সাগর-রুনি হত‍্যাকান্ড: কষ্ট আর যন্ত্রণা শুধু তাদেরই!

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। ১৮ মার্চ ঢাকায় সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত‍্যাকারিদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে সাংবাদিাকদের মহাসমাবেশ। ফেইসবুক ব‍্যবহারকারি কতিপয় বন্ধু একটি নওশের রোমান এবিষয়ে একটি পাবলিক ইভেন্ট স্টাটাস দিয়েছেন ফেইসবুকে। খন্দকার সোহেল নামে আরেক বন্ধু আমাকে সেই ইভেন্টে যোগদানের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এধরণের আমন্ত্রণ এর আগেও অন‍্য অনেক বন্ধু জানিয়েছেন বাংলাদেশ, জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশ থেকে। ব‍্যক্তিগত নানান সীমাবদ্ধতার কারণে (অর্থনৈতিকসহ) আমি কোন কর্মসূচীতেই যোগড় দিতে পারছি না। এজন‍্য আমার ভেতরে একটা অন্তর্জালা সৃষ্টি হয়েছে। হৃদয়ের এই ক্ষত আমাকে কষ্ট দেয়। কিন্তু আমি বড় অসহায়, নিরুপায়! আমার এই অপরাগতা আর অসহায়ত্বকে বন্ধুরা ক্ষমা কবেন কিনা জানি না, তবে ছোট্র মেঘ যে কোনদিনই আমাদের কাউকে ক্ষমা করতে পারবে না সেটা আমি নিশ্চিত করেই বলতে পারি। অবশ‍্য দেশে থাকলে এসব কর্মূচীতে অবশ‍্য অবশ‍্যই অংশ নিতাম। সেটাতো আর সম্ভব নয়, তাই মাঝে মাঝে ব্লক ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ‍্যমে ব‍্যক্তিগত মতামত ও প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দুধের সাধ ঘোলে মিটাচ্ছি আর কী?
আমি এটাও হলফ করে বলতে পারি ১৮ মার্চ ঢাকার সাংবাদিক মহাসমাবেশে সারাদেশ থেকে আগত সাংবাদিক বন্ধুরা, সাংবাদিক নেতৃত্ব জ্বালাময়ী বক্তৃতা করবেন। যেটা অতীতে সব সাংবাদিক হত‍্যাকান্ডের পরই আমরা দেখেছি। কিন্তু সেই বক্তৃতার দাপট বেশিদিন টেকসই হয় না। এবারও হয়ত ১৮ মার্চের পর সেরকমই কিছু ঘটবে। যদিও মনের ভেতরে একটা আশার আলো জ্বলেছে সাংবাদিকদের আপাতত: একটা ঐক‍্যপ্রয়াস দেখে। কিন্তু রাজনৈতিক অন্ধবিশ্বাস, সরকারি হালুয়া-রুটির ভাগ-বাটোয়ারা এবং মিডিয়াগুলির আপন ব‍্যবসাপাতির স্বার্থে হয়ত এই আপাত:চেষ্টা ১৮ মার্চের পরই নিভে যাবে। কষ্ট আর যন্ত্রণাটাতো কেবল মেঘ, সেজুঁতি-প্রণতি, পর্শিয়া, নাতাশা, নন্দা বউদি, সাজেদ ভাই কিংবা অনিরুদ্ধদেরই জীবনভর বয়ে বেড়াতে হবে।
যাহোক শ্রদ্ধেয় রোমান ভাই, সোহেল ভাই এবার আপনাদের উদে‍্যাগ ও আমন্ত্রণ প্রসঙ্গে লিখছি। প্লিজ আমাকে ভুল বুঝবেন না। ভাই আমি খুবই দু:খিত, ভিষণ লজ্জা পাচ্ছি। আমি সমাবেশে শারীরীক উপস্থিতি জানান দিতে পারবো না। তবুও আপনাদের ইভেন্টে ‘সম্ভবত’ তে ক্লিক করেছি আপনাদের কাছে আমার বার্তা ও ভখালোবাসা জানাতে। আমি অনেক দূর, বহুদূরে। তাই সমাবেশে মানসিক উপস্থিতি থাকবে। সাধুবাদ, ধন‍্যবাদ আপনারা ন‍্যায়বিচারের জন‍্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। আমি সবসময় কাঠখট্রা কথা বলি বা লিখি। তাই কেউই পছন্দ করে না আমাকে। আমি বলছি, মেঘ ন‍্যায়বিচার পাবে না! তার প্রমাণ সরকার ইতোমধে‍্যই দিয়েছে। নৃশংস এই খুনের এতোদিন পরও কেউ শনাক্ত হয়নি। উল্টো নানান নাটকের মহড়া চলেছে। পরিকল্পিত এই জোড়া খুনকে চুরি বা ডাকাতির ঘটনা সাজানোর মহড়া দেয়া হয়েছে। শুধুমাত্র খুনিদের আঁড়াল করতেই এসবের আয়োজন করেছে সরকার। প্রকৃতঅর্থে আগেও কোন সাংবাদিক হত‍্যার বিচার পাইনি আমরা। আসলে শুধু সাংবাদিক হত‍্যার বিচার চেয়েও লাভ নেই। সমাজ ও রাষ্ট্রে যদি আইনের শাসন থাকে, গণমাধ‍্যম স্বাধীন ও সোচ্চার থাকে, গণতন্ত্র চর্চিত হয় প্রকৃতঅর্থে তাহলে সবমানুষই ন‍্যায়বিচার পাবেন। কিন্তু সেটাতো আমাদের স্বদেশে আগামি এক হাজার বছরেও প্রতিষ্ঠিত হবে কিনা তা আমি বলতে পারবো না! তার মানে এই নয় যে আমি হতাশাবাদি। মায়ের ভূমিতে সব মানুষ নিরাপদে থাকলে ভিনদেশে থেকেও আনন্দিত হবো। একদিন, একমাস, একবছর, দুই বছর, দশবছর, পঞ্চাশবছর, একশবছর কিংবা হাজার বছর পরে হলেও বাংলাদেশ একদিন সব অন্ধকার ভেদ করে আলোর মুখ দেখাবে, এমনটাই প্রত‍্যাশা। ছবি ফেইসবুক থেকে নেয়া। ছবির এই ছোট্র শিশু আগামিদিনের ভবিষ‍্যৎ মাহির সরোয়ার মেঘ, তাকে কোন প্রিয় শান্তনায় বাবা-মার অভাব পূরণ করবো আমরা? এর জবাব হাসিনা, খালেদারা কী দিতে পারবেন কোনদিনও? editor.eurobangla@yahoo.de, http://www.eurobangla.org/

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s