অবরুদ্ধ বাংলাদেশ ও সাগর-রুনির অসহায় পরিবার, বাবা-মা’র খুনিদের দেখতে রাজপথে শিশু মেঘ!

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। “অবরুদ্ধ বাংলাদেশ ও সাগর-রুনির অসহায় পরিবার, বাবা-মা’র খুনিদের দেখতে রাজপথে শিশু মেঘ!” আমার আজকের লেখার শিরোনাম এটি। প্রিয় বাবা-মা’র খুনিদের দেখতে রাজপথে নামলো শিশু মেঘ। সাগর-রুনির সহকর্মীরা খুনিদের গ্রেফতারের দাবিতে আজ রাজধানী ঢাকায় এক মানববন্ধনের আয়োজন করে। সেই মানববন্ধনে মাহির সরোয়ার মেঘও অংশ নেয়। ফেইসবুকে দেয়া একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে নিষ্পাপ এই শিশুটি পোস্টারে সাঁটানো প্রিয় মা-মাবার ছবির দিকে তাকিয়ে আছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া আপনারা ঝগড়া করছেন গদির জন‍্য। একই কারণে গোটা দেশকে আপনারা আজ অবরুদ্ধ করে ফেলেছেন। কিন্তু একটিবারও কী এই ছোট্র শিশুটির মুখের দিকে তাকিয়েছেন আপনারা। তার দিকে তাকালে আপনাদের হৃদয় কী একটুও নাড়া দেয় না? খুনিরা কী তবে রাষ্ট্রযন্ত্র, আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও সরকারের চাইতেও ক্ষমতাশালী? যে কারণে তাদের ধরা যাচ্ছে না বা ধরা হচ্ছে না!
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার এবং শেখ হাসিনার বুদ্ধি-পরামর্শদাতারাই সরকার পতনের জন‍্য যথেষ্ট! শেখ হাসিনা বা সরকারকে যে কারা বুদ্ধি দিচ্ছে বিরোধীদলের সমাবেশকে বাধাগ্রস্ত করার, তা বোঝা যাচ্ছে না! জনগণও সরকারের ওপর বিরক্ত হচ্ছেন। বিএনপির মহাসমাবেশের প্রচারণার দায়িত্ব যেন মাহবুব-উল হানিফই নিয়েছেন! না এটি আমার মূল‍্যায়ণ নয়। ঢাকায় মধ‍্যমসারির এক আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে টেলিফোনে কথা হলো। তিনিই ক্ষোভের সঙ্গে এই মন্তব‍্যটি করলেন। তার মূল‍্যায়ণ বিএনপির মহাসমাবেশকে ঘিরে সরকার যে পদক্ষেপগুলি নিয়েছে তার সবগুলির বেনিফিশিয়ারি হবে বিরোধীদলই।
বিএনপি মহাসমাবেশ ডেকেছে ঢাকায়। কিন্তু সরকারের নানান বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে পুরো বাংলাদেশই যেনই আজ অবরুদ্ধ হয়ে গেছে। বেড়েছে মানুষের দুর্ভোগ। দেশজুড়ে এক চরম আতংকাবস্থার সৃষ্টি করেছে প্রশাসন। নিরাপত্তা নিশ্চিত ও নাশকতামূলক কর্মকান্ড ঠেকানোর নামে পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর গণতল্লাশি আর গ্রেফতার ঘটনায় দেশের মানুষ চরমভাবে উদ্বিঘ্ন। দেশের প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনা নিজেও উদ্বেগ প্রকাশ করে বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দিকে ইঙ্গিত করে জানান, তিনি যে ছোবল মারবেন না তার নিশ্চয়তা কী?
বাংলাদেশের ইতিহাসে কোন রাজনৈতিক সমাবেশকে ঘিরে বাস, লঞ্চ বন্ধ এবং আবাসিক হোটেলে বোর্ডার নিবন্ধিকরণ নিষিদ্ধ করার ঘটনা এবারই প্রথম ঘটলো। এক সরকারি কর্মকর্তা যিনি বাংলাদেশ সচিবালয়ে কর্মরত বললেন দেশের অবস্থা এক ভয়ানক পরিস্থিতির দিকেই এগুচ্ছে। আরেকটি মঈন-ফখরুদ্দীনের সরকার আসবে না তা বলা যাচ্ছে না! রাজনৈতিক এই হ-য-ব-র-ল অবস্থার মধে‍্য সাংবাদিক সাগর-রুনির হত‍্যামামলা শেষ পর্যন্ত ধামাচাপাই পড়ে যাচ্ছে! সাগর-রুনির পরিবারের সদস‍্যরাও এখন হতাশ ন‍্যায়বিচার পাবার বিষয়ে। পুলিশ এখন সাগর-রুনির পরিকল্পিত হত‍্যাকান্ডটিকে পুরোপুরি চুরি বা ডাকাতির ঘটনা প্রমাণের দিকেই এগুচ্ছে।
পুলিশের দুই কর্মকর্তা কিছু স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে রুনির মা নুরুন্নাহার মির্জার বাসায় যান। সেখানে তারা সেগুলি রুনির কিনা তা জানতে চাইছে। এরমধ‍্য দিয়ে একটা বিষয় পরিস্কার যে সাগর-রুনির নৃশংস হত‍্যাকান্ডটিকে শেষ পর্যন্ত সরকার চুরি বা ডাকাতির ঘটনা বলেই চালিয়ে দেবে! তাই তারা খুনি শনাক্ত ও খুনের মোটিভ উদ্ধারে ইচ্ছাকৃত বিলম্ব করছে! অথচ হত‍্যাকান্ডের পরদিনই পুলিশ কর্মকর্তারা বুক ফুলিয়ে বলেছিল যে সাগর-রুনি হত‍্যাকান্ডের তদন্তে প্রণিধানযোগ‍্য অগ্রগতি হয়েছে। আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রিতো বলেছিলেন ৪৮ ঘন্টার মধে‍্যই খুনি ধরা পড়বে। তার সেই প্রতিশ্রুতি এখন আর ঘন্টা, দিন বা সপ্তাহের মধে‍্য সীমাবদ্ধ নেই অতিক্রম হতে চললো মাস। কিন্তু খুনি ধরা হলো না, খুনের রহস‍্যও রহস‍্যাবৃত করে রাখা হলো। খুনিরা ধরা না পড়ায় সাগর-রুনির পরিবার এখন অসহায়বোধ করছে। সাগর-রুনির মামলাটি ‘ধামাচাপা’ দেয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন রুনির মা নুরুন্নাহার মির্জা (সূত্র-বিডিনিউজ২৪)।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি আপনার ৪৮ ঘন্টা কবে পূর্ণ হবে, তা কী দেশবাসিকে জানাবেন? মেঘকে কী একটিবারের জন‍্যও নিজের সন্তানের মতো করে দেখতে পারছেন না? এখনও সময় ফুরোয়নি, সব বাধা ও প্রতিখূলতা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে নিজের বিবেবকে জাগিয়ে কালবিলম্ব না করে খুনের রহস‍্য উন্মোচন করুন। ছবিটি ফেইসবুক থেকে নেয়া। editor.eurobangla@yahoo.de

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s