সাংবাদিক সাগর-রুনি হত‍্যা: আদালত অবমাননা ও অভিশাপের আগুন!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। বারবার জানতে না চেয়ে আর রুল জারি না করে আদালতের নির্দেশকে যারা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে অবলিম্বে তাদের এবং তাদের পরিচালনাকারি রাজনৈতিক মুরুব্বিদের গ্রেফতার করা হোক। আর এই আদালত অবমাননাকারি রাষ্ট্রীয় কর্মচারিরা এবং তাদের পরিচালনাকারি গডফাদাররা গ্রেফতার হলেই সাংবাদিক সাগর-রুনির খুনিরা শনাক্ত হবে। নইলে জনগণের আশংকাই সত‍্য হবে শেষতক! মতামত ব‍্যক্ত করলে কিংবা কোন প্রতিবদেন লিখলে যেখানে আদালত অবমাননার বন্দুক তেড়ে আসে সেখানে আদালতের নির্দেশ অমান‍্যকারিদের বেলায় আদালতের এত মায়া কেন তা আমরা মুর্খরা বুঝি না।
সাংবাদিক সাগর-রুনির খুনিরা গ্রেফতার না হওয়ায় একটি এনজিও রিট আবেদন করে হাইকোর্টে। এরই প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি একটি রুল জারি করে। এ হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটন এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় খুনিদের বিচারের আওতায় আনার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না- তা জানতে চাওয়া হয় ওই রুলে। একইসঙ্গে হাইকোর্ট সাগর-রুনির হত‍্যাকান্ড বিষয়ে কোন “মনগড়া” রিপোর্ট প্রকাশ না করার অন্তরালের আদেশে গণমাধ‍্যমের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে। স্বরাষ্ট্র সচিব, তথ্য সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, র‌্যাবের মহাপরিচালক, ডিবির উপকমিশনার (দক্ষিণ) ও শেরেবাংলা থানার ওসিকে দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আদালতে প্রতিবেদন দেননি তারা।
আমরা জানি, পুলিশের আইজি এবং র‍্যাবের মহাপরিচালকসহ সরকারের ওপর হাইকোর্ট এর আগেও বহু রুল জারি করেছে। বিশেষ করে বিচার বহিভর্ূত হত‍্যাকান্ড বিষয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করার পর সংশ্লিষ্ট একটি বেঞ্চ ভেঙ্গে দেয়া হয়েছিল। ফলে সেই রুলের ভাগে‍্য কী ঘটেছে তা আজও রহস‍্যাবৃত! বিচার বহিভর্ূত হত‍্যাকান্ডও বন্ধ হয়নি এখনও। উপরন্তু গুপ্ত হত‍্যা, অপহরণ বেড়েছে। বৃহস্পতিবারের মধ্যে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তের অগ্রগতি ফের জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। যথাসময়ে আদালতের আদেশ পালন না করা কী আদালত অবমাননার শামিল নয়? আদালত অবমাননাকারি রাষ্ট্রীয় কর্মচারিদের বিরুদ্ধে আদালত আদালত অবমাননার অভিযোগে কোন কাংকর একশান নিচ্ছে না কেন সেটাই এখন জনগণের কাছে এক বড় প্রশ্ন।
এর আগে জারি করা অগণিত রুলের জবাব যেহেতু আজও মেলেনি। সর্বশেষ আদেশের জবাবও যে মিলবে না সেব‍্যাপারে জনগণ একশ ভাগ নিশ্চিত। জনগণ এটাও মনে করছেন যে আদালতের হস্তক্ষেপের কারণেই পুলিশ প্রশাসন ও সরকার সাগর-রুনি হত‍্যা মামলার তদন্ত বিলম্বিত করার সুযোগ পেয়েছে, একইসঙ্গে গণমাধ‍্যমকেও বসিয়ে দেয়া হয়েছে যাতে তারা সাগর-রুনির খুনের রহস‍্য ও খুনিদের মুখোশ উন্মোচনে কোন রিপোর্ট করতে না পারে!
গণতন্ত্রের পথ পরিস্কার করতেই গণমাধ‍্যমের স্বাধীনতা জরুরি। তাই গণমাধ‍্যমের ওপর হাইকোর্ট যে রুল জারি করে গণমাধ‍্যমের টুটি চেপে ধরেছে তা অবিলম্বে হাইকোর্ট প্রত‍্যাহার করে সাগর-রুনির হত‍্যাকারি ও খুনের রহস‍্য উন্মোচনে গণমাধ‍্যম যাতে সরকারকে সহযোগিতা করতে পারে সেই পথ আদালত দেখাবে বলে আমাদের বিশ্বাস। আদালত কোন সরকার বা রাজনৈতিক দলের তল্পিবাহকে পরিণত না হয়ে স্বাধীন ও মেরুদন্ডসম্পন্ন একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে এমন প্রত‍্যাশা জনগণ বুকে ধারণ করে আছেন। অন‍্য সব খুনের ন‍্যায় সাগর-রুনির খুনিরা পার পেয়ে গেলে কিংবা পুলিশ-সরকার আবার কোন জজমিয়া নাটক অথবা চুরি-ডাকাতির ঘটনা সাজিয়ে খুনিদের রক্ষার প্রচেষ্টা করলে ছোট্র শিশু মেঘের যন্ত্রণা ও কষ্ট থেকে যে অভিশাপের আগুন জ্বলবে তা কেউ নেভাতে পারবে না! সুতরাং সাধু সাবধান! ছবিটা ফেইসবুক থেকে নেয়া। সাগরে সাগর ও রুনি, এখন শুধুই স্মৃতি। editor.eurobangla@yahoo.de, http://www.eurobangla.org/

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s