প্রসঙ্গ: মলয় ভৌমিক ও অনুশীলন নাট‍্যদল ।। আবু হায়দারের মন্তব‍্য

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ।। “অনুশীলন নাট‍্যদল, একটি প্রধাবিরোধী নাট‍্য আন্দোলনের নাম। সমাজ বদলের সংগ্রামে অবিচল এই নাট‍্যদলের সবাইকে মিস করি আমি। অনেকের কাছে আমি এক হারিয়ে যাওয়া বিস্মৃত আকাশ, হয়তবা” এই ছোট্র লেখার স্ট‍্যাটাসটা লিখেছিলাম ফেইসবুকে। সঙ্গে দিয়েছিলাম একটা পুরনো ছবি। সেই ছবিটাতে অনুশীলন নাট‍্যদলের প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষাবিদ, নাট‍্যকার সাংবাদিক-লেখক মলয় ভৌমিকসহ নাট‍্যদলের কর্মীবৃন্দ ও বিদেশি অতিথিরাও আছেন। এই লেখাটি লেখার সময় পর্যন্ত স্ট‍্যাটাসটি লাইক করেছেন শামীমা পারভীন, মমতাজ করিম, এএইচএম মোতালেব, রাজীব হোসেইন, আনাম হাসান, কৌশিক রায় এবং মোয়াজ্জেম হোসেন। শামীমা পারভীন মন্তব‍্য করে লিখেন, “মলয় স্যার সহ সবাইকে ভাল লাগছে…”। ইব্রাহিম পাঠানের মন্তব‍্যটা এমন, “এরকম নষ্টালজিয়া পেয়ে বসে সবইকে, আমকেও ভাইয়া।”
জনৈক আবু হায়দার নামে একজন ফেসবুকার নেতিবাচক মন্তব‍্য লিখেছেন এভাবে, “আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে জনাব/শ্রী মলয় বাবুকে চিনি। আমার দেখা সাম্প্রদায়িক এত খারাপ লোক আর দেখি নাই। ভিসি হবার শেষ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কত রাজনীতি তিনি জানেন তা ওনিই ভালো বলতে পারবেন। তাকেও মানুষ ভালো বলছেন, বেশ! তবে আমার দেখা বিষয়গুলো বুঝি স্বপ্নে দেখা…..”। এমন অবর্াচিন মন্তব‍্য পড়ে প্রথমে আমার হাসি পাচ্ছিল, রাগও হচ্ছিল। পরে আমি উত্তরা লিখলাম এভাবে, “জনাব Abu Haider, আপনি শতভাগ মিথ‍্যা লিখেছেন। আপনার অবলোকনের বেলায় মারাত্মক ভেজাল আছে। আপনি নিজেকেই চেনেন না তাই এভাবে একটা ডাহা মিথ‍্যা বক্তব‍্য লিখে দিলেন! সতি‍্য কথা আপনি স্বপ্নেই মানুষের মহানুভবতাকে অপদস্ত করছেন। তা স্বপ্নের মধে‍্যই রাখুন আপনার কাল্পনিক চিন্তাগুলি। মিথ‍্যা কথা বলা আর লিখা বলার স্বাধীনতা হতে পারে না। যুক্তি, তথ‍্য-প্রমাণ দিয়ে কথা বলবেন। নিজের মনের কোণে জঙ্গি-মৌলবাদি মানসিকতা লুকিয়ে রেখে একজন আপাদমস্তক অসাম্প্রদায়িক মানুষকে আপনি আপনার মিথ‍্যাচারের জালে জড়াতে চাইছেন। আমি এখন থেকে ভাবতে শুরু করলাম কারা আমার বন্ধু হবার যোগ‍্যতা রাখেন! আমি আমার অচেনা, অজানা, মিথু‍্যকদের বন্ধুর তালিকা থেকে ঝেড়ে ফেলতে চাই না। তবে আমি অনুরোধ করবো যারা মিথ‍্যা কথা লিখছেন, অরুচিকর মর্যাদাহানিকর ছবি দিচ্ছেন অথচ আমার বন্ধুর তালিকায় সন্নিবেশিত হয়ে গেছেন দয়া করে সরে পড়ুন।”
অনেকটা বেহায়ার মতো এই ভদ্রলোক আবারও জবাব লিখলেন নেতিবাচক। তার বক্তব‍্য হলো, “জাহাঙ্গীর ভাই, আপনার কথা আমি চপল সাহার কাছে শুনেছি। হয়ত আপনিই ঠিক এবং সেটা হলেই সবার জন্য ভালো। আমি যশোরে বড় হয়েছি। আপনি নিশ্চয় জানেন আপনার মতে ঐ মহানুভব মানুষটির শ্বশুর বাড়ি যশোরে। পারিবারিক ভাবে ওনার শ্বশুর পরিবারের সাথে আমার যথেষ্ঠ ঘনিষ্ঠতা আছে। ওনার শালা রতন রাজশাহীতে আমার বেডেই থাকতো। এসব অনেক কারণে ঔ তথাকথিত মহানুভব মানুষটির রাজশাহীর বাড়ীতে আমি এক সময যাওয়া-আসা করেছি। আর সে সুবাধে যা নিজ চোখে দেখেছি তা মিথ্যা হলেই আমাদের সবার জন্য মঙ্গল। আমি মিথ্যা বলিনা এ কথা বললে আর একটি মিথ্যা বলা হবে, তবে অপ্রয়োজনে আমি মিথ্যা বলি না। বিতর্ক হতে পারে। তবে সত্য সব সময়ই সত্য”। রাজশাহী বিশ্ববিদ‍্যালয় শাখার ছাত্র ইউনিয়নের তৎকালিন নেতা এস এম চন্দন আবু হায়দারের মন্তবে‍্য লাইক করেন। এরই প্রেক্ষিতে আবু হায়দার মন্তব‍্য করে লিখেন, “পছন্দ করার জন্য ধন্যবাদ, তবে সত্য উন্মোচনের অপেক্ষায় রইলাম..”।
আমার পাল্টা জবাবে আমি লিখলাম েয, “মানুষের সৃষ্টি ও কর্ম আসল, ব‍্যক্তিগত জীবন নয়। আপনি কী বোঝাতে চাইছেন তা আমি জানি না। তবে “ভাল” শব্দটির যত অর্থ আছে তার সবগুলিই এই মানুষটির ভেতরে আছে। জীবনভর অন‍্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ে চলেছেন তিনি। আমার ব‍্যক্তিগতভাবে আপনার সম্পর্কে ধারণা করতে হচ্ছে এই ভেবে যে হয়ত আপনি কোন অন‍্যায় আবদার করে তা পূরণে ব‍্যর্থ হয়ে এখন বদনাম করছেন। কিন্তু কেন? আপনার কাছে যদি কোন সত‍্য থাকে সৎ সাহস থাকে তো সরাসরি উনার সঙ্গে মোকাবেলা করুন না কেন! তাছাড়া আপনিইতো বলছেন আপনার সঙ্গে উনার শ্বশুরবাড়ির ভাল সম্পর্ক! যাহোক আমি বাজে প‍্যাচাল যুক্তিহীন বিতর্ক করতে চাই না। আপনার যদি কোন বক্তব‍্য থাকে আপনি এখানে নয়, অন‍্য কোথাও কোন পত্রিকায় লিখেন না কেন? দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে আমি এই মহান মানুষটিকে চিনি। প্লিজ ফালতু কথা এই ছবির মধে‍্য আর লিখবেন না। আপনার কলম আছে খাতা আছে আপনি শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে চাকির করেন আপনার অনেক ক্ষমতা। কাজেই আপনি উনার ভিসি হবার পথটাই বন্ধ করে দেন না কেন?”
শিক্ষামন্ত্রনালয়ে চাকরিরত (ফেইসবুক স্ট‍্যাটাসে উল্লিখিত) আবু হায়দার পাল্টা জবাব দিলেন, “জাহাঙ্গীর ভাই. সরকারি চাকরি মানেই ক্ষমতা এ ধারণাটা মনে হয় ঠিক নয়। আর বাংলাদেশে সব সরকারি চাকুরিজীবিও সমান নয় এটা আপনি জানেন। আমাদের হাত-পা বাধা। তবে সুযোগ পেলে একটু আধটু বলি বই কি। সময়ের অপেক্ষায় আছি। আপনার উপর যে পাশবিক নির্যাতন হয়েছে সেটা আমি কিছুটা শুনেছি। কই আপনিতো এদেশে থাকা কালিন কিছু লেখেন নাই? অথচ কত সাংবাদিক কত কিছুইতো লিখছেন। আজ আপনিও লেখেন। আমাদের অবস্থাও আপনার মত করে চিন্তা করেন। আমার পাওয়া না পাওয়ার আপসোছ নাই তা নয় তবে অনেকের চেয়ে কম। আর ওনার মত মহান মানুষের কাছে আমাদের মত তুচ্ছ মানুষেরা কিইবা পেতে পারে? চাওয়া-পাওয়ার একটি বিষয় অনেক বড় করে দেখি আর সেটি মানুষের কলুষমুক্ত আসল চেহারা…”।
আবার আমার জবাব দেবার পালা। এবারে লিখলাম, “আবারও ডাহা মিথ‍্যার আশ্রয় নিলেন। আমি আর কোন মন্তব‍্য করবো না আপনার লেখার ওপর। editor.eurobangla@yahoo.de ইচ্ছে করলে আপনি এই ই-মেইল ঠিকানায় লিখতে পারেন। আমি জবাব দেবো। জরুরি অবস্থার মধে‍্যই আমার ওপর নির্যাতনের বিষয়ে বই প্রকাশ করেছি। অন্ধকারে ১৫ ঘন্টা, বইটি ছেপেছে ডানা প্রিন্টাসর্ লিমিটেড। এছাড়া বিচার বহিভর্ূত হত‍্যাকান্ড ও প্রতিহিংসা, জঙ্গি গডফাদার ও অন‍্যান‍্য প্রসঙ্গ এবং উদীচী থেকে পিলখানা বইগুলিও স্বদেশে থাকতেই লিখেছি। এই বইগুলির একত্র করে ইংরেজী ভার্সন প্রকাশিত হয়েছে “পেইন” এ, যা আমেরিকার একটি প্রকাশনা সংস্থা প্রকাশ করে গত বছরে। ভাগে‍্যর নির্মম পরিহাসে আজ মায়ের দেশ ছেড়েছি। কোন অর্থনৈতিক উন্নতির প্রত‍্যাশায় নয়। এখনও দৃঢ়ভাবেই জানাচ্ছি, আজ যদি কেউ নিশ্চয়তা দেয় যে অন‍্যায়ভাবে কেউ আর গ্রেফতার করে নির্যাতন চালাবে না তবে ৪৮ ঘন্টার মধে‍্যই দেশে ফিরবো। কিন্তু সেই নিশ্চয়তা কোথায় বলতে পারেন? সেখানে কী ন‍্যায়বিচার, গণতন্ত্র আছে? সততা, স্বচ্ছতার কী কোন দাম আছে? তোষামদি, দালালী করা ছাড়া কী প্রমোশন হয়? ধরি মাছ না ছুঁই পানি কিংবা হয় আওয়ামী লিগ নাহয় বিএনপির পক্ষাবলম্বন করে লেখালেখি করা সহজ। কিন্তু মানুষের পক্ষে সতে‍্যর পক্ষে লিখালেখি করে টিকে থাকা কোনভাবেই সম্ভব নয় কোন অসভ‍্য সমাজ-রাষ্ট্র ব‍্যবস্থায়! আরেকটি কথা জানুন, শুধু স্রেফ সাংবাদিকতাই করিনি সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে লড়াই করার চেষ্টা করেছি দেশ ছাড়তে বাধ‍্য হবার আগের মুহুর্তটি পর্যন্ত। যা আপনি কিছুই জানেন না মনে হচ্ছে। পেইন বইটি অনলাইন বুকশপগুলিতে পাওয়া যাচ্ছে (অ‍্যামাজনসহ) সম্ভব হলে পড়ুন, তারপরে বলুন। সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদ ও বিচারবহিভর্ূত নির্যাতন ও হত‍্যাকান্ডের বিরুদ্ধে লড়াই চালাতে কখনও কাপর্ণ‍্য করিনি। নিজের জীবনটাকে পর্যন্ত তুলে দিয়েছিলাম ক্রসফায়ারের দুয়ারে। সেই দরজা থেকে বাবা-মা, সুহৃদদের আশির্বাদের ফলেই বেঁচে এসেছি। রাজশাহীর মেয়র আর র‍্যাব আমার জীবনটাকে তছনছ করে দিয়েছে। বাংলার মাটিতে উনাদের বিচার হবে না। তবে প্রকৃতির বিচারে কেউই ছাড়া পাবে না। এই বিশ্বাসটুকু আমার আছে। কারণ আমি কোন অপরাধ করিনি। কেবল সত‍্যটা জনগণকে জানিয়েছি পেশাগত দায়বোধের জায়গা থেকেই। কোন হালুয়ারুটির বা বকশিশ গ্রহণের সাংবাদিকতা করিনি কখনও। সেকারণেই সাহস ও নির্ভয়ে সব সত‍্য লিখতে পেরেছি। আজকের প্রধানমন্ত্রির ও্পর গ্রেনেড হামলা আর প্রথম আলোর বিরুদ্ধে মৌলবাদী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে রাজশাহী শহরে কাফনের কাপড় পরে ঘুরে বেরিয়েছি। সাংবাদিক মানিক সাহা, ও দীপংকর চক্রবর্ত্তী হত‍্যার প্রতিবাদে একাই মাঠে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছি। বিচারবহিভর্ূত হত‍্যাকান্ডের বিরুদ্ধে আমিউ প্রথম প্রতিবাদ জানিয়েছি রাজপথে নেমে। লিখতে গেলে ইতিহাসের বই লিখা সম্ভব। কাজেই যুক্তিহীন আবেগাপ্লুত মন্তব‍্য করবেন না প্লিজ। সত‍্যনিষ্ঠ হোন, সত‍্য কখনও কারও বিপদ করে না। তবে শয়তান, ভন্ড, মিথ‍্যাবাদী আর সুযোগসন্ধানিরা সত‍্যকে ভয় পায়। এটা সর্বজন স্বীকৃত।” ছবি-নিজস্ব/ব‍্যক্তিগত। ছবির ক‍্যাপশন: বঙ্গবন্ধু কন‍্যা শেখ হাসিনার ওপর গ্রেনেড হামলা ও চট্রগ্রামে দৈনিক প্রথম আলোর বিরুদ্ধে মৌলবাদি তৎপরতার বিরুদ্ধে সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম আকাশ কাফনের কাপড় পরে (২০০৪) রাজশাহী শহর প্রদক্ষিণ করেন। তারই দু’টি ছবি। অপর ছবিতে ফটো সাংবাদিক সেলিম জাহাঙ্গীরের নামে করা হয়রাণিমূলক মামলা প্রত‍্যাহারের দাবিতে আয়োজতি সাংবাদিক সমাবেশে আকাশ বক্তব‍্য রাখছেন।

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s