Monthly Archives: মার্চ 2012

সাগর-রুনির খুনিদের বিচার নাকি রুটি-রুজির আন্দোলন, কোনটা জরুরি?


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ।। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন কথা বলেন না কেন? আপনার ৪৮ ঘন্টা অস্বাভাবিকরকমের দীর্ঘ। আর কতশত ঘন্টা ও দিন পরে ৪৮ ঘন্টার নাগাল পাবে মাহির সরোয়ার মেঘ? অনুগ্রহ করে জাতিকে নয় এই ছোট্র শিশুটাকে আশ্বস্ত করেন প্লিজ। আর দেরি করবেন না। একসময়ে ক্রসফায়ার ও বন্দুকযুদ্ধের ডিপোর প্রধান বর্তমানে সারাদেশের পুলিশ বাহিনীর প্রধান। হ‍্যাঁ, আপনাকেই বলছি। আপনি বলেছিলেন প্রণিধানযোগ‍্য অগ্রগগতি হয়েছে। কোথায় সেই অগ্রগতি রিপোর্ট? পরবর্তীতে আপনি বলেছেন তদন্তে একটু সময় লাগছে তার মানে এই নয় যে পুলিশ ঘটনাটিকে ধামাচাপা দিচ্ছে। একটা জোড়া খুনের রহস‍্য উন্মোচন করতে আর কতটুকু সময় লাগবে পুলিশ বাহিনীর? পুলিশের পক্ষ কী আদৌ এই হত‍্যারহস‍্য উন্মোচন করা সম্ভব, খুনিদের কী গ্রেফতার করতে পারবে পুলিশ-র‍্যাব? পুলিশপতি দয়া করে জাতিকে জানান আপনার পুলিশ কতটা অযোগ‍্য, অপেশাদার?
সাংবাদিক বন্ধুরা ৮ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তবে সাংবাদিক বন্ধুদের আন্দোলন এখন কার্যত: রুটি-রুজির দিকেই ঝুঁকে পড়েছে। রুটি-রুজির বিষয়টি অবশ‍্যই একটা বড় ব‍্যাপার। কিন্তু প্রশ্ন হলো সত্পম বলি আর অষ্টম ওয়েজ বলি কোনটাই কাজে লাগে না সিংহভাগ সাংবাদিকের জীবনে। অবশ‍্য আনদোলনটা করতে হয় সববাইকে। আর মজা লুটেন উপরতলার সাংবাদিক নেতারা। খোদ ঢাকা শহরেই শত শত মিডিয়া মালিক ওয়েজবোর্ডের কোনই ধার ধারেন না। রুটি-রুজির আন্দোলনের চেয়ে সাংবাদিকদের জীবন রক্ষা ও স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করার আন্দোলনটা কিন্তু কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
সাগর-রুনি হত‍্যার খুনিদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয় ঘেরাওয়ের পর কী করবেন সাংবাদিকরা সেটাই একটা প্রশ্ন? এরপর কী তবে প্রধানমন্ত্রি ও তারপরে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচী ঘোষণা করবেন সাংবাদিক নেতারা? নাকি সাগর-রুনি হত‍্যার বিচারের আন্দোলন শেষ পর্যন্ত মুখ থুবড়ে পড়বে? আদালতজুজুর ভয়ে সাংবাদিকরা রীতিমতো মুখে কুলুপ এঁটে ফেলেছেন। মিডিয়া কী ভাবছে তা জানিনা তবে দেশবাসি মিডিয়ার উপর যে সন্তুষ্ট নন তা স্পষ্টই বোঝা যায়। দেশবাসি মনে করেন মিডিয়া জোরালো ভূমিকায় মাঠে থাকলে (লেখালেখির মাঠ) সরকার খুনিদের ধরতে এতটা গড়িমসি বা টালবাহানা করতো না। এমনটাওতো হতে পারে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ যারা আন্দোলন করছেন তারাও জানেন খুনি কে? সরকার বা স্টাবিলিশমেন্ট নাখোশ হতে পারে এই ভেবেই মিডিয়া চুপচাপ কিনা তাই বা কে জানে?
গোয়েন্দা কর্মকর্তা মনিরুল এখন কোথায়? খুনি সম্পর্কে শতভাগ নিশ্চিত হতে আর কত সময় অপেক্ষা করতে হবে সাগর-রুনির পরিবারকে তা খোলাসা করে বলুন প্লিজ। আর সরকার সাংবাদিক সাগর-রুনি হত‍্যা মামলাটিকে যে ধামাচাপা দিতে চায় না তার প্রমাণ এখন পর্যন্ত জনগণ দেখতে পাননি। জনমনে সন্দেহের ডালপালা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। জনমনে বিশ্বাস বদ্ধমূল হচ্ছে এই ভেবে যে হয়ত সরকারের কোন না কোন পক্ষের হাত রয়েছে সাগর-রুনি হত‍্যাকান্ডে, তাই খুনি ধরতে সরকার এত বিলম্ব ও টালবাহানার আশ্রয় নিচ্ছে। পুলিশ প্রধান বলে এক কথা তো গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলে আরেক কথা। হাসিনা বলেন বেডরুম পাহারা দেয়া সম্ভব না। আদালত বলে এবিষয়ে রিপোর্ট করা যাবে না। ব‍্যক্তিগতভাবে আমি এভাবে বলতে চাই “বিচার পাই না তাই বিচার চাই না।” ছবি গুগল থেকে নেয়া।

Advertisements

প্রসঙ্গ: মলয় ভৌমিক ও অনুশীলন নাট‍্যদল ।। আবু হায়দারের মন্তব‍্য

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ।। “অনুশীলন নাট‍্যদল, একটি প্রধাবিরোধী নাট‍্য আন্দোলনের নাম। সমাজ বদলের সংগ্রামে অবিচল এই নাট‍্যদলের সবাইকে মিস করি আমি। অনেকের কাছে আমি এক হারিয়ে যাওয়া বিস্মৃত আকাশ, হয়তবা” এই ছোট্র লেখার স্ট‍্যাটাসটা লিখেছিলাম ফেইসবুকে। সঙ্গে দিয়েছিলাম একটা পুরনো ছবি। সেই ছবিটাতে অনুশীলন নাট‍্যদলের প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষাবিদ, নাট‍্যকার সাংবাদিক-লেখক মলয় ভৌমিকসহ নাট‍্যদলের কর্মীবৃন্দ ও বিদেশি অতিথিরাও আছেন। এই লেখাটি লেখার সময় পর্যন্ত স্ট‍্যাটাসটি লাইক করেছেন শামীমা পারভীন, মমতাজ করিম, এএইচএম মোতালেব, রাজীব হোসেইন, আনাম হাসান, কৌশিক রায় এবং মোয়াজ্জেম হোসেন। শামীমা পারভীন মন্তব‍্য করে লিখেন, “মলয় স্যার সহ সবাইকে ভাল লাগছে…”। ইব্রাহিম পাঠানের মন্তব‍্যটা এমন, “এরকম নষ্টালজিয়া পেয়ে বসে সবইকে, আমকেও ভাইয়া।”
জনৈক আবু হায়দার নামে একজন ফেসবুকার নেতিবাচক মন্তব‍্য লিখেছেন এভাবে, “আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে জনাব/শ্রী মলয় বাবুকে চিনি। আমার দেখা সাম্প্রদায়িক এত খারাপ লোক আর দেখি নাই। ভিসি হবার শেষ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কত রাজনীতি তিনি জানেন তা ওনিই ভালো বলতে পারবেন। তাকেও মানুষ ভালো বলছেন, বেশ! তবে আমার দেখা বিষয়গুলো বুঝি স্বপ্নে দেখা…..”। এমন অবর্াচিন মন্তব‍্য পড়ে প্রথমে আমার হাসি পাচ্ছিল, রাগও হচ্ছিল। পরে আমি উত্তরা লিখলাম এভাবে, “জনাব Abu Haider, আপনি শতভাগ মিথ‍্যা লিখেছেন। আপনার অবলোকনের বেলায় মারাত্মক ভেজাল আছে। আপনি নিজেকেই চেনেন না তাই এভাবে একটা ডাহা মিথ‍্যা বক্তব‍্য লিখে দিলেন! সতি‍্য কথা আপনি স্বপ্নেই মানুষের মহানুভবতাকে অপদস্ত করছেন। তা স্বপ্নের মধে‍্যই রাখুন আপনার কাল্পনিক চিন্তাগুলি। মিথ‍্যা কথা বলা আর লিখা বলার স্বাধীনতা হতে পারে না। যুক্তি, তথ‍্য-প্রমাণ দিয়ে কথা বলবেন। নিজের মনের কোণে জঙ্গি-মৌলবাদি মানসিকতা লুকিয়ে রেখে একজন আপাদমস্তক অসাম্প্রদায়িক মানুষকে আপনি আপনার মিথ‍্যাচারের জালে জড়াতে চাইছেন। আমি এখন থেকে ভাবতে শুরু করলাম কারা আমার বন্ধু হবার যোগ‍্যতা রাখেন! আমি আমার অচেনা, অজানা, মিথু‍্যকদের বন্ধুর তালিকা থেকে ঝেড়ে ফেলতে চাই না। তবে আমি অনুরোধ করবো যারা মিথ‍্যা কথা লিখছেন, অরুচিকর মর্যাদাহানিকর ছবি দিচ্ছেন অথচ আমার বন্ধুর তালিকায় সন্নিবেশিত হয়ে গেছেন দয়া করে সরে পড়ুন।”
অনেকটা বেহায়ার মতো এই ভদ্রলোক আবারও জবাব লিখলেন নেতিবাচক। তার বক্তব‍্য হলো, “জাহাঙ্গীর ভাই, আপনার কথা আমি চপল সাহার কাছে শুনেছি। হয়ত আপনিই ঠিক এবং সেটা হলেই সবার জন্য ভালো। আমি যশোরে বড় হয়েছি। আপনি নিশ্চয় জানেন আপনার মতে ঐ মহানুভব মানুষটির শ্বশুর বাড়ি যশোরে। পারিবারিক ভাবে ওনার শ্বশুর পরিবারের সাথে আমার যথেষ্ঠ ঘনিষ্ঠতা আছে। ওনার শালা রতন রাজশাহীতে আমার বেডেই থাকতো। এসব অনেক কারণে ঔ তথাকথিত মহানুভব মানুষটির রাজশাহীর বাড়ীতে আমি এক সময যাওয়া-আসা করেছি। আর সে সুবাধে যা নিজ চোখে দেখেছি তা মিথ্যা হলেই আমাদের সবার জন্য মঙ্গল। আমি মিথ্যা বলিনা এ কথা বললে আর একটি মিথ্যা বলা হবে, তবে অপ্রয়োজনে আমি মিথ্যা বলি না। বিতর্ক হতে পারে। তবে সত্য সব সময়ই সত্য”। রাজশাহী বিশ্ববিদ‍্যালয় শাখার ছাত্র ইউনিয়নের তৎকালিন নেতা এস এম চন্দন আবু হায়দারের মন্তবে‍্য লাইক করেন। এরই প্রেক্ষিতে আবু হায়দার মন্তব‍্য করে লিখেন, “পছন্দ করার জন্য ধন্যবাদ, তবে সত্য উন্মোচনের অপেক্ষায় রইলাম..”।
আমার পাল্টা জবাবে আমি লিখলাম েয, “মানুষের সৃষ্টি ও কর্ম আসল, ব‍্যক্তিগত জীবন নয়। আপনি কী বোঝাতে চাইছেন তা আমি জানি না। তবে “ভাল” শব্দটির যত অর্থ আছে তার সবগুলিই এই মানুষটির ভেতরে আছে। জীবনভর অন‍্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ে চলেছেন তিনি। আমার ব‍্যক্তিগতভাবে আপনার সম্পর্কে ধারণা করতে হচ্ছে এই ভেবে যে হয়ত আপনি কোন অন‍্যায় আবদার করে তা পূরণে ব‍্যর্থ হয়ে এখন বদনাম করছেন। কিন্তু কেন? আপনার কাছে যদি কোন সত‍্য থাকে সৎ সাহস থাকে তো সরাসরি উনার সঙ্গে মোকাবেলা করুন না কেন! তাছাড়া আপনিইতো বলছেন আপনার সঙ্গে উনার শ্বশুরবাড়ির ভাল সম্পর্ক! যাহোক আমি বাজে প‍্যাচাল যুক্তিহীন বিতর্ক করতে চাই না। আপনার যদি কোন বক্তব‍্য থাকে আপনি এখানে নয়, অন‍্য কোথাও কোন পত্রিকায় লিখেন না কেন? দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে আমি এই মহান মানুষটিকে চিনি। প্লিজ ফালতু কথা এই ছবির মধে‍্য আর লিখবেন না। আপনার কলম আছে খাতা আছে আপনি শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে চাকির করেন আপনার অনেক ক্ষমতা। কাজেই আপনি উনার ভিসি হবার পথটাই বন্ধ করে দেন না কেন?”
শিক্ষামন্ত্রনালয়ে চাকরিরত (ফেইসবুক স্ট‍্যাটাসে উল্লিখিত) আবু হায়দার পাল্টা জবাব দিলেন, “জাহাঙ্গীর ভাই. সরকারি চাকরি মানেই ক্ষমতা এ ধারণাটা মনে হয় ঠিক নয়। আর বাংলাদেশে সব সরকারি চাকুরিজীবিও সমান নয় এটা আপনি জানেন। আমাদের হাত-পা বাধা। তবে সুযোগ পেলে একটু আধটু বলি বই কি। সময়ের অপেক্ষায় আছি। আপনার উপর যে পাশবিক নির্যাতন হয়েছে সেটা আমি কিছুটা শুনেছি। কই আপনিতো এদেশে থাকা কালিন কিছু লেখেন নাই? অথচ কত সাংবাদিক কত কিছুইতো লিখছেন। আজ আপনিও লেখেন। আমাদের অবস্থাও আপনার মত করে চিন্তা করেন। আমার পাওয়া না পাওয়ার আপসোছ নাই তা নয় তবে অনেকের চেয়ে কম। আর ওনার মত মহান মানুষের কাছে আমাদের মত তুচ্ছ মানুষেরা কিইবা পেতে পারে? চাওয়া-পাওয়ার একটি বিষয় অনেক বড় করে দেখি আর সেটি মানুষের কলুষমুক্ত আসল চেহারা…”।
আবার আমার জবাব দেবার পালা। এবারে লিখলাম, “আবারও ডাহা মিথ‍্যার আশ্রয় নিলেন। আমি আর কোন মন্তব‍্য করবো না আপনার লেখার ওপর। editor.eurobangla@yahoo.de ইচ্ছে করলে আপনি এই ই-মেইল ঠিকানায় লিখতে পারেন। আমি জবাব দেবো। জরুরি অবস্থার মধে‍্যই আমার ওপর নির্যাতনের বিষয়ে বই প্রকাশ করেছি। অন্ধকারে ১৫ ঘন্টা, বইটি ছেপেছে ডানা প্রিন্টাসর্ লিমিটেড। এছাড়া বিচার বহিভর্ূত হত‍্যাকান্ড ও প্রতিহিংসা, জঙ্গি গডফাদার ও অন‍্যান‍্য প্রসঙ্গ এবং উদীচী থেকে পিলখানা বইগুলিও স্বদেশে থাকতেই লিখেছি। এই বইগুলির একত্র করে ইংরেজী ভার্সন প্রকাশিত হয়েছে “পেইন” এ, যা আমেরিকার একটি প্রকাশনা সংস্থা প্রকাশ করে গত বছরে। ভাগে‍্যর নির্মম পরিহাসে আজ মায়ের দেশ ছেড়েছি। কোন অর্থনৈতিক উন্নতির প্রত‍্যাশায় নয়। এখনও দৃঢ়ভাবেই জানাচ্ছি, আজ যদি কেউ নিশ্চয়তা দেয় যে অন‍্যায়ভাবে কেউ আর গ্রেফতার করে নির্যাতন চালাবে না তবে ৪৮ ঘন্টার মধে‍্যই দেশে ফিরবো। কিন্তু সেই নিশ্চয়তা কোথায় বলতে পারেন? সেখানে কী ন‍্যায়বিচার, গণতন্ত্র আছে? সততা, স্বচ্ছতার কী কোন দাম আছে? তোষামদি, দালালী করা ছাড়া কী প্রমোশন হয়? ধরি মাছ না ছুঁই পানি কিংবা হয় আওয়ামী লিগ নাহয় বিএনপির পক্ষাবলম্বন করে লেখালেখি করা সহজ। কিন্তু মানুষের পক্ষে সতে‍্যর পক্ষে লিখালেখি করে টিকে থাকা কোনভাবেই সম্ভব নয় কোন অসভ‍্য সমাজ-রাষ্ট্র ব‍্যবস্থায়! আরেকটি কথা জানুন, শুধু স্রেফ সাংবাদিকতাই করিনি সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে লড়াই করার চেষ্টা করেছি দেশ ছাড়তে বাধ‍্য হবার আগের মুহুর্তটি পর্যন্ত। যা আপনি কিছুই জানেন না মনে হচ্ছে। পেইন বইটি অনলাইন বুকশপগুলিতে পাওয়া যাচ্ছে (অ‍্যামাজনসহ) সম্ভব হলে পড়ুন, তারপরে বলুন। সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদ ও বিচারবহিভর্ূত নির্যাতন ও হত‍্যাকান্ডের বিরুদ্ধে লড়াই চালাতে কখনও কাপর্ণ‍্য করিনি। নিজের জীবনটাকে পর্যন্ত তুলে দিয়েছিলাম ক্রসফায়ারের দুয়ারে। সেই দরজা থেকে বাবা-মা, সুহৃদদের আশির্বাদের ফলেই বেঁচে এসেছি। রাজশাহীর মেয়র আর র‍্যাব আমার জীবনটাকে তছনছ করে দিয়েছে। বাংলার মাটিতে উনাদের বিচার হবে না। তবে প্রকৃতির বিচারে কেউই ছাড়া পাবে না। এই বিশ্বাসটুকু আমার আছে। কারণ আমি কোন অপরাধ করিনি। কেবল সত‍্যটা জনগণকে জানিয়েছি পেশাগত দায়বোধের জায়গা থেকেই। কোন হালুয়ারুটির বা বকশিশ গ্রহণের সাংবাদিকতা করিনি কখনও। সেকারণেই সাহস ও নির্ভয়ে সব সত‍্য লিখতে পেরেছি। আজকের প্রধানমন্ত্রির ও্পর গ্রেনেড হামলা আর প্রথম আলোর বিরুদ্ধে মৌলবাদী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে রাজশাহী শহরে কাফনের কাপড় পরে ঘুরে বেরিয়েছি। সাংবাদিক মানিক সাহা, ও দীপংকর চক্রবর্ত্তী হত‍্যার প্রতিবাদে একাই মাঠে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছি। বিচারবহিভর্ূত হত‍্যাকান্ডের বিরুদ্ধে আমিউ প্রথম প্রতিবাদ জানিয়েছি রাজপথে নেমে। লিখতে গেলে ইতিহাসের বই লিখা সম্ভব। কাজেই যুক্তিহীন আবেগাপ্লুত মন্তব‍্য করবেন না প্লিজ। সত‍্যনিষ্ঠ হোন, সত‍্য কখনও কারও বিপদ করে না। তবে শয়তান, ভন্ড, মিথ‍্যাবাদী আর সুযোগসন্ধানিরা সত‍্যকে ভয় পায়। এটা সর্বজন স্বীকৃত।” ছবি-নিজস্ব/ব‍্যক্তিগত। ছবির ক‍্যাপশন: বঙ্গবন্ধু কন‍্যা শেখ হাসিনার ওপর গ্রেনেড হামলা ও চট্রগ্রামে দৈনিক প্রথম আলোর বিরুদ্ধে মৌলবাদি তৎপরতার বিরুদ্ধে সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম আকাশ কাফনের কাপড় পরে (২০০৪) রাজশাহী শহর প্রদক্ষিণ করেন। তারই দু’টি ছবি। অপর ছবিতে ফটো সাংবাদিক সেলিম জাহাঙ্গীরের নামে করা হয়রাণিমূলক মামলা প্রত‍্যাহারের দাবিতে আয়োজতি সাংবাদিক সমাবেশে আকাশ বক্তব‍্য রাখছেন।

সাগর-রুনির খুনি ধরে না, বিচারবহিভর্ূত হত‍্যাকান্ড-নির্যাতন থামে না।। র‍্যাবকে থামাবে কে, আল্লাহ-ভগবান নাকি সৃষ্টিকর্তা?

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ।। র‍্যাব এবার পেটালো একজন বিশ্বিবদ‍্যালয়ের শিক্ষককে। এর আগে চট্রগ্রামে কোটি টাকার ডাকাতির ঘটনার সঙ্গেও র‍্যাব জড়িয়ে পড়ে। এই ডাকাতি কোন সাধারণ ঘটনা নয়। ধর্মীয় একটি প্রতিষ্ঠানের এই টাকা ডাকাতির মাধ‍্যমে লুটে নেয় র‍্যাব। আর এই অভিযানে নেতৃত্ব দেয় র‍্যাবের একজন কমান্ডার। চাঞ্চল‍্যকর ও সাড়া সাজানো এই ডাকাতির ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সরকার অবশ‍্য আইনগত ব‍্যবস্থা নিবে বলে বলা হচ্ছে। র‍্যাব দেশজুড়ে কত বন্দুকযুদ্ধ করছে তথাকথিত সন্ত্রাসীদের সঙ্গে। অথচ তারা কখনও সন্ত্রাসীদের স্রষ্টা ও গডফাদারদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে লিপ্ত হয় না। আজঅবধি জঙ্গিবাদী ডান সন্ত্রাসীদের কেউ বন্দুকযুদ্ধে হত! হয়েছে বলে খবর নেই আমাদের কাছে। তারা কেবল বন্দুকযুদ্ধ করে বামপন্থি নামধারী সন্ত্রাসীদের সঙ্গে। র‍্যাব সাংবাদিক মাসুমকে মারে, কলেজছাত্র লিমনকে পঙ্গু করে, বিশ্বিদ‍্যালয়ের শিক্ষকে পেটায়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কোটি কোটি টাকা লুটে নেয়, ডাকাতি, চাঁদাবাজিও করছে মাঝে-মধে‍্য। তারা কেবল সাগর-রুনির খুনিদের ধরে না। র‍্যাব হেলিকপ্টার পায়, উচ্চ বেতন-ভাতা পাচ্ছে। যার সবই জনগণের রক্ত-ঘাম ঝরানো অর্থ। সেই জনগণকেই আবার তারা মারে।
সংবিধানে মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা আছে। কেউ কাউকে নির্যাতনতো দূরের কথা মুখেও কটুক্তি করা যাবে না বলে সংবিধান স্পষ্ট ভাষায় লিখে রেখেছে। কেউ সন্ত্রাস করলে তাকে বিচার ছাড়াই মারা জায়েজ এমন কথাও সংবিধানের কোথাও লেখা নেই। তবুও এই অমানবিকতা, বর্বরতা চলছে সবার চোখের সামনেই। দেশে আছে বড় বড় নামকরা স্বনামধন‍্য আইনজীবী, ব‍্যারিষ্টার, সাংবাদিক, লেখক, বুদ্ধিজীবি আছেন যাদের অনেকেই দেশ-বিদেশে মানবাধিকার নিয়ে কথা বলতে বলতে মুখে লালা পর্যন্ত বের করে ফেলেন। অথচ কেউই তারা সংগঠিতআকারে বিনাবিচারে মানুষমারার নিলর্জ্জ রাষ্ট্রীয় নিমর্মতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়নি (ব‍্যতিক্রম দু’একজন ছাড়া)। মায়ের দেশ যেন এক বর্বর, জংলি, অসভ‍্য, অমানবিকতার পথে হাঁটছে!
খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন খালেদা-নিজামীর চারদলীয় জোট সরকার সন্ত্রাস দমনে ব‍্যথর্ হয়ে গঠন করে একটি প‍্যারামিলিটারি ফোর্স বা বাহিনী। সেই ফোর্স এলিট ফোসর্ নামে পরিচিত। ২০০৪ সালের মহান স্বাধীনতা দিবসে যাত্রা শুরু করে এই বিশেষ বাহিনী। সন্ত্রাস দমনের অঙ্গিকার ও শপথ নিয়ে মাঠে নামলেও নিজেই এই বাহিনী জনগণের কাছে একটি ভয়ংকর এক আতংকে পরিণত হয়েছে। জন্মের পর থেকে বিরামহীনভাবে মানুষ হত‍্যা ও নির্যাতন করে চলেছে বাহিনীটি। তৎকালিন প্রধানমন্ত্রি খালেদা ও তার সরকার গঠন করে এই বাহিনী। ওইসময়কার বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা দেশে-বিদেশে এই বিশেষ বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লংঘণের অভিযোগ করতে থাকেন। সেনানিয়ন্ত্রিত সরকারের অধীনে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচনের আগে দেয়া প্রতিশ্রুতিতে হাসিনা বলেছিলেন তার দল ক্ষমতায় গেলে এই বিচারবহিভর্ূত হত‍্যাকান্ড বন্ধ করবে। ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে ক্ষমতা নেয়ার পরও তিনি দেশে-বিদেশে বারংবার এই প্রতিশ্রুতির কথা উচ্চারণ করেন। কিন্তু দুর্ভাগ‍্যজনক হলেও সত‍্য তার তিনি এবং তার মন্ত্রিপরিষদ প্রতক্ষ এবং পরোক্ষভাবে বিচারবহিভর্ূত হত‍্যা-নির্য়াতনের পক্ষ নেন। অজুহাত দেয়া হয় র‍্যাব ভালো মানুষকে মারছে না! খোড়া অজুহাত যা জনগণ কখনও বিশ্বাস করেন না, করবেনও না। কারণ জনগণ জানেন সন্ত্রাসদমনের নামে মিথ‍্যা রাষ্ট্রীয় বিবৃতির মাধ‍্যমে শত শত নিরীহ ও নিরপরাধ মানুষও র‍্যাবের বিচারবহিভর্ূত হত‍্যা-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
মির্জা আব্বাসদের সরকার র‍্যাব গঠন করে। সেই র‍্যাব মির্জা আব্বাসের বাড়িতে ঢুকে নারী-পুরুষ সবাইকে গণহারে পেটায়। নিয়তির কী নিষ্ঠুর উপহাস! ইসলামী বিশ্ববিদ‍্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে র‍্যাব তুলে নিয়ে যাবার পর তারা আজও নিখোঁজ। বিএনপি নেতা চৌধুরী আলমকেও র‍্যাব তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ আছে। তিনি আজও ফেরেননি। তার ভাগে‍্য কী ঘটেছে তা কেউ বলতে পারছে না। “র‌্যাব কী করতে পারে তা তো জানেন” বলেই র‍্যাব সদস‍্যরা ঢাকা বিশ্বিবদ‍্যালয়ের ফিন‍্যান্স বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ সাইফুদ্দীন খানের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। গত ২৮ মার্চ সন্ধ‍্যায় ঘটে এই নিষ্ঠুর ঘটনাটি। তিনি এখন ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আমরা এটা নির্দ্বিধায় বলতে পারি যে হাসিনা, খালেদা উভয় নেত্রীরই সায় আছে বিচার বহিভর্ূত হত‍্যা-নির্যাতনের পক্ষে! তানাহলে এই মানবাধিকার লংঘণকারি কার্যটি বিনাবাধায় দীর্ঘ নয়টি বছর যাবৎ চালাতে সাহস পেতো না র‍্যাব। বিচার বহিভর্ূত হত‍্যা-নির্যাতনের প্রশ্নে হাসিনা-খালেদা উভয়ই সংবিধান লংঘণকারি। এটা আমরা নিশ্চয়ই বলতে পারি। আর বিচারকদের অনেকেই রাজনৈতিকভাবে পদ-পদবি প্রাপ্তির আশায় থাকার কারণে বিচারালয়ও মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারে না বলে অনেকেই মনে করেন। মিডিয়াও কম দায়ি নয় এই অমানবিকতাকে সামনে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে। কারণ মিডিয়া র‍্যাবের বক্তব‍্যই দেশবাসিকে জোর-জবরদস্তি করে খাওয়াচ্ছে।
ঝালকাঠির কলেজ ছাত্র লিমন হোসেন (১৭) এর কথা কার মনে নেই। গোটা দেশ তোলপাড় হয়েছিল র‍্যাব যখন এই দরিদ্র কলেজ ছাত্রকে গুলি করে পঙ্গু করে দেয়। ২০১১ সালের ২২ মার্চ র‍্যাব তার পায়ে গুলি করে। লিমনকে র‍্যাব সন্ত্রাসী বলে একটি অস্ত্র মামলায় অভিযুক্ত করে। যে মামলায় নিয়মিত হাজিরা দিচ্ছে লিমন। কিন্তু লিমনের মায়ের করা র‌্যাবের বিরুদ্ধে মামলা আজও আলোতে আসেনি। একই অবস্থা রাজশাহীর ওয়ার্কাস পার্টির নেতা মজনু শেখ হত‍্যা মামলারও। সেই মামলাটি প্রায় ৫ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি। এই হলো পুলিশ, আইন-আদালতের অবস্থা। চারিদিকে কেবল অন‍্যায‍্যতা, অন‍্যায‍্যতা, অবিচার, অবিচার আর হতাশা। কোথাও আশাজাগানি কোন আলো চোখে পড়ে না। র‍্যাব প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত নয় বছরে বিভিন্ন অভিযোগে এক লক্ষের অধিক মানুষকে গ্রেফতার করে। তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধ, ক্রসফায়ার ও এনকাউন্টারের নামে এক হাজারের অধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। বেসরকারি হিসাবে এই সংখ‍্যা বহুগুণ বেশি। বিচারবহিভর্ূত হত‍্যা-নির্যাতনের বাইরেও র‍্যাবের বিরুদ্ধে এখন গুম, গুপ্তহত‍্যা, চাঁদাবাজি, ডাকাতি এমনকি ছিনতাইয়ের মতো গুরুতর অভিযোগগুলিও আসছে। অনেকে এমন মন্তব‍্য করে বলেছেন যে, র‍্যাব এখন পুলিশের চেয়েও বড় ঘুষখোর! আবার সুযোগ-সুবিধাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রেও র‍্যাব পুলিশের চেয়ে অনেক উপরে।
২০০৭ সালে বিনা কারণে র‍্যাব আমাকে আমার ভাড়া বাসা থেকে গভীর রাতে ধরে নিয়ে যায়। তার জ্বলন্ত সাক্ষী সেই বাড়িওয়ালা এবং বাড়িওয়ালার ছেলে ও পরিবার। আমাকে ধরতে গিয়ে র‍্যাবের গুন্ডারা বাড়িওয়ালার ছেলে লিখনকেও মারধোর করে। তার অপরাধ কিছুই ছিল না। তিনি শুধু জানতে চেয়েছিলেন এই বলে যে এতোরাতে আপনারা সিভিল পোশাকে কেন এসেছেন? সেটা ভিন্ন প্রসঙ্গ। (এবিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারবেন এই লিংকটাতে-http://www.eurobangla.org/?p=1673)। এছাড়া আমেরিকা থেকে প্রকাশিত আমার নিজের লেখা বই “পেইন” (ব‍্যথা) বইতেও বিস্তারিত পাওয়া যাবে। বইটি অনলাইন বুকশপসগুলিতে পাওয়া যাচ্ছে। সেদিন অনেকগুলি পত্রিকা মিথ‍্যা খবর ছেপেছিল। তারা লিখেছিল আমাকে নাকি রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজারে গভীর রাতে সন্দেহজনকভাবে চলাফেরা করার সময় গ্রেফতার করে র‍্যাব! দেশের মানুষ সবাই বুঝতে পারেন যে বন্দুকযুদ্ধ বা অন‍্যান‍্য অজুহাতে মানুষ হত‍্যা ও নির্যাতেনর সব ঘটনাগুলির পরই র‍্যাব যেসব বিবৃতি দেয় তার শতভাগ মিথ‍্যা! মিডিয়াও যে এই সত‍্যটা বোঝে না তা বলা যাবে না। কিন্তু মিডিয়া যেন মেরুদন্ডহীন হয়ে পড়েছে!
মিডিয়া যেন একটা তোতাপাখি। র‍্যাব বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী যে কাল্পনিক ও আজগুবি তথ‍্য দেয় বিচারবহিভর্ূত হত‍্যাকান্ড বা নির্যাতনের বিষয়ে সেগুলির কোন তথ‍্যানুসন্ধান না করেই মিডিয়ায় প্রকাশ-প্রচার করে দেয়। সেইসব মিডিয়ার সম্পাদক, সাংবাদিকদের অনেকেই আবার সভা-সমাবেশে মিডিয়াকে “গণমাধ‍্যম”, “জনগনের বন্ধু” ইত‍্যাদি বলে আখ‍্যা দেয়। ছি, আমার লজ্জা লাগে এমন কথা শুনলে। স্বদেশে মিডিয়াতো আসলে প্রকৃতঅর্থে গণমাধ‍্যম হয়ে উঠতে পারেনি প্রকৃতপক্ষে! এই দেখুন না সাগর-রুনির নিষ্ঠুর হত‍্যাকান্ডটিও বাংলাদেশের মিডিয়া ভুলে যেতে বসেছে। সেখানে মিডিয়া যে আসলে পুঁজিবাদ, নিজ ব‍্যবসাস্বার্থ আর ক্ষমতার তল্পিবাহকের ভূমিকাই পালন করে যাচ্ছে। নইলে দেশে আইন, আদালত, সংবিধান থাকতেও বিনাবিচারে পাখি মারার মতো করে মানুষ মারা হচ্ছে। আর মিডিয়া সেই হত‍্যাকান্ডের নির্যাতনের উৎসব উপভোগ করছে মাত্র (হাতে গোনা দু’একটি ব‍্যতিক্রম ছাড়া)।
জেল থেকে ছাড়া পাবার পর আমার পরিবারের (দুই দিকের অথর্াৎ শ্বশুরবাড়ি এবং নিজ ভাই-বোনদের তরফ থেকে) পক্ষ থেকে আমার প্রতি প্রথম শর্ত হলো শতভাগ সত‍্য হলেও র‍্যাব সংক্রান্ত কোন বিষয়ে কিছুই লেখা যাবে না। আমি বললাম এটাতো আমার পেশাগত ব‍্যাপার। আমার একটা ব‍্যক্তিস্বাধীনতাওতো আছে। তাহলে কেন আপনারা আমাকে সাংবাদিকতার মহান ব্রত সত‍্য প্রকাশে বাধা দিচ্ছেন? সত‍্য কি কখনও বিপদজনক হতে পারে? উনাদের প্রতি আমার আরও অনেক প্রশ্ন ছিল। পরিবারের সদস‍্যদের একটাই কথা তুমি (মানে আমি) একটি শব্দও লিখতে পারবে না র‍্যাব বিষয় নিয়ে। পরিবারের পক্ষ থেকে দ্বিতীয় শর্তটি ছিল আরও নির্মম। তারা আমাকে সাফ জানিয়ে দিলেন এরপরও যদি তুমি র‍্যাব নিয়ে কোন কথা বলছো বা রিপোর্ট করছো তাহলে তোমার সঙ্গে আমাদের সব সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। এই শর্তটি নিষ্ঠুর হলেও আমার পরিস্কারভাবে পরিবারের কাছে জানিয়ে দিলাম আমার কোর সিদ্ধান্তের কথা। আমি বলি সত‍্য কখনও বিপদজনক হতে পারে না কখনও না। তাই সত‍্য প্রকাশে আমাকে তোমরা কোনভাবেই থামিয়ে রাখতে পারবে না। আমি বরং তোমাদের সাথে সব সম্পর্ক ছিন্ন করলাম। আমি কাঁদি, আমার আত্মা কষ্টে আছে, কিন্তু সিদ্ধান্ত বদলায়নি। যে দেশে সত‍্য নির্বাসিত, সত‍্য বলা যায় না, সততা যেখানে একটা বড় বিপদ, দুর্নীতি আর তোষামদ যেখানে ভীষণ দামী এবং উপরে ওঠার সবচেয়ে শক্ত খুঁটি সেই জন্মস্থান যতই পবিত্র হোক তাকে সভ‍্য ও জনকল‍্যাণমুখী সমাজ বলা যায় না!
র‍্যাবের হাতে সম্ভবত: হাসিনা-খালেদা মার না খাওয়া পর্যন্ত তাদের বিচারবহিভর্ূত হত‍্যাকান্ড ও নির্যাতন বন্ধ হবে না! এই মন্তব‍্যটি আমার নিজের নয়, ক’দিন আগে ঢাকার এক বন্ধুর সঙ্গে কথা হলো দেশের পরিস্থিতি নিয়ে। আলোচনার এক পর্যায়ে বিচারবহিভর্ূত হত‍্যাকান্ড ও নির্যাতনের বিষয়টি চলে আসে আমাদের আলোচনার মাঝপথে। সেসময় সেই বন্ধুই মন্তব‍্যটি করলেন অত‍্যন্ত ক্ষোভের সাথে। হয়ত স্বয়ং আল্লাহ-ভগবান-ইশ্বর-সৃষ্টিকর্তারও এমন ক্ষমতা নাই যে র‍্যাবকে থামায়! কারণ র‍্যাব হাসিনা ও খালেদার নির্দেশ ফলো করছে। পাশে আছে বাম (কতিপয়, যারা হাসিনার মহাজোট সরকারের শরিক!)-ডান যুদ্ধাপরাধী সবার সমর্থন। বিশ্বমুরুব্বি বা মোড়লরাতো থাকবেই। কাজেই র‍্যাবকে থামায় কে?
বিনাবিচারে হত‍্যা-নির্যাতনের ঘটনা ঘটার পরই যখন জনমনে বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় তখন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয় কেউ কোন অন‍্যায় করলে তাদের বিরুদ্ধে ব‍্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু সরকার কখনও বলে না যে বিচারবহিভর্ূত হত‍্যা-নির্যাতন বন্ধ করা হবে, এই অমানবিকতা, নৃশংসতা চলতে দেয়া হবে না। মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম‍্যান সাহেব মাঝে মধে‍্য বিচারবহিভর্ূত হত‍্যাকান্ড চলতে দেয়া যায় না বলে সুর তোলেন। কিন্তু সেই সুর হয়ত মানবাধিকার কমিশনের চারদেয়ালের মধে‍্যই আটকা পড়ে যায়! কমিশন আজপর্যন্ত কোন ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট জনগণের সামনে প্রকাশ করেছে বলে জানা নেই আমাদের।
সামগ্রিক একটা পরিবর্তন ছাড়া মায়ের ভূমির বর্তমান দুর্দশা কাটবে বলে আস্থা নেই। দুইদলীয় লুটপাটের ধারার বিপরীতে নেই কোন শক্ত রাজনৈতিক শক্তি যে শক্তি হতাশাগ্রস্ত জনতাকে আশার আলো দেখাতে পারে। ছবি গুগল থেকে নেয়া। র‍্যাবের গুলিতে শারীরীকভাবে পঙ্গু হয়ে যাওয়া কলেজ ছাত্র লিমন। editor.eurobangla@yahoo.de, http://www.eurobangla.org/

শহীদের আত্মা চাইছে সব রাজাকার-যুদ্ধাপরাধীর বিচার ।। সাগর-রুনি হত‍্যা বিচার হবে কী?


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ।। সাগর-রুনিদের হত‍্যা করা হবে। মেঘ, পর্শিয়াদের আমরা কয়েকদিন, কয়েক মাস শান্তনা দেবো। মিনার মাহমুদরা রহস‍্যজনকভাবে মরবেন। যোগ‍্যদের কদর দেবো না। অযোগ‍্যরা সবকিছুকে গ্রাস করবে। সন্ত্রাস দমনের নামে বিনাবিচারে মানুষ মারার উৎসব করবো। মানবাধিকার লংঘণের সব ঘটনাই মিডিয়া অবলোকন করবে, দাঁড়াবে না মানুষ ও সতে‍্যর পক্ষে। কেউ নিহত বা মরে গেলে তিনি সবার কাছে হয়ে যাবেন ফেরেশতা। কিন্তু বেঁচে থাকতে তার খোঁজ নেয়না কেউই। তার সর্বশেষ উদাহরণ দেয়া যেতে পারে আশির দশকের সাড়া জাগানো দুর্দান্ত সাহসী সাংবাদিক মিনার মাহমুদকে। তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই। তাঁর সম্পর্কে এখন তাঁর পুরনো সুহৃদরা লিখতে লিখতে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। কিন্তু বেঁচে থাকতে তাঁকে কেউ একটা চাকরি দেননি!
মানবমুক্তির সংগ্রাম চালাতে গিয়ে আমরা যারা স্বদেশে থাকতে পারিনা, বাধ‍্য হই বিদেশে আসতে। পরের দেশে এসে আমরা কী করি বা কী খাই, জীবনে বেঁচে থাকার সংগ্রামটা কত কঠিন? তা একমাত্র ভুক্তভোগিরাই বুঝতে পারেন অন‍্য কেউ নন। বিশেষ করে অ-ইংরেজী ভাষার দেশগুলিতে ভাষা শেখার জন‍্য যে লড়াই চালাতে হয় তা বর্ণনাতীত। তবুও স্বদেশ থেকে বিদেশে আসতে চাই অনেকেই। এমনকি অনেক পিএইচডিধারি, বিখ‍্যাত সাংবাদিকও বিদেশে আসার পথ খুঁজতে থাকি। কিন্তু কেন? আজকের লেখার বিষয় সেটা এটা নয়। ফেইসবুকে দু’টি স্ট‍্যাটাস নিয়ে ছোট্র আকারে নিজের মত প্রকাশ করার জন‍্যই লিখতে বসলাম।
মিডিয়া ব‍্যক্তিত্ব মির্জা তারেকুল কাদের ফেইসবুকে লিখেছেন, “মিনার মাহমুদের বেশি ক্ষোভ ছিল বন্ধুদের প্রতি। অনেক বিখ‍্যাত ও ক্ষমতাবান বন্ধু ওকে সাহায‍্য করেনি। সুযোগ থাকলেও দেয়নি চাকরি। আসুন আমরা বন্ধুরা যেনো বন্ধুদেরকে সাহায‍্য করি, তাদের প্রতি নির্মম না হই।” একটি সুন্দর আহবান, প্রত‍্যাশা। কিন্তু আমি বলবো ভিন্ন কথা। একটা অসমান, অন‍্যায‍্য, স্বার্থপর সমাজে আপনার এই মহান ডাককে বাস্তব রুপ দেয়া খুব সহজ নয় তারেক ভাই।
কয়েকজন বন্ধুর ফেইসবুক স্ট‍্যাটাসে দেখলাম আজ একজন কবির জন্মদিন। গোলাম কিবরিয়া পিনু, জীবনের কবি। মানবমুক্তির সংগ্রামেরত এই কবিকে চেনেন না এমন কেউ নেই বাংলায় বিশেষ করে শিক্ষিত সমাজে। কবির উদ্দেশে দু’একটি কথা লিখতে চাই। আপনার কলমের আঁচড়ে ভেঙ্গে যাক অন‍্যায়-অন‍্যায‍্য আর দুর্নীতির পাথর। ধ্বংস হয়ে যাক গণতন্ত্রের নামে স্বৈরতন্ত্রের পতাকাবাহী পরিবারতন্ত্রপূজারি নেতৃত্ব। বন্ধ হোক বিনাবিচারে মানুষ হত‍্যা-নির্যাতন। বিচার পাক মেঘ পর্শিয়ারা। বন্ধ হোক বিচারের নামে রাজনৈতিক নাটকের খেলা। শহীদের আত্মা চাইছে সব রাজাকার-যুদ্ধাপরাধীর বিচার। ঘুচে যাক সমাজ ও রাষ্ট্রের বদনাম। মুক্তি পাক দেশের মানুষ। আপনি কবি, বাঁচুন হাজার বছর। ছবি ফেইসবুক থেকে নেয়া। editor.eurobangla@yahoo.de, http://www.eurobangla.org/

সাগর-রুনি দম্পত্তির খুনিদের ধরতে পুলিশ কেন তৎপর নয়।। কে এই ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার দম্পত্তি রিফাত-তুষার?


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ।। সাংবাদিক সাগর-রুনির হত‍্যামামলার বিষয়ে পুলিশ শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে শুধুমাত্র সন্দেহভাজন কোন খুনিকে গ্রেফতার করবে না। পুলিশ এই তত্ত্বটা বারবার দেশবাসিকে জানানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু অন‍্যসব ঘটনায় দেশবাসি দেখছেন পুরো উল্টো চিত্র। কখনও আবার কাউকে থানায় আটক করে নিয়ে যাবার পর মামলা রেকর্ড করা হয়। ছিনতাই করার পর জনতার ধাওয়া খেয়ে নদীতে লাফিয়ে পড়ে মারা গেলেও মামলা হয় যার টাকা-পয়সা ছিনতাই হলো তারই নামে! গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়াই মিথ‍্যা ও হয়রাণিমূলক মামলায় কত নিরীহ-নিরপরাধ মানুষকে আটক করা হচ্ছে তার কী কোন হিসাব দেয়া যায়? থানা-পুলিশের কাছে কেউ কোন অভিযোগ করামাত্রই পুলিশ ঘটনার তদন্ত, পারিপার্শ্বিক অবস্থা, বিচার-বিশ্লেষণ ও পর্যবেক্ষণ ছাড়াই অভিযোগ আমলে নেয়। শুধু তাই নয় মামলা রেকডর্ না করেই পুলিশ শুরু করে গ্রেফতার অভিযান। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী বাংলাদেশে কোন নারী গ্রেফতার করার সময় সঙ্গে অন্তত: নারী পুলিশ থাকতে হয়। কিন্তু সেখানে সেরকম কোন রীতি-নীতি মানার কোন লক্ষণই নেই বাস্তবে। দেশটা যেন একটা মগের মুল্লুক! ব‍্যক্তি ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপরই চলে সবকিছু, আইন-কানুন, রীতি-নীতি, সংবিধান, ব‍্যক্তি স্বাধীনতা-অধিকার, মৌলিক মানবাধিকার কোনটাই অনুসরণ করা হয় না সেখানে।
ছোট একটি উদাহরণমূলক (কাল্পনিক) গল্প বলতে চাই আপনাদের কাছে। ধরুন কোন এক নারী “এক্স আলো” কার্যালয়ে গেলেন। উদ্দেশ‍্য সম্পাদক ওয়াই রহমান এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করা। সন্ধ‍্যা সোয়া ছয়টায় ঢাকার এক্স আলো কার্যালয়ে সেই নারী গেলেন। তখন সম্পাদক সাহেব নিজ কার্যালয়েই ছিলেন। লেখালেখি বিষয়ে সম্পাদক সাহেবের সঙ্গে আলোচনা শুরু হলো। এসময় সেখানে এক্স আলো কার্যালয়ের সম্পাদকের অধীনস্থ আরও বেশ ক’জন উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার এক পর্যায়ে ওই নারী টয়লেটে গেলেন। টয়লেট থেকে ফিরে এসে তিনি জানালেন এখানে আমার একটা ব‍্যাগ ছিল। ব‍্যাগটা গেলো কোখায়? ব‍্যাগের মধে‍্য সোহনা-গহনা ও নগদ টাকা, মোবাইল এবং ক‍্যামেরা আছে! সম্পাদক রহমান এবং অন‍্যান‍্য সহকর্মী এবং অধীনস্ত সহকর্মী সকলেই হতবাক। এক্স আলো কার্যালয় থেকে সেই নারী বেরিয়ে গেলেন। এরপর থানায় অভিযোগ। মৌখিক অভিযোগ পেয়েই “করিৎকর্মা” পুলিশ রাত আটটার দিকে চলে এলো এক্স আলো কার্যালয়ে। কোন কোর্ট অর্ডার, গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়াই পুলিশ এক্স আলো কার্যালয় তল্লাশি চালালো সেই কথিত স্বর্ণভতির্ ব‍্যাগের খোঁজে। কিন্তু ব‍্যাগ মিললো না। এরপর পুলিশ সম্পাদকসহ আরও চারজনকে ধরে নিয়ে গেলো থানায়। থানার ভেতরে পুলিশ সম্পাদক সাহেবকে এই বলে প্রস্তাব দিলেন যে অভিযোগকারিনীর সঙ্গে “সমঝোতা” করে নেন। পুলিশ কর্মকর্তা ইশারা-ইঙ্গিতে বোঝাতে চাইলো যে টাকা লাখ খানেক টাকা দিয়ে বিষয়টার সমঝোতা করে নেন। পুলিশ কর্মকর্তা আরও বললো, আমরা এখনও মামলা রেকর্ড করিনি। আপনারা সমঝোতা করে নেন। সম্পাদক সাহেব বললেন কিসের সমঝোতা, আমরাতো কোন ব‍্যাগ চুরি করিনি। আসলে অভিযোগকারিনী সাথে কোন ব‍্যাগ নিয়ে গিয়েছিলেন কিনা সেটাই সন্দেহ! মিথ‍্যা হয়রাণিমূলক অভিযোগ আর অন‍্যায় আবদারের কাছে সম্পাদক মাথানত করতে চাইলেন না। অভশেষে রাত সোয়া ১১টার দিকে সম্পাদকসহ অন‍্য চারজন সহকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করলো পুলিশ। মামলার কথিত অভিযোগে বলা হয় সেই নারীর ব‍্যাগে ২৫ ভরি স্বর্ণ ছিল। অভিযোগকারিনীর নাক, কান, গলা ও হাতেও স্বর্ণালংকার পরা ছিল বটে! গল্পটা এখানেই শেষ।
এখন প্রশ্ন হলো বাংলাদেশের যে সমাজ বাস্তবতা তাতে সাধারণ কোন নারী ২৫ ভরি সোনাসমেত ব‍্যাগ নিয়ে যেখানে সেখানে যাতায়াত করবেন তা কী বাংলাদেশে বসবাসরত কারও পক্ষে বিশ্বাসযোগ‍্য কিনা? দেশের প্রধানমন্ত্রি, সাবেক প্রধানমন্ত্রি বা সমাজের অন‍্য নামী-দামী নারীরাও অতিরিক্ত (শরীরের স্বর্ণালংকার বাদে) ২৫ ভরি সোনার ব‍্যাগ নিয়ে কোথাও যাতায়াত করে বলে মনে হয় না। যাহোক উপরোল্লিখিত ঘটনাটিকে কাল্পনিক বলেছি বটে। কিন্তু এমনই এক অবিশ্বাস‍্য ঘটনার জন্ম দিয়েছেন জনৈকা রিফাত মাহজাবিন। উপরের গল্পটির হুবহু চিত্রায়িত করেছেন তিনি তার অভিযোগে। তবে ঘটনার অভিযুক্ত চরিত্র আর পেশা কেবল ভিন্ন। যে ঘটনার একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে ঢাকার কাওরানবাজারস্থ বহুল প্রচারিত প্রথম আলো।
ঢাকার ধানমন্ডির একটি জনপ্রিয় অভিজাত সেলুন “হেয়ারোবিক্স ব্রাইডল” এ এমন একটি কাল্পনিক ডাহা মিথ‍্যা অভিযোগের জন্ম দিয়েছেন নর্থসাউথইউনিভার্সিটির ছাত্রী পরিচয়দানকারি জনৈকা রিফাত মাহজাবিন এবং তার স্বামী “মাইন্ডশেয়ারওয়াল্ড” নামে একটি সংস্থায় কর্মরত জনৈক শরিফুল ইসলাম তুষার। “হেয়ারোবিক্স ব্রাইডল” এর বিউটি কনসালটেন্ট মিউনি প্রায় দুই দশক ধরে অত‍্যন্ত সুনাম আর সততার সাথে এই প্রতিষ্ঠানটি পিরচালনা করে আসছেন। এই দীঘর্ সময়ে কখনও এমন অভিযোগ ওঠেনি এই প্রতিষ্ঠানে বা প্রতিষ্ঠানের কারও বিরুদ্ধে। কিন্তু গত ২২ মার্চ সন্ধ‍্যায় ঢাকার শের-ই বাংলানগর সোবহানবাগ তল্লাবাগ (১৬/২) এবং বাসা-৩৪, সড়ক-৬ পিসিকালচার হাউজিং, শেখেরটেক আদাবর ঠিকানার (এই দুই ঠিকানা তারা ব‍্যবহার করেছেন এজাহারে) রিফাত ও তার স্বামী তুষার “হেয়ারোবিক্স ব্রাইডল” এর সুনাম ও এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গ জড়িতদের মর্যাদায় আঘাত করেছেন। কিন্তু কেন, কী তাদের উদ্দেশ‍্য? কে এই দম্পত্তি রিফাত ও তুষার? তারা কী তবে কোন প্রতারকচক্র বা দলের সদস‍্য?
সমাজের উঁচুস্তরের কিংবা টাকাওয়ালা ব‍্যবসায়ীদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে মোটা অংকের টাকা কামানোর কোন ধান্দা বা মতলব তাদের ছিল কিনা তা নিয়েও সন্দেহ করার মতো যথেষ্ট কারণ আছে! পুলিশ রাতে এই প্রতিষ্ঠানের নারী সদস‍্যদের গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যাচ্ছে অথচ কোন নারী পুলিশ সেই তল্লাশি বা গ্রেফতার অভিযানে অন্তভর্ূক্ত করা হয়নি কেন-এই প্রশ্নটিও করা বোধহয় অসমীচীন হবে না? এজাহারের বর্ণনা আর পারিপাশ্বর্িক অবস্থাদি বিবেচনায় যেকান বিচক্ষণ ব‍্যক্তিমাত্রই বুঝতে পারবেন যে এই দম্পত্তির অভিযোগটা কতটা অসাঢ়, মিথ‍্যা ও কাল্পনিক! আর পুলিশই বা কেন এত তৎপর হয়ে উঠলো অভিযোগ পাওয়া মাত্রই? ঘটনার পর পুলিশ “হেয়ারোবিক্স ব্রাইডল” তন্ন তন্ন করে তল্লাশি করলো, কিছুই পেলো না। পুলিশের মাথায় এমন প্রশ্নই বা আসলো না কেন যে আজকের দিনে মানুষ ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার ব‍্যাগে নিয়ে ঘুরে বেড়ায় কী? পুলিশ যখন কোন অবাস্তব অভিযোগের ভিত্তিতেই কোন প্রতিষ্ঠানের একঝাঁক নারী সদস‍্যকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় কোনরকমের তদন্ত ছাড়াই সেখানে টিভি সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর ও রুনির খুনিদের গ্রেফতারে প্রশাসন কেন শতভাগ নিশ্চয়তার কথা বলছে তা বোধগম‍্য নয়! সমাজে ন‍্যায়বিচার, আইনের শাসন ও গণতন্ত্রের শক্ত ভিত প্রতিষ্ঠা করা না গেলে হত‍্যা-খুন, প্রতারণা, মিথ‍্যাচার, দুর্নীতি বন্ধ করার কথা স্বপ্নেও ভাবা যায় না! ছবি ফেইসবুক থেকে নেয়া।

সাগর-রুনির হত‍্যাকারিরা গ্রেফতার হয় না, এই স্বাধীনতা চাই না!

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ।। ৪০ বছর আগে আমরা স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছি। এখন আমরা পরাধীন জাতি নই। শোষণ, বঞ্চনা, বৈষম‍্য আর স্বৈরশাসনের জিঞ্জির ভাঙার সংগ্রামে বাঙালি বিজয় পেয়েছে। কিন্তু সতি‍্যকারের গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির স্বাদ পাননি বাংলার মানুষ। বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান দীর্ঘ লড়াই সংগ্রামের মধ‍্য দিয়ে বাংলাদেশকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। ২৬ মার্চ বাঙালির প্রাণের দিন, প্রিয় স্বাধীনতা দিবস। আমরা এখন পরাধিন নই। দেশে কোন পাকআর্মির হামলা, আক্রমণ নেই। কিন্তু তবু কেন আজও মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি মেলে না?
স্বাধীন বাংলায় মুক্তিযোদ্ধা রিকশা চালান। নিজামী-মুজাহিদদের গাড়িতে পতাকা উড়েছে, যারা যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত। সংসদ অচল হয়ে থাকে। সংসদে নেতা-নেত্রীরা অসভ‍্য ভাষায় কথা বলে। শিক্ষিত হোক আর অল্পশিক্ষিত দেশের প্রধানমন্ত্রি আরেক নেতা-নেত্রীর নামে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় বক্তৃতা দেন। বিনাবিচারে মানুষ নির্যাতন-হত‍্যার মতো অমানবিক কর্মকান্ডকে রাষ্ট্র মেনে নেয়। নারী আজও রাজপথে ইভিটিজংয়ের শিকার হয়ে লজ্জায় আত্মহননের পথ বেছে নেন। নারী নির্যাতন, যৌতুক ও নারী ধর্ষণ আজও হয়নি বন্ধ। অন‍্যায়ের প্রতিবাদ করায় শিক্ষক মিজানদের জীবন দিতে হয় দুবর্ৃত্তদের হাতে। সন্ত্রাসদমনের নামে রাষ্ট্রীয় বাহিনী গুলি করে পঙ্গু করে দেয় দরিদ্র স্কুল ছাত্র লিমনদেরকে। প্রগতিশীল, ডানপন্থি সব আমলেই ধর্মীয় সংখ‍্যালঘু ও আদিবাসির ভূমি ও সম্পদ হাতিয়ে নিতে এতটুকুও লজ্জা দেখায় না ক্ষমতাবানরা। এই সরকারের ক্ষমতাগ্রহণের তিন বছর পরও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ হয় না। দেশ ভরে গেছে যুদ্ধাপরাধী-রাজাকারদের প্রেতাত্মাদের দিয়ে। এখনো স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ বন্ধ করে দেয়া হয় সরকারি নানান প্রতিবন্ধকতা আর বাধা-ধরা নিয়মের মারপ‍্যাঁচে। হয় না বিচার সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতনের, সাধারণ মানুষের নেই কোন নিরাপত্তা।
দলে ও রাষ্ট্রক্ষমতায় গণতন্ত্রের নামে জিইয়ে রাখা হচ্ছে পরিবারতন্ত্র। একদিকে হাসিনা অন‍্যদিকে খালেদা, উত্তরসুরি হিসেবে জয় নয়তো তারেকের পেছনে ছুটছে দেশের রাজনীতি। রাজনীতিতে কালো টাকা আর কালো ব‍্যবসায়ীদের রমরমা প্রভাব সৎ ও ত‍্যাগি রাজনীতির কবর রচনা করছে নিরন্তর। দুইনেত্রী ও দুই পুত্রনির্ভর রাজনীতিতে ইচ্ছা এবং পছন্দ অপছন্দই বড় কথা। বাস্তবে গণতন্ত্র চর্চার কোন বালাই নেই। সংসদ আইন প্রণেতার পরিবর্তে হয়ে উঠছে ব‍্যবসায়িদের আড্ডাখানা! একদল আরেকদলের বিরুদ্ধে আনছে বিদেশ থেকে টাকা আনার অভিযোগ। বিডিআর সদর দফতর পিলখানায় মেধাবি সেনা কর্মকর্তাদের নির্মম হত‍্যাকাডের পর লাশ গণকবর কিংবা পানির লাইনে ভাসিয়ে দেয়া হয়। ঐতিহ‍্যবাহী বিডিআরের নাম বদল করে বিজিবি করা হয়। কিন্তু সেই পিলখঅনার গণহত‍্যার মূল নায়করা আজও জাতির সামনে অজানাই রয়ে গেছে।
ব‍্যক্তিগত ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব-ফ‍্যাসাদের কারণে মিথ‍্যা মামলায় বহু নিরীহ ও নিরপরাধ মানুষের আর্তনাদ বাংলার আকাশে-বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। যেখানে কোন রাজনৈতিক দলের নেতা বা কর্মী খুন হওয়ামাত্রই বিরোধীমতের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতারে চ‍্যাম্পিয়ন হবার প্রতিযোগিতায় নেমে যায় পুলিশ, র‍্যাব বা গোয়েন্দারা সেখানে সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর-রুনির খুনিদের গ্রেফতারে কেন এতো গড়িমসি তা জাতি জানতে পারেনি আজও। রাজধানী ঢাকার বুকে নিজ ভাড়া ফ্ল‍্যাটে নিজের শোবার ঘরেই খুন হলেন সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি। আদালতের হস্তক্ষেপ আর প্রধানমন্ত্রির বেডরুম পাহারা দেয়া সম্ভব নয় বক্তবে‍্যর কারণেই থেমে গেলো প্রণিধানযোগ‍্য অগ্রগতির ধারা। নিরাপদ কূটনীতিকপাড়ায় সৌদি কর্মকর্তা খালাফ হত‍্যায় কেউ গ্রেফতার হলো না আজও। সমাজের শিরায় শিরায় ঢুকে পড়েছে দুনর্ীতি আর অরাজকতা! মিডিয়া ও বিচারালয় স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে না। চারিদিকে রাজনৈতিক বিভক্তি আর দ্বন্দ্ব। নৈতিকতা আর ন‍্যায়বিচার যেন নির্বাসিত আজকের বাংলাদেশে! হাসিনার মহাজোট সরকার যে সরকার নিজেদের প্রগতিশীল বলে দাবি করে সেই সরকারও মৌলবাদি জুজুর ভয়ে কবি দাউদ হায়দার ও লেখক তসলিমা নাসরিনকে দেশে ফিরিয়ে নিতে পারে না বা চায় না!
এই দুনর্ীতি, নষ্টামী, অরাজকতা, অগণতান্ত্রিকতা, মানবাধিকার লংঘণ আর অবিচারের অতলতলে তলিয়ে হারিয়ে যাবার জন‍্য কী বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছিলেন বাংলার বীর সেনানীরা! এই স্বাধীনতার জন‍্যই কী দুই লাখ মা-বোনের সমভ্রমহানি আর ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছিলেন! এই বাংলাদেশ চাই না, এই স্বাধীনতা চাই না, চাই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ! যেখানে সাগর-রুনিদের নৃশংসভাবে নিহত হতে হবে না, মুক্তিযোদ্ধাকে ভিক্ষা করতে কিংবা রিকশা চালাতে হবে না, যে বাংলাদেশে হাসিনা-খালেদা পরস্পরের বিরুদ্ধে মিথ‍্যাচার আর গালমন্দ না করে ঐক‍্যবদ্ধ হয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে গণতন্ত্র ও সহিষ্ণুতার প্রতি আস্থাশীল এবং মনেপ্রাণে গণতন্ত্র ও সহনশীলতার চর্চা করবেন, যে বাংলাদেশে থাকবে না কোন দুর্নীতি, বৈষম‍্য, নারী নির্যাতন আর দারিদ্রতা। একটি সুন্দর-সুখী ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি আমরা সববাই। কবে যে সেই স্বপ্ন বাস্তবে ধরা দেবে বাংলার মানুষের হাতে? ছবি ফেইসবুক থেকে নেয়া।

অর্থ ও স্বার্থের লড়াই: কে সত‍্য বোন তানজিন, নাকি ভাই-ভাবি তৌকির ও বিপাশা?

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ।। বোন না বউ বড়, নাকি টাকা! অর্থের লোভ মানুষকে অমানুষ করে দেয়, আপন সম্পর্কও দূরে চলে যায়! মানুষ যদি একবার ভালো করে চিন্তা করে তারা কেউই অমর নয়, তবেই সব সমস‍্যা সমাধান সম্ভব আলোচনার মাধ‍্যমে। আর যা রটে তাতো কিছু না কিছু বটে! কে সত‍্য তা বের করা কঠিন, কারণ স্বদেশে টাকা দিয়ে বিচার কিনে নেয়া যায়। তারপর দি কোউ হয় সেলিব্রেটি, ক্ষমতাবানদের সহযোগিতাও চলে আসবে আপনাআপনি। ওখানে শুধু মুড়ি-মুড়কির মতো টাকা ছিটালেই বিচার যায় ধরা!
বাংলা সমাজে অর্থ ও সম্পত্তি নিয়ে ভাই-বোনের মধে‍্য ঝামেলা কিংবা মামলা-মোকদ্দমা নতুন কোন খবর নয়। কিন্তু এই সম্পত্তি বা অর্থ নিয়ে যদি সমাজের সেলিব্রটিদের মাঝে রেষারেষি বা দ্বন্দ্ব আদালতের বারান্দা পর্যন্ত পৌঁছায় তাহলে সাধারণ মানুষের মনোযোগ আকর্ষিত হয়। এরকম কোন মনোযোগ আমার নেই। তবে নৈতিকতার প্রশ্নটিকে আমি গুরুত্ব দিতে চাই। বাংলাদেশের অভিনয় জগতের সুপরিচিত তৌকির-বিপাশা জাতীয় চলচিত্রপুরস্কারপ্রাপ্ত জুটি। ব‍্যক্তিগতভাবে তারা স্বামী-স্ত্রী। এই জনপ্রিয় দম্পত্তির বিরুদ্ধে গত ১৯ মার্চ প্রতারণার অভিযোগ এনে একটি মামলা করেন তৌকিরের বোন তানজিন হায়দার। সুইডেনপ্রবাসী তানজিনের অর্থ আত্মসাতের মামলায় তৌকির-বিপাশাকে আগামি ৪ এপ্রিল তলব করেছে আদালত।
এরই প্রেক্ষিতে বোন তানজিনের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করলেন আজ অভিনেতা তৌকির আহমেদ ও তার স্ত্রী অভিনেত্রী বিপাশা হায়াত। ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মহসিনুল হক হক মামলাটি চলবে কিনা- সে ব্যাপারে গ্রহণযোগ্যতা শুনানির জন্য আগামি মঙ্গলবার দিন ধাযর্‍্য করেন। তৌকির-বিপাশার মামলায় মানহানির অভিযোগ এনে ৫০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়।
তানজিনের মামলায় অভিযোগ করে বলেন, “গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে ‘নক্ষত্রবাড়ি রিসোর্ট অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টার’ করার জন্য তৌকির ও বিপাশার সঙ্গে মিলে তারা একটি কোম্পানি গঠন করেন। এ কোম্পানির চেয়ারম্যান হন তানজিনের স্বামী সৈয়দ আলী হায়দার, আর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব নেন তৌকির আহমেদ। এই রিসোর্ট নির্মাণের জন্য তিনি ও সৈয়দ আলী হায়দার মিলে নগদ ১৫ লাখ টাকা এবং ব্যাংকের মাধ্যমে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৪২২ ডলার তৌকিরকে হস্তান্তর করেন। এ জন্য তিনি টাঙ্গাইলে পৈত্রিক সম্পত্তিও বিক্রি করেন। কিন্তু তৌকির ও বিপাশা ওই অর্থ দিয়ে ‘প্রতারণামূলকভাবে’ নিজেদের নামে জমি কিনে নক্ষত্রবাড়ি রিসোর্ট গড়েন।”
তানজিনের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলায় তৌকির বিপাশার বক্তবে‍্যই তানজিনের অভিযোগের নীতিগত স্বীকারোক্তি জানিয়েছেন এই জনপ্রিয় দম্পত্তি। তৌকির-বিপাশার মামলায় বলা হয়, “তানজিনের কাছ থেকে যে টাকা নেয়া হয়, তা পুরোপুরিই পরিশোধ করা হয়। এখন নক্ষত্রবাড়ি রিসোর্টে যে বিনিয়োগ তাতে তানজিনের কোন পুঁজি নেই বরং এই পুঁজির বড় অংশ ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের টাকা।”
এখন প্রশ্ন হলো তৌকির-বিপাশার বিরুদ্ধে তানজিনের অভিযোগ যদি মিথ‍্যা হয়ে থাকে তবে তা আদালতেই প্রমাণ হোক না কেন? আদালতে প্রমাণের আগেই তানজিনের নামে মানহানির পাল্টা মামলা কী প্রমাণ করে না যে, “ঠাকুর ঘরে কে রে, কলা আমি খাই না?” কারও বিরুদ্ধে প্রতারণা বা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের হবার পরপরই পাল্টা মামলায় মানহানি হয়েছে মর্মে অভিযোগ এনে মামলা দায়েরের নজির বাংলায় তেমন একটা দেখা যায় না। সাধারণত: মামলা নিষ্পত্তি হবার পর অভিযুক্ত যদি মামলায় বিজয়ী হন তবেই কেবল মানহানির মামলা দায়ের করা যেতে পারে। তার আগে নয়। আইনজীবীদের কেউ কেউ এমনই মন্তব‍্য করেছে ইতোমধে‍্য। এ মামলা নাও টিকতে পারে। কারণ এই দম্পতির বিরুদ্ধে আগেই একটি প্রতারণা মামলা রয়েছে। ওই মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের মামলা গ্রহণের নজির নেই।”
বিচারক মহসিনুল হক অবশ‍্য মামলার গ্রহণযোগ‍্যতা বিষয়ে মঙ্গলবার শুনানির জন‍্য দিন ধাযর্‍্য করেছেন। বাংলায় একটা প্রবাদ আছে “ভাই বড় ধন রক্তের বাধন, যদি হয় পৃথক নারীরও কারণ”। তৌকির-তানজিনের ভাই-বোনের সম্পর্কের মাঝে বিপাশা কোন কৌশল খেলছে কিনা তা নিয়ে নিন্দুকের মুখে নানান কা রটে গেছে ইতোমধে‍্য। এখন দেখার বিষয়, অর্থ ও স্বার্থের এই দ্বন্দ্বে কে সফল হন ভাই নাকি বোন? কে সত‍্য বোন তানজিন নাকি ভাই-ভাবি তৌকির ও বিপাশা? সময় বলে দেবে কে সত‍্য? সংবাদসূত্র বিডিনিউজ, ছবি গুগল থেকে নেয়া। editor.eurobangla@yahoo.de, http://www.eurobangla.org/