আদালতে সাগর-রুনির নৃশংস হত‍্যাকান্ডের তদন্ত প্রতিবদেন।। আদালত সন্তুষ্ট কিনা জানতে চাই!

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ।। আদালতে নাকি সাগর-রুনি হত‍্যা মামলার অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে পুলিশ! রিপোর্টে কী বলা হয়েছে, তা জানা যায়নি। এই রিপোর্ট আলোতে আসবে কবে তা বলা মুশকিল। রিপোর্ট কোনদিনও জানা যাবে বলে আস্থা কারও আছে কিনা তাও বলতে পারি না। তবে এমন প্রত‍্যাশা বড়রকমের হতাশারই সৃষ্টি করবে, এর বেশি কিছু না। কারণ সেখানে কোন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতার বালাই নেই। সবকিছুই ব‍্যক্তি-গোষ্ঠী ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। যা দুবর্ৃত্ত রাজনীতি ও দুর্নীতির দ্বারা পরিচালিত। আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, কোন ঘটনার প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন মানেই পুরো ঘটনাটিকে অন্ধকার কবরে পাঠিয়ে দেয়া! সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনির হত‍্যাকান্ড নিয়ে যে তদন্ত তদন্ত খেলা শুরু হয়েছে তার শেষ কোথায় এমুহুতর্ে বলা কঠিন। শেষ পর্যন্ত তদন্তের নামে ঘটনার পুরো সত‍্যটাকে অন্ধকার কবর পাঠিয়ে দেয়া নয়তো? ১১ ফেব্রুয়ারি খুন হয়েছেন সাগর ও রুনি। আজ পর্যন্ত খুনির সন্ধান পায়নি পুলিশ বা সরকার। কাজেই জনমনে নানান প্রশ্ন আলোচিত হওয়াটা অবাস্তব কিছু নয়।
সাগর-রুনির খুনিরা কারা? মানুষের সামনে এখন অনেকগুলি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। খুনি ধরা সম্ভব হবে কিনা, খুনি ধরতে রাষ্ট্রের কোন হস্ত বাধার সৃষ্টি করছে কিনা কিংবা এই চাঞ্চল‍্যকর হত‍্যা মামলার তদন্তের অগ্রগতি সতি‍্য সতি‍্য প্রণিধানযোগ‍্য পর্যায়ে পৌঁছেছে কিনা ইত‍্যাদি আরও অনেক প্রশ্ন। আমরা আশা করবো পুলিশের তদন্ত রিপোর্টে উপরোল্লিখিত প্রশ্নগুলির উত্তর প্রদান করা হয়েছে। সাগর-রুনি হত‍্যা মামলা সংক্রান্ত কোন কথা বলা যাবে না, লেখা যাবে না। আদালত কেবলমাত্র একটা রুলের মাধ‍্যমে পুরো জাতির মুখ বন্ধ করে দিয়েছে। আগে আমরা শুনেছি সাগর-রুনি হত‍্যা মামলার তদন্ত বিষয়ে আদালত পুলিশ বা সরকারের ওপর খুবই সন্তুষ্ট! আমরা এখনও জানতে পারিনি যে, পুলিশের রিপোর্ট পাবার পর আদালত এখনও আগের মতোই সন্তুষ্ট কিনা?
আদালত কী দয়া করে জাতির সামনে বিষয়টি খোলাসা করবে? আমরা জানতে চাই আদালত এই প্রতিবেদনের ওপর সন্তুষ্ট কিনা। আমরা আরও দাবি করছি আদালত অবিলম্বে এই রিপোর্ট জনসম্মুখে প্রকাশ করুক। খুনিদের বিচার চাই না, শুধু জানতে চাই দেখতে চাই কারা এই দুবর্ৃত্ত? কোথায় তাদের খুঁটির জোর যারা আজও ধরা পড়ছে না। সাগর-রুনির খুনের কারণটাও কি জানার অধিকার নেই সাগর-রুনির পরিবারের? আদালত শিশু মেঘের কাছে কী জবাব দেয় সেটাই এখন দেখার পালা। আমরা অপেক্ষায় থাকলাম একটা ইতিবাচক খবর শোনার জন‍্য।
এই লেখাটি যখন লিখছিলাম তখন হঠাৎ করেই ফেইসবুকে দেশের একজন বিশিষ্ট সাংবাদিক আনু মোস্তফার একটা স্ট‍্যাটাস দেখলাম। এই সাংবাদিক বন্ধুটিও নানান অন‍্যায় অত‍্যাচার সহ‍্য করার পরও সাংবাদিকতার মহান আদর্শের পতাকা উড়িয়ে চলেছেন সাহসিকতার সঙ্গে। আমার স্পষ্ট মনে আছে রাজশাহীতে সাংবাদিক সফিকের ওপর র‍্যাবের নির্যাতন ও স্থানীয় সামাজিক আন্দোলনের নেতা জামাত খানকে র‍্যাবের হুমিকর ওপর আনু মোস্তফা একাধিক প্রতিবেদন লিখেছিলেন দৈনিক প্রথম আলোতে। এরপরই র‍্যাব-৫ নাখোশ হয় উনার ওপর। যার খেশারত ও চরম মূল‍্য দিতে হয় আনু মোস্তফাকে। শেষ পর্যন্ত তাকে দৈনিক প্রথম আলো থেকে সরে আসতে হয়, তিনি বাধ‍্য হয়েছিলেন। এবিষয়ে অন‍্য সময়ে আরও বিস্তারিত লিখার ইচ্ছা থাকলো। আনু মোস্তফা ফেইসবুকে লিখেছেন, “শুক্রবার সন্ধ্যায় চাপাইনবাবগঞ্জের মনাকষা গ্রাম থেকে দৈনিক আমাদের রাজশাহী পত্রিকার সাংবাদিক সফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ। স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেলো ক্ষমতাসীনদের একটি প্রভাবশালী অংশের প্রভাবে দায়ের করা একটি প্রতারণা মামলায় রাতারাতি আদালত থেকে ওয়ারেন্ট বের করে থানায় নিয়ে গিয়ে পুলিশকে দিয়ে সফিককে গ্রেপ্তার করানো হয়। দুর্ভাগ্যজনক হলো- সফিককে গ্রেপ্তারের সময় এলাকার সাংসদ ও সরকারের বিদ্যুত জ্বালানি ও খনিজ প্রতিমন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এনামুল হক এলাকাতেই অবস্থান করছিলেন।খুবই সাদাসিধে আচরণের সফিক একটি বেসরকারি কলেজের ইতিহাসের শিক্ষক। সফিকের প্রতিপক্ষরা প্রতিমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের অনেককেই আমি সফিকের বিষয়ে খোজ নিতে অনুরোধ করেছি ফোন করে কিন্তু তারা বলেছেন কিছুই করার নেই। এভাবে অত্যাচারের খড়গ সামলাতে অপারগ তৃণমুল সাংবাদিকরা কাজ করবে কীভাবে?”
ফেইসবুকে অন‍্য আরেকটি স্ট‍্যাটাস থেকে জানা গেলো বরিশালের খ‍্যাতিমান সাংবাদিক দৈনিক ইত্তেফাকের লিমন বাশারকে উদ্দেশ‍্য করে কটুক্তি করেছেন সরকারদলীয় নেতা অ‍্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন। কেবল চাঁপাইনবাবগঞ্জ বা বরিশালেই নয় সারাদেশেই সাংবাদিকরা নির্যাতিত-নিষ্পেষিত হচ্ছেন নানাভাবে। সাগর-রুনির খুনিরাতো গ্রেফতারই হলো না এখনও। একুশে টিভির ওপর সরকারের খড়ক! অন‍্য আরও কয়েকটি সংবাদপত্র ও টিভি চ‍্যানেলেও সৃষ্টি করা হয়েছে সংকট! সাংবাদিক, লেখকদের ওপর আদালত অবমাননার জুজুতো একটা মামুলি ব‍্যাপার। ঢাকা বিশ্বিবদ‍্যালয়ের আইনের অধ‍্যাপক আসিফ নজরুলকেতো রীতিমতো আদালতে তলব করা হয়েছে। যা বলার স্বাধীনতার সুষ্পষ্ট লংঘণ। অথচ সাংবাদিক বন্ধুরা নামকাওয়াস্তে গতানুগতিক রুটিন কর্মসূচীর মধে‍্যই চলে গেছেন। যা খুবই হতাশাজনক। শুধু হালুয়া-রুটি ও সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধাকে সামনে রেখে নয় গণমাধ‍্যমের স্বাধীনতা সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষ সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মানসিকতা থাকলে ঐক‍্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নামতে হবে। সাংবাদিক হত‍্যা-নিযর্াতনের সুবিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মাঠ ছাড়া যাবে না। নইলে যে গণতন্ত্রই থাকবে না। কথায় বলে না নাই মামার চেয়ে কানা মামাই ভালো। মুক্ত গণমাধ‍্যম ছাড়া গণতন্ত্র কল্পনাও করা যায় না। ছবি ফেইসবুক থেকে নেয়া।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s