হাসিনা-খালেদার খপ্পড়ে বাংলাদেশ!

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। কাগজে-কলমে বাংলাদেশ, আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি একটা গণতান্ত্রিক দেশ। বাস্তবে তার কতটুকু প্রয়োগ জনগণ দেখতে পান সেই প্রশ্নের উত্তর দেশের মানুষই দিতে পারবেন। কিন্তু আমাদের দেশের শাসক শ্রেণী বা তাদের সমর্থকরা প্রায় বলে যে জনগণ পাঁচ বছরের জন‍্য ম‍্যান্ডেট দিয়েছে। এই পাঁচ বছর পূর্ণ হবার এক সেকেন্ড আগেও তারা ক্ষমতা ছাড়বে না। তা যদি দেশ সমুদ্রগর্ভেও চলে যায় যাক! তবে ক্ষমতা ছাড়া হবে না। হ‍্যাঁ সতি‍্যকথা। এটা সংবিধানেও বর্ণিত আছে স্পষ্ট করেই যে সরকার নির্বাচিত হবে পাঁচ বছরের জন‍্য। তবে সংশ্লিষ্ট দল যদি দেশ পরিচালনায় ব‍্যর্থ হয় তাহলে কী হবে তার বর্ণনা সংবিধানে আছে কিনা তা আমার জানা নেই। এটা হয়ত সংবিধান বিশেষজ্ঞ কিংবা শিক্ষিত সুশিল সমাজের প্রতিনিধিরাই বলতে পারবেন। আমার মত চাষাভুষা এক নগন‍্য মানুষের পক্ষে এ বিষয়ে বলা সমীচীন নয়।
জনগণ কোন রাজনৈতিক দলকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেন কোন রাজনৈতিক দলকে সরকার/দেশ পরিচালনা করার লক্ষে‍্য পাঁচ বছরের জন‍্য ম‍্যান্ডেট দেন, জনগণ। তার মানে এই নয় যে পুরো টার্মজুড়েই সরকারি দলের কর্মী/সমর্থকরা কিংবা সরকার লুটপাট, অন‍্যায়-অনিয়ম, দুর্নীতি, নির্যাতন, সন্ত্রাস, বিচারবহিভর্ূত হত‍্যাকান্ড, সংখ‍্যালঘুদের বাড়িঘর জায়গাজমি অন‍্যায় অবৈধভাবে দখল করবে! বিএনপি-জামাত বা খালেদা-নিজামীরা যা করেছে, হাসিনা-এরশাদ-মেনন-ইনুদের সরকারও তাই করবে, এই বালখিল‍্য যুক্ত দর্শন কী যুক্তিযুক্ত? আসলে দেশটা বাপ-দাদার তালুকে পরিণত করেছেন এই দুই মহামানবী!
খালেদা-নিজামীর শাসনামলে হাসিনা অস্থির ও অধৈয‍্য হয়েছিলেন ক্ষমতাসীন হবার জন‍্য। তখন হাসিনা সংসদ বর্জন করেছিলেন। আর এখন হাসিনার শাসনামল। খালেদা চরম অস্থির হয়ে আছেন ক্ষমতায় যাবার নিবিড় প্রত‍্যাশায়। এখন খালেদা সংসদে অনুপস্থিত। কী চমৎকার মিল এই দই নেত্রীর মাঝে! জনগণ, গণপ্রত‍্যাশা, জনসমস‍্যা, জাতীয় উন্নয়ন, দেশের ভাবমূর্তি এসবকিছুই অতি নগন‍্য তাদের কাছে। তারা কেবল ক্ষমতায় যেতে চান। কেউ ক্ষমতা ধরে রাখতে আর কেউ ক্ষমতায় যেতে যতটা ব‍্যাকুল জনগণের কল‍্যাণে তারা ততটাই উদাসীন। ক্ষমতার স্বাদ পেতে একজন যুদ্ধাপরাধীদের তোষণ এবং লালন পালন করে চলেছে। অপরজন চরিত্রহীন এক দুনর্িতীবাজ স্বৈরশাসক যিনি গণআন্দোলনের মুখে গণবিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিলেন তিনি আজ গণতন্ত্র গণতন্ত্র বলে বেশ গলা পাটানো বক্তব‍্য দিয়ে যাচ্ছেন, তথাকথিত গণতান্ত্রিকদের কাঁধে ভর করে তিনি এখন রাজনীতিতে পুন:প্রতিষ্ঠিত!
দুর্নীতি, ধর্মান্ধতা আর সাম্প্রদায়িকতা স্বাধীনতার ৪০ বছরেও দেশকে কাঙ্খিত অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিতে দেয়নি। পালাক্রমে ক্ষমতায় আরোহণকারি বড় দুই দলের প্রতিযোগিতা ক্ষমতার চেয়ারে বসার। বিএনপি জামাতের দু:শাসন আর দুর্নীতি থেকে বাঁচতে মানুষ ম‍্যান্ডেট দিয়েছিলেন হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারকে। কিন্তু হাসিনা সরকার জনজীবনে শান্তু ও স্বস্তি বিনির্মাণ করতে ব‍্যর্থ হয়েছে। হাসিনা খালেদার খপ্পড় থেকে দেশ বাঁচাতে দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দলগুলিকে কারও লেজুড়বৃত্তি না করে নিজস্ব সত্ত্বা নিয়ে জনগণের ভালোবাসা নিয়ে এগিয়ে যাবার প্রচেষ্টা চালানোর কোন বিকল্প আছে কী? দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল যত ছোটই হোক না কেন, দুর্নীতিবাজ ও সাম্প্রদায়িক চক্রান্তের বিরুদ্ধে এবং জনকল‍্যাণমুখী রাজনৈতিক কর্সামসূচী নিয়ে সাহসের সাথে এগিয়ে যেতে পারলে জনগণ নিশ্চয়ই তা বিবেচনায় নেবেন। এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়। ছবি: গুগল থেকে নেয়া। editor.eurobangla@yahoo.de, http://www.eurobangla.org/

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s