (গ্রেনেড হামলার মাধ‍্যমে) বিরুদ্ধে এবং জঙ্গি অপতৎপরতা বন্ধের দাবিতে কাফনের কাপড় পরে রাজশাহী শহরে র‍্যালি করেছিলাম। বিএনপি-জামাতের দুঃশাসন এবং সংখ‍্যালঘু নিযর্াতনের বিরুদ্ধে কলম ধরেছিলাম, রাস্তায় প্রতিবাদ জানিয়ে সমাবেশ করেছিলাম। এসবই কী আমার অপরাধ? তাহলে কেন আপনারা আমাকে শায়েস্তা করলেন অন‍্যায়ভাবে, অমানবিকভাবে। ফেইসবুক ঘেটে দেখলাম, আপনার আরেকটি একাউন্ট আছে আপনার আসল নামে(আবুল হাসনাত মোহাম্মদ খাযরুজ্জামান লিটন)। আমাকে বন্ধুত্ব এর অনুরোধ পাঠিয়েছেন খায়ের জামান নামে। আপনার সাথে আমার বন্ধুত্ব করতে কোন আপত্তি নেই, এবং আমি আপনাদের মতো প্রতিহিংসাপরায়ণও নই। কিন্তু বন্ধুত্বের আগে বন্ধুর কাছ থেকে একটি প্রশ্নের স্বচ্ছ এবং সৎ উত্তর চাই। কেন আপনারা আমাকে হত‍্যা করতে চেয়েছিলেন, কেন আমার নামে খুনি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও ধষর্কদের দিয়ে মিথ‍্যা অভিযোগ এনে মামলা করিয়েছিলেন, কার কী লাভ হলো এতে? এর একটা উত্তর আমার জানা আছে আর সেটা হলো-এখন রাজশাহীতে ক্ষমতাসীনদের অন‍্যায়, চাঁদাবাজি, দুনর্ীতি আর অপকমর্গুলির বিরুদ্ধে জোরালোভাবে কেউ লেখালেখি করার সাহস পাচ্ছেন না। আর এই সাহসটাই আপনি ভেঙ্গে দিয়েছেন আমার উপর ববর্রতা চালানোর মধ‍্য দিয়ে। কেউ কিছু বললে বা লিখলে রাষ্ট্রীয় বাহিনীতো আছেই। হয় গুম, বা গুপ্ত হত‍্যা নয়তো ক্রসফায়ার বা মিথ‍্যা অভিযোগে মামলা চাপিয়ে দেয়া। আমি আপনার উত্তর পাবার জন‍্য অধীর আগ্রহভরে অপেক্ষায় থাকলাম। বিনয়াবনত-আকাশ editor.eurobangla@yahoo.de”
প্রিয় পাঠক আপনারাই বলুন আমি কি কোন মন্দ জবাব দিয়েছি? নতুন বছর হোক শান্তি আর মানবাধিকারের বছর।