শেখ হাসিনাকে তা বোঝাবেন কে?

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। আওয়ামী লীগ। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারি রাজনৈতিক দল। বাঙালি, বাংলা আর স্বাধীনতা এই তিন নক্ষত্রের সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে মিশে আছে এই পুরনো রাজনৈতিক দলটি। কিন্তু ক্রমশ: গণতন্ত্র চর্চার পথ দলের ভেতরে সংকুচিত হয়ে পড়ছে! দলটি এখন মূলত: এমপিতন্ত্র আর ক্ষমতাতন্ত্রের কাছে জিম্মি। ত‍্যাগী নেতা-কর্মীরা দলের এমপিতন্ত্র আর ক্ষমতাতন্ত্রের রাজাদের কাছে অপাংক্তেয়। দলের সর্বোচ্চ পর্যায় খুশিতো সব অগণতান্ত্রিকতা, অবহেলা জায়েজ। ‘টাকা যার নেতা তার’ এই হলো আওয়ামী লীগের আজকের রাজনীতি। বিগত জাতীয় নির্বাচনের মনোনয়ন প্রক্রিয়াতেও তার প্রমাণ মিলবে। তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সিদ্ধান্তকে অগ্রাহ‍্য করে কোটি কোটি টাকার বাণিজ‍্য হয়েছে মনোনয়ন ক্ষেত্রে। এসব অভিযোগ এখন আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মুখে মুখে। ফলে মাঠপর্যায়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থা বেশ নাজুক।
“মন্ত্রী-এমপি-নেতারা মাঠের নেতাকর্মীদের খবর রাখেন না। ত্যাগী নেতাকর্মীর কোথাও মূল্যায়ন নেই। সংগঠন নয়, অন্যদিকেই মনোযোগ বেশি বড় নেতাদের। সর্বত্রই বিরোধ আর গ্রুপিং। মাঠের কর্মীরাও দ্বিধাবিভক্ত। দলকে সংগঠিত করতে না পারলে এবং ত্যাগী নেতাকর্মীরা মূল্যায়ন না পেলে আগামীতে আমাদের ক্ষমতায় যাওয়াই কঠিন হবে।” আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সম্মুখে এসব কথা বলেন দেশের সবর্উত্তরেরর ছোট্র জেলাশহর পঞ্চপড়ের তৃণমূল নেতাকর্মীরা। সূত্র-দৈনিক জনকণ্ঠ, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১২। সূত্রমতে, শেখ হাসিনা তৃণমূল নেতা-কর্মীদের কথা শোনার পর এভাবে জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, “জেলার মানুষ পঞ্চগড়ে আওয়ামী লীগকে দুটো আসনই উপহার দিয়েছেন। কোথায় এমপিরা নেতাকর্মীদের জন্য কাজ করবেন, মূল্যায়ন করবেন, তা না করে দুর্ব্যবহার করছেন। একচেটিয়া এমন রাজত্ব চলবে না। দলে এমনও লোক আছেন যারা সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করছেন। এসব সহ্য করা হবে না। তৃণমূল নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের পাশাপাশি জনগণের জন্য ভাল কাজ না করলে আগামীতে সংশ্লিষ্টদের চরম মাসুল দিতে হবে।”
শেখ হাসিনা সহ‍্য করা হবে না বলে কিন্তু তৃণমূল নেতা-কর্মীদের বক্তব‍্যকে অবজ্ঞা করলেন। বরং তিনি যে এসব সহ‍্য করবেন তা আর বলার অপেক্ষাই রাখে না। কারণ অতীতে তিনি হাজারোবার এমন বক্তবক‍্য দিয়েছেন। তবে তা কার্যকর হয়নি। তিনি যদি তৃণমূল নেতা-কর্মীদের বক্তব‍্যকে আমলে নিয়ে দায়িদের বিরুদ্ধে ব‍্যবস্থা নিয়ে তার নজির স্থাপন করতেন তবেই আমরা বিশ্বাস করতে পারতাম শেখ হাসিনাকে।
শেখ হাসিনা হয়ত ক্ষমতার মোহে এখনও বুঝতে পারছেন না তার ডিজিটাল প্রজন্মের নব‍্য এমপিরা (ব‍্যতিক্রম অবশ‍্যই আছে) সারাদেশে আওয়ামী লীগকে কোন পর্যায়ে নিয়ে গেছে? তা হয়ত তিনি টের পাবেন আগামি নির্বাচনে। তখন হয়ত আর কিছুই করার থাকবে না। কাজেই দাঁত থাকতে দাঁতের মযর্াদা দেয়াই ভালো। শেখ তা হাসিনাকে বোঝাবেন কে?

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s