সাগর-রুনির খুনি ধরে না, বিচারবহিভর্ূত হত‍্যাকান্ড-নির্যাতন থামে না।। র‍্যাবকে থামাবে কে, আল্লাহ-ভগবান নাকি সৃষ্টিকর্তা?

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ।। র‍্যাব এবার পেটালো একজন বিশ্বিবদ‍্যালয়ের শিক্ষককে। এর আগে চট্রগ্রামে কোটি টাকার ডাকাতির ঘটনার সঙ্গেও র‍্যাব জড়িয়ে পড়ে। এই ডাকাতি কোন সাধারণ ঘটনা নয়। ধর্মীয় একটি প্রতিষ্ঠানের এই টাকা ডাকাতির মাধ‍্যমে লুটে নেয় র‍্যাব। আর এই অভিযানে নেতৃত্ব দেয় র‍্যাবের একজন কমান্ডার। চাঞ্চল‍্যকর ও সাড়া সাজানো এই ডাকাতির ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সরকার অবশ‍্য আইনগত ব‍্যবস্থা নিবে বলে বলা হচ্ছে। র‍্যাব দেশজুড়ে কত বন্দুকযুদ্ধ করছে তথাকথিত সন্ত্রাসীদের সঙ্গে। অথচ তারা কখনও সন্ত্রাসীদের স্রষ্টা ও গডফাদারদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে লিপ্ত হয় না। আজঅবধি জঙ্গিবাদী ডান সন্ত্রাসীদের কেউ বন্দুকযুদ্ধে হত! হয়েছে বলে খবর নেই আমাদের কাছে। তারা কেবল বন্দুকযুদ্ধ করে বামপন্থি নামধারী সন্ত্রাসীদের সঙ্গে। র‍্যাব সাংবাদিক মাসুমকে মারে, কলেজছাত্র লিমনকে পঙ্গু করে, বিশ্বিদ‍্যালয়ের শিক্ষকে পেটায়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কোটি কোটি টাকা লুটে নেয়, ডাকাতি, চাঁদাবাজিও করছে মাঝে-মধে‍্য। তারা কেবল সাগর-রুনির খুনিদের ধরে না। র‍্যাব হেলিকপ্টার পায়, উচ্চ বেতন-ভাতা পাচ্ছে। যার সবই জনগণের রক্ত-ঘাম ঝরানো অর্থ। সেই জনগণকেই আবার তারা মারে।
সংবিধানে মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা আছে। কেউ কাউকে নির্যাতনতো দূরের কথা মুখেও কটুক্তি করা যাবে না বলে সংবিধান স্পষ্ট ভাষায় লিখে রেখেছে। কেউ সন্ত্রাস করলে তাকে বিচার ছাড়াই মারা জায়েজ এমন কথাও সংবিধানের কোথাও লেখা নেই। তবুও এই অমানবিকতা, বর্বরতা চলছে সবার চোখের সামনেই। দেশে আছে বড় বড় নামকরা স্বনামধন‍্য আইনজীবী, ব‍্যারিষ্টার, সাংবাদিক, লেখক, বুদ্ধিজীবি আছেন যাদের অনেকেই দেশ-বিদেশে মানবাধিকার নিয়ে কথা বলতে বলতে মুখে লালা পর্যন্ত বের করে ফেলেন। অথচ কেউই তারা সংগঠিতআকারে বিনাবিচারে মানুষমারার নিলর্জ্জ রাষ্ট্রীয় নিমর্মতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়নি (ব‍্যতিক্রম দু’একজন ছাড়া)। মায়ের দেশ যেন এক বর্বর, জংলি, অসভ‍্য, অমানবিকতার পথে হাঁটছে!
খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন খালেদা-নিজামীর চারদলীয় জোট সরকার সন্ত্রাস দমনে ব‍্যথর্ হয়ে গঠন করে একটি প‍্যারামিলিটারি ফোর্স বা বাহিনী। সেই ফোর্স এলিট ফোসর্ নামে পরিচিত। ২০০৪ সালের মহান স্বাধীনতা দিবসে যাত্রা শুরু করে এই বিশেষ বাহিনী। সন্ত্রাস দমনের অঙ্গিকার ও শপথ নিয়ে মাঠে নামলেও নিজেই এই বাহিনী জনগণের কাছে একটি ভয়ংকর এক আতংকে পরিণত হয়েছে। জন্মের পর থেকে বিরামহীনভাবে মানুষ হত‍্যা ও নির্যাতন করে চলেছে বাহিনীটি। তৎকালিন প্রধানমন্ত্রি খালেদা ও তার সরকার গঠন করে এই বাহিনী। ওইসময়কার বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা দেশে-বিদেশে এই বিশেষ বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লংঘণের অভিযোগ করতে থাকেন। সেনানিয়ন্ত্রিত সরকারের অধীনে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচনের আগে দেয়া প্রতিশ্রুতিতে হাসিনা বলেছিলেন তার দল ক্ষমতায় গেলে এই বিচারবহিভর্ূত হত‍্যাকান্ড বন্ধ করবে। ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে ক্ষমতা নেয়ার পরও তিনি দেশে-বিদেশে বারংবার এই প্রতিশ্রুতির কথা উচ্চারণ করেন। কিন্তু দুর্ভাগ‍্যজনক হলেও সত‍্য তার তিনি এবং তার মন্ত্রিপরিষদ প্রতক্ষ এবং পরোক্ষভাবে বিচারবহিভর্ূত হত‍্যা-নির্য়াতনের পক্ষ নেন। অজুহাত দেয়া হয় র‍্যাব ভালো মানুষকে মারছে না! খোড়া অজুহাত যা জনগণ কখনও বিশ্বাস করেন না, করবেনও না। কারণ জনগণ জানেন সন্ত্রাসদমনের নামে মিথ‍্যা রাষ্ট্রীয় বিবৃতির মাধ‍্যমে শত শত নিরীহ ও নিরপরাধ মানুষও র‍্যাবের বিচারবহিভর্ূত হত‍্যা-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
মির্জা আব্বাসদের সরকার র‍্যাব গঠন করে। সেই র‍্যাব মির্জা আব্বাসের বাড়িতে ঢুকে নারী-পুরুষ সবাইকে গণহারে পেটায়। নিয়তির কী নিষ্ঠুর উপহাস! ইসলামী বিশ্ববিদ‍্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে র‍্যাব তুলে নিয়ে যাবার পর তারা আজও নিখোঁজ। বিএনপি নেতা চৌধুরী আলমকেও র‍্যাব তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ আছে। তিনি আজও ফেরেননি। তার ভাগে‍্য কী ঘটেছে তা কেউ বলতে পারছে না। “র‌্যাব কী করতে পারে তা তো জানেন” বলেই র‍্যাব সদস‍্যরা ঢাকা বিশ্বিবদ‍্যালয়ের ফিন‍্যান্স বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ সাইফুদ্দীন খানের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। গত ২৮ মার্চ সন্ধ‍্যায় ঘটে এই নিষ্ঠুর ঘটনাটি। তিনি এখন ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আমরা এটা নির্দ্বিধায় বলতে পারি যে হাসিনা, খালেদা উভয় নেত্রীরই সায় আছে বিচার বহিভর্ূত হত‍্যা-নির্যাতনের পক্ষে! তানাহলে এই মানবাধিকার লংঘণকারি কার্যটি বিনাবাধায় দীর্ঘ নয়টি বছর যাবৎ চালাতে সাহস পেতো না র‍্যাব। বিচার বহিভর্ূত হত‍্যা-নির্যাতনের প্রশ্নে হাসিনা-খালেদা উভয়ই সংবিধান লংঘণকারি। এটা আমরা নিশ্চয়ই বলতে পারি। আর বিচারকদের অনেকেই রাজনৈতিকভাবে পদ-পদবি প্রাপ্তির আশায় থাকার কারণে বিচারালয়ও মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারে না বলে অনেকেই মনে করেন। মিডিয়াও কম দায়ি নয় এই অমানবিকতাকে সামনে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে। কারণ মিডিয়া র‍্যাবের বক্তব‍্যই দেশবাসিকে জোর-জবরদস্তি করে খাওয়াচ্ছে।
ঝালকাঠির কলেজ ছাত্র লিমন হোসেন (১৭) এর কথা কার মনে নেই। গোটা দেশ তোলপাড় হয়েছিল র‍্যাব যখন এই দরিদ্র কলেজ ছাত্রকে গুলি করে পঙ্গু করে দেয়। ২০১১ সালের ২২ মার্চ র‍্যাব তার পায়ে গুলি করে। লিমনকে র‍্যাব সন্ত্রাসী বলে একটি অস্ত্র মামলায় অভিযুক্ত করে। যে মামলায় নিয়মিত হাজিরা দিচ্ছে লিমন। কিন্তু লিমনের মায়ের করা র‌্যাবের বিরুদ্ধে মামলা আজও আলোতে আসেনি। একই অবস্থা রাজশাহীর ওয়ার্কাস পার্টির নেতা মজনু শেখ হত‍্যা মামলারও। সেই মামলাটি প্রায় ৫ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি। এই হলো পুলিশ, আইন-আদালতের অবস্থা। চারিদিকে কেবল অন‍্যায‍্যতা, অন‍্যায‍্যতা, অবিচার, অবিচার আর হতাশা। কোথাও আশাজাগানি কোন আলো চোখে পড়ে না। র‍্যাব প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত নয় বছরে বিভিন্ন অভিযোগে এক লক্ষের অধিক মানুষকে গ্রেফতার করে। তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধ, ক্রসফায়ার ও এনকাউন্টারের নামে এক হাজারের অধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। বেসরকারি হিসাবে এই সংখ‍্যা বহুগুণ বেশি। বিচারবহিভর্ূত হত‍্যা-নির্যাতনের বাইরেও র‍্যাবের বিরুদ্ধে এখন গুম, গুপ্তহত‍্যা, চাঁদাবাজি, ডাকাতি এমনকি ছিনতাইয়ের মতো গুরুতর অভিযোগগুলিও আসছে। অনেকে এমন মন্তব‍্য করে বলেছেন যে, র‍্যাব এখন পুলিশের চেয়েও বড় ঘুষখোর! আবার সুযোগ-সুবিধাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রেও র‍্যাব পুলিশের চেয়ে অনেক উপরে।
২০০৭ সালে বিনা কারণে র‍্যাব আমাকে আমার ভাড়া বাসা থেকে গভীর রাতে ধরে নিয়ে যায়। তার জ্বলন্ত সাক্ষী সেই বাড়িওয়ালা এবং বাড়িওয়ালার ছেলে ও পরিবার। আমাকে ধরতে গিয়ে র‍্যাবের গুন্ডারা বাড়িওয়ালার ছেলে লিখনকেও মারধোর করে। তার অপরাধ কিছুই ছিল না। তিনি শুধু জানতে চেয়েছিলেন এই বলে যে এতোরাতে আপনারা সিভিল পোশাকে কেন এসেছেন? সেটা ভিন্ন প্রসঙ্গ। (এবিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারবেন এই লিংকটাতে-http://www.eurobangla.org/?p=1673)। এছাড়া আমেরিকা থেকে প্রকাশিত আমার নিজের লেখা বই “পেইন” (ব‍্যথা) বইতেও বিস্তারিত পাওয়া যাবে। বইটি অনলাইন বুকশপসগুলিতে পাওয়া যাচ্ছে। সেদিন অনেকগুলি পত্রিকা মিথ‍্যা খবর ছেপেছিল। তারা লিখেছিল আমাকে নাকি রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজারে গভীর রাতে সন্দেহজনকভাবে চলাফেরা করার সময় গ্রেফতার করে র‍্যাব! দেশের মানুষ সবাই বুঝতে পারেন যে বন্দুকযুদ্ধ বা অন‍্যান‍্য অজুহাতে মানুষ হত‍্যা ও নির্যাতেনর সব ঘটনাগুলির পরই র‍্যাব যেসব বিবৃতি দেয় তার শতভাগ মিথ‍্যা! মিডিয়াও যে এই সত‍্যটা বোঝে না তা বলা যাবে না। কিন্তু মিডিয়া যেন মেরুদন্ডহীন হয়ে পড়েছে!
মিডিয়া যেন একটা তোতাপাখি। র‍্যাব বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী যে কাল্পনিক ও আজগুবি তথ‍্য দেয় বিচারবহিভর্ূত হত‍্যাকান্ড বা নির্যাতনের বিষয়ে সেগুলির কোন তথ‍্যানুসন্ধান না করেই মিডিয়ায় প্রকাশ-প্রচার করে দেয়। সেইসব মিডিয়ার সম্পাদক, সাংবাদিকদের অনেকেই আবার সভা-সমাবেশে মিডিয়াকে “গণমাধ‍্যম”, “জনগনের বন্ধু” ইত‍্যাদি বলে আখ‍্যা দেয়। ছি, আমার লজ্জা লাগে এমন কথা শুনলে। স্বদেশে মিডিয়াতো আসলে প্রকৃতঅর্থে গণমাধ‍্যম হয়ে উঠতে পারেনি প্রকৃতপক্ষে! এই দেখুন না সাগর-রুনির নিষ্ঠুর হত‍্যাকান্ডটিও বাংলাদেশের মিডিয়া ভুলে যেতে বসেছে। সেখানে মিডিয়া যে আসলে পুঁজিবাদ, নিজ ব‍্যবসাস্বার্থ আর ক্ষমতার তল্পিবাহকের ভূমিকাই পালন করে যাচ্ছে। নইলে দেশে আইন, আদালত, সংবিধান থাকতেও বিনাবিচারে পাখি মারার মতো করে মানুষ মারা হচ্ছে। আর মিডিয়া সেই হত‍্যাকান্ডের নির্যাতনের উৎসব উপভোগ করছে মাত্র (হাতে গোনা দু’একটি ব‍্যতিক্রম ছাড়া)।
জেল থেকে ছাড়া পাবার পর আমার পরিবারের (দুই দিকের অথর্াৎ শ্বশুরবাড়ি এবং নিজ ভাই-বোনদের তরফ থেকে) পক্ষ থেকে আমার প্রতি প্রথম শর্ত হলো শতভাগ সত‍্য হলেও র‍্যাব সংক্রান্ত কোন বিষয়ে কিছুই লেখা যাবে না। আমি বললাম এটাতো আমার পেশাগত ব‍্যাপার। আমার একটা ব‍্যক্তিস্বাধীনতাওতো আছে। তাহলে কেন আপনারা আমাকে সাংবাদিকতার মহান ব্রত সত‍্য প্রকাশে বাধা দিচ্ছেন? সত‍্য কি কখনও বিপদজনক হতে পারে? উনাদের প্রতি আমার আরও অনেক প্রশ্ন ছিল। পরিবারের সদস‍্যদের একটাই কথা তুমি (মানে আমি) একটি শব্দও লিখতে পারবে না র‍্যাব বিষয় নিয়ে। পরিবারের পক্ষ থেকে দ্বিতীয় শর্তটি ছিল আরও নির্মম। তারা আমাকে সাফ জানিয়ে দিলেন এরপরও যদি তুমি র‍্যাব নিয়ে কোন কথা বলছো বা রিপোর্ট করছো তাহলে তোমার সঙ্গে আমাদের সব সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। এই শর্তটি নিষ্ঠুর হলেও আমার পরিস্কারভাবে পরিবারের কাছে জানিয়ে দিলাম আমার কোর সিদ্ধান্তের কথা। আমি বলি সত‍্য কখনও বিপদজনক হতে পারে না কখনও না। তাই সত‍্য প্রকাশে আমাকে তোমরা কোনভাবেই থামিয়ে রাখতে পারবে না। আমি বরং তোমাদের সাথে সব সম্পর্ক ছিন্ন করলাম। আমি কাঁদি, আমার আত্মা কষ্টে আছে, কিন্তু সিদ্ধান্ত বদলায়নি। যে দেশে সত‍্য নির্বাসিত, সত‍্য বলা যায় না, সততা যেখানে একটা বড় বিপদ, দুর্নীতি আর তোষামদ যেখানে ভীষণ দামী এবং উপরে ওঠার সবচেয়ে শক্ত খুঁটি সেই জন্মস্থান যতই পবিত্র হোক তাকে সভ‍্য ও জনকল‍্যাণমুখী সমাজ বলা যায় না!
র‍্যাবের হাতে সম্ভবত: হাসিনা-খালেদা মার না খাওয়া পর্যন্ত তাদের বিচারবহিভর্ূত হত‍্যাকান্ড ও নির্যাতন বন্ধ হবে না! এই মন্তব‍্যটি আমার নিজের নয়, ক’দিন আগে ঢাকার এক বন্ধুর সঙ্গে কথা হলো দেশের পরিস্থিতি নিয়ে। আলোচনার এক পর্যায়ে বিচারবহিভর্ূত হত‍্যাকান্ড ও নির্যাতনের বিষয়টি চলে আসে আমাদের আলোচনার মাঝপথে। সেসময় সেই বন্ধুই মন্তব‍্যটি করলেন অত‍্যন্ত ক্ষোভের সাথে। হয়ত স্বয়ং আল্লাহ-ভগবান-ইশ্বর-সৃষ্টিকর্তারও এমন ক্ষমতা নাই যে র‍্যাবকে থামায়! কারণ র‍্যাব হাসিনা ও খালেদার নির্দেশ ফলো করছে। পাশে আছে বাম (কতিপয়, যারা হাসিনার মহাজোট সরকারের শরিক!)-ডান যুদ্ধাপরাধী সবার সমর্থন। বিশ্বমুরুব্বি বা মোড়লরাতো থাকবেই। কাজেই র‍্যাবকে থামায় কে?
বিনাবিচারে হত‍্যা-নির্যাতনের ঘটনা ঘটার পরই যখন জনমনে বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় তখন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয় কেউ কোন অন‍্যায় করলে তাদের বিরুদ্ধে ব‍্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু সরকার কখনও বলে না যে বিচারবহিভর্ূত হত‍্যা-নির্যাতন বন্ধ করা হবে, এই অমানবিকতা, নৃশংসতা চলতে দেয়া হবে না। মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম‍্যান সাহেব মাঝে মধে‍্য বিচারবহিভর্ূত হত‍্যাকান্ড চলতে দেয়া যায় না বলে সুর তোলেন। কিন্তু সেই সুর হয়ত মানবাধিকার কমিশনের চারদেয়ালের মধে‍্যই আটকা পড়ে যায়! কমিশন আজপর্যন্ত কোন ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট জনগণের সামনে প্রকাশ করেছে বলে জানা নেই আমাদের।
সামগ্রিক একটা পরিবর্তন ছাড়া মায়ের ভূমির বর্তমান দুর্দশা কাটবে বলে আস্থা নেই। দুইদলীয় লুটপাটের ধারার বিপরীতে নেই কোন শক্ত রাজনৈতিক শক্তি যে শক্তি হতাশাগ্রস্ত জনতাকে আশার আলো দেখাতে পারে। ছবি গুগল থেকে নেয়া। র‍্যাবের গুলিতে শারীরীকভাবে পঙ্গু হয়ে যাওয়া কলেজ ছাত্র লিমন। editor.eurobangla@yahoo.de, http://www.eurobangla.org/

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s