না, অবাক হবার কিছু নেই!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। হাসিনা কিংবা সাহারা কারও নির্দেশ কিংবা প্রতিশ্রুতি রক্ষা হলো না এবারও! না অবাক হবার কিছু নেই। এটাই ওই মৃতু‍্যপুরির রাজনৈতিক স্বরুপ। হায় হতভাগ‍্য বাঙালি জাতি আমার! চল্লিশ বছরেও তোর কপালে কেউ শান্তির তিলক পড়াতে চাইলো না! খুনিদের ধরা হয়নিতো কী হয়েছে, রাজনৈতিক ব‍্যবসাটাতো ঠিকই চলছে! রাষ্ট্রীয় মিথ‍্যা ভাষণ বন্ধ হয়নি। প্রধানমন্ত্রী “সর্বদয়ালু” শেখ হাসিনা আবারও একজন মেঘের দায়িত্ব নিলেন। আমরা জানি বিএনপি জামায়াত জোট ক‍্যাডারদের হাতে নিজের সম্ভ্রম বাঁচাতে পারেননি কিশোর মহিমা। ২০০২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মহিমা সমাজের বুকে চাবুক আর আমাদের ভোতা বিবেকে শান দেবার চেষ্টা করে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছিলেন। শুধু মহিমাই নন রজুফা, শিউলি, তৃষা, সিমিসহ অসংখ‍্য ঘটনা। আজকের প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন মহিমার ছোট বোন ফাহিমার সব দায়িত্ব নেয়ার। বাস্তবে তার কি নাতিজা হয়েছে দলনিরপেক্ষ সাংবাদিকতার মাধ‍্যমে তার সরজমিন অনুসন্ধানী প্রতিবেদন হতে পারে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রিয় বাবা মা হারানো সন্ত্রানদের দায়িত্ব নেবার ঘোষণা দিলেইতো আর সেই সন্তানেরা বাবা-মা’কে ফিরে পাবেন না। এই মেঘেরা যাতে তাদের বাবা মা’দের না হারায় তার কার্যকর ব‍্যবস্থা গ্রহণ করুন। তাহলেই মেঘদের দায়িত্ব নিতে হবে না। ঘটনার ব‍্যাপকতা আর মিডিয়ার শোরগোলের কারণে হয়ত আপনি বাধ‍্য হয়েই মেঘের দায়িত্ব নেবার ঘোষণা দিলেন। আগেও এমন অনেক মহানুভবতার পরিচয় জাতি পেয়েছে হয়ত! কিন্তু তাতেতো আর হারানো বাবা মা’কে কেউ ফিরে পাননি। আর সেটা কোনদিন সম্ভবও নয়। একজন দু’জন মেঘের দায়িত্ব নেয়া মানেতো সবার দায়িত্ব নেয়া নয়। দৈনিক ইত্তেফাকের খবরে দেখলাম, রাজধানীর মহাখালীতে ১৩ ফেব্রুয়ারি সকালে সন্ত্রাসীরা চাঁদার দাবিতে একটি বাসায় ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি করেছে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়েছে নাফিত হাসান নিশাক (৬) নামের একটি শিশু। বর্তমানে শিশু নিশাক ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সে বনানী বিদ্যা নিকেতনের প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। তার পিতার নাম বশির আহম্মেদ। শিশুটির পরিবারের লোকজন জানিয়েছে, চাঁদার দাবিতে স্থানীয় সন্ত্রাসী দিপু গ্রুপের লোকজন এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
তাই বলছি সাগর-রুনিরা যাতে নৃশংসতার শিকার না হয়, সেই পথের সন্ধান করুন। আইনের শাসন, ন‍্যায়বিচার আর কার্যকর গণতান্ত্রিক চর্চাই পারে সাগর-রুনিদের বাঁচাতে। নইলে রাজনৈতিক ব‍্যবসা কিংবা সস্তা বাহবা নিয়ে “সব দায়িত্ব আমি নিলাম” তাতে অবস্থার কোনই পরিবর্তন ঘটবে না। প্রতিটি নাগরিকের ভাল-মন্দ জানমালের নিরাপত্তার দায়-দায়িত্ব কিন্তু রাষ্ট্রের এক মহান কর্তব‍্য। সেটাতে আপনার কোন কৃতিত্ব আছে কী? আপনার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন ৪৮ ঘন্টার মধে‍্যই সাগর-রুনির খুনিরা ধরা পড়বে। তা কার্যকর হলো না। সাহারা আরও বললেন দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো! আসলে উনার ভালো-মন্দের কোন ধারণা আছে কিনা তা নিয়েই সন্দেহ আছে আমাদের। আর আপনার ক্রসফায়ারপটু আইজির মুখেই শোনা গেলো আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ চিত্রটি। তিনি এক সভায় জানালেন, দেশে প্রতিদিন গড়ে ১১টি খুন, ৫৫টি নারী ও শিশু নির্যাতন, ৮৭টি মাদকের মামলা থানায় নথিভুক্ত হচ্ছে। তিনি আবার একটি নসিহতনামাও তুলে ধরেন সাংবাদিকদের সামনে। পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হাসান মাহমুদ খন্দকার মনে করেন, “সার্বিক বিচারিক কাজ দ্রুত শেষ করা সম্ভব হলেই সাজার হার বাড়তে পারে। কিন্তু বিচারিক কার্যক্রম শেষ হতে অনেক সময় লাগে। এতে করে মামলা-সংশ্লিষ্ট সবাই একপর্যায়ে হতাশ হয়ে পড়ে। তাদের আগ্রহও কমে যায়। তবে বর্তমান অবস্থা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় ভালো।” (সূত্র প্রথম আলো)।
দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো কিংবা আগের চেয়ে অনেক ভালো বলে যতই শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করুন না কেন তাতে কিন্তু সত‍্য চাপা পড়বে না। সত‍্য তার আপন শক্তিতেই উদ্ভাসিত হবে। এবং সেই শক্তি একদিন আপনাদের তামাম মিথ‍্যাচারকে পরাভূত করবে। এতে আমাদের কোন সন্দেহ নেই। কেবল আপনারা ক্ষমতার মোহে সত‍্যকে ধামাচাপা দিতেই ব‍্যস্ত। তাতে কিন্তু আখেরে আপনাদেরই মাশুল দিতে হবে। এটা এখন নয় বুঝবেন যখন আপনাদের ভুলের কারণে পুরনো একটা জগদ্দল পাথর জাতির ওপর আবার খবরদারি করবে, তখন। যখন আপনাদের করার আর কিছুই থাকবে না।
আইন-শৃঙ্খলা ভালো না মন্দ তার আরও দু’একটি উদাহরণ তুলে ধরা যায়। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর এর রিপোর্টে বলা হয়েছে,গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনায় বখাটেকে আটক করায় বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। একইদিন অর্থাৎ ১৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় রাঘবপুর গ্রামে এ হামলায় নিহত হবিবুর রহমান (৫৫) ওই গ্রামেরই বাসিন্দা। বখাটেরা হাবিবুরের বাড়িঘরে ভাংচুরও করে। ময়মনসিংহে মিথ্যা মামলায় থানায় আটকে এক প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধাকে চোখ বেঁধে মারধর করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশেম (৬৫) বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র তারাকান্দার সভাপতি। শেয়রবাজারের তোঘলকি কান্ড আর দুর্নীতির কারণে ইতোমধে‍্য ঢাকায় ও চট্রগ্রামে দুই শেয়ার ব‍্যবসায়ী আত্মহত‍্যা করেছেন। শেয়ারবাজার কেলেংকারির হোতাদের কিছুই হয়নি। হবে বলেও আশা করার কোন কারণ নেই। এইতো সেদিন দেশের প্রধম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ এর দৌহিত্রকে পুলিশ কী নির্দয়ভাবে নির্যাতন চালিয়েছে।
যাহোক পুলিশের আইজি বলেছেন, “বেধে দেয়া সময়ে তদন্ত শেষ করা সম্ভব নয়। বে আস্থা নিয়ে বলছি, সাংবাদিক দম্পতি খুনের ঘটনা তদন্তে প্রণিধানযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। গ্রেফতার আছে কি না, তদন্তের স্বার্থে তা জানাতে পারছি না। যারা তদন্ত কাজে যুক্ত আছেন তারা ৪৮ ঘণ্টা কাজ করে ফেলেছেন। অপরাধীদের ব্যাপারে তাদের ধারণা চলে এসেছে। তদন্ত কাজও সফলভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে কৌশলগত কারণে সব কিছুর উত্তর দেয়া সম্ভব নয়। ” দেশবাসি অতীতে সংঘটিত প্রতিটি চাঞ্চল‍্যকর হত‍্যাকান্ডের পরপরই একই বক্তব‍্য শুনেছেন অগণিতবার। কাজেই পুলিশের আইজির কথাও দেশের মানুষ কতটা আশ্বস্ত হতে পেরেছেন তা বলা মুশকিল।
দেশবাসি এই বর্বরোচিত ঘটনার রহস‍্য জানতে চায়। খুনি গ্রেফতারের নামে কোন মহড়া বা তদন্তের নামে পুরো ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার মতো কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনার মুখোমুখি হতে চান না দেশবাসি। আইন-শৃঙ্খলা ভালো কী মন্দ সেই বিতর্কের চেয়েও দেশে আইনের শাসন ও ন‍্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা জরুরি। ছবিটি দৈনিক কালের কণ্ঠ থেকে নেয়া। http://www.eurobangla.org/, editor.eurobangla@yahoo.de,

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s