ফেইসবুকে লিটনের অনুরোধ, আমার জবাব!

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। রাজশাহীর মেযর এএইচ এম খাযরুজ্জামান লিটন, পিতা জাতীয় নেতা এএইচ এম কামারুজ্জামান। গতকাল তিনি আমাকে ফেইসবুকে বন্ধুত্বের একটা অনুরোধ পাঠিয়েছেন। সঙ্গতকারণেই আমি বন্ধুত্ব অনুমোদন করিনি। সুপ্রিয় পাঠক কেন করিনি তা বিবেচনা করবেন আপনারা। আমি শুধু কতগুলি ঘটনা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করছি মাত্র। জনাব লিটন বন্ধুত্বের যে অনুরোধ পাঠিয়েছেন তা খায়ের জামান নামে। অনুরোধ পাবার পর ফেইসবুক ঘাটাঘাটি করে আবিস্কার করলাম উনার আরেকটি একাউন্ট রয়েছে ফেইসবুকে। প্রসঙ্গ সেটা নয়। খাযরুজ্জামান লিটন বতর্মানে বাংলাদেশের একজন অন‍্যতম ক্ষমতাবান (জনপ্রিয়তার বিচারে কিংবা গণতান্ত্রিক মান/মযর্াদায় নয়) রাজনীতিক। তিনি রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের ছায়া সাধারণ সম্পাদক এবং একাধারে মেযর। তাঁর এক ভাই আছেন তিনি রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস‍্য। যিনি ২০০১ সালের ১ মে খোলস বদল করে হাসিনার হাতে ফুলের তোড়া ধরিয়ে দিয়ে আওয়ামী লীগে ঢুকেছিলেন একদিনও আওয়ামী রাজনীতি না করে। উনার মা আবার জামাতের প্রভাবশালী নেতা। এটার আমার কথা নয়, রাজশাহীর মানুষ এগুলি নিয়ে মাঝে মাঝেই সমালোচনায় মেতে ওঠেন চায়ের আড্ডায়। দল বদলের ঘটনা ওখানে নতুন কিছু নয়, বাংলাদেশে এসব ঘটনা মামুলি ব‍্যাপার। বিশেষ করে বড় দুইটি রাজনৈতিক দলে। লিটনের আরেক চাচা মাহফুজুল আলম লোটন, যিনিও ফারুক চৌধুরীর সঙ্গে একইদিনে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। বতর্মানে তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। মোটাদাগে বলতে গেলে বলা যায় রাজশাহী জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ মূলত: এখন পারিবারক সম্পত্তি খাযরুজ্জামান লিটনদের। যেটা এই রাজনীতিক ও তাঁর নব‍্য আওয়ামী লীগার ভাইয়ের দীর্ঘদিনের খায়েশ ছিল। এটাও কোন নতুন বিষয় নয় বাংলার মানুষের কাছে। দুই ভাই ও এক চাচার কূটকৌশলের কাছে শেখ হাসিনা ও তাঁর দল আওয়ামী লীগ শেষ অবধি কী নিলর্জ্জভাবে নতি স্বীকার করে একজন নিবর্র্াচিত নেতাকে দল থেকে বাদ দিয়েছেন কোন কারণ না দেখিয়েই! অথচ যিনি দীঘর্ চার দশকের অধিক সময় ধরে আওয়ামী লীগ করে আসছেন নিরবিচ্ছিন্নভাবে। এমন অগণতান্ত্রিক চচর্ায়ও আমি আর হতাশ বা মমর্াহত হই না। কারণ এসবে নতুন কিছু নেই। ক্ষমতা, অথর্ আর অন‍্যায় দাপট বাংলাদেশের রাজনীতি ও জনগণের বুকে এক জগদ্দল পাথর হয়ে উঠে আছে। তবে আমি আশাবাদী, জনগণ বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম নিশ্চয়ই আর বেশিদিন অপেক্ষা করবে না এই জগদ্দল পাথরের বুকে একতার লাথি মেরে মানবতার হাতুড়ির আঘাতে চুণর্বিচূণর্ করতে। সেদিন আর বেশিদূরে নয়। কারণ মানুষের কষ্ট আর যন্ত্রণার পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লার নিবর্াচনে জনগণ তারই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। যদিও এই দুই নিবর্াচনে ক্ষমতাসীনদের পরাজয় তাদের ভুলগুলিকে শোধরানোর একটা শিক্ষা দিলেও হাসিনা তোষামদকারি, সুবিধাবাদী চক্র আর অগণতান্ত্রিক একগুয়েমিতার জায়গা থেকে একচুল পরিমাণও নড়েনি এখনও। খালেদা বা তাঁর দল নিয়ে আমাদের বলার কিছু নেই। কারণ মুক্তিযুদ্ধ এবং অসাম্প্রদায়িকতাপ্রিয় মানুষের প্রত‍্যাশা হাসিনা এবং তাঁর দলের কাছেই বেশি। সেটার দিকে হাসিনার নজর পড়লেই ভাল। প্রসঙ্গ আর বাড়াতে চাই না। আমার ধারণা জনাব লিটন আমার সাথে বন্ধুত্বের জন‍্য নয় বরং আমাকে মানসিকভাবে এক ভয় হুমকির হিসাব জানানোর জন‍্যই এই অনুরোধ পাঠিয়েছেন। এটা ভাবার একটা কারণ অবশ‍্যই আছে। আমি যে দেশে আছি সেই দেশের অনেক গণ‍্যমান‍্য ব‍্যক্তির সঙ্গে উনার সখ‍্যতা আছে সামাজিক মিডিয়াবন্ধুও আছেন তাদের মধ‍্যে অনেকেই। এই অবস্থায় হয়তো উনি আমাকে বোঝাতে চেয়েছেন এটাই যে উনার হাতটা অনেকদূর পযর্ন্ত যেতে পারে! এখানেও একটা অন‍্যায় বা অন‍্যায‍্য ঘটনা ঘটিয়ে দেয়া তাঁর জন‍্য কোন ব‍্যাপারই নয়। হয়ত এই বাতর্াটিই উনি আমাকে দিতে চেয়েছেন বন্ধুত্বের অনুরোধ জানানোর মাধ‍্যমে। উনি হয়ত এটা ভুলেই গেছেন যে এটা বাংলাদেশ নয়। এটা গণতন্ত্র, মানবাধিকার, ন‍্যায়বিচার, নিরাপত্তা এবং শান্তির দেশ। যাহোক, খাযরুজ্জামান লিটনের বন্ধুত্বের অনুরোধ পাবার পর উনাকে একটা জবাব লিখেছি। সেই জবাবের কপিটা আপনাদের কাছে হুবহু শেয়ার করছি।
“জনাব এ এইচ এম খাযরুজ্জামান লিটন, শুভেচ্ছা জানবেন। আপনি ফেইসবুকে বন্ধু হবার জন‍্য একটি অনুরোধ পাঠিয়েছেন। না, আমি এতে আশ্চযর্ হইনি মোটেও। কারণ আপনারা সবই পারেন। সাংবাদিককে হত‍্যার পরিকল্পনা করতে পারেন, জরুরি অবস্থায় গোয়েন্দাদের কোলে উঠে হাসিনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে পারেন, আবার হাসিনা ক্ষমতায় এলে তার তোষামদি করে একেবারেই প্রিয় হয়ে ওঠেন। আপনারা নিজের সন্তানের ফল জোর করে ভালো করানোর জন‍্য শিক্ষাবোডর্ের চেয়ারম‍্যানকেও হত‍্যার হুমকি দেন। নিশ্চয়ই আপনার মনে পড়ছে এখন রাজশাহী শিক্ষাবোডর্ের চেয়ারম‍্যান অধ‍্যাপক দীপককে কিভাবে আপনি হযরাণি করিয়েছেন। না এগুলি আমার কথা নয় বরং বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ইংরেজী দৈনিক স্টার এই ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত লিখেছিল। সরকারের প্রতিনিধি হবার সুবাদে জনগণের রক্ত/ঘাম ঝরানো টাকায় দেশ-বিদশ ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আপনিও একজন মেযর, তুতীয় বিশ্বের একটি দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশের একটি বিভাগীয় শহরের মেযর। আপনি কি বলতে পারেন আপনার সঙ্গে জামর্ানি, অষ্ট্রিয়া, নরওয়ে কিংবা ডেনমাকর্ের মেয়রদের মাঝে কি পার্থক‍্য? অবশ‍্যই বুঝতে পারেন, কিন্তু সেটার অনুশীলন করেন না কেবল স্বদেশে। এসব দেশের মেয়ররা একদম সাধারণ মানুষের মতো চলাফেরা করেন। তাদের দেখে বোঝার উপায় নেই যে তারা মেয়র। অনেক মেযর আছেন যাঁরা আবার সাইকেল চালিয়ে সাধারণ মানুষের মতো হাট-বাজার করেন। উন্নত গণতান্ত্রিক চচর্া আর বৈষম‍্যহীন সমাজের মেয়ররাই কেবল এমনটা করতে পারেন। যেখানে গণতন্ত্রের কোন বালাই নেই, সবখানে দুনর্ীতি আর বৈষম‍্য, রাজনীতিবিদরাই (অবশ‍্যই সবাই নন, ব‍্যতিক্রম আছে) সেখানে গণতন্ত্রকে হত‍্যা করছে প্রতিনিয়ত নানাভাবে। যাহোক আসল কথায় আসি। আপনি জানেন একমাত্র আপনি, আপনার চাচা জনাব লোটন এবং র‍্যাব ও র‍্যাবের মেজর রাশেদ এর কারণে আমি আজ মাতৃভূমি ছাড়তে বাধ‍্য হয়েছি। আপনারা আমাকে হত‍্যা করতে চেয়েছিলেন। চোখ বেঁধে ১৫ ঘন্টা ধরে উপরে ঝুলিয়ে রেখে আমার উপর যে ববর্ররতা চালানো হয়েছিল তার ক্ষতচিহৃ এখনও আমি বয়ে বেড়াচ্ছি। কিন্তু আমারতো কোন অপরাধ ছিল না! আমি শুধু কথা বলেছি অসাম্প্রদায়িকতা, গণতন্ত্র, সাম‍্য আর মানবাধিকারের পক্ষে এবং দুনর্ীতি, লুটপাট, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে। হাসিনাকে হত‍্যাপ্রচেষ্টার (গ্রেনেড হামলার মাধ‍্যমে) বিরুদ্ধে এবং জঙ্গি অপতৎপরতা বন্ধের দাবিতে কাফনের কাপড় পরে রাজশাহী শহরে র‍্যালি করেছিলাম। বিএনপি-জামাতের দুঃশাসন এবং সংখ‍্যালঘু নিযর্াতনের বিরুদ্ধে কলম ধরেছিলাম, রাস্তায় প্রতিবাদ জানিয়ে সমাবেশ করেছিলাম। এসবই কী আমার অপরাধ? তাহলে কেন আপনারা আমাকে শায়েস্তা করলেন অন‍্যায়ভাবে, অমানবিকভাবে। ফেইসবুক ঘেটে দেখলাম, আপনার আরেকটি একাউন্ট আছে আপনার আসল নামে(আবুল হাসনাত মোহাম্মদ খাযরুজ্জামান লিটন)। আমাকে বন্ধুত্ব এর অনুরোধ পাঠিয়েছেন খায়ের জামান নামে। আপনার সাথে আমার বন্ধুত্ব করতে কোন আপত্তি নেই, এবং আমি আপনাদের মতো প্রতিহিংসাপরায়ণও নই। কিন্তু বন্ধুত্বের আগে বন্ধুর কাছ থেকে একটি প্রশ্নের স্বচ্ছ এবং সৎ উত্তর চাই। কেন আপনারা আমাকে হত‍্যা করতে চেয়েছিলেন, কেন আমার নামে খুনি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও ধষর্কদের দিয়ে মিথ‍্যা অভিযোগ এনে মামলা করিয়েছিলেন, কার কী লাভ হলো এতে? এর একটা উত্তর আমার জানা আছে আর সেটা হলো-এখন রাজশাহীতে ক্ষমতাসীনদের অন‍্যায়, চাঁদাবাজি, দুনর্ীতি আর অপকমর্গুলির বিরুদ্ধে জোরালোভাবে কেউ লেখালেখি করার সাহস পাচ্ছেন না। আর এই সাহসটাই আপনি ভেঙ্গে দিয়েছেন আমার উপর ববর্রতা চালানোর মধ‍্য দিয়ে। কেউ কিছু বললে বা লিখলে রাষ্ট্রীয় বাহিনীতো আছেই। হয় গুম, বা গুপ্ত হত‍্যা নয়তো ক্রসফায়ার বা মিথ‍্যা অভিযোগে মামলা চাপিয়ে দেয়া। আমি আপনার উত্তর পাবার জন‍্য অধীর আগ্রহভরে অপেক্ষায় থাকলাম। বিনয়াবনত-আকাশ editor.eurobangla@yahoo.de”
প্রিয় পাঠক আপনারাই বলুন আমি কি কোন মন্দ জবাব দিয়েছি? নতুন বছর হোক শান্তি আর মানবাধিকারের বছর।

Advertisements

3 responses to “ফেইসবুকে লিটনের অনুরোধ, আমার জবাব!

  1. Thanx Akash….Tomar buker pata asche bolei aaj tumi khub sahoje eta korte perecho…Tumi amar colleague. Ami tomake respect kori!

  2. Encouraging! Amader desh ekdin change hobe Akash vai. Thanks for your sharing.

  3. shahidul islam shahid

    kobe amader desh change hobe? Koi akashke nieto keo kuno kotha bole na. Rajshahir sangbadikder meudanda nai. ist is proved.

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s