বর্বরতা-নৃশংসতা নিয়ে রাষ্ট্রীয় উপহাস!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। বাংলাদেশের তিনদিক ঘিরে আছে ভারত। একদা বাংলা (বাংলাদেশ) ভারতের সঙ্গেই ছিল। বৃটিশদের কূটবুদ্ধি আর কৌশলের কারণে ভারত দ্বিখন্ডিত হয় ১৯৪৭ সালে। তথাকথিত দ্বিজাতিতত্ত্ব বা সাম্প্রদায়িক ধর্মীয় সুতোর বিভাজন টেনে বৃটিশরা ভারতবর্ষকে বিভক্ত করে। সেই পরিকল্পিত ভুলের মাশুল আজও দিয়ে যাচ্ছে গোটা ভারতবর্ষ। শান্তির প্রতিক অহিংস নেতা বলে বিশ্বময় পরিচিত মহান মাহাত্মা গান্ধী কোন পেক্ষাপটে এবং কেন বৃটিশদের সেই পাতা ফাঁদে পা দিয়েছিলেন সে বিষয়ে আলোচনা করার মত ধৃষ্টতা বা যোগ‍্যতা কোনটাই নেই আমার! আমার আলোচনার বিষয়বস্তু গান্ধী বা ভারতবর্ষের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নয়।
দুর্ভাগ‍্যক্রমে আজকের বাংলাদেশ তৎকালিন পাকিস্তানের অন্তর্গত হয়। পশ্চিম পাকিস্তানীদের অত‍্যাচার, বৈষম‍্য আর স্বৈরাচারি ভূমিকার কারণে মাত্র চব্বিশ বছরেই ভেঙ্গে যায় পাকিস্তান। তৎকালিন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ বহু ত‍্যাগের বিনিময়ে অর্জন করে স্বাধীনতা। সেই মুক্তি সংগ্রামে খাঁটি বন্ধুত্বের পরিচয় দিয়েছিল ভারত এবং তৎকালিন সোভিয়েত ইউনিয়ন। ভারত আর বাংলাদেশের দীর্ঘ সীমান্ত যেন আজ এক মৃতু‍্যউপত‍্যকায় পরিণত হয়েছে। উভয়দেশের কতিপয় অসাধু ব‍্যবসায়ী চোরাকারবারীদের টাকা তৈরীর কারখানায় পরিণত হয়েছে এই বন্ধুপ্রতিম দুই দেশের সীমান্ত। গরু, হেরোইন, গাঁজা, ফেনসিডিলসহ অন‍্য আরও অনেক বস্তু চোরাচালান হয় সীমান্তজুড়ে। এই অসৎ ব‍্যবসাচক্রের মূল হোতা বা রাঘববোয়ালরা থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে। বর্বরতার শিকার হচ্ছেন হাবিবরা, যারা দু’বেলা দু’মুঠো ভাত জোগানোর জন‍্য কেবল গরু কিংবা অন‍্য পন‍্য এপার ওপার করার দু:সাধ‍্য কাজটি করে থাকেন। আর ফেলানীদের লাশ কাঁটাতাঁরে ঝুলে। খুনি, নির্যাতনকারি বিএসএফ বলি আর বিজিবি বলি কারও কিছু হয় না! ভারতের মিডিয়া এনডিটিভি বিএসএফের নৃশংসতার যে চিত্র সম্প্রচার করেছে তা কী কোন সভ‍্য বাহিনী, দেশ বা জাতির পক্ষে করা সম্ভব?
অন‍্যদিকে বাংলাদেশ মানবাধিকার রক্ষায় সম্পূর্ণ ব‍্যর্থ। বিচারবহির্ভূত হত‍্যাকান্ড, গুপ্তহত‍্যা, অপহরণ কোনটাই বন্ধ হয়নি। সবকিছুই সেখানে অবলীলায় সংঘটিত হচ্ছে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর দ্বারা। সংবিধান, আইন কোনকিছুরই তোয়াক্কা নেই। কোন ঘটনারই বিচার পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। সেখানে বলতে গেলে জোর যার মুল্লুক তার অবস্থা। একটা জাতির কতটা অধ:পতন বা নিলজ্জ নৃশংস হলে এই পর্যায়ে নামতে পারে কোন রাষ্ট্রীয় বাহিনী।
বাংলাদেশের একটি অনলাইন মিডিয়ার খবর অনুযায়ী বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম‍্যান অধ‍্যাপক মিজানুর রহমান বলেছেন যে, সীমান্তে নির্যাতন বন্ধ না হলে জাতিসংঘে নালিশজানানো হবে। বাহ্ চমৎকার! ব‍্যাপারটি এমন দাঁড়ালো, এখনো নালিশ করার মতো তেমন কিছুই ঘটেনি? হায়রে অন্ধ দেশ, মানবাধিকার, রাষ্ট্র। তোর চোখ খুলবে কবে? আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, দেশের বাইরেরটা যেমন বর্বরতা ভেতরেরটাও একইভাবে নৃশংস, ভয়ানক। রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রীয় বাহিনী কখনও খুন করার লাইসেন্স পেতে পারে কী? হাসিনা এবং তাঁর সরকার বিচারবহির্ভূত হত‍্যাকান্ড বন্ধ না করার জন‍্য এখন পর্যন্ত কোথায় নালিশ করেছেন, মানবাধিকার কমিশনের মাননীয় চেয়ারম‍্যান? নাকি আপনিও এই নৃশংসতার পক্ষেই পরোক্ষভাবে, তা জানতে বড্ড ইচ্ছে করে!
মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম‍্যান মাঝেমধে‍্যই সংবাদমাধ‍্যমে শিরোনাম হন খুব সুন্দর সুন্দর কথা বা বক্তব‍্য প্রদান করার জন‍্য। যেমনটি হয়েছিলেন লিমন নামের এক অভাগা দরিদ্র ছাত্র র‍্যাবের গুলিতে পঙ্গু হয়ে যাবার পর। কিন্তু মিডিয়ার শিরোনাম হবার জন‍্য বক্তৃতা দেয়া আর বাস্তবে কোন সমস‍্যার গুণগত পরিবর্তন বা সমাধান করা কী এক ঘটনা? না কখনই না। অধ‍্যাপক মিজান খুব সুন্দর ঝাঁঝালো বক্তব‍্য রাখেন মানবাধিকারের পক্ষে। সেটা আমরা সবাই জানি, কথা বলা আর কথাকে কাজে পরিণত করা এক নয়। কাজ করার সুযোগ না থাকলে তিনি পদ ছেড়ে দিতে পারেন। কিন্তু পদও ছাড়বো না, কাজও করবো না তা কী হয়? লিমনের বিষয়ে তিনি কী পারঙ্গমতা দেখিয়েছেন? অপরাধী র‍্যাবের শাস্তি হয়েছে কী? ওরকম একটা নিরাপদ জায়গায় থেকে আপনি আমি আমরা সববাই খুব চিৎকার চেচামেচি করতে পারি মিডিয়ার শিরোনাম হতে পারি, তাতে কী লিমনরা সম্মানিত হন নাকি তারা হারানো পা কিংবা জীবন ফিরে পাচ্ছেন? কাঁটাতাঁরে ঝুলন্দ বাংলাদেশের প্রতিক ফেলানিদের খোঁজ নেবার ফুসরত থাকে না আমাদের মিডিয়া কিংবা সমাজপতিদের। ঘটনা ঘটে যাবার পর বেশ লম্ফঝম্ফ চলে, মিডিয়ায় শোরগোল তোলে মুক্তবাজার অর্থনীতির বাজারী গণমাধ‍্যমগুলি। কিন্তু সড়কপথে জমাটবদ্ধ রক্ত যেমন বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে মুছে যায় ঠিক তেমনিভাবে ফেলানী, হাবিব কিংবা লিমনদের কথাও বিস্মৃত হয়ে যায় আমার স্বার্থপর মিডিয়া, সমাজ, রাষ্ট্র! বর্বরতা আর নৃশংসতা নিয়ে রাষ্ট্র যখন উপহাস করে তখন অপরাধী খুনিচক্র উৎসাহিত হয়। সমাজে নির্মমতা ও নিষ্ঠুরতা বাড়তে থাকে। পচা রাজনীতি আর দুর্নীতি-দুবৃত্তায়নযুক্ত রাষ্ট্রনায়কদের দৌরাত্মে বাযালি জাতি আজ ভাবমূর্তির সংকটে পড়েছে। রোগটাতো আর সাধারণ মানুষের শরীরে নেই, রোগটা ধরেছে সমাজের চালিকাশক্তি রাজনীতির মাথায়। রাজনীতির এই পচনরোগ থেকে জাতি উদ্ধারের পথ একটাই আর তা হলো কৃষক-শ্রমক জনতার ঐক‍্য এবং গণবিপ্লব। এর কোন বিকল্প পথ আমাদের জানা নেই। জনতার জয় একদিন হবে নিশ্চয়ই। ছবি গুগল থেকে নেয়া। http://www.eurobangla.org/,

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s