স্বদেশ ভালো নেই!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। “কেউ কাউকে মানে না, সবাই স্বাধীন। পুলিশ মানে না কোটর্। বাস চালকও মানে না পুলিশকে। বিনা লাইসেন্সে সবই চলে। হত‍্যাকান্ডও চলে একইভাবে। কোন সম্ভাবনা নেই স্বাভাবিক মৃত্যুরও। সবসময় একটা ঝুঁকি জীবনের ওপরে। আমি জানি না কী অপেক্ষা করছে আমার শিশুসন্তানদের জন‍্য। এখন খুবই কঠিন সময় অর্থের অভাবে প্রতিবেশী দেশ ভারতেও যেতে পারছি না চিকিৎসার জন‍্য।” বাংলাদেশের একটা সার্বিক চিত্র এভাবেই তুলে ধরলেন আমার এক পরিচিত সরকারি চাকুরিজীবী। যিনি বাংলাদেশের একটি বিশেষ প্রফেশনাল গ্রুপে কমর্রত। গত ২ সেপ্টেম্বর তার সঙ্গে আমার অনলাইনে কথা হয়। জানতে চেয়েছিলাম কেমন আছে আমার স্বদেশ? তারই উত্তরে তিনি উপরোক্ত বিষয়গুলি তুলে ধরেন। আশা করি আপনারা দেশের অবস্থাটা কেমন তার একটা ধারণা পেলেন।
বঙ্গবন্ধু কন‍্যা হাসিনা তাঁর মহাজোট সরকারের তিন বছর পূর্তিতে সম্প্রতি বলেছেন দেশ ভালোই চলছে! হাসিনা আরও বলেন আমরা দেশ চালাতে কোন অবহেলা করিনি এবং করছি না। বিরোধীদল সহযোগিতার পরিবর্তে ষড়যন্ত্র করছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই বক্তব‍্যের সাথে বাস্তব পরিস্থিতিটা মিলিয়ে নেয়ার মানসিকতা থেকেই আজকের এই লেখা। আসলে কী দেশ ভালো আছে? নাকি মিথ‍্যা বলাটা আর সত‍্যটাকে চাপা দেয়া রাষ্ট্রনায়কদের একটা সহজাত ও পুরনো প্রবৃত্তি?
সরকারি এই চাকুরের মন্তব‍্য থেকে পরিস্কার বোঝা যায় স্বদেশ এখন কোন পর্যায়ে। কিন্তু বোঝেন না কেবল সরকারি দল। সংবাদপত্রের পাতা কিংবা টিভি চ‍্যানেলগুলির খবর শুনলে দেশের হতাশাজনক অন‍্যান‍্য চিত্রও ধরা পড়ে সহজেই। মুখের জোরে বা ক্ষমতার মোহে অথবা বাহুবল দিয়ে যতই বলার চেষ্টা করা হোক না কেন বাস্তবতাকে আঁড়াল করা যায় না কখনও। বাস্তবতা তার নিজ শক্তিতেই বেরিয়ে আসবে সবার সামনে। তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে আমাদের ক্ষমতালোভী রাস্ট্রনায়ক এবং তাদের স্তাবক তোষামদকারী চাটুকারের দল এই মহাসত‍্য স্বীকার করতে চায় না। অতীতে কখনও কোন সরকারই তা স্বীকার করেনি। এটাও একটা বাস্তবতা। বতর্মানে বিরোধী দল বিএনপি বলছে দেশ ভালো নেই, মহাজোট সরকার দেশ পরিচালনায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ। বিরোধিতার খাতিরে এবং ক্ষমতার মোহে বিরোধীদল এভাবে কথা বলবে এটা বাংলাদেশে খুবই স্বাভাবিক।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে বিএনপি এ ভাষায় কথা বলে। আবার বিএনপি ক্ষমতায় গেলে আওয়ামী লীগ ঠিক একই ভাষায় কথা বলে থাকে। দেশের মানুষ এই পরস্পরবিরোধিতার কারণো বোঝেন। কিন্তু যখন নিজ জোট ও দলের নেতা বলেন দেশ ভালো নেই তখন বিরোধিদের বক্তব‍্যর অসাঢ়তা প্রমাণ করা কঠিন। আমার স্বদেশ বাংলাদেশের রাজনীতিক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, এমনকি সরকারি দলের বহু নেতা বলছেন দেশ ভালো চলছে না। সাধারণ মানুষেরতো নাভিশ্বাস অবস্থা নানা কারণে। দ্রব‍্যমূল‍্য, বিদ্যুত-গ‍্যাস, তেল এবং নিত‍্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে লাগামহীনভাবে। শেয়ারবাজারের তোঘলকি কান্ডতো এখন দেশজুড়েই আলোচিত বিষয়।
বিচারবহিভূর্ত হত‍্যাকান্ড, গুপ্তহত‍্যা, অপহরণ, ধষর্ণ, সড়ক দূঘর্টনাসহ নানান মানবাধিকার লংঘণের ঘটনা দেশে এক চরম আতংকাবস্থার সৃষ্টি করেছে। স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির জন‍্য যুদ্ধাপরাধীদের কোন ষড়যন্ত্র করার দরকার নেই। সেখানে ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাস, ধষর্ণ, চাঁদাবাজি আর অন্তর্কলহই যথেষ্ট। সাতক্ষীরায় ছাত্রলীগ নেতা কতর্ৃক এক নৃত‍্যশিল্পী ধষর্ণ ঘটনা এখন দেশের মানুষের মুখে মুখে। ইভটিজারদের হামলায় কলেজ শিক্ষক, অভিভাবক মারা পড়ছেন। অনভিজ্ঞ আনাড়ী চালকদের শিকার হচ্ছেন মেধাবী সাংবাদিক মিশুক মুনীর, তরুণ সাংবাদিক নিখিল ভদ্র ও চলচিত্র নিমর্াতা তারেক মাসুদ। যৌন হযরাণির সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসী চক্রের হাত থেকে বাঁচতে সম্ভাবনাময় তরুণ নারীরা একের পর এক নিজের জীবন জলাঞ্জলি দিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের বুকে চাবুক মেরে চলেছে। কিন্তু যৌন হয়রাণি বন্ধ হবার লক্ষ‍্যণ নেই। সমাজও জাগছে না।
বিভিন্ন সংবাদপত্রের খবরে প্রকাশ-ধর্মীয় সংখ‍্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের জায়গা-জমি বাড়ি-ঘর সরকারি দলের নেতা-কমর্ীরা দখল করে নিচ্ছে। খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিনের উৎসবের মধ‍্যেই পাবনায় বেশ কিছু খ্রিষ্টান পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখা এবং যশোরে খ্রিষ্টানচাচর্ে হামলা হয়েছে। ওদিকে পার্বত‍্যচট্রগ্রামে আদিবাসীদের মাঝে শান্তি ফিরে আসেনি আজও। আদিবাসি হত‍্যা-ধর্ষণ ও বাড়িঘরে আগুন দেয়ার মতো অমানবিক ঘটনার খবর মাঝেমধ‍্যেই সংবাদপত্রের শিরোনাম হয়ে ওঠে আসে। সেখানকার আদিবাসিরা আজও ফিরে পাননি ভূমির অধিকার।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন হয়নি। বাহাত্তরের সংবিধান পুন:প্রতিষ্ঠা করেনি এই সরকার। বিচারবহিভূর্ত হত‍্যাকান্ড বন্ধ হয়নি। এসবকিছুই হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি। সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল হাসিনার সরকার। সেই প্রতিশ্রুতিও পূরণ করেনি। বরং সাংবাদিক নির্যাতন অব‍্যাহত। আরটিভির প্রতিশ্রুতিশীল সাংবাদিক অর্পণা সিংহ। তিনি দুর্নীতির রিপোর্ট করতে গিয়েছিলেন রাজধানীর একটি স্কুলে। সেই স্কুলের ব‍্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সরকার দলীয় সংসদ সদস‍্য কামাল আহম্মেদ মজুমদার। তিনি এই তরুণ নারী সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করলেন। একের পর এক সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা প্রমাণ করছে দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কিংবা প্রেসের স্বাধীনতায় ক্ষমতাসীনদের অবস্থানটা কোথায়?
বাংলাদেশে যে মানুষের জীবনের কোন অধিকার নেই তা নানাভাবে আলোচিত হচ্ছে দেশে বিদেশে। দেশের একটি মানবাধিকার সংগঠনের রিপোটর্ে মানবাধিকার পরিস্থিতির একটা চরম হতাশা ও উদ্বেগজনক পরিসংখ‍্যান উঠে এসেছে। গতকাল দেশের সবক’টি সংবাদপত্রে এই খবরটি গুরুত্ব সহকারে প্রকাশিত হয়। রিপোটর্ে বলা হয়, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালে ক্রসফায়ারের নামে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে ১৫৪টি। ২০১০ সালে এ সংখ্যা ছিলো ১২৭। ২০১১ সালে তা কমে ৮৪ তে দাঁড়ায়। রিপোটর্ মতে, দেশে ক্রসফায়ারের নামে হত‍্যাকান্ড কমলেও গুপ্তহত‍্যা বেড়েছে আশংকাজনকহারে, যা রাষ্ট্রেরই নয়া কৌশল। ২০০৯ সালে ২টি গুমের ঘটনার কথা জানা গেলেও ২০১০ সালে হয় ১৮টি। আর ২০১১ সালে গুপ্তহত্যার শিকার হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। ২০১১ সালে ৭১১ জন নারী ধর্ষণ, ৫১৬ জন যৌতুকের কারণে সহিংসতা এবং ৬৭২ জন বখাটেদের যৌন হযরাণির শিকার হয়েছেন। মানবাধিকার সংগঠনটির রিপোটর্ের মূল‍্যায়ণ অংশে বলা হয়, “গত তিন বছরে এটিই প্রমানিত হয়েছে যে, অগণতান্ত্রিক ও জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী কাঠামো বজায় রেখে শুধুমাত্র একটি নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচিত কোনো দলকে শাসন করতে দিলে তা জনগণের কোনো কাজে আসে না।”
হাসিনা সরকারের জনপ্রিয়তায় ইতিমধ‍্যে ধস নামতে শুরু করেছে। তারই প্রমাণ মেলে দেশের জনপ্রিয় বাংলা দৈনিক পত্রিকা প্রথম আলোর অনলাইন জনমত জরিপ রিপোটর্ে। রিপোটর্ অনুযায়ী শতকরা ৮৩ শতাংশের বেশি মানুষ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব‍্যের ওপর আস্থা রাখেন না। প্রধানমন্ত্রী হাসিনা সম্প্রতি বলেছিলেন যে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুষ্ঠু ভোট হলে পরাজয় মেনে নিতে প্রস্তুত তিনি। রাজশাহী অঞ্চলে কমর্রত একজন ম‍্যাজিষ্ট্রেট কিছুদিন আগে বলেছিলেন যে সরকারদলীয় লোকজনদের উৎপাত আর অন‍্যায় আবদারে চাকরি করা যাচ্ছে না। রাজনৈতিক চাপ অতীতের সব সরকারকে হার মানিয়েছে। সরকারদলীয় লোকজনদের কেবল ‘খাই খাই, চাই চাই’ ভাব। পাল্টা প্রশ্ন করে জানতে চেয়েছিলাম এই বলে যে, আপনিতো হাসিনার দলেরই সমর্থক এবং ছাত্রজীবনেও আপনি ছাত্রলীগ করেছেন। তাহলে সমস‍্যা কোথায়, আপনার জন‍্যতো এখন সুসময়। আমার কথা শোনার তিনি রীতিমতো ক্ষেপে যান। এরপর তিনি আরো জানান, এখন সমস‍্যা আরও বেশি, বিএনপি-জামাত আমলেও এমন অবস্থা মোকাবেলা করিনি কোননদিন।
ঢাকা বিশ্ববিদ‍্যালয়ের একজন অধ‍্যাপকের সঙ্গে কথা হলো এইতো সেদিন। এই অধ‍্যাপকের মুখেও হাসিনা সরকারের কমর্কান্ড নিয়ে হতাশার কথা শোনা গেলো। তিনি জানান, হাসিনার কাছে ত‍্যাগি মানুষের কোন দাম নেই। বরং যিনি কেবল প্রশংসা আর সব কথা ও কাজে ‘জি’ বলতে পারেন তারাই তাঁর কাছে প্রিয়। অথচ দু:সময়ে যাদের পাওয়া যায়না। অন‍্য একটি বিশ্বিবদ‍্যালয়ের আরেক অধ‍্যাপকের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে আমার। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রশ্নে তিনি হতাশা ব‍্যক্ত করে বলেন, “অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে সরকার নিজেই চায় না তাদের বিচার হোক। শুধুমাত্র ঘাতকরা ছাড়া দেশের প্রতিটি মানুষই চান এই ঘাতকদের বিচার। কিন্তু ক্ষমতাসীনদের নানানরকমের অন‍্যায় বেপরোয়া কমর্কান্ড যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কাজকে হয়তো বাধাগ্রস্ত করবে।”
দেশে কালো টাকা ছাড়া রাজনীতিক হওয়া এখন বেশ দুস্কর। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও প্রধান বিরোধীদল বিএনপিতে কালো টাকার প্রভাব এখন ওপেনসিক্রেট। বাংলাদেশের রাজনীতিতে কালো টাকার প্রভাব কতটুকু তা দেশের বয়োজ‍্যেষ্ঠ রাজনীতিক আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলির সদস‍্য তোফায়েল আহমেদের কথার মধ‍্যে তা পরিস্কার ফুটে উঠেছে। তিনি বলেন, দলের শীর্ষ নেতাদের সন্তুষ্ট করতে পারলেই নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়া যায়। জনাব তোফায়েলের বক্তব‍্য বাংলাদেশের রাজনীতির স্বরুপটাকে ফুটিয়ে তুলেছে।
বাংলাদেশের রাজনীতিও সোজাপথে হাঁটছেনা। পারিবারিকীকরণ তার একটা বড় প্রমাণ। হাসিনা তাঁর আমেরিকাপ্রবাসী পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে উপদেষ্টা বানিয়েছেন। জীবনের বেশিরভাগ সময় যিনি দেশের বাইরে তিনি দেশ সম্পর্কে কি ধারণা রাখেন তা নিয়ে আছে নানাজনের নানান মত। আবার হাসিনা বা খালেদার উপদেষ্টা যাঁরা আছেন তাঁরা কতটুকু সাহসের সঙ্গে প্রকৃত উপদেশ দেন তা নিয়েও আছে সন্দেহ। উপদেশ দিলেও তা এই দুই নেত্রী গ্রহণ করেন কিনা তাও বোঝা মুশকিল। তবে এটা নিশ্চিত যে অনেকেই নিজ নিজ ধান্দা, সুবিধা ও চাকরি রক্ষায় ব‍্যস্ত। তোষামদ আর অকারণ প্রশংসায় হাসিনা খালেদা বেশামাল। উভয়ে অবশ‍্য তোষামদ পছন্দ করেন না তাও হলফ করে বলার কোন কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। আবদুর রাজ্জাকের মতো ত‍্যাগী নেতার প্রতি শেখ হাসিনা যে অবহেলা দেখালেন তা থেকে একটা বিষয় পরিস্কার যে হাসিনা কতটুকু প্রতিহিংসাপরায়ণ! অথচ রাজ্জাকের অপরাধটা কিসের? তিনিতো দলের ভেতরে গণতন্ত্র চর্চার পথ যাতে পরিপক্ক হয় তারই মত প্রকাশ করেছিলেন জরুরি অবস্থায়। প্রকৃত গণতন্ত্রের চর্চা ও গণতান্ত্রিক মানসিকতায় হাসিনা বিশ্বাস করেন কিনা তা নিয়েও জনমনে সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ আছে।
হাসিনার মহাজোট সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার ওয়াকর্স পার্টি। এই পার্টির সভাপতি ও সংসদ সদস‍্য রাশেদ খান মেনন কিছু সত‍্য কথা জাতির সামনে তুলে ধরেছেন। যার মধ‍্য দিয়ে হাসিনা যে মিথ‍্যা ভাষণ দিয়েছেন তারও একটা প্রমাণ পাওয়া যায়। মেনন বলেন, “সাধারণ মানুষ বলছে দেশ ঠিক পথে চলছে না। তিন বছরের মাথায় যখন উৎসব করার কথা, তখন জনগণের কাছ থেকে অভিযোগ শুনতে হচ্ছে। এতে ক্ষোভে, রাগে, দুঃখে, লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যায়। আমরা অনেক কিছুই পারলাম না, অনেক কিছুই করলাম না। সিন্ডিকেট ভাঙলাম না। দুর্নীতির ও লুটপাটের অর্থনীতির বন্যায় আমরা ভেসে চলে গেলাম। দেশ ঠিক পথে চলছে না। এটা শুধু কোনো পত্রিকার জরিপ নয়। বাসে, ট্রেনে, লঞ্চে যেখানে মানুষ জড়ো হয়, সেখানেই এ ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ হচ্ছে।”
অনেক সময় সরকারদলীয় সংসদ সদস্যরা প্রকাশ্যে বলছেন যে তারা নিরাপদ নন। শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোহাম্মদ আতিউর রহমান আতিক বলেন, “আমি নিরাত্তাহীনতায় ভুগছি।” বিডিনিউজ’র রিপোর্ট অনুযায়ী, দুই সপ্তাহের মধ্যে এই সংসদ সদস্যের বাড়িতে চুরি এবং খড়ের গাদায় আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।দেশের আইনপ্রণেতারা যেখানে নিরাপদ নন, তাদের বাড়িতে ডাকাতি, চুরি ও আগুন দেয়ার মতো দু:সাহসিক ঘটনাগুলি ঘটছে সেখানে সাধারণ মানুষের কী অবস্থা তা আর ভেঙ্গে বলার অপেক্ষা রাখে না।
বেগম জিয়া না হয় ক্ষমতায় বসার জন‍্য হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে মিথ‍্যা ভাষণ দিচ্ছেন, ষড়যন্ত্র করছেন! কিন্তু মেননরাতো ক্ষমতায় এবং হাসিনার সরকারেই আছেন। তাহলে আমরা আমজনতা কাকে সত‍্যবাদী বলে ধরবো-হাসিনা নাকি মেননকে? এই প্রশ্নের বিবেচনা করবেন দেশের মানুষ, জনগণ। অগণতান্ত্রিক মন আর ক্ষমতার মোহ কী কখনও সত‍্য মেনে নিতে পারে? লুকোনোর কিছু নেই। সত‍্য হলো স্বদেশ সোজাপথে হাঁটছে না! ছবি-ইন্টারনেট থেকে নেয়া। editor.eurobangla@yahoo.de, http://www.eurobangla.org/

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s