“শতভাগনিশ্চিততত্ত্বের আঁড়ালেই সাগর-রুনির খুনিরা”


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। “প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে প্রভাবশালী আর কে আছেন? তিনি নিজেই মামলার বিষয়টি তদারকি করছেন, নির্দেশনা দিচ্ছেন।” বলেছেন সাহারা খাতুন। তিনি বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সাম্প্রতিকসময়ের সবচেয়ে আলোচিত নৃশংস হত‍্যাকান্ড সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনির হত‍্যাকান্ড। এই বর্বরতার বিষয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে সাহারা উপরোক্ত কথা বলেন। সূত্র বিডিনিউজ২৪।
সাহারা শিশুর মতো কথা বলছেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে বড় কেউ নেই। এই সত‍্য তত্ত্বটা বাংলার মানুষ জানেন। গণতান্ত্রিক ও সভ‍্য দেশে প্রধানমন্ত্রীরা হন সেবক, ক্ষমতার অধিকারী হলেও তার অপব‍্যবহার করেন না। প্রকৃতঅর্থে সভ‍্য সমাজে, গণতান্ত্রিক সমাজে জনগণই সবচেয়ে প্রভাবশালী। এর একটা উৎকৃষ্ট উদাহরণ জার্মানীনর রাষ্ট্রপতি খ্রিস্টিয়ান ভুল্ফ। তাঁর বিরুদ্ধে সামান‍্য একটি অভিযোগ ওঠায় তিনি পদত‍্যাগ করেছেন। আর আমার স্বদেশে জনগণ কী এমন উদাহরণ দেখেছেন স্বাধীনতার ৪০ বছরে। কতটা নির্লজ্জ, বেহায়া আর বেশরম বা ব‍্যক্তিত্বহীন হলে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগের পর অভিযোগ বা ব‍্যর্থতার পর ব‍্যর্থতা আমাদের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা পদত‍্যাগ না করে উল্টো পদ আঁকড়ে থাকার প্রচেষ্টা করে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কখনও আবার বাচাল মনে হয়। অনেক সময় সাহারা মিথ‍্যাভাষণও দেন। প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১১ জন মানুষ খুন হলেও তিনি জোর গলায় বলবেন না আইন-শৃঙ্খলা ‘উনাদের আমলের চেয়ে এখন অনেক ভালো’।
বাংলার মানুষ সেখানকার রাজনীতি, দুনর্ীতি, দলীয়করণ আর অবিচারের সঙ্গে অপরিচিত নন। রাজনীতিবিদরা (সবাই নন), সরকারি দল কিভাবে সব প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের স্বার্থে ব‍্যবহার করে তা খোলাসা করে লেখার কোন প্রয়োজনীয়তা আছে বলে আমরা মনে করি না। সমস‍্যাটাতো আর সাধারণ মানুষের মধে‍্য নয়। গলদ সাহারাদের ভেতরেই থাকে। সেটা দেশবাসি ভালো করেই জানেন। অসহায়, নিরুপায় মানুষ সাহারা, আলতাফ কিংবা বাবরদের কাছে কার্যত: জিম্মি! এরা কখনও ‘লুকিং ফর শত্রুজ’, কখনও ‘আল্লাহর মাল আল্লায় নিয়ে গেছে’ আবার কখনও’আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অতীতের চেয়ে অনেক ভালো’ (যদিও বাস্তবে ভিন্ন চিত্র) ইত‍্যাদি বলে নিজ সরকারের ব‍্যর্থতাগুলিকে আঁড়াল করতে চায়। সবই জনগণ বুঝতে পারেন। কিন্তু আর্থিক দৈন‍্যতা, অন‍্যায়-অবিচার, জুলুম-নির্যাতন, নিপীড়ন, বিকল্প শক্তি-সমাবেশের অভাব আর নানান বাস্তবতার কারণে জনগণ ফুটবলের ন‍্যায় বারবার ফিরে যেতে বাধ‍্য হন খালেদা হাসিনার কাছে। এই পাঁচ বছর হাসিনার কোর্টে পরের পাঁচ বছর খালেদার কোর্টে। হয়ত জনগণকে স্বামী কিংবা বাবার সম্পদ মনে করেন তারা। এই সম্পদকে তারা যেমন খুশি তেমন করে ব‍্যবহার করার অধিকার রাখেন! তাই নয় কী? হায়রে অন্ধ-স্বার্থপর রাজনীতি!
সম্ভবত আমি প্রসঙ্গ ছেড়ে অন‍্যদিকে চলে যাচ্ছি। আসল কথায় আসি। সাহারা সাংবাদিকদের আরও বলেন, “পুলিশ এ মামলা (সাগর-রুনির হত‍্যামামলা) ‘ধামাচাপা’ দেবে- এমন আশঙ্কা অমূলক”। ফালতু প‍্যাচাল পাড়ার সময় পাননা সাহারা। সাহারার কথায়ই বলতে হয় পুলিশ তাহলে অন‍্য মামলা ধামাচাপা দিয়ে থাকে! আসলে পুলিশতো কোন মামলা ধামাচাপা দেবার সাহস পেতো না, যদি ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোন ব‍্যক্তি বা মহলের স্বার্থ বা যোগসূত্র বা চাপ না থাকে খুনিদের রক্ষায়। পুলিশকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব‍্যবহার করার সংস্কৃতি থেকে আমাদের ক্ষমতাসীনরা বেরিয়ে আসছে না বলেই যত সমস‍্যা। সব সমস‍্যার মূলেই রাজনৈতিক দুবর্ৃত্তায়নই দায়ি। রাজনীতি পরিশীলীত হলে সমস‍্যা থাকলেও সমাধানে কোন বেগ পেতে হতো না। সাগর-রুনির হত‍্যাকান্ড পরবর্তীকালে খুনিরা রাজনৈতিক আশ্রয়ে চলে যাওয়ায় পুলিশ ও তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বিপাকে পড়েছে বলে অবস্থাদৃষ্টে স্পষ্টত:ই মনে হচ্ছে! পুলিশ হত‍্যাকারিদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হতো যদি রাজনৈতিক নিদর্েশনা না থাকতো!
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের ছোটকর্তা টুকু বলেছেন, সাগর-রুনি হত‍্যাকান্ডে নাকি জামায়াত-শিবির জড়িত! জামায়াত শিবির স্বাধীনতাবিরোধী, যুদ্ধাপরাধী এবং বাংলাদেশ নামক আদর্শের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। তারমানে এই নয় যে তারাই সব হত‍্যা-খুনের জন‍্য দায়ি। আসলে একটা সত‍্যকে ঢাকতে এবং খুনিকে রক্ষা করতে চাইলে আরও অনেক ফর্মূলা বের করতে হবে, মিথ‍্যা বলতে হবে, হয়ত জজমিয়া নাটকও সাজাতে হতে পারে! নইলে ধলের বেড়ালটা বেরিয়ে আসতে পারে। অতীতে ১০ ট্রাক অস্ত্রচালানের ঘটনার সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর জড়িত থাকার খবর বের হচ্ছে এখন। সব হত‍্যা-খুনের সঙ্গে জামাত-শিবির জড়িত বলে খুনিদের রক্ষার কৌশল সরকারের জন‍্য বুমেরাং হয়ে যেতে পারে। এখনও সময় আছে, সাগর-রুনি হত‍্যাকান্ডের খুনিদের মুখোশ জাতির সামনে খুলে দেয়ার, খুনিদের গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করার। শুধু সাগর-রুনি কেন সবহত‍্যা খুন, গুপ্ত গত‍্যা,ধর্ষণ ও বিচারবহিভর্ূত হত‍্যাকান্ড বন্ধ করার উদে‍্যাগ না নিলে আখেরে হাসিনা সরকারকেই তার মাশুল দিতে হবে।
সাহারা ম‍্যাডামের বক্তবে‍্যর উদ্ধৃতি দিয়ে আজকের লেখার ইতি টানবো। তিনি বলেছেন, “আমি মামলাটি মনিটরিং করছি। কারো চাপ বা প্রভাবে এ মামলা ধামাচাপা দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।” একটা প্রশ্ন উঠেছে যে, খুনিদের কেউ একজন নাকি ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ঘনিষ্ঠ মিডিয়াব‍্যক্তি? সেই মিডিয়াতারকা নাকি আবার প্রধানমন্ত্রীরও প্রিয়পাত্র। এই গুজব যদি সতি‍্য হয় তবে প্রধানমন্ত্রী কী তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করবেন না? দেশের মানুষের মনে কিন্তু ইতোমধে‍্য একটা সন্দেহ দানা বেঁধেছে, সেটা হলো সরকার খুনিদের ধরতে আন্তরিক নয়। তাই তারা এখন বলছে, “শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে আমরা কাউকে গ্রেফতার করবো না”। সাগর-রুনি না হয়ে যদি কোন আওয়ামী লীগ নেতা (দম্পত্তি) এমন নৃশংসতার শিকার হতেন তাহলেও কী সরকার এই তথাকথিত শতভাগনিশ্চিতহওয়ার নীতি গ্রহণ করতো? গণতন্ত্রকে সামনে এগিয়ে নিতে এবং সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সাগর-রুনিসহ সকল হত‍্যাকান্ডের সাথে জড়িত (বিচার বহিভর্ূতহত‍্যাকান্ডসহ) হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও বিচার জরুরি। ‘শতভাগনিশ্চিত’ তত্ত্বের ভেতরেই খুনিদের আঁড়াল করা হচ্ছেনাতো? সরকারকেই এই সন্দেহ ও প্রশ্নের জবাব দিতে হবে প্রকৃত খুনিদের মুখোশ উন্মোচন ও বিচার করার মধ‍্য দিয়ে। আমরা জনগণ সেই অপেক্ষায় রইলাম। ছবি-ফেইসবুক। http://www.eurobangla.org/, editor.eurobangla@yahoo.de,

Advertisements

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s