সংঘাতে স্বদেশ ।। নিজের পায়ে কুড়াল মারছেন হাসিনা!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। স্বদেশ আবার অশান্ত। শুরু হলো সংঘাত আর সংঘষর্। দেশ এক চরম নৈরাজ‍্যকর অবস্থার দিকে চলে যাচ্ছে। মানুষের জীবনের নেই কোন নিরাপত্তা। শান্তির পায়রা উড়ে গেছে অচিন দেশে। মানুষ কষ্টে থাকুক, দেশ গল্লায় যাক, অর্থনীতি, কৃষি, জাতীয় সম্পদ ধ্বংস হয়ে যাক। তাতে কিছুই আসে যায় না। চাই শুধু ক্ষমতা। কেউ ক্ষমতায় চিরস্থায়ী হতে আবার কেউ ক্ষমতায় যাবার জন‍্য ব‍্যস্ত। অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ, কর্মসূচী পাল্টা কর্মসূচীর সংগ্রামে মুখর ক্ষমতাবান রাজনৈতিক দল ও নেতার ফুসরত নেই জনগণের জানমালের খোঁজ নেবার। মানুষের হতাশা বেড়েই চলেছে। অসহিষ্ণু গণতন্ত্র আর হিংসাত্মক রাজনৈতিক মানসিকতার কারণে বেশ কিছুদিন ধরেই বাংলাদেশে একটা অস্থিরতা বিরাজ করছিল। আজ তা সরাসরি সংঘাতে পরিণত হয়। চাঁদপুর লক্ষ্মীপুরসহ দেশের বিভিন্নস্থানে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে কিংবা পুলিশের গুলিতে অন্ত:ত চারজন নিহত হয়েছে। একইসময়ে আহত হয়েছে দুই শতাধিক মানুষ। নিহত চারজনের মধে‍্য একজন দরিদ্র রিকশাচালক ও একজন ভ‍্যানচালকও আছেন। এই দরিদ্র রিকশাচালকের পরিবারে এখন কী হবে তা কী হাসিনা ও খালেদা ভাববেন কোনদিনও? না উনাদের তো ভাবার কোন কারণ নেই। উনারা মানুষকে রক্ষা নয় বরং মানুষ মেরে ক্ষমতায় যেতে কিংবা ক্ষমতায় থাকতে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন বেশি!
হাসিনার আওয়ামী লীগ ও মহাজোট সরকার কাযর্ত: এখন আনাঢ়ী এমপিতন্ত্র, ভুল পরামর্শদাতা আর আমলাতন্ত্রের জালে বন্দি। নতুবা হাসিনার একগুয়েমি ও একক ডিকটেটরশিপের কাছে নতি স্বীকার করেছে আওয়ামী লীগ ও মহাজোট সরকার। এই দুই মতের কোনটা ঠিক তা আমরা জানি না। তবে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় উচ্চশিক্ষিত হাসিনার অদূরদর্শিতা ও দেশচালানোর টেকটিস যে অল্পশিক্ষিত (প্রাতিষ্ঠানিক) খালেদার রাজনৈতিক টেকটিসের কাছে ইদানিং মার খেতে শুরু করেছে তা আর ব‍্যাখ‍্যা করে বলার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। দেশের মানুষ এটার প্রমাণ পেলো সাম্প্রতিক দেশের রাজনৈতিক ঘটনা, সিদ্ধান্ত ও কাযর্ক্রমের মধ‍্য দিয়ে। হাসিনা, তাঁর দল এবং সরকার বোধহয় নিজেই চাইছে দেশে একটা সংঘাতময় অবস্থা। যার প্রকাশ ঘটলো চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুরে পুলিশের গুলিতে চারজন মানুষ নিহত হবার ঘটনায়। আওয়ামী লীগ যে রাজনৈতিক খেলা খেলছে তাতে স্পষ্ট বোঝা যায় এটা নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারার মতো ঘটনা। হয়ত পরোক্ষভাবে হাসিনার সরকার চাইছে না যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারেরর কাজটি সম্পন্ন হোক স্বাভাবিকভাবে। তানাহলে কেন আওয়ামী লীগ একের পর এক মওকা তুলে দিচ্ছে বিরোধীদলের হাতে সরকারবিরোধী আন্দোলন চাঙ্গা করার জন‍‍্য?
আওয়ামী লীগের কী দরকার ছিল বিএনপির গণমিছিলের দিনে পাল্টা কর্মসূচী ঘোষণার? হাসিনা কী এখন আনাঢ়ী হানিফের নির্দেশে বা নিয়ন্ত্রণে চলছেন? দেশের মানুষকে বোকা ভাবেন যারা তারা কিন্তু বোকার স্বর্গেই বাস করছে। কারণ মানুষ অনেক সচেতন এবং তাঁদের চোখ কান সবই সচল। এই সাধারণ কথাটা কেবল হাসিনা এবং তাঁর দল ও সরকারই বোধহয় বুঝতে পারছে না বা চাইছে না। ২৯ জানুয়ারির গণমিছিলের কর্মসূচীটা বিএনপি আগেই ঘোষণা করেছিল। কিন্তু বিএনপির হাতে একটা মওকা তুলে দিতে এবং বিএনপির প্রতি মানুষের সহানুভূতি বাড়ে এমন একটা পাল্টা কর্মসূচী তাও আবার একই দিনে ঘোষণা করার মতো কাজ কী একটি দীর্ঘ সংগ্রামী রাজনৈতিক দলের কাছে জাতি আশা করে? দেশে নাশকতা সৃষ্টির বা জঙ্গি তৎপরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে কিংবা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ব‍্যাহত বা বানচাল করার জন‍্য দক্ষিণপন্থিরা একজোট হবে এতে কী কোন নতুনত্ব আছে? কিন্তু যারা এসব অপকর্ম করছে বা করতে পারে তাদেরকে তথ‍্য-প্রমাণ দিয়ে গ্রেফতার না করে সরকার কেন সংঘাতের পথ বেছে নিলো তা আমার ছোট্র জ্ঞান বুঝতে সহায়তা করছে না। অবস্থাটা এমন দাঁড়ালো তাতে মনে হচ্ছে আওয়ামী লীগই বিরোধীদলে, আর খালেদা যেন সরকারে থেকে সহনশীলতার পরীক্ষা দিচ্ছেন! কার কাজ কে করে? হানিফ, আওয়ামী লীগ কিংবা হাসিনাদের ভুলের কারণে গোটা জাতি আবার সেই পঁচাত্তরের ১৫ আগষ্টের মতো অন্ধকারে তলিয়ে যাবার সম্ভাবনা কী উড়িয়ে দেয়া যায়? নাকি হাসিনা ও মহাজোট সরকারে এখন নব‍্য মোশতাকরাই বেশি ক্ষমতাবান? এমন নানান প্রশ্ন মানসপটে চিত্রিত হচ্ছে।
বিএনপি কর্মসূচী দিল আগে। আওয়ামী লীগ পাল্টা কর্মসূচী দিলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। এই অবস্থায় সরকার পুলিশকে দিয়ে সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। উভয় দলের কর্মসূচী পালনের কথা ছিল আজ রোববার ২৯ জানুয়ারি। কিন্তু প্রশাসনের ১৪৪ ধারা জারির কারণে খালেদা তাদের কর্মসূচী একদিন পিছিয়ে ৩০ জানুয়ারি পালনের নতুন ঘোষণা দেন দলের মাধ‍্যমে। আর আওয়ামী লীগ প্রথমে ২৯ জানুয়ারির কর্মসূচী স্থগিতের ঘোষণা দেয়। কিন্তু পরক্ষণেই আবার তারা বিএনপির ঘোষিত কর্মসূচীর দিনেই অর্থাৎ ৩০ জানুয়ারি আওয়ামী লীগও সমাবেশ করার ঘোষণা দেয়। জনগণই বিচার করবেন কোন ব‍্যক্তি এবং কোন দল সহিষ্ণু আর কারা অস্থির। দেশটাকে জাহান্নামে নেয়ার আগেই হাসিনা-খালেদার হাত থেকে রক্ষার উপায় কী? দুই নেত্রী মাইনাস অর্থ তৃতীয় শক্তি হিসেবে সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতা তুলে দেয়া নয়, চাই গণবিপ্লব। যে বিপ্লবের হাত ধরে দেশ শোষণ, বঞ্চনা, নির্যাতন, দুর্নীতি, লুটপাট আর পরিবারতন্ত্রের যন্ত্রণা থেকে মুক্তির স্বাদ পাবে। মানুষ পাবে স্বাধীনতার স্বাদ, সাম‍্য, ভ্রাতৃত্ব মৈত্রীর জয় হবে। জয় হোক মানুষের ক্ষমতালোভীদের নয়। ছবি/গুগল থেকে নেয়া, ইংরেজী দৈনিক ডেইলী স্টারে প্রকাশিত। editor.eurobangla@yahoo.de, http://www.eurobangla.org/

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s