মিডিয়া ও সন্ত্রাস


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ।। জামাত-শিবির সম্পকর্ে বলার কিছু নেই। দেশবাসি জানেন তারা কী ভয়ংকর সন্ত্রাস ও হাত-পায়ের রগকাটার বেলায়। সেটা অন‍্য কথা। জামাতি মিডিয়া আগে খবর পায় নাকি প্রগতিশীল মাধ‍্যমগুলি ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসীদের ছবি এড়িয়ে যায়, আমি এই প্রশ্নের উত্তর জানি না। বিখ‍্যাত এ ব্লগার অমি রহমান পিয়াল। বাংলাদেশের জগন্নাথ বিশ্ববিদ‍্যালয়ে সন্ত্রাস নিয়ে একটি পোষ্ট দিয়েছেন ফেইসবুকে। পিয়াল লিখেছেন, “ছাত্রলীগ ইদানিং অ্যাকশনের আগে নয়াদিগন্ত, আমার দেশ আর দৈনিক সংগ্রামের ফটোগ্রাফারগো খবর দেয়”। তারই প্রতিক্রয়ায় আমি লিখছি দু’একটি বাক‍্য। পিয়াল সাহেব, ঘটনাতো ঘটছে। ঘটনা আর ছবিগুলিকেতো আর অস্বীকার করা যাবে না। যায় কী? রাজনীতিপ্রেমী বা পক্ষাবলম্বনকারি লেখকরাও (সাংবাদিক, কলামিষ্ট, ব্লগার, আমি, আপনি, উনি, উনারা, দেশী-বিদেশী মিডিয়া, সবখানেই হাসিনা-খালেদা এই দুই দলে বিভক্তি স্পষ্ট বোঝা যায়) কিন্তু দেশে গণতন্ত্রহীনতা ও দুনর্ীতি লালন-পালনে কম দায়ী নন। তাদের ভয় এই ভেবে যে, যদি নেত্রী অখুশি হন। দেশ-বিদেশ ঘুরা কিংবা বিভিন্ন আকষর্ণীয় পদে বসতে পারা যাবে না। এসব হিসাব-নিকেশের কারণেই হয়ত প্রগতিশীল মিডিয়াপাড়া জেগে জেগেই ঘুমিয়ে থাকেন! পরাধী ও স্বৈরাচার সওয়ার করেছে এই দুই নেতৃত্বের কাঁধের ওপর ভর করে। কেউ কী এটা অস্বীকার করবেন? ছবি-ফেইসবুক থেকে নেয়া।
আমার এই মন্তব‍্যের পরে আসাদ জামান আসাদ নামে একজন একটি সুন্দর মন্তব‍্য করেন। তার জবাবে জনাব পিয়াল লিখেন, “ইনফিলট্রেশন আর পোষা ভিন্ন জিনিস। এরা প্ল্যানফুলি ছাত্রলীগে ঢুকছে। তবে তালিকা করা শুরু হয়ে গেছে অলরেডি। হার্ডলি ছয় মাসের মধ্যে প্রতিটা ঘটনা আর এর নেপথ্যের জারিজুরি ফাঁস হবে” আমি লিখি, এইটা কোন সমাধান না পিয়াল সাহেব। প্রশ্নটা হলো ঢুকছে কিভাবে সেই নেতাদের আগে শায়েস্তা করতে হবে। কিন্তু কে করবে? যেহারে লাগামহীন বক্তব‍্য দিচ্ছেন পাটর্ির শীষর্ নেতারা???জবাবে পিয়াল আবার লিখলেন যে, “আকাশ, এখানে দায় এড়ানো হচ্ছে না। বরং একটা সন্দেহ ভয়ঙ্কর বাস্তব হিসেবে ধরা দিতেছে। কিছু জিনিস কখনও গতানুগতিক থিওরিতে কাজ করে না। তাই গতবাধা কথা না আউরাই”। আমার জবাব, সোনার বাংলায় অন্ধ দলপ্রীতিই এক নম্বর সমস‍্যা, দুনর্ীতি ও দারিদ্র‍্যতার চেয়েও হয়তবা! পিয়াল এবার লিখলেন, “ওই আবারও একই ডায়লগ। বললাম তো গতবাধা কথা আউরেতেছেন। প্রাচীন পুথি থেকে কোট করা ছাড়েন। আরেকটু আধুনিক হন, নিজের বোধবুদ্ধি খাটান, ধারকরা কথা আর কতো। আমার পাল্টা জবাব গেলো এভাবে, ফিরে তাকান ৯৬-২০০১, আমি না আপনি সেই বিচার এর ভার আমার ওপর নেই। পিয়ালের জবাব এলো এবার, “আমি আরো আগে থেকে দেখি। কিভাবে কি তা বলা লাগবে না আমারে।” আমি লিখি, থলের বেড়ালটা বেরিয়ে ফেললেন? পিয়াল লিখলেন এবার, “উফফ! জ্বি, ম্যাও কইরা ডাক দিলো মাত্র।” আমি জবাবে বলি, “সমস‍্যাটা কোন ফিকসন নয় যে যতখুশি রং লাগাবেন, মনের মাধুরী মিশিয়ে লিখবেন? সমস‍্যা অনেক গভীর, সমাধান কোথায়? বড় বড় লেকচার সবাই মারতে পারে, কিন্তু সমধান দিতে পারে না!!!” এবার পিয়াল ব‍্যক্তগত আক্রমণে চলে গেলেন। তিনি বললেন যে, “সেটা তো আমিও বলতেছি। লেকচার ছাইড়া সমাধান খুজতে হবে, তার উপর প্রাচীনকালের লেকচার। আকাশ আপনি কোন আকাশ? রাজশাহীর সাংবাদিক? ওই র‌্যাব কেইস? পরে বিদেশ যাইতে পারছিলেন?”
পাল্টা জবাব গেলো আমার। আমি বললাম, “সেটা বলেছেন কিনা তা পাঠকই বলবেন, আমি তকর্ে নেই, আমি কোন ান্ধ রাজনীতির সমর্থন করি না। আপনার সঙ্গে অযথা অনর্থক তকর্ করার মানসিকতাও আমার নেই। ব‍্যক্তিগতভাবে আমি কাউকে আক্রমণ করেও লিখি না কিছু, যা সত‍্য তাই বলার চেষ্টা করি কোন ভনিতা ছাড়াই। আর কোন মন্তব‍্য লিখবো না এখানে। কারণ পূর্বেই বলেছি। ভালো থাকুন। স্বদেশ ভালো চলুক। এই প্রত‍্যাশাই থকলো।” পিয়াল এবার লিখলেন, “আল্লাহ আপনারে সহি সালামতে রাখুক”। আমি আমার জবাবে জানাই, “কী বুঝাইলেন আমারে র‍্যাব ধরেছিল তা বলে। আমি বুঝিনি। কিন্তু আপনার কূপমন্ডুকতা আর দীনতাই ফুটিয়ে তুলেছেন স্বহস্তে। আমি মমর্াহত হলেও আশাহত নেই। তার কারও আগেই লিখেছি। লেখকদের রাজনৈতিক বিশ্বাস বা পছন্দ অপছন্দ থাকে, তবে অন্ধদলবাজি থাকাটা সমীচীন কিনা তাও জনগণই বিচার করবে। আমি তার বিচারক নই। তবে মানুষের প্রকৃত রুপ কমর্েই ফুটে ওঠে! আপনিও ভালো থাকুন। শুভবুদ্ধির উদয় হোক, আমার মত মুর্থদের না হোক আপনার মত জ্ঞানী-জনপ্রিয় লেখকদের সেটা থাকাটা বাঞ্ছনীয় কিনা তারও বিচার পাঠকরাই করবেন-এ বিশ্বাস আমার আছে। মানুষের জন‍্য কাজ করতে গিয়ে অত‍্যাচার করেছে ওরা। কান অন‍্যায়-অপরাধের জন‍্য নয়। কিন্তু আপনি কিসের ইঙ্গিত দিয়েছেন তা আপনিই ভালো জানেন।”
এবার খন্দকার মারসুস নামে এক সাংবাদিক লিখলেন, “এই বিষয়টা মানতে পারলাম না। ভাই আমি জনকন্ঠের সাংবাদিক ছিলাম অনেকদিন। আমি আমার ক্যাম্পাসের ছাত্রলীগের সবাইকে ভাল করে চিনি। কুয়েট ,বুয়েট , জাহান্ঙিরনগরের ও অধিকাংশকেই চিনি। সত্যকে মিথ্যার আড়ালে লুকানোও একটা দোষ। যাই হোক ভাই আর যা বলেন ছাত্রলীগ সম্পর্কে এ কথাগুলো বললে ডাকা মিথ্যা কথা ছাড়া আর কিছুই বলা যাবে না। যেহেতু আমি এখনও ক্যাম্পাসে অবস্থান করছি…তাই আমার চেয়ে ভাল কেউ বলতে পারবেনা যারা ক্যাম্পাসে নেই। ….….বতর্মান সরকারের ব্যথতার লিস্ঠ করলে ছাত্রলীগকে আমি 1 নম্বরে দিব। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই”।
প্রিয় পাঠক আপনারাই বিচার করুন আমাদের লেখক, ব্লগার, বিশেষ করে বাংলাদেশের এই সুশিলরা কতটা কুশীল হতে পারি অন্ধ রাজনৈতিক পছন্দ আর অপছন্দের কারণে। তারা আবার দেশ-বিদেশে অনেক নামকরা ব‍্যক্তিত্ব! এই লেখাটি পরবর্তীতে ইংরেজীতে অনুবাদ করার ইচ্ছে রইলো।
editor.eurobangla@yahoo.de, http://www.eurobangla.org/,

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s