সাগর-রুনির খুনিদের বিচার নাকি রুটি-রুজির আন্দোলন, কোনটা জরুরি?


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ।। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন কথা বলেন না কেন? আপনার ৪৮ ঘন্টা অস্বাভাবিকরকমের দীর্ঘ। আর কতশত ঘন্টা ও দিন পরে ৪৮ ঘন্টার নাগাল পাবে মাহির সরোয়ার মেঘ? অনুগ্রহ করে জাতিকে নয় এই ছোট্র শিশুটাকে আশ্বস্ত করেন প্লিজ। আর দেরি করবেন না। একসময়ে ক্রসফায়ার ও বন্দুকযুদ্ধের ডিপোর প্রধান বর্তমানে সারাদেশের পুলিশ বাহিনীর প্রধান। হ‍্যাঁ, আপনাকেই বলছি। আপনি বলেছিলেন প্রণিধানযোগ‍্য অগ্রগগতি হয়েছে। কোথায় সেই অগ্রগতি রিপোর্ট? পরবর্তীতে আপনি বলেছেন তদন্তে একটু সময় লাগছে তার মানে এই নয় যে পুলিশ ঘটনাটিকে ধামাচাপা দিচ্ছে। একটা জোড়া খুনের রহস‍্য উন্মোচন করতে আর কতটুকু সময় লাগবে পুলিশ বাহিনীর? পুলিশের পক্ষ কী আদৌ এই হত‍্যারহস‍্য উন্মোচন করা সম্ভব, খুনিদের কী গ্রেফতার করতে পারবে পুলিশ-র‍্যাব? পুলিশপতি দয়া করে জাতিকে জানান আপনার পুলিশ কতটা অযোগ‍্য, অপেশাদার?
সাংবাদিক বন্ধুরা ৮ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তবে সাংবাদিক বন্ধুদের আন্দোলন এখন কার্যত: রুটি-রুজির দিকেই ঝুঁকে পড়েছে। রুটি-রুজির বিষয়টি অবশ‍্যই একটা বড় ব‍্যাপার। কিন্তু প্রশ্ন হলো সত্পম বলি আর অষ্টম ওয়েজ বলি কোনটাই কাজে লাগে না সিংহভাগ সাংবাদিকের জীবনে। অবশ‍্য আনদোলনটা করতে হয় সববাইকে। আর মজা লুটেন উপরতলার সাংবাদিক নেতারা। খোদ ঢাকা শহরেই শত শত মিডিয়া মালিক ওয়েজবোর্ডের কোনই ধার ধারেন না। রুটি-রুজির আন্দোলনের চেয়ে সাংবাদিকদের জীবন রক্ষা ও স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করার আন্দোলনটা কিন্তু কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
সাগর-রুনি হত‍্যার খুনিদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয় ঘেরাওয়ের পর কী করবেন সাংবাদিকরা সেটাই একটা প্রশ্ন? এরপর কী তবে প্রধানমন্ত্রি ও তারপরে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচী ঘোষণা করবেন সাংবাদিক নেতারা? নাকি সাগর-রুনি হত‍্যার বিচারের আন্দোলন শেষ পর্যন্ত মুখ থুবড়ে পড়বে? আদালতজুজুর ভয়ে সাংবাদিকরা রীতিমতো মুখে কুলুপ এঁটে ফেলেছেন। মিডিয়া কী ভাবছে তা জানিনা তবে দেশবাসি মিডিয়ার উপর যে সন্তুষ্ট নন তা স্পষ্টই বোঝা যায়। দেশবাসি মনে করেন মিডিয়া জোরালো ভূমিকায় মাঠে থাকলে (লেখালেখির মাঠ) সরকার খুনিদের ধরতে এতটা গড়িমসি বা টালবাহানা করতো না। এমনটাওতো হতে পারে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ যারা আন্দোলন করছেন তারাও জানেন খুনি কে? সরকার বা স্টাবিলিশমেন্ট নাখোশ হতে পারে এই ভেবেই মিডিয়া চুপচাপ কিনা তাই বা কে জানে?
গোয়েন্দা কর্মকর্তা মনিরুল এখন কোথায়? খুনি সম্পর্কে শতভাগ নিশ্চিত হতে আর কত সময় অপেক্ষা করতে হবে সাগর-রুনির পরিবারকে তা খোলাসা করে বলুন প্লিজ। আর সরকার সাংবাদিক সাগর-রুনি হত‍্যা মামলাটিকে যে ধামাচাপা দিতে চায় না তার প্রমাণ এখন পর্যন্ত জনগণ দেখতে পাননি। জনমনে সন্দেহের ডালপালা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। জনমনে বিশ্বাস বদ্ধমূল হচ্ছে এই ভেবে যে হয়ত সরকারের কোন না কোন পক্ষের হাত রয়েছে সাগর-রুনি হত‍্যাকান্ডে, তাই খুনি ধরতে সরকার এত বিলম্ব ও টালবাহানার আশ্রয় নিচ্ছে। পুলিশ প্রধান বলে এক কথা তো গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলে আরেক কথা। হাসিনা বলেন বেডরুম পাহারা দেয়া সম্ভব না। আদালত বলে এবিষয়ে রিপোর্ট করা যাবে না। ব‍্যক্তিগতভাবে আমি এভাবে বলতে চাই “বিচার পাই না তাই বিচার চাই না।” ছবি গুগল থেকে নেয়া।

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s