সাগর-রুনি দম্পত্তির খুনিদের ধরতে পুলিশ কেন তৎপর নয়।। কে এই ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার দম্পত্তি রিফাত-তুষার?


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ।। সাংবাদিক সাগর-রুনির হত‍্যামামলার বিষয়ে পুলিশ শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে শুধুমাত্র সন্দেহভাজন কোন খুনিকে গ্রেফতার করবে না। পুলিশ এই তত্ত্বটা বারবার দেশবাসিকে জানানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু অন‍্যসব ঘটনায় দেশবাসি দেখছেন পুরো উল্টো চিত্র। কখনও আবার কাউকে থানায় আটক করে নিয়ে যাবার পর মামলা রেকর্ড করা হয়। ছিনতাই করার পর জনতার ধাওয়া খেয়ে নদীতে লাফিয়ে পড়ে মারা গেলেও মামলা হয় যার টাকা-পয়সা ছিনতাই হলো তারই নামে! গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়াই মিথ‍্যা ও হয়রাণিমূলক মামলায় কত নিরীহ-নিরপরাধ মানুষকে আটক করা হচ্ছে তার কী কোন হিসাব দেয়া যায়? থানা-পুলিশের কাছে কেউ কোন অভিযোগ করামাত্রই পুলিশ ঘটনার তদন্ত, পারিপার্শ্বিক অবস্থা, বিচার-বিশ্লেষণ ও পর্যবেক্ষণ ছাড়াই অভিযোগ আমলে নেয়। শুধু তাই নয় মামলা রেকডর্ না করেই পুলিশ শুরু করে গ্রেফতার অভিযান। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী বাংলাদেশে কোন নারী গ্রেফতার করার সময় সঙ্গে অন্তত: নারী পুলিশ থাকতে হয়। কিন্তু সেখানে সেরকম কোন রীতি-নীতি মানার কোন লক্ষণই নেই বাস্তবে। দেশটা যেন একটা মগের মুল্লুক! ব‍্যক্তি ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপরই চলে সবকিছু, আইন-কানুন, রীতি-নীতি, সংবিধান, ব‍্যক্তি স্বাধীনতা-অধিকার, মৌলিক মানবাধিকার কোনটাই অনুসরণ করা হয় না সেখানে।
ছোট একটি উদাহরণমূলক (কাল্পনিক) গল্প বলতে চাই আপনাদের কাছে। ধরুন কোন এক নারী “এক্স আলো” কার্যালয়ে গেলেন। উদ্দেশ‍্য সম্পাদক ওয়াই রহমান এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করা। সন্ধ‍্যা সোয়া ছয়টায় ঢাকার এক্স আলো কার্যালয়ে সেই নারী গেলেন। তখন সম্পাদক সাহেব নিজ কার্যালয়েই ছিলেন। লেখালেখি বিষয়ে সম্পাদক সাহেবের সঙ্গে আলোচনা শুরু হলো। এসময় সেখানে এক্স আলো কার্যালয়ের সম্পাদকের অধীনস্থ আরও বেশ ক’জন উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার এক পর্যায়ে ওই নারী টয়লেটে গেলেন। টয়লেট থেকে ফিরে এসে তিনি জানালেন এখানে আমার একটা ব‍্যাগ ছিল। ব‍্যাগটা গেলো কোখায়? ব‍্যাগের মধে‍্য সোহনা-গহনা ও নগদ টাকা, মোবাইল এবং ক‍্যামেরা আছে! সম্পাদক রহমান এবং অন‍্যান‍্য সহকর্মী এবং অধীনস্ত সহকর্মী সকলেই হতবাক। এক্স আলো কার্যালয় থেকে সেই নারী বেরিয়ে গেলেন। এরপর থানায় অভিযোগ। মৌখিক অভিযোগ পেয়েই “করিৎকর্মা” পুলিশ রাত আটটার দিকে চলে এলো এক্স আলো কার্যালয়ে। কোন কোর্ট অর্ডার, গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়াই পুলিশ এক্স আলো কার্যালয় তল্লাশি চালালো সেই কথিত স্বর্ণভতির্ ব‍্যাগের খোঁজে। কিন্তু ব‍্যাগ মিললো না। এরপর পুলিশ সম্পাদকসহ আরও চারজনকে ধরে নিয়ে গেলো থানায়। থানার ভেতরে পুলিশ সম্পাদক সাহেবকে এই বলে প্রস্তাব দিলেন যে অভিযোগকারিনীর সঙ্গে “সমঝোতা” করে নেন। পুলিশ কর্মকর্তা ইশারা-ইঙ্গিতে বোঝাতে চাইলো যে টাকা লাখ খানেক টাকা দিয়ে বিষয়টার সমঝোতা করে নেন। পুলিশ কর্মকর্তা আরও বললো, আমরা এখনও মামলা রেকর্ড করিনি। আপনারা সমঝোতা করে নেন। সম্পাদক সাহেব বললেন কিসের সমঝোতা, আমরাতো কোন ব‍্যাগ চুরি করিনি। আসলে অভিযোগকারিনী সাথে কোন ব‍্যাগ নিয়ে গিয়েছিলেন কিনা সেটাই সন্দেহ! মিথ‍্যা হয়রাণিমূলক অভিযোগ আর অন‍্যায় আবদারের কাছে সম্পাদক মাথানত করতে চাইলেন না। অভশেষে রাত সোয়া ১১টার দিকে সম্পাদকসহ অন‍্য চারজন সহকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করলো পুলিশ। মামলার কথিত অভিযোগে বলা হয় সেই নারীর ব‍্যাগে ২৫ ভরি স্বর্ণ ছিল। অভিযোগকারিনীর নাক, কান, গলা ও হাতেও স্বর্ণালংকার পরা ছিল বটে! গল্পটা এখানেই শেষ।
এখন প্রশ্ন হলো বাংলাদেশের যে সমাজ বাস্তবতা তাতে সাধারণ কোন নারী ২৫ ভরি সোনাসমেত ব‍্যাগ নিয়ে যেখানে সেখানে যাতায়াত করবেন তা কী বাংলাদেশে বসবাসরত কারও পক্ষে বিশ্বাসযোগ‍্য কিনা? দেশের প্রধানমন্ত্রি, সাবেক প্রধানমন্ত্রি বা সমাজের অন‍্য নামী-দামী নারীরাও অতিরিক্ত (শরীরের স্বর্ণালংকার বাদে) ২৫ ভরি সোনার ব‍্যাগ নিয়ে কোথাও যাতায়াত করে বলে মনে হয় না। যাহোক উপরোল্লিখিত ঘটনাটিকে কাল্পনিক বলেছি বটে। কিন্তু এমনই এক অবিশ্বাস‍্য ঘটনার জন্ম দিয়েছেন জনৈকা রিফাত মাহজাবিন। উপরের গল্পটির হুবহু চিত্রায়িত করেছেন তিনি তার অভিযোগে। তবে ঘটনার অভিযুক্ত চরিত্র আর পেশা কেবল ভিন্ন। যে ঘটনার একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে ঢাকার কাওরানবাজারস্থ বহুল প্রচারিত প্রথম আলো।
ঢাকার ধানমন্ডির একটি জনপ্রিয় অভিজাত সেলুন “হেয়ারোবিক্স ব্রাইডল” এ এমন একটি কাল্পনিক ডাহা মিথ‍্যা অভিযোগের জন্ম দিয়েছেন নর্থসাউথইউনিভার্সিটির ছাত্রী পরিচয়দানকারি জনৈকা রিফাত মাহজাবিন এবং তার স্বামী “মাইন্ডশেয়ারওয়াল্ড” নামে একটি সংস্থায় কর্মরত জনৈক শরিফুল ইসলাম তুষার। “হেয়ারোবিক্স ব্রাইডল” এর বিউটি কনসালটেন্ট মিউনি প্রায় দুই দশক ধরে অত‍্যন্ত সুনাম আর সততার সাথে এই প্রতিষ্ঠানটি পিরচালনা করে আসছেন। এই দীঘর্ সময়ে কখনও এমন অভিযোগ ওঠেনি এই প্রতিষ্ঠানে বা প্রতিষ্ঠানের কারও বিরুদ্ধে। কিন্তু গত ২২ মার্চ সন্ধ‍্যায় ঢাকার শের-ই বাংলানগর সোবহানবাগ তল্লাবাগ (১৬/২) এবং বাসা-৩৪, সড়ক-৬ পিসিকালচার হাউজিং, শেখেরটেক আদাবর ঠিকানার (এই দুই ঠিকানা তারা ব‍্যবহার করেছেন এজাহারে) রিফাত ও তার স্বামী তুষার “হেয়ারোবিক্স ব্রাইডল” এর সুনাম ও এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গ জড়িতদের মর্যাদায় আঘাত করেছেন। কিন্তু কেন, কী তাদের উদ্দেশ‍্য? কে এই দম্পত্তি রিফাত ও তুষার? তারা কী তবে কোন প্রতারকচক্র বা দলের সদস‍্য?
সমাজের উঁচুস্তরের কিংবা টাকাওয়ালা ব‍্যবসায়ীদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে মোটা অংকের টাকা কামানোর কোন ধান্দা বা মতলব তাদের ছিল কিনা তা নিয়েও সন্দেহ করার মতো যথেষ্ট কারণ আছে! পুলিশ রাতে এই প্রতিষ্ঠানের নারী সদস‍্যদের গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যাচ্ছে অথচ কোন নারী পুলিশ সেই তল্লাশি বা গ্রেফতার অভিযানে অন্তভর্ূক্ত করা হয়নি কেন-এই প্রশ্নটিও করা বোধহয় অসমীচীন হবে না? এজাহারের বর্ণনা আর পারিপাশ্বর্িক অবস্থাদি বিবেচনায় যেকান বিচক্ষণ ব‍্যক্তিমাত্রই বুঝতে পারবেন যে এই দম্পত্তির অভিযোগটা কতটা অসাঢ়, মিথ‍্যা ও কাল্পনিক! আর পুলিশই বা কেন এত তৎপর হয়ে উঠলো অভিযোগ পাওয়া মাত্রই? ঘটনার পর পুলিশ “হেয়ারোবিক্স ব্রাইডল” তন্ন তন্ন করে তল্লাশি করলো, কিছুই পেলো না। পুলিশের মাথায় এমন প্রশ্নই বা আসলো না কেন যে আজকের দিনে মানুষ ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার ব‍্যাগে নিয়ে ঘুরে বেড়ায় কী? পুলিশ যখন কোন অবাস্তব অভিযোগের ভিত্তিতেই কোন প্রতিষ্ঠানের একঝাঁক নারী সদস‍্যকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় কোনরকমের তদন্ত ছাড়াই সেখানে টিভি সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর ও রুনির খুনিদের গ্রেফতারে প্রশাসন কেন শতভাগ নিশ্চয়তার কথা বলছে তা বোধগম‍্য নয়! সমাজে ন‍্যায়বিচার, আইনের শাসন ও গণতন্ত্রের শক্ত ভিত প্রতিষ্ঠা করা না গেলে হত‍্যা-খুন, প্রতারণা, মিথ‍্যাচার, দুর্নীতি বন্ধ করার কথা স্বপ্নেও ভাবা যায় না! ছবি ফেইসবুক থেকে নেয়া।

Advertisements

One response to “সাগর-রুনি দম্পত্তির খুনিদের ধরতে পুলিশ কেন তৎপর নয়।। কে এই ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার দম্পত্তি রিফাত-তুষার?

  1. banglar pulish sob janay ,sorkarar lok jorito tai ………………..khamotar loraiaa sotto ajj didha dandito,,,,,,,,,,,,,,,,,,

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s