সাংবাদিক সাগর-রুনি হত‍্যাকান্ড : মেরুদন্ডহীন মিডিয়া আর নির্বাচিত স্বৈরতন্ত্র!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। আজকের লেখাটি হবে খুবই ছোট। এই লেখার শিরোনামটি এভাবেই দিতে চাই, “সাংবাদিক সাগর-রুনি হত‍্যাকান্ড : মেরুদন্ডহীন মিডিয়া আর নির্বাচিত স্বৈরতন্ত্র!” আশা করি বিজ্ঞ বিচক্ষণ পাঠক লেখার শিরোনামটির অন্তর্নিহিত কথাগুলি ইতোমধে‍্য বুঝে গেছেন। সাগর-রুনি হত‍্যামামলাটি কী শেষ পর্যন্ত হিমাগারেই বরফের শক্ত পাথরে পরিণত হয় কিনা তা নিয়েও সন্দেহ উঁকি মারছে! নাকি সরকার কোন একটি ঘটনা বা নাটক তৈরীর জন‍্য আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে নাটকটিকে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ‍্য করে তোলার মহড়া দিচ্ছে, তাও আমাদের জানা নেই। তবে একটা কিছু যে দেখানো হবে জনগণকে তাতে কারও কোন সন্দেহ থাকার কথা নয়। দেশে জেনারেল এরশাদের শাসন নেই, নেই মুক্তিযোদ্ধা-স্বাধীনতার ঘোষণাপাঠকারী (বিএনপিসমর্থকদের মতে স্বাধীনতার ঘোষণাকারি) ও পরবর্তীতে রাজাকারদের পুনর্বাসনকারি জেনারেল জিয়ার শাসন। মঈন উ আহমেদ ও ড. ফখরুদ্দীনের নেতৃত্বাধীন সেনাসমর্থিত সরকারও নেই আজকের বাংলাদেশে। দেশ শাসিত হচ্ছে গণতন্ত্রের “মানসকণ‍্যা” বলে প্রচারিত নেতার নেতৃত্বে, যিনি আবার জাতির জনকের তনয়াও বটে। তবুও গণমাধ‍্যমের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ! আমরা কী তবে নির্বাচিত স্বৈরতন্ত্রের শাসনের ভেতরে বসবাস করছি?
আমাদের দেশে স্বৈরাচার, স্বৈরাচারী সরকার কিংবা সেনাসমর্থিত সরকার সম্বন্ধে প্রায়ই সমালোচনায় মেতে ওঠেন সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী মহল। কিন্তু এই ব্রাম্ম শ্রেণী নির্বাচিত স্বৈরাচার কিংবা নির্বাচিত স্বৈরাচারি শাসনের বিরুদ্ধে মুখে কুলুপ এঁটে থাকে। আমার এই বক্তব‍্যটিকে আমি অবশ‍্যই সাধারণীকরণ করতে চাই না। অবশ‍্যই ব‍্যতিক্রম আছে। এই জটিল এবং কঠিন বিষয় নিয়ে কাঁচা চিন্তার উপলক্ষ সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর-রুনি হত‍্যাকান্ড। বিশ্বময় সাড়া জাগানো এই নৃশংস হত‍্যাকান্ড নিয়ে সবাই উদ্বিঘ্ন। কিন্তু কোন উদ্বিঘ্নতা নেই শুধু সরকারের।
সাগর-রুনি হত‍্যাকান্ড পরবর্তী পুলিশ-গোয়েন্দা কর্মকর্তা, পুলিশ প্রধান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি ও প্রধানমন্ত্রির বহুরুপী বক্তব‍্য এবং দেশের সর্বোচ্চ আদালতের জারি করা রুল আমাদের সামনে একটি জিজ্ঞাসা এনে দিয়েছে। নির্বাচিত সরকার কী সেনাসমর্থিত ও স্বৈরশাসকের চেয়েও বেশি স্বৈরাচারি হতে পারে? স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ কী কেবল স্বৈরশাসকরাই করে থাকে? নাকি কখনও কখনও নির্বাচিত তথাকথিত গণতান্ত্রিক সরকার স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর স্বৈরাচারের চেয়েও অধিক বেশি হস্তক্ষেপকারি হবার মতো নজির সৃষ্টি করে? এমনসব আরও নানান প্রশ্ন আজ বাংলার আকাশে বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে।
দুবর্ৃত্তদের হাতে নিহত সাগর-রুনির আত্মাও অবাক ও আশ্চযর্‍্য হচ্ছে খুনিদের গ্রেফতারে সরকারের ভূমিকায়! সরকার আদালতের ওপর বন্দুক রেখে সাগর-রুনির খুনিদের গ্রেফতার ও খুনের রহস‍্য উন্মোচনে সব ব‍্যর্থতাকে ঢেকে দিয়েছে। “আদালতের নির্দেশনা”র অজুহাতে সাংবাদিক সমাজও সাগর-রুনির খুনিদের গ্রেফতার ও খুনের রহস‍্য উন্মোচনে জনমত সৃষ্টি তথা সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করার দায়িত্ব থেকে সরে আসার সুযোগ পেয়েছে! আর খুনিরাতো মহা আনন্দের ঢোল বাজাচ্ছে। যন্ত্রণা আর কষ্ট শুধু ছোট্র মেঘ আর সাগর-রুনির পরিবারের সদস‍্যদেরই বইতে হচ্ছে।
আমাদের মিডিয়ার যদি মেরুদন্ড সোজা থাকতো তাহলে তারা অন্ত:ত সাগর-রুনি হত‍্যাকান্ডের ঘটনায় থেমে যেতো না। মিডিয়াতো অন্ত:তপক্ষে প্রতিদিন ধারাবাহিকভাবে সাগর-রুনির ওপর একটি খবর প্রকাশ করে খুনিদের বিপক্ষে একটা জোরালো ভূমিকা নিতে পারতো। কিন্তু তারা আদালতের রুলের নির্দেশনার অজুহাত দেখিয়ে একেবারেই চুপসে গেলো। কিন্তু কেন? সংবাদপত্রগুলিতো প্রতিদিন সাগর-রুনির ছবি দিয়ে একটি সিংগেল কলামে কয়েকলাইনের করে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করতে পারে।
“সাগর-রুনি হত‍্যাকান্ডের আজ এতদিন পার হলো। কিন্তু কোন খুনি ধরা পড়েনি। খুনের রহস‍্যও উন্মোচন করতে পারেনি পুলিশ বা তদন্তকারি সংস্থাগুলি। সাগর-রুনির পরিবার তাকিয়ে আছে ন‍্যায়বিচার পাবার প্রত‍্যাশায়। সাংবাদিক সমাজ ও দেশবাসি জানতে চায় এই খুনের রহস‍্য। দেশের মানুষ চায় নিরাপত্তা। সাংবাদিকরা চায় পেশাগত স্বাধীনতা আর স্বাভাবিক মৃতু‍্যর গ‍্যারান্টি বা নিশ্চয়তা।” উপরোল্লিখিত ছয়টি বাক‍্য লিখলে কি আদালত অবমাননার কোন বিষয় উত্থাপিত হবে? তাহলে সংবাদপত্রগুলি কেন চুপসে গেলো? তর্ের খাতিরে যদি ধরেও নিই যে দেশে আওয়ামী সমর্থক বুদ্ধিজীবী-সাংবাদিক, লেখক ও মিডিয়ার সংখ‍্যা বেশি। কিন্তু যে ক’টি বিরোধীশিবিরের মিডিয়া, বুদ্ধিজীবী-সাংবাদিক বা লেখক আছে তারা কী করে? তারাতো এই ছয়টি লাইন প্রতিদিন মিডিয়ায় তুলে ধরতে পারে। এই ছয়টি লাইনের একটিও আদালত অবমাননার পর্ডায়ে পড়বে না এটা আমরা হলফ করেই বলতে পারি।
আসলে সবাই প্রধানমন্ত্রির গণভবনের সংস্পর্শ কিংবা গণভবনে গিয়ে প্রীত হতে চান, বোধহয়! তাই সাগর-রুনির হত‍্যাকান্ডের খুনিদের রক্ষায় সবাই প‍্যাসিভ বা পরোক্ষ ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে হয়ত! মিডিয়াই বা কী করবে বলুন, সবারইতো আছে নিজ নিজ ব‍্যবসা! সাদাই বলি আর কালোই বলি, ব‍্যবসাকে টিকিয়ে রাখতে চাইলে আপোষতো করতেই হবে! সততা ছাড়া নির্ভিকতা থাকে না। স্বৈরাচার তো স্বৈরাচারই। সেটা নির্বাচিতই হোক আর সেনাছাউনির ভেতর থেকেই আসুক! কার্টুন এই ছবিটি নেয়া হয়েছে গুগল থেকে।

Advertisements

3 responses to “সাংবাদিক সাগর-রুনি হত‍্যাকান্ড : মেরুদন্ডহীন মিডিয়া আর নির্বাচিত স্বৈরতন্ত্র!

  1. are bhai kotha tu sob muche jabe,.
    bhule jabe sobai, kintu bhulbena tader chotto cheleti.

  2. Amar kono vasha nai. maje maje shudu nijer proti grena jome bangladeshi bole. amder ki kisui korar nai. tu tu dai bangladesher all politiciander.

  3. asoleto akhon dese kono sorker nai thakle ei doroner kotha pm bolte pare sorker karo bed room pahara debe ki, akhon ase sudu varoter mosahebi r bellela pona.
    thanks

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s