Monthly Archives: এপ্রিল 2012

সাংবাদিক সাগর-রুনির পর ইলিয়াস : যুদ্ধাপরাধ বিচার নির্বাচনি প্রচারের জন্য সংরক্ষণ করার বাসনা পরিহার করুন?


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারটা সম্পন্ন হোক এটা আসলে আওয়ামী লীগ চায় কিনা সেটাই সন্দেহ! এই প্রশ্নের জবাবে শহীদ বুদ্ধিজীবীর সন্তান সুইডেনপ্রবাসী শেখ তসলিমা মুন লিখেছেন, “অবশ্যই চায়, তবে এটাকে আবার নির্বাচনি প্রচার হিসেবে সংরক্ষণ করছে!”
পুলিশ, এলিট ফোর্সের নির্যাতন-গ্রেফতার এবং আদালতের ওপর বন্দুক রেখে সরকার বিরোধীদের ঘায়েল করবে। সরকারি দল আওয়ামী লীগের সেই মুরোৎ নেই রাজনৈতিকভাবে বিএনপিকে মোকাবেলা করার। কারণ আওয়ামী লীগের এখন শুধু খাই খাই অবস্থা! সংগঠন বলতে কিছু নেই। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীই একমাত্র নির্ভরশীলতা! অথচ আওয়ামী লীগের আছে দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস। কিন্তু কালোটাকার প্রভাব, ব্যবসায়িদের দৌরাত্ম আর দলপ্রধানের একনায়কোচিত মনোভাব আওয়ামী লীগকে ক্রমেই দুর্বল করে তুলছে।
যাহোক দেশের সার্বিক পরিস্থিতি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সরকারের অনুকূলে আছে বলে দলনিরপেক্ষ মুক্তবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ মনে করে না। বিশিষ্ট সাংবাদিক-কলামিষ্ট যুদ্ধাপরাধ আন্দোলনের অন্যতম উদ্যোক্তা শাহরিয়ার কবিরও এমন আশংকা প্রকাশ করেছেন সম্প্রতি।
সরকার দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে পারছে না বা ব্যর্থ। কিন্তু বিরোধীদের ওপর পুলিশ এবং এলিট ফোর্স-পুলিশের পাশাপাশি সরকারি দলের ক্যাডারদের আক্রমণ করাতে এতটুকুও কুণ্ঠাবোধ করছে না।বিরোধী নেতাদের নামে চলছে সিরিজ মামলা দায়ের। এমন অবশ্য শুধু যে এই সরকারই করছে তা নয়। বিগত সরকারগুলিও একই কাজ করেছে। বিশেষ করে বিএনপি-জচামাত জোট সরকারও আজকের সরকারি দল ও জোটের নেতা-কর্মীদের ওপর একই বর্বরতা চালিয়েছিল।
এলজিআরডিমন্ত্রি ও আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এক সমাবেশে বলেছেন, “ইলিয়াস আলীর স্ত্রীর একমাত্র ভরসাস্থল হলেন প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনা। তাই ইলিয়াসের স্ত্রী প্রধানমন্ত্রির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাইছেন।”
সৈয়দ আশরাফের জন্য প্রধানমন্ত্রি ভরসাস্থল হলেও হতে পারে। কিন্তু শেখ হাসিনা কারও আশ্রয় ও ভরসাস্থল হয়ে ওঠতে পারেননি আজও। তিনি যদি ভরসাস্থলেই হবেন তবে ইলিয়াস আলী কেন উদ্ধার হচ্ছেন না? কেন সাগর-রুনির খুনিদের ধরা হচ্ছে না? শেখ হাসিনাতো সাগর-রুনির সন্তান শিশু মেঘেরও ভরসাস্থল হবার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু তার খোঁজও রাখেন না প্রধানমন্ত্রি আজকে। সাগর-রুনির খুনিদের শনাক্ত করতে এবং খুনিদের গ্রেফতার করতে হাসিনা সরকারের পুলিশ, বিশেষ বাহিনী, রাষ্ট্রীয় হত্যা-নির্যাতনের বিশেষ বাহিনী সবাই ব্যর্থ। বস্তাভর্তি টাকা কেলেংকারির ঘটনার সংশ্লিষ্ট সেই গাড়িচালক আজম কোথায়, তারও সন্ধান দিতে পারছে না মহাজোট সরকার। প্রধানমন্ত্রি যদি মানুষের ভরসাস্থলেই হবেন তবে তিনি কী করে বলেন যে সরকারের পক্ষে কারও বেডরুম পাহারা দেয়া সম্ভব নয়?
ইলিয়াসের স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চেয়েছেন। এর আগে তিনি বিশেষ বাহিনীর সঙ্গে পূবাইলের অভিযানে অংশ নিয়েছেন। তারপরও সরকার বলছে, ইলিয়াস আলীর পরিবারের পক্ষ থেকে সহেযাগিতা করা হচ্ছে না। তাহলে ইলিয়াস আলীর পরিবারকে কী করে সহযোগিতা করতে হবে তাও কিন্তু সরকার খোলাসা করে কিছু বলছে না।
সৈয়দ আশরাফ আরও বলেন, “তার স্বামীকে সত্যিকার অর্থে উদ্ধার করতে হলে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। ইলিয়াস আলী উদ্ধার হোক- তার দল তা চায় না।” বিরোধীদল নাহয় চাইছে না যে ইলিয়াস উদ্ধার হোক। সরকার কী চাইছে? সরকার যদি চাইতো তবে এতদিনেও ইলিয়াস আলী কেন উদ্ধার হ্চ্ছেন না। সমস্যাটা কোথায়? নাকি পুলিশ, এলিট ফোর্স সবাই ব্যর্থ তাকে উদ্ধার করতে? যদি তাই হবে তো এই বিশাল পুলিশ ও এলিট বাহিনী পোষা হচ্ছে কার স্বার্থে? আশরাফ সাহেবরা কী ভুলে গেছেন যে দেশে একজন ইলিয়াসই গুম হননি। তার সরকারের আমলে ১১৬ জন নিখোঁজ/গুম হয়েছেন। এরমধ্যে মাত্র ২১ জনের লাশ পাওয়া গেছে। বাকিদের হদিস মেলেনি আজও। এরমধ্যে ঢাকার একজন ওয়ার্ড কমিশনার চৌধুরী আলমও আছেন। এই যে শতাধিক মানুষ এখনও নিখোঁজ আছেন তাদের উদ্ধারে আশরাফদের সরকার কী উদ্যোগ নিয়েছে?
সরকার কী কলেজ ছাত্র লিমনকে পঙ্গু (প্রতিবন্ধি) করে দেয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিয়েছে আজও? নাকি লিমনের বিরুদ্ধে দায়ের করা কাল্পনিক অভিযোগের মামলাগুলি তোলা হয়েছে? সরকারি দলের কিংবা মহাজোট সমর্থকদের শথ শত মামলাকে রাজনৈতিক অভিহিত করে তুলে নেয়া হচ্ছে, কিন্তু লিমনদের মামলাগুলি তোলা হচ্ছে না। খালেদা বা বিরোধীদলের মামলাগুলি নাহয় তোলা হচ্ছে না রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য! কিন্তু লিমনের জীবনটাকে যারা বদলে দিলো তাদের বিরুদ্ধে কবে এবং কী ব্যবস্থা নেবে হাসিনার সরকার? মানুষের ভরসার জায়গাটা কাউকে উপহাস করলে বাড়েনি, বরং ভালো কাজ জননিরাপত্তা মানুষের কল্যাণ এবং সমাজ ও রাষ্ট্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার মধ্যেই নিহিত থাকে। শুধু সুন্দর সুন্দর রসিয়ে রসিয়ে বিরোধীপক্ষকে দোষারোপ আর উনারাই সব চুরি করেছে তাই আমরা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি এমন কথায় কোন কাজ হবে না। দেশবাসি বোকা বা অবিবেচক নন। দেশের মানুষ ব্যালটের মাধ্যমে তার জবাব দেবেন। এটা মাথায় থাকলেই ভালো!
রাজনৈতিক বক্তৃতা আর মিথ্যাচার ছেড়ে সত্যাচারে নিবিষ্ট হয়ে সরকার তার কথা ও কাজের মধ্যে মিল রেখে দ্রুত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করবে বলেই জাতি আশা করে। জাতি ৩০ লাখ মানুষ হারিয়েছে, দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম খুইয়েছে কোন প্রতীকী বিচার নয় সকল যুদ্ধাপরাধীর বিচার চায় জাতি। হাসিনা, আশরাফ এবং হানিফদের মনে রাখা উচিৎ হাতে আর সময় খুব একটা বেশি নেই। জনমত কিন্তু বিএনপির না বাড়লেও আওয়ামী লীগ তথা মহাজোটের কমেছে এবং কমছে ক্রমশ:! খুনিদের থরুন, অপহৃত, গুম হওয়া মানুষদের জীবীত উদ্ধার করুন সেটা ইলিয়াস হোক আর চৌধুরী আলমই হোক। কারও বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে দেশে আইন ও আদালত কী কামে রাখা হয়েছে?
মাহাবুব উল আলম হানিফ বস্তত: যার ক্ষমতা শেখ হাসিনার পরই! তিনি কী দেখতে পারছেন না ছাত্রলীগ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্বিবদ্যালয়ে কী বর্বরতা, নৃশংসতা চালাচ্ছে সংস্কৃতিকর্মীদের ওপর। এমন নিষ্ঠুরতা চালাতো ছাত্রদল, শিবির। তার খেসারত বিএনপি-জামায়াত এখন দিচ্ছে, হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে ওরা ওদের শাসন-দু:শাসনের পরিণতি! সেই পরিণতি কিন্তু আপনাদেরকেও ছাড়বে না! সময় থাকতেই শোধরান, ছাত্রলীগকে সামলান, পুলিশ ও বিশেষ বাহিনীর পাশাপাশি ছাত্রলীগ যে লাঠি-দা-কাস্তে নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ছে বিরোধীদের ওপর, তার ফল ভাল হবে না। এটা বিএনপি-জামায়াত এখন বুঝতেছে। হাতে ক্ষমতা না থাকলে আপনারাও একদিন তা টের পাবেন। কাজেই দোষারোপ আর নির্যাতনের রাজনীতি নয় মানুষ রক্ষার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার রাজনীতি করুন। দেখবেন দেশবাসির ভালবাসা পাচ্ছেন!
আজ এখানেই ইতি টানতে চাই। পরিশেষে বলবো যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দোহাই একবার, দু’বার দেয়া যায়! কিন্তু বারবার নয়। মানুষ অনেক সচেতন ও চালাক। দেশে আইনের শাসন, সংবিধানের শাসন, দুর্নীতি বন্ধ করুন। কাউকে দোষারোপ নয় নিজেরা কী করতে পারছেন বা পারলেন না তার হিসেব-নিকেশ করুন। বিএনপি-জামায়াত জোট কী করেছে তা দেশের মানুষ ভালোভাবেই জানেন। ক্যাসেটের একই রেকর্ড বারবার শুনতে কিন্তু কারোরই ভালো লাগার কথা না। সাগর-রুনির খুনিদের গ্রেফতার করুন, ইলিয়াসসহ সকল অপহৃত-নিখোঁজ ও গুম হওয়া মানুষদের উদ্ধার করুন, বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড বন্ধ করুন, সর্বোপরি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ করুন। হাতে সময় নেই আবারও স্মরণ করিয়ে দিলাম। সুতরাং সাধু সাবধান! ছবি ফেইসবুক থেকে নেয়া।

সোশ্যাল মিডিয়া ও নৈতিকতা!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। সোশ্যাল মিডিয়ায় কী প্রচার বা প্রকাশ করা যাবে? কোনটা নৈতিক আর কোনটা অনৈতিক? ইউরোপে এসব কঠোরভাবে অনুসৃত হলেও এশিয়া বিশেষত: বাংলাদেশে এর কোন বালাই নেই। ফেইসবুকারদের অনেকেই যা খুশি তাই ছাপছে, প্রচার করছে!
এম জাকির হোসেন নামে জনৈক এক ফেইসবুকার একটি ছবি আপলোড করেছেন ফেইসবুকে। ছবির ক্যাপশনে বলা হয় “অপরাধকণ্ঠের মিরপুর এলাকার নামধারী সাংবাদিক মাসুদ রানা”। ছবিটিতে এক ব্যক্তি এক নগ্ন নারীকে চুম্বন করছেন। এই ছবিটি তোলাই হয়েছিল একটা উদ্দেশ্য নিয়ে। ছবিটি প্রকাশ করার মধ্য দিয়ে ব্যক্তিগত অধিকার লংঘণ ঘটনো হয়েছে। সেটা যেই করুক না কেন!
মাসুদ রানা এই কর্মটি করেছেন! আর এই ছবিটি প্রকাশ করেছেন যিনি তিনিও একই কাজটি করলেন। উভয়ই সমান অপরাধী! ব্যক্তিগতজীবনে বুকে হাত কে বলতে পারবেন এমন ন্যুড মানসিকতার লোভ সংবরণ করতে পেরেছেন? অনেকেই বিশেষ করে বাংলাদেশে ফেইসবুক ও সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করা হচ্ছে পর্ণোগ্রাফি মানসিকতাকে উস্কে দেবার জন্য। কেউ কোন অপরাধ বা কোন প্রতারণা, ব্লাকমেইলিংয়ের সাথে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে থানা-পুলিশ আইন-আদালত করা যেতে পারে। কিন্তু কারও ব্যক্তিগত বিষয় পাবলিক করাটা কী নৈতিক? এমন কত শত হাজারো মাসুদ বাংলাদেশের মিডিয়া জগতে আছে, তার কী কোন পরিসংখ্যান আছে কারও কাছে? অনেক সংবাদকর্মী আছেন ঢাকায় যাদের আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের আকাশ-পাতাল ফারাক, তারা কী অনৈতিকভাবে অর্থ কামাই করে জীবন ধারণ বা বিলাসবহুল জীবন-ডাপন করছে না?
আমরা যে কত বিকৃত রুচি, মানসিকতার হতে পারি তা ফেইসবুকে ছবি কারসাজি নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যাবে না! ছি, লজ্জা হয় নিজেকে মানুষ বলে দাবি করতে? কাউকে রাজনৈতিক কারণে কিংবা তার কৃতকর্মের কারণে আমার পছন্দ নাও হতে পারে। তার মানে এই নয় যে তার ছবি অন্য কোন নগ্ন বা অর্ধনগ্ন ছবির সঙ্গে যুক্ত করে দিয়ে নিজের কুরুচিপূর্ণ মানসিকতাটাকে প্রকাশ করবো! জামায়াত ও তাদের দোসর, আশ্রয়দাতা ছাড়া সকলেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চান। কিন্তু কোন চিহ্নিত রাজাকারের ছবি কারসাজি (যেটা আসল নয়, নকল) করে ফেইসবুকে আপলোড করবো। এমনটা দেখা যায় খালেদা, হাসিনার ছবিতেও। কিন্তু কেন? যারা এটা করছি তারা কী বুঝতে পারছি না যে কি সংস্কৃতির উপহার দিচ্ছি আমরা এই বিশ্বকে। বাংলা/বাঙালি সংস্কৃতির তো একটা তাৎপর্যপূর্ণ ঐতিহ্য আছে নাকি?শুধু কী তাই এই ইউরোপে কারও ছবি (বিকৃত নয় স্বাভাবিক) ফেইসবুক বা অন্যকোথাও আপলোড করতে চাইলে তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুমতি নিতে হয়। এমনকি কোন শিশুর পর্যন্ত। এই ন‌্যূনতম সৌজন্যতা, ভদ্রতা, ভব্যতার তো কোন বালাই নেই অনেকেরই কাছে। তারপর আবার কারও ছবি বিকৃত করা, এটা কী কোন সভ্য মানুষ কল্পনায়ও ভাবতে পারেন? কখনও না!
যাহোক এভাবে হাসিনা, খালেদা, এরশাদ, সুরঞ্জিৎ থেকে শুরু করে নিজামি পর্যন্ত কেউই বাদ যাননা। সবাইকে ন্যাংটো করে ছবি দেয়া হচ্ছে বিকৃত মানসিকতার পরিস্ফুট প্রকাশের মাধ্যমে। অনেকে আবার অশ্রাব্য অসভ্য ভাষা প্রয়োগের মাধ্যমেও সোশ্যাল মিডিয়াকে কলুষিত করছে। যা সম্পূর্ণ অনৈতিক, অনৈতিক, অনৈতিক এবং গর্হিত কাজ, এধরণের বিকৃত লালসাপূর্ণ মানসিকতাকে কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। যারা অসভ্য-অশ্রাব্য ও অভদ্র ভাষায় ফেইসবুকে ব্যবহার করে এবং যারা বিকৃত ও কুরুচিপূর্ণ ছবি আপলোড করে তাদেরকে ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ শনাক্ত করে তাদের একাউন্ট বাতিল করলে সবচেয়ে ভালো হতো। এমন অসভ্যতা কেবল ফেইসবুকেই নয় অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়াতেও দেখা যায়। এসব বন্ধ হওয়া উচিৎ। ছবি ফেইসবুক থেকে নেয়া।

গাড়িচালকসহ বিএনপি নেতা ইলিয়াসকে হত্যা, সাগর-রুনির খুনিদেরও সরকার ধরবে না!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। ইলিয়াস আলী নিখোঁজ বা গুম এর ঘটনা এখন আর নিখোঁজ বা গুমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রইলো না। ইলিয়াস আলী ও তার গাড়িচালককে হত্যা করেছে ওই বিশেষ রাষ্ট্রীয় কিলার বাহিনী। সূত্র: অষ্ট্রেলিয়াপ্রবাসী সাংবাদিক ফজলুল বারী। সূত্রমতে ইলিয়াস আলী ও গাড়িচালক হত্যায় ক্ষমতাসীন মহাজোট সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিটির নির্দেশ রয়েছে।
একজন দলীয় ক্যাডারের মতোই সাংবাদিক-বুদ্ধিজীবীদের লেখালেখি চোখে পড়ছে। এতে মর্মাহত কিংবা বিস্মিত হই না আর। কারণ এটাই বাংলার বাস্তব রুপ। সেখানে অন্ধদলবাজি আর তৈলমর্দনই সমস্যার আগুনকে সবসময় উস্কে দেয়। খালেদা এলিটবাহিনী তৈরী করেছে তাই তার তৈরী করা বাহিনী বা ফ্রাংকেনস্টাইন ইলিয়াসকে হত্যা ও গুম করেছে।
এই বর্বর অমানবিক কার্যটিকে জায়েজ বলে প্রমাণ করার দ্বিতীয় যুক্তিটি হলো ইলিয়াস সন্ত্রাসী ছিলেন একদা! সবকিছুকেই যদি সত্য বলেও ধরে নেয়া যায় তাতেও কী কোন শুভবুদ্ধিসম্পন্ন, বিবেবকবান মানুষ কোন হত্যা গুমকে মেনে নিতে পারে। কখনও না। কিন্তু বাংলাদেশের দলবাজ বুদ্ধিজীবী লেখকরা হয় খালেদার পক্ষে নাহয় হাসিনার পক্ষেই লিখে চলেছেন।
সত্য, ন্যায়, আইনের শাসন, মানবাধিকার এসব বশংবদ বুদ্ধিজীবী, কলামিষ্টদের কাছে তুচ্ছ, হালুয়ারুটি আর নিজ রাজনৈতিক বিশ্বাসকে উপরে রাখতে পারাটাই এসব তথাকথিত ভন্ড বুদ্ধিজীবী-লেখকদের বর্ম।
দেশের দুইজন জনপ্রিয় টিভি সাংবাদিক নৃশংসভাবে নিহত হলেন। প্রধানমন্ত্রি বললেন কারও বেডরুম পাহারা দেয়া যাবে না। সৌদি কূটনীতিক খুন হলেন তাও খুনি ধরা হবে না। বস্তাভর্তি টাকার দুর্নীতি ধরা পড়লো তারও সুরাহা করা যাবে না। সেই গাড়িচালক আজম এখন কোথায় তাও জানানো যাবে না। সাগর-রুনির খুনিদের না ধরে ঘটনাকে আঁড়াল করতে চলছে নানান ফন্দিফিকির!
স্বদেশে আর কোন নিয়ম-নীতি, আইন-কানুন নেই। দেশ পড়েছে জংলি-বুনো শাসনের কবলে! এর থেকে পরিত্রাণের কোন উপায় নেই! মানুষ যদি আমরা না জাগি তবে এই মায়ের ভূমিকে আর রক্ষা করা যাবে কী?
প্রকৃতি কেন এই দেশের শয়তানদের, গণতন্ত্রের ধ্বজাধারি শয়তান শাসকদের, জালিম রাজনীতিকদের, দুর্নীতিবাজ-মানবাধিকার লংঘণকারী ক্ষমতাপিপাসুদের ধ্বংস করে না? কেন মেঘেরা সেখানে কাঁদে?
আর বসে থাকার সময় আছে কী? এখনও কী নিবু নিবু করে জ্বলে আর নিভে যাবে দ্রোহের আগুন। নাকি সর্বশক্তি দিয়ে এই দ্রোহের আগুনে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দেবে এই ঘাতক-খুনি-শয়তান-বদমায়েশদের আস্তানা? আমরা কী কখনও জাগাবোনা আমাদেরকে, জেগে ওঠবনা আমরা মাতৃভূমিকে রক্ষায়?
যারা এই মায়ের ভূমিকে সন্ত্রাসী, খুনি-গুম ও অপহরণকারি এবং বিনাবিচারে হত্যাকারিদের অভয়ারণ্য ও ঘাঁটি বানাচ্ছে তাদের বঙ্গোপসাগরে ভাসিয়ে দাও হে প্রকৃতি!
বঙ্গবন্ধু কন্যা হাসিনার কী কোন জবাব আছে ইলিয়াসের পুত্র-কন্যা, স্ত্রী, সাগর-রুনির শিশুসন্তান মেঘ, চৌধুরী আলমের পরিবারের কাছে? কোন মুখে আপনি এখনও ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে আছেন? আপনার কী বিন্দুমাত্র লজ্জা-শরম আছে? খালেদা জিয়া-নিজামীর আমলে খুন-হত্যা-ধর্ষণ-গুম হয়েছে বলে আপনিও একই পথে হাঁটবেন? খালেদা জিয়া এলিটবাহিনীর জন্ম দিয়েছিলেন বলে আপনিও সেই এলিটবাহিনী দিয়ে মানুষ হত্যা-গুমের ধারা অব্যাহত রাখবেন? ছি, ছি আমাদের লজ্জা হয় আপনি বঙ্গবন্ধুর কন্যা! ছবি ফেইসবুক থেকে নেয়া।

সাগর-রুনিদের নৃশংস হত্যাকান্ড এবং আমাদের নেতিয়ে পড়া!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। ফের আসছে ৪৮ ঘন্টার হরতাল। মানে জ্বালাও-পোড়াও, হত্যা, পুলিশি একশানসহ অর্থনীতির বারোটাবাজানোর নানান প্রদর্শনি। সাথে থাকবে আশরাফ-হানিফ এবং ফখরুলদের বাকযুদ্ধ, অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ। মানুষ যাবেন কোথায়? হাসিনা-খালেদার পরস্পরবিরোধী ঝগড়া-ঝাটিতো মামুলি ব্যাপার। সুতরাং আসুন আমরা সবাই কাম-কাজ ফেলে প্রস্তুতি নিই উনাদের এসব কীত্তি-কুকীত্তিগুলি উপভোগ করার জন্য!
মানুষের মুক্তি নেই। হাসিনা-খালেদা মিলে দেশটাকে দুই ভাগ করে একদিকে হাসিনা সমর্থকদের নিয়ে বাংলাদেশ ১ এবং অন্যদিকে খালেদা সমর্থকদের নিয়ে বাংলাদেশ ২ গঠন করে নিলেই সব ল্যাঠা চুকে যায়! তাহলে জীবনভরতো বটেই মৃত্যুর পরও উনারাই কিংবা উনাদের আত্মা ক্ষমতায় থাকতে পারবেন! আর হ্যাঁ অবশ্যই তাঁদেরকে খুনিদের এবং এলিটবাহিনীও নিতে হবে সমান ভাগে ভাগ করে। তার আগে সাগর-রুনিসহ সকল হত্যাকান্ডে জড়িত খুনিদের শুধু দেশবাসির সামনে একটিবারের জন্য হাজির করে দেবেন-এটুকুই আমাদের প্রত্যাশা! হাসিনা-এরশাদ-ইনু-মেনন গং এবং খালেদা-নিজামী, চরমোনাই ও অন্যান্য ধর্মবাদী-যুদ্ধাপরাধী গং এই দুইয়ের বাইরেও তো বহু মানুষ আছেন, তাঁরা কোনপক্ষে যাবেন এটা এই মুহুর্তে বলতে পারছি না বলে দু:খিত। হাসিনা গং সরকার নাকি সমুদ্র জয় করে ফেলেছে তো সেখানে একটা পক্ষকে নাহয় পাঠিয়ে দেয়া হোক, নাকি বলেন?
একজন ব্লগার লিখেছেন সাগর-রুনির খুনিদের গ্রেফতারের দাবিতে নাকি তাদের আন্দোলন একেবারে তেতিয়ে উঠেছে! আসলে কী আমরা তেতিয়ে উঠছি নাকি নেতিয়ে পড়ছি? বাস্তবতা কিন্তু নেতিয়ে পড়ার চেয়েও করুণ জায়গায় গিয়ে ঠেকেছে। যাহোক “বৃক্ষ তোমার নাম কী, ফলে পরিচয়”। আমাদের লাগামহীন, ভাবাবেগে ভরা ব্লগের কালো লেখা সাগর-রুনির লাল রক্ত আর মেঘসহ সাগর-রুনির পরিবারের সদস্যদের গগণবিদারী আত্মক্ষরণ ঢাকবে না। দেশে-বিদেশে দুর্বার (লোক দেখানো বা বাহবা নেয়া কিংবা কোন পুরস্কারের আশায় নয় এমন)একটা চাপ সরকারের ওপর আঘাত হানতে হবে! নাহলে তেতে ওঠা দু’চারটি মানববন্ধন, আর জ্বালাময়ী বক্তৃতায় সাগর-রুনির খুনিদের সরকার গ্রেফতার করবে বলে মনে হয় না। কারণ সাগর-রুনির খুনিদের রক্ষায় বাংলাদেশের সামগ্রিক দুর্বৃত্ত রাজনীতি ও তার সঙ্গে কৌশলি মিডিয়াও নিজেদের স্বার্থকে মিলিয়ে ফেলেছে ইতোমধ্যে।
আসলে এই দুর্বৃত্ত চক্র ভাঙতে চাই জনজাগরণ, সেটা কে সংঘটিত করবেন এবং কিভাবে? সেই পথেরইতো দিশা পাচ্ছি না আমরা। একটা আমূল পরিবর্তন দরকার। মনোজাগতিক পরিবর্তন চাই। ব্যবস্থাটাকে ভাঙতে হবে। এজন্য চাই একটা সাংস্কৃতিক বিপ্লব। ছবি ফেইসবুক থেকে নেয়া।

প্রসঙ্গ ভারসাম্যহীন: ব্যারিস্টার রফিক নাকি সরকার?


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ব্যারিস্টার রফিক উল হককে ভারসাম্যহীন বললেন। সূত্র প্রথম আলো। জনগণ সরকারের এই অর্বাচীন মন্তব্যকে ভালো চোখে দেখছেন নাকি সরকারই ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে তার বিচার জনগণই করবে। তবে খোলা চোখে দেশের পরিস্থিতি, সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্তা-ব্যক্তিদের বহুরুপী বক্তব্য আর লম্ফঝম্ফের কারণে আইন প্রতিমন্ত্রির বক্তব্যটার ঠিক বিপরীত চিত্রটাই জনগণের সামনে চিত্রিত হচ্ছে ক্রমশ:।
বিশেষ মর্যাদাশীল বিচার বহির্ভূত হত্যাবাহিনী সাগর-রুনির খুনিদের ধরার ব্যাপারে উৎসাহী নয়। কিন্তু তারা সাগর-রুনির গলিত লাশ নিয়ে নতুন নাটকের মঞ্চায়ন শুরু করলো। এখন নাকি আবার ভিসেরা নমুনা বিদেশের মাটিতেও পাঠাবে তারা। ব্যাপারটা যেন এমন খুনিরা সাগর-রুনিকে হত্যার আগে বিষ প্রয়োগ করেছিল এমনটা প্রমাণ হলেই খুনিরা আপনা আপনি ধরা দেবে! যতসব মাথা মোটা কাজকারবার। আসল কাজের নাম নেই, সারা দেশজুড়ে শোরগোল। এই এলিটদের মাথায় সাগর-রুনির ভিসেরা পরীক্ষার বুদ্ধিটা আসলো আড়াই মাস পরে। কেন পুলিশ নাহয় ভুল করেছে কিন্তু সাগর-রুনির দাফনের পরপরই মানবাধিকার লংঘণকারি এই বাহিনীর ঘিলুতে ভিসেরার বিষয়টা ঢুকলৈা না কেন? তখন কী তারা খুনিদের সঙ্গে পরামর্শ করে এই ইচ্ছেকৃত বিলম্ব করেছে? সরকারের পক্ষ থেকেতো বলা হয়েছিল যে এলিট, অলিট সব বাহিনীই সমন্বিতভাবে কাজ করছে! সেই সমন্বয় গেলো কোথায়? আইজি হাসান মাহমুদ প্রণিধানযোগ্য অগ্রগতি থেকে সরে এসেছেন। এখন বলছেন ভিন্ন কথা। বলছেন ‘নিশ্চয়ই আমরা পজিটিভ রেজাল্ট পাবো?’ফালতু বচন। আসলে ওদের সবকথাই একটা ফাঁপা বাঁশের মতোই। অল্প হাঁড়ি টলকে বেশি অবস্থা আর কী?
স্বয়ং প্রধানমন্ত্রি বললেন নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী জীবীত ফিরে আসবে। একই কথা বললেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। অন্যদিকে কয়েকটি সংবাদপত্র ইলিয়াস অপহরণ বা নিখোঁজ নাটকের রহস্য উন্মোচন করে দিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায়। প্রধানমন্ত্রি, এলজিআরডি মন্ত্রি এবং সংবাদপত্রের রিপোর্ট পর্যালোচনা করে এটা স্পষ্টই বলা যায় যে ইলিয়াসকে সরকারই নিখোঁজ করেছে। হয়ত তাকে মেরেই ফেলেছে! তাই এখন ফিরে আসবে, জীবিত আসবে ইত্যাদি বলে সময় ক্ষেপণ করছে।
এমন পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রি শামসুল হক টুকু বোমা ফাটানো বক্তব্য দিয়েছেন। যার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রি কিংবা আশরাফের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ। টুকু বলেছেন ইলিয়াস ঘটনায় জঙ্গিরাও জড়িত থাকতে পারে! তারমানে দেশে এখনও জঙ্গি তৎপরতা আছে। অথচ প্রধানমন্ত্রি বারবার বলেছেন তাঁর সরকার জঙ্গিদের নির্মূল করেছে। যদি টুকুর বক্তব্য সত্য বলে ধরেই নিই তবে প্রধানমন্ত্রির কথা মিথ্যা, অর্থাৎ হাসিনা মিথ্যাবাদি! আইন প্রতিমন্ত্রি ব্যারিস্টার রফিক উল হকের মতো একজন সৎ, অভিজ্ঞ মানুষকে ভারসাম্যহীন বলে তাঁর মর্যাদাহানি ঘটালেন।
অবস্থাটা এমন দাঁড়িয়েছে যে সরকার কোন সত্য কথা সহ্য করতে পারছে না! সাগর-রুনির খুনি ধরা পড়নিন, সৌদি কূটনীতিক খালাপ হত্যার আসামিরাও লাপাত্তা। ইলিয়াস নিখোঁজ, চৌধুরী আলমের কোন সন্ধান করতে পারেনি সরকার। চারিদিকে শুধু দুর্নীতি আর দুর্বৃত্তপনা ও বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের মহোৎসব। তাহলে কী তবে সরকারই ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে?

তবুও আশায় বুক বাধি নিরাশার বালুচরে!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। আমরাতো আগেই বলেছি পুন:ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা কোন কাজে আসবে না সাগর-রুনির খুনিদের ধরার জন্য। তবে এলিট ফোর্স ও সরকার যদি সত্যি চায় তবে খুনিদের ধরা মোটেও অসম্ভব কিছু না। কিন্তু আমরা সাধারণ মানুষ মনে করি, সরকার নানাভাবে সাগর-রুনির খুনিদের রক্ষায় বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে। সময়টাকে কোনরকমে পার করে নিতে চায় ওরা। এরমধ্যেতো বড় বড় বিষয় বিদ‌্যুৎ, ইলিয়াস, সুরঞ্জিৎ, বিদেশি প্রভূদের খুশি করানো, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, সৌদি কূটনীতিক হত্যাকান্ডসহ শত হাজারো বিষয় নিয়ে সরকার আপাদমস্তক ব্যস্ত। কাজেই সাগর-রুনির খুনিদের ধরার কোন সম্ভাবনা বা ইচ্ছে জনগণ দেখতে পারছেন না সরকারের কাছ থেকে।
এমন এক কঠিন সময়ে সাংবাদিক বন্ধুদের রহস্যজনক নিরব চুপসে যাওয়া বেদনার ক্ষতকে বড় গর্ত করে দিচ্ছে। হৃদয় ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাচ্ছে মেঘের অপলক তাকিয়ে থাকার দৃশ্য দেখে। এটা কী কোনভাবে মানা যায়? তবুও আশায় বুক বাঁধি নিরাশার বালুচরে! ছবি ফেইসবুক থেকে নেয়া।

ওরা আরেকবার নিহত সাগর-রুনিকে খুন করতে ঔদ্ধর্ত্য!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। সরকার এবার নিহত সাগর-রুনিকে দ্বিতীবারের মতো হত্যা করতে চায় কবর থেকে লাশ তোলার মধ্য দিয়ে! এলিট ফোর্স এটা করলে কষ্টের দাবানল দাউ দাউ করে জ্বলে উঠবে সাগর-রুনির পরিবারের সদস্যদের মাঝে। বিশেষ করে ছোট্র মেঘের বিষয়টা ভাবছে না কেন সরকার? সাগর-রুনির খুনিকে শনাক্ত করা ও হত্যাকান্ডের কারণ উৎঘাটন করা কোন ব্যাপারই না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি পদে প্রভাবহীনভাবে সাতদিনের জন্য দায়িত্ব পালন করার অনুমতি দিলে আমি সেটা করতে পারবো, ১০০ নয় ১০০০কোটি ভাগ সত্য। সাতদিনের মধ্যে খুনিদের দেশবাসির সামনে হাজির করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রির পদটি আবার সাহারার হাতেই তুলে দেবো। সরকার এই চ্যালেঞ্জটুকু গ্রহণ করার ক্ষমতা বা সাহস রাখলে আর সাগর-রুনির গলিত লাশের হাড্ডি কবর থেকে তুলে পুনরায় তাদেরকে হত্যা করার আর কোন প্রয়োজন হবে না।
একজন সংবাদকর্মী হিসেবে সাগরের সহকর্মী হিসেবে বলবো খুনিদের ধরুন। আর বিলম্ব করবেন না। কোন নতুন খেলা দেখতে চাই না আমরা। সাগর-রুনির নিথর ও গলিত দেহের হাঁড়-গোড় নিয়ে আর কোন পরীক্ষা চালানোর দরকার নেই। দেশের মানুষ নাটক দেখতে চান না। দেশবাসি চান খুনিদের বিচার।
সাগর-রুনির খুনিরা গ্রেফতার হয়েছে এমন খবরই শুনতে চান দেশের মানুষ। আমি পরিস্কার বলতে চাই খুনের আড়াই মাস পর সাগর-রুনির লাশ তুলে তার ভিসেরা রিপোর্ট করে কিচ্ছু পাওয়া যাবে না। কাজেই এই নয়া নাটক বন্ধ করুন, খুনিদের ধরুন যদি আপনাদের সেই মুরোৎ থাকে!
সাগর-রুনির কবের ওপরে ও আশপাশে সুন্দর সবুজ ঘাস ও লতাপাতা গজিয়েছে। এগুলিকে নষ্ট করবেন না। এই লতাপাতা আর সবুজাদির সুশীতল ছায়ায় ওরা দু’জনে ভালোই আছেন, শান্তিতেই আছেন। সুন্দর এই পরিবেশটাকে নষ্ট করবেন না প্লিজ! সাগর-রুনির পরিবারের যন্ত্রণাদগ্ধ সদস্যদের মনে আর কষ্টের আগুন জ্বালাবেন না। অনুগ্রহ করে এই নাটক বন্ধ করুন আপনারা! ছবি ফেইসবুক থেকে নেয়া।

রিমনের প্রতিবদেনে ইলিয়াস নিখোঁজ রহস্য উন্মোচন: বাঘে ধরলে ১৮ ঘা পুলিশে ছুঁলে ৩৬ আর বিশেষ বাহিনী ধরলে কোটি ঘা!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ।। ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’ এর একটি বিশেষ অনুসন্ধানী খবরে বিএনপি নেতা ইলিয়াস নিখোঁজ রহস্যের উন্মোচিত হয়েছে। সাহসী সাংবাদিক সাইদুর রহমান রিমন এই রহস্যটা বের করেছেন অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মন, মনন ও মেধাশৈলীকে কাজে লাগিয়ে। অনেক ধন্যবাদ রিমন ভাই আপনাকে। রিপোর্টটির শিরোনামই বলে দিচ্ছে ইলিয়াস নিখোঁজ রহস্যের পেছনে সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ বাহিনী এলিট ফোর্স এই সন্ত্রাসী ও ক্রিমিনাল অফেন্সটি সংঘটিত করেছে। কিন্তু সেই অপকর্মের অনেক তথ্য-প্রমাণাদিও তারা রেখে দিয়েছে তাদের অজান্তেই। যদিও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অনেককেই তারা ইতোমধ্যেই শায়েস্তাও করে ফেলেছে!
সাংবাদিক সাইদুর রহমান রিমনের প্রতিবেদনের শিরোনামটি হলো-“ইলিয়াস নিখোঁজ রহস্য। প্রত্যক্ষদর্শী এক পুলিশ কর্মকর্তা। ধমক দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয় পুলিশ কর্মকর্তাকে * গোপন ভিডিও ক্যামেরায় ঘটনাটি ধারণ করা হয় * উদ্ধার অভিযান লোক দেখানো”।
রিপোর্টে ইলিয়াস অপহরণ-নিখোঁজ কিংবা গুম নাটকের রচয়িতাদের নাম রিমনের রিপোর্টে পরোক্ষভাবে উঠে এসেছে। রিমন ভাই বিশেষ বাহিনী বলে উল্লেখ করেছেন রিপোর্টে। এটুকুই যথেষ্ট। বাংলাদেশে বিশেষ বাহিনী বলতে জনগণ এলিট ফোর্সকেই বোঝেন। যদিও সেই বিশেষ বাহিনীটা দেশে সাংবাদিকদের কাছে অনেকটা ভাসুরের মতোন!বাযালী সমাজের বধূরা সাধারণত: ভাসুরের নাম নেন না। তাই সাংবাদিকরা ভাসুরের নাম নিতে চায় না। আসলে সমস্যাটাতো নাম নেয়াতে নয়। এখানে ভাসুরের নাম নেয়াতে কোন লজ্জার বিষয়ও বা কাউকে অসন্মান করার ব্যাপারও না। প্রবাদ আছে “বাঘে ধরলে ১৮ ঘা। কিন্তু পুলিশে ছুঁলে ৩৬ ঘা। আর রেবে (এলিট ফোর্স বা রিমন ভাইদের মতে বিশেষ বাহিনী) ধরলে কোটি ঘা, জীবনও শেষ। তাই ওদের নাম নেয়া মানা! আর নাম নেবেনই বা কী করে? এই ফোর্সটিতো সকলকিছুর উর্দ্ধে। যাকে তাকে ধরে যখন তখন জীবনটা কেড়ে নেয়ার ক্ষমতা দিয়েছে দেশের দুর্বৃত্ত রাজনীতি। পরোক্ষভাবে সাংবাদিকরাও এই বিশেষ বাহিনীর হত্যা-খুনের সহযোগি ভূমিকাতেই থাকতে চায়! আর না থেকেই বা কী করার আছে সাংবাদিকদের? সাংবাদিকদের কাছে তো আর একে ৪৬ বা একে৪৭ নেই! সাংবাদিকদের অস্ত্রতো সেই ছোট্র একটা কলম আর সাদা কাগজ। তাছাড়া দেশেতো কোন নিয়ম, নীতি বা আইনের শাসন নেই। অনেকটা জোর যার মুল।লুক তার মতো অবস্থা! তাই উনাদের নামের বেলায় উহ্য রাখতে স্বাছ্যন্দবোধ করেন সাংবাদিকবন্ধুরা। এর কোন বিকল্পও সাংবাদিকদের সামনে আছে বলে মনে হয় না। প্রশ্নতো সেটা নয়। কথা বলতে চাই সাংবাদিকতার নৈতিকতা নিয়ে। একজন সাংবাদিক হিসেবে সহজ-সরল প্রত্যক্ষদর্শী সোর্স যাদের নিরাপত্তা নির্ভর করে অনেক সত্য উৎঘাটনে সেইসমস্ত নিরীহ মানুষদের নাম, ছবি প্রকাশ করবো কী করবো না? এটা খুব জটিল প্রশ্ন। বাংলাদেশের সাংবাদিকতাতো আর ইউরোপের সাংবাদিকতার সাথে তুলনা চলে না। সাংবাদিকতার স্বত:সিদ্ধ নৈতিকতা বলে সাংবাদিকের লেখনিতে কোন অপরাধ বিষয়ক রিপোর্টিংয়ের বেলায় সোর্স বা প্রত্যক্ষদর্শীর নাম ও ছবি প্রকাশে অবশ্যই সাংবাদিকদের সতর্ক হতে হবে। সোর্সকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। সোর্সের কোন বিপদ ঘটে এমন কোন কিছু লেখা বা বলা যাবে না। কৌশলে সোর্স এর নাম ব্যবহার করতে হবে যতটা সম্ভব!এক্ষেত্রে আমাদের অনৈতিক অপেশাদারি সাংবাদিকতা কিছুটা পটু বা এগিয়ে আছে বলা যায়!
সেদিন কোন এক চ্যানেলে দেখলাম একজন ডাবওয়ালা ও আরেকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর ছবিও দেখিয়ে দিলো। এভাবে সাধারণ মানুষদের জীবনটাকে সেই বিশেষ বাহিনীর ক্রসফায়ার বা গুম, গুপ্তহত্যার মুখে ঠেলে দেয়ার সাংবাদিকতা কী নৈতিকতার মানদন্ডে প্রশ্নবিদ্ধ নয়? খবরের সোর্সকে বাঁচানোর দায়িত্ব কিন্তু সাংবাদিকেরই। হ্যাঁ হয়ত অনেকেই বলবেন নিরাপদ দূরত্বে থেকে অনেক কিছুই বলা যায়। তবে হ্যাঁ নিরাপদ দূরত্বে নয়, জ্বলন্ত আগুনের মধ্যেও বলেছি সত্যটা সরাসরি। তারও খতিয়ান রাজশাহীবাসি ও দেশের সাংবাদিক বন্ধুদের কাছে নিশ্চয়ই আছে! তারপরও বলবো সাইদুর রহমান রিমন স্রোতের পক্ষে নয়, সত্যটাকে তুলে আনার সফল চেষ্টা করেছেন স্রোতের বিপরীতে যেয়ে। এই সত্য বলাটাইতো সেখানে (স্বদেশে) একটা সমস্যা। আবার সত্যটা যদি কোন সুপ্রিম পাওয়ারের বিপক্ষে যায়, তাহলে কী জীবন থাকে কারও? রিমন ভাই যে সেই বিশেষ বাহিনী বা কালো বাহিনী কিংবা এলিটবাহিনীর টার্গেট হবেন না তার কী নিশ্চয়তা আছে মায়ের ভূমিতে। আমরাতো জানি মাসুমের অবস্থা। আমারটা নাহয় নাইবা বললাম এখানে! সাইদুর রহমান রিমন আপনাকে অভিনন্দন, ধন্যবাদ।
দেশের প্রধানমন্ত্রিওতো এই এলিট বাহিনীর কথাই বলেছেন ইলিয়াস নিখোঁজ বিষয়ে। খালেদা ও এলিট বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে হাসিনা বলেছিলেন, ওদের নিজের সৃষ্টি এখন ওদেরকেই খাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রির এই বক্তব্য থেকেও রিমনের প্রতিবদেনের সঙ্গে একটটা পাওয়া যাচ্ছে। কাজেই এটাই সত্য! কে এখন বিশেষ এই বাহিনীকে জিজ্ঞাসা করবে যে ইলয়াস কোথায়? সেখানে কী কোন জবাবদিহিতা আছে, নাকি কোন সংবিধান-আইনের শাসনের দেখা মেলে ওই বধ্যভূমিতে? ছবি ফেইসবুক থেকে নেয়া।

সাংবাদিকদের ঘুম পাড়িয়ে খুনিদের না ধরে সাগর-রুনিকে কবর থেকে তুলছে ওরা!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। সাংবাদিকদের ঘুম পাড়িয়ে খুনিদের না ধরে সাগর-রুনিকে কবর থেকে তুলছে ওরা! এ কোন খেলা, নাটক? কবর খুঁড়ে সাংবাদিক সাগর-রুনির লাশ তুলতে চাইছে এলিট ফোর্স। তারা নাকি এবার ভিসেরা রিপোর্ট বের করবে! আড়াই মাস পর লাশ তুলে কী ভিসেরা পাওয়া যাবে? এই প্রশ্নের উত্তর দেবেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু সাধারণ জ্ঞান বলে এখন আর ওটা করে কোন লাভ হবে না। এই কাজটাতো হত্যাকান্ড ঘটার পরপরই করা উচিৎ ছিল। সেটা না হয় পুলিশ ভুল করেছে। কিন্তু লাশ কবর দেবার পরওতো এটা করতে পারতো বিশেষ এই বাহিনী। নাকি খুনের যাতে সকল আলামতই নষ্ট হয়ে যেতে পারে তাই নিশ্চিত করার জন্য এতোদিন বাদে তারা এবার সাগর-রুনিকে আবার তুলবেন কবর থেকে! দেশবাশিকে তারা হয়তো এমন একটা ধারণা দিতে চায় যে “আমরাতো (সরকার) চেষ্টার কোন ত্রুটি করছি না। সবরকম সম্ভাবনাগুলিকে যাচাই-বাছাই করে নিচ্ছি। কিন্তু তারপরও খুনিদের ধরতে পারছি না। কারণ খুনিরাতো অনেক পাওয়ারফুল। ওদের গায়ে হাত দিলে হয়ত দেশ থেকে বন্দুকযুদ্ধের মতো ডাহা মিথ্যা কল্পকাহিনীও আর কোনদিন বানানো যাবে না। কিংবা হাসিনার জোট, মহাজোট সরকারও পড়ে যেতে পারে।”
এলিট ফোর্সের সৎ ইচ্ছা থাকলে তারা এতোদিনে ঠিকই সাগর-রুনির খুনিদের ধরতো। সমস্যাটাতো সেখানে নয়। সমস্যার শেকড় অনেক গভীরে। খুনিদের সাথে সম্পর্ক অনেক উপরের! তাই এলিট ফোর্স এবার নয়া নাটকের অবতারণা করেছে সময়টাকে মানুষের চোখ থেকে দূরে নিয়ে যাবার জন্য। দুর্যোগের ঘনঘটা, অশনিসংকেত, চারিদিকে হতাশা আর ষড়যন্ত্রের গন্ধ। এমন পরিস্থিতি তৈরীতে হাসিনা-হানিফদের অনেক সফলতা। সরকারের ভুলে, ভুল অংকের ফল জনগণের নাভিশ্বাস অবস্থা। তাহলে কী হবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের? খালেদা-নিজামি কিংবা মোল্লা-যুদ্ধাপরাধীরাতো সুযোগ নিতে চাইবেই, কিন্তু সেই ফাঁদে কী কেউ নিজে নিজেই পা দেয়?
বিনাবিচারে মানুষ মারায় সিদ্ধহস্ত এই বাহিনীর পারঙ্গমতার ধার কতো তাতো আড়াই মাসে বুঝে ফেলেছেন দেশবাসি। আসলে এটা নতুন নাটক। বস্তাভর্তি টাকা ও সুরঞ্জিৎ নাটক, ইলিয়াস নাটক, সমুদ্রজয় নাটকসহ আরও কত নাটকের সফল মঞ্চায়ন? আর এথন সরকার সাগর-রুনির নিথর হাঁড়-গোড়গুলিকে সম্ভবত খুন করতে চায়!
রুনির ভাই নওশের বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন শিশু মেঘের দায়িত্ব নেয়া প্রধানমন্ত্রি আড়াই মাসেও আর কোন খোঁজ নেননি মেঘের।
মেঘের হৃদয়জুড়ে অবিরাম কষ্টের বর্ষণে এতটুকুও দাগ কাটেনি মৌখিকভাবে মেঘের সব দায়িত্ব নেয়া সরকার প্রধানের। যাহোক সাগর-রুনির গলিত লাশ তুলে তাদের পরিবারের কান্না ও কষ্টকে আরও না বাড়িয়ে বরং খুনিদের ধরাই যেকোন বাহিনী বা সরকারের প্রধান কাজ হওয়াটা জরুরি। সাগর-রুনি কোন ভুত-পেত্নি খুন করেনি যে খুনিরা গায়েব হয়ে গেছে।
অষ্ট্রেলিয়াপ্রবাসী সাংবাদিক ফজলুল বারীর লেখায় জানলাম আজ প্রথিতযশা প্রখ্যাত সাংবাদিক তোয়াব খান এর শুভ জন্মদিন। প্রিয় ও শ্রদ্ধেয় এই সাংবাদিককে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর মাধ্যমে লেখার সমাপ্তি টানতে চাই। দৈনিক বাংলায় কনিষ্ঠ সংবাদদাতা হিসেবে (পঞ্চগড় থেকে কাজ করার সময়) তোয়াব ভাইকে কাছে থেকে দেখেছি। কথা বলেছি। একজন আপাদমস্তক স্মাট মানুষ। দীর্ঘজীবি হোন তোয়াব ভাই। শুভ জন্মদিন।
পরিশেষে আশা করবো সাংবাদিকদের ঘুম ভাঙবে শিগগিরই! সাগর-রুনিসহ সকল সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতনের প্রতিবাদে তাঁরা আবার মাঠে নামবেন। খুনিদের শনাক্ত না করা পর্যন্ত, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সাংবাদিকদের লেখনি এবং সংগ্রাম পাশাপাশি চলতে থাকবে। স্বরাষ্টমন্ত্রির বাসায় গিয়ে চা পান আর গণভবনে গিয়ে প্রীত হলেও অসুবিধা নেই কিন্তু খুনিদের ছাড় দিলে গণতন্ত্র গণমাধ্যমের কোনটারই অস্তিত্ব থাকবেনা। ছবি ফেইসবুক থেকে নেয়া।

শাবাশ সোহেল তাজ!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ।। কালো টাকার মালিক, লুটেরা, দুর্বৃত্ত আর বণিকদের পাল্লা ভারি হচ্ছে বাংলার রাজনীতিতে। সৎ ও ভালো মানুষরা জায়গা হারাচ্ছেন রাজনীতির মাঠে। টাকা আর তোষামদি রাজনীতিকে গ্রাস করে ফেলেছে। বিশেষ করে বড় দুইটি দলে (যারা ভাগাভাগি করে ক্ষমতায় আসা-যাওয়া করছে) এই রোগ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে! তাইতো সৎ ও স্বচ্ছ রাজনীতি কঠিন থেকে কঠীনতর হয়ে পড়ছে। সোহেল তাজের সরে যাওয়ার মধ্য দিয়ে যার সর্বশেষ উদাহরণের দেখা পেলেন দেশবাসি।
সোহেল তাজ স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রির পদ ছেড়েছিলেন ২০০৯ সালেই। এবার তিনি সংসদ সদস্য পদও ত্যাগ করলেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে আজকের জামানায় এমন নির্লোভ মানুষ খুব কমই আছেন। “সবকিছু বলঅ যাবে না” বলে সোহেল তাজ মূলত: পদত্যাগের সব কারণই পরোক্ষভাবে বলে দিয়েছেন।
সোহেল তাজের মতো মানুষরা রাজনীতি থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন, দুর্নীতিবাজরা, কালো টাকার মালিক ব্যবসায়িদের কদর বাড়ছে বড় দুই নেতা ও দলের মাঝে। লজ্জা ও আত্মসম্মানবোধ একজন মানুষ সব অন্যায়-অবিচার মেনে নিতে পারেন না। সোহেল তাজ সেই এক মানুষ যিনি তাজউদ্দীন আহমদ’র সন্তান।
হয়ত ক্রসফায়ার বা বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড বন্ধ করতে চেয়েছিলেন সোহেল তাজ। কিন্তু হাসিনা-সাহারারা বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড চালিয়ে যাবার পক্ষে দাঁড়ান! আর এই নিয়েই শেষঅবধি তিনি সরে গিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রকের দায়িত্ব থেকে। শাবাশ সোহেল তাজ! দেশবাসি আপনাকে মনে রাখবেন, দুর্বৃত্তদের নয়!
শ্রদ্ধেয় সোহেল তাজ আপনাকে বলছি, অভিমান দুর্বৃত্তদের প্রতি থাকতে পারে, কিন্তু তাই বলে জনগণের কাছ থেকে দূরে সরে গেলে চলবে না। সততা, স্বচ্ছতা আর মেধা ও যোগ্যতার বলে জনগণের ভালবাসা নিয়ে রাজনীতিতদে গুগণগত পরিবর্তনের সূচনা করার দায় কিন্তু আপনি এড়াতে পারবেন না। আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন মানুষ তোষামদি করতে পারেন না। আপনার বয়স আছে, সাহস আছে, সততা আপনার পুঁজি। জনগণ আপনার পাশে দাঁড়াবে। দুর্বৃত্তায়নমুক্ত রাজনীতির পথ রচনার দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে দেশে ফিরে আসুন। দেশের মানুষ, দেশ ও বাবার আত্মত্যাগ নিশ্চয়ই আপনি কোনদিনও ভুলতে পারবেন না। এটা আমার নয় বহু মানুষের বিশ্বাস। ছবি গুগল থেকে নেয়া।