সাগর-রুনির হত‍্যাকারিরা গ্রেফতার হয় না, এই স্বাধীনতা চাই না!

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ।। ৪০ বছর আগে আমরা স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছি। এখন আমরা পরাধীন জাতি নই। শোষণ, বঞ্চনা, বৈষম‍্য আর স্বৈরশাসনের জিঞ্জির ভাঙার সংগ্রামে বাঙালি বিজয় পেয়েছে। কিন্তু সতি‍্যকারের গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির স্বাদ পাননি বাংলার মানুষ। বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান দীর্ঘ লড়াই সংগ্রামের মধ‍্য দিয়ে বাংলাদেশকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। ২৬ মার্চ বাঙালির প্রাণের দিন, প্রিয় স্বাধীনতা দিবস। আমরা এখন পরাধিন নই। দেশে কোন পাকআর্মির হামলা, আক্রমণ নেই। কিন্তু তবু কেন আজও মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি মেলে না?
স্বাধীন বাংলায় মুক্তিযোদ্ধা রিকশা চালান। নিজামী-মুজাহিদদের গাড়িতে পতাকা উড়েছে, যারা যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত। সংসদ অচল হয়ে থাকে। সংসদে নেতা-নেত্রীরা অসভ‍্য ভাষায় কথা বলে। শিক্ষিত হোক আর অল্পশিক্ষিত দেশের প্রধানমন্ত্রি আরেক নেতা-নেত্রীর নামে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় বক্তৃতা দেন। বিনাবিচারে মানুষ নির্যাতন-হত‍্যার মতো অমানবিক কর্মকান্ডকে রাষ্ট্র মেনে নেয়। নারী আজও রাজপথে ইভিটিজংয়ের শিকার হয়ে লজ্জায় আত্মহননের পথ বেছে নেন। নারী নির্যাতন, যৌতুক ও নারী ধর্ষণ আজও হয়নি বন্ধ। অন‍্যায়ের প্রতিবাদ করায় শিক্ষক মিজানদের জীবন দিতে হয় দুবর্ৃত্তদের হাতে। সন্ত্রাসদমনের নামে রাষ্ট্রীয় বাহিনী গুলি করে পঙ্গু করে দেয় দরিদ্র স্কুল ছাত্র লিমনদেরকে। প্রগতিশীল, ডানপন্থি সব আমলেই ধর্মীয় সংখ‍্যালঘু ও আদিবাসির ভূমি ও সম্পদ হাতিয়ে নিতে এতটুকুও লজ্জা দেখায় না ক্ষমতাবানরা। এই সরকারের ক্ষমতাগ্রহণের তিন বছর পরও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ হয় না। দেশ ভরে গেছে যুদ্ধাপরাধী-রাজাকারদের প্রেতাত্মাদের দিয়ে। এখনো স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ বন্ধ করে দেয়া হয় সরকারি নানান প্রতিবন্ধকতা আর বাধা-ধরা নিয়মের মারপ‍্যাঁচে। হয় না বিচার সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতনের, সাধারণ মানুষের নেই কোন নিরাপত্তা।
দলে ও রাষ্ট্রক্ষমতায় গণতন্ত্রের নামে জিইয়ে রাখা হচ্ছে পরিবারতন্ত্র। একদিকে হাসিনা অন‍্যদিকে খালেদা, উত্তরসুরি হিসেবে জয় নয়তো তারেকের পেছনে ছুটছে দেশের রাজনীতি। রাজনীতিতে কালো টাকা আর কালো ব‍্যবসায়ীদের রমরমা প্রভাব সৎ ও ত‍্যাগি রাজনীতির কবর রচনা করছে নিরন্তর। দুইনেত্রী ও দুই পুত্রনির্ভর রাজনীতিতে ইচ্ছা এবং পছন্দ অপছন্দই বড় কথা। বাস্তবে গণতন্ত্র চর্চার কোন বালাই নেই। সংসদ আইন প্রণেতার পরিবর্তে হয়ে উঠছে ব‍্যবসায়িদের আড্ডাখানা! একদল আরেকদলের বিরুদ্ধে আনছে বিদেশ থেকে টাকা আনার অভিযোগ। বিডিআর সদর দফতর পিলখানায় মেধাবি সেনা কর্মকর্তাদের নির্মম হত‍্যাকাডের পর লাশ গণকবর কিংবা পানির লাইনে ভাসিয়ে দেয়া হয়। ঐতিহ‍্যবাহী বিডিআরের নাম বদল করে বিজিবি করা হয়। কিন্তু সেই পিলখঅনার গণহত‍্যার মূল নায়করা আজও জাতির সামনে অজানাই রয়ে গেছে।
ব‍্যক্তিগত ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব-ফ‍্যাসাদের কারণে মিথ‍্যা মামলায় বহু নিরীহ ও নিরপরাধ মানুষের আর্তনাদ বাংলার আকাশে-বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। যেখানে কোন রাজনৈতিক দলের নেতা বা কর্মী খুন হওয়ামাত্রই বিরোধীমতের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতারে চ‍্যাম্পিয়ন হবার প্রতিযোগিতায় নেমে যায় পুলিশ, র‍্যাব বা গোয়েন্দারা সেখানে সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর-রুনির খুনিদের গ্রেফতারে কেন এতো গড়িমসি তা জাতি জানতে পারেনি আজও। রাজধানী ঢাকার বুকে নিজ ভাড়া ফ্ল‍্যাটে নিজের শোবার ঘরেই খুন হলেন সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি। আদালতের হস্তক্ষেপ আর প্রধানমন্ত্রির বেডরুম পাহারা দেয়া সম্ভব নয় বক্তবে‍্যর কারণেই থেমে গেলো প্রণিধানযোগ‍্য অগ্রগতির ধারা। নিরাপদ কূটনীতিকপাড়ায় সৌদি কর্মকর্তা খালাফ হত‍্যায় কেউ গ্রেফতার হলো না আজও। সমাজের শিরায় শিরায় ঢুকে পড়েছে দুনর্ীতি আর অরাজকতা! মিডিয়া ও বিচারালয় স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে না। চারিদিকে রাজনৈতিক বিভক্তি আর দ্বন্দ্ব। নৈতিকতা আর ন‍্যায়বিচার যেন নির্বাসিত আজকের বাংলাদেশে! হাসিনার মহাজোট সরকার যে সরকার নিজেদের প্রগতিশীল বলে দাবি করে সেই সরকারও মৌলবাদি জুজুর ভয়ে কবি দাউদ হায়দার ও লেখক তসলিমা নাসরিনকে দেশে ফিরিয়ে নিতে পারে না বা চায় না!
এই দুনর্ীতি, নষ্টামী, অরাজকতা, অগণতান্ত্রিকতা, মানবাধিকার লংঘণ আর অবিচারের অতলতলে তলিয়ে হারিয়ে যাবার জন‍্য কী বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছিলেন বাংলার বীর সেনানীরা! এই স্বাধীনতার জন‍্যই কী দুই লাখ মা-বোনের সমভ্রমহানি আর ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছিলেন! এই বাংলাদেশ চাই না, এই স্বাধীনতা চাই না, চাই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ! যেখানে সাগর-রুনিদের নৃশংসভাবে নিহত হতে হবে না, মুক্তিযোদ্ধাকে ভিক্ষা করতে কিংবা রিকশা চালাতে হবে না, যে বাংলাদেশে হাসিনা-খালেদা পরস্পরের বিরুদ্ধে মিথ‍্যাচার আর গালমন্দ না করে ঐক‍্যবদ্ধ হয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে গণতন্ত্র ও সহিষ্ণুতার প্রতি আস্থাশীল এবং মনেপ্রাণে গণতন্ত্র ও সহনশীলতার চর্চা করবেন, যে বাংলাদেশে থাকবে না কোন দুর্নীতি, বৈষম‍্য, নারী নির্যাতন আর দারিদ্রতা। একটি সুন্দর-সুখী ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি আমরা সববাই। কবে যে সেই স্বপ্ন বাস্তবে ধরা দেবে বাংলার মানুষের হাতে? ছবি ফেইসবুক থেকে নেয়া।

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s