সাগর-রুনির খুনের রক্তের দাগ শুকোয়নি, উঁচুতলার সাংবাদিকরা প্রীত হলেন গণভবনে!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর-রুনির নৃশংস হত‍্যাকান্ডের রক্তের দাগ এখনো শুকোয়নি। খুনিদের গ্রেফতার ও খুনের রহস‍্য উন্মোচনে ব‍্যর্থ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রি বললেন, “সরকারের পক্ষে কারও বেডরুম পাহারা দেয়া সম্ভব নয়”। আর সেই প্রধানমন্ত্রির প্রীতি সম্মেলনে যোগ দিয়ে প্রীত হলেন উঁচুদরের সাংবাদিকরা! শুধু তাই নয় দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করার জন‍্য একটি রুলও জারি করা হয়েছে সাগর-রুনির হত‍্যাকান্ডকে ঘিরেই। তারপরও কী করে সাংবাদিকরা প্রধানমন্ত্রির গণভবনে গিয়ে আনন্দ করলেন, খুশি হলেন, প্রীত হলেন!
সাংবাদিকরাতো অন্ত:ত এটা বলতে পারতেন যে, “আগে সাগর-রুনির খুনিদের ধরুন, খুনের রহস‍্য উন্মোচন করুন, সাংবাদিকসহ দেশের মানুষের নিরাপত্তার ব‍্যবস্থা করুন, প্রধানমন্ত্রি আপনি আপনার বক্তব‍্য প্রত‍্যাহার করে জনগণের কাছে ক্ষমা চান, হাইকোর্ট সাংবাদিকতার ওপর যে রুল জারি করেছে তা প্রত‍্যাহার করুক। তারপরে আপনার গণভবনে গিয়ে আপনার (প্রধানমন্ত্রির) সঙ্গে আমরা সাক্ষাৎ করবো। আমরা ধন‍্য হবো, প্রীত হবো, আনন্দিত হবো।” একজন ক্ষুদে সংবাদকর্মী এবং সাগরের সাবেক একজন সহকর্মী হিসেবে (সাগর যখন সংবাদ’এ ঢাকায় আমি তখন রাজশাহী থেকে সংবাদ’ এ কাজ করি) আমি কী এই আবদারটুকু করতে পারি না?
আমরা জানি না, এই নামি দামি সাংবাদিকরা সহকর্মী সাংবাদিক সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনির হত‍্যা মামলার তদন্ত কার্যক্রমের বেহাল অবস্থা এবং খুনিদের গ্রেফতারে টালবাহানার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে কোন কিছু জিজ্ঞাসা করেছেন কিনা? সংবাদপত্রের রিপোর্ট পড়ে সেটা মনে হয়নি। সংবাদপত্রে প্রকাশিত রিপোর্ট মতে, উভয় রাজনৈতিক মতাদর্শের সাংবাদিকরাই গিয়েছিলেন গণভবনে। সেখানে গিয়ে হয়ত তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে বাংলার গান শুনে এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে, সাগর-রুনির খুনের বিষয়টি তাঁরা বেমালুম ভুলে গিয়েছিলেন!
শেখ হাসিনা ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের কালো রাতে বাবা-মা, ভাই ভাবিসহ পরিবারের ১৮ সদস‍্যকে হারিয়েছিলেন। বাংলাদেশ হারিয়েছিল জাতির জনককে। অনেকে বলে থাকে পিতা-মাতা বা স্শেবজন হারানোর বেদনা নাকি শেখ হাসিনার চেয়ে বাংলায় কেউ বেশি বোঝে না! কিন্তু যদি তাই হবে তাহলে কেন তিনি শিশু মাহির সরোয়ার মেঘ এর অবস্থাটা বুঝতে চাইছেন না। মেঘের যে মানসিক ট্রমা হলো তা কী কখনও কেউ সারাতে পারবে? মেঘেরতো নিকট বলতে আর কেউ রইলো না। হাসিনারতো তাও ছিলেন সন্তান, বোন ও স্বামী, যখন তিনি বাবা-মাকে হারিয়েছিলেন দুবর্ৃত্তদের দ্বারা। কিন্তু মেঘের যে কেউই রইলো না।
উঁচুতলার সাংবাদিক, সম্পাদক, সাংবাদিক নেতারা আপনারা প্রধানমন্ত্রির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রীত হোন, তাঁর গান শোনে মুগ্ধ হোন, গণভবনে বারবার যাবার সুযোগ নেন, অন‍্যান‍্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেন তাতে আমাদের, দেশের মানুষের কোন আপত্তি নেই। কিন্তু সাগর-রুনির খুনিদের যারা আঁড়াল করতে চাইবে খুনিদের গ্রেফতারে যারা অবহেলা করবে কিংবা যারা বলবেন, “কারও শয়নকক্ষ পাহারা দেয়া সম্ভব নয়” তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রীত হইলে কী আর সাগর-রুনির আত্মা শান্তি পাইবে, নাকি মেঘের মানসিক অবস্থার উন্নতি কিংবা সেজুঁতি-প্রণতি, পর্শিয়া-নাতাশা, অনিরুদ্ধ ও মেঘদের ভবিষ‍্যত ফরফরা হইবে? ছবিটি আমাদের সময় থেকে নেয়া।

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s