সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর-রুনির খুনিদের বিরুদ্ধে কেন লিখছি, উনি হিংসায় জ্বলছেন!

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ।। সাগর-রুনির নৃশংস হত‍্যাকান্ডের পর থেকেই মনটা ভীষণ খারাপ। আমি স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারছি না। বিশেষ করে সাগর-রুনির প্রাণপ্রিয় শিশু মেঘের কথা মনে হলে হৃদয় ভেঙ্গে যায়। এটা নিতান্তই আমার ব‍্যক্তিগত সমস‍্যা বা অনুভূতি বলতে পারেন। খুনিদের গ্রেফতার ও হত‍্যাকান্ডের মোটিভ উদ্ধারে সরকার ব‍্যথর্ না সফল সে বিতর্কেও যেতে চাই না। তবে আবেগ বলি আর উদ্বিঘ্নতাই বলি আমার হৃদয় দারুণভাবে নিষ্পেষিত। আমি আমার অনুভূতি ও চিন্তাগুলি ধারাবাহিকভাবে লিখে যাচ্ছি। আমি এও জানি যে আমার এসব লেখায় চুল পরিমাণ কোন পরিবর্তন কোথাও হবে না কোনদিনও। কিন্তু মনের ভাবগুলি প্রকাশ করে আত্মউত্তেজনা থামানোর প্রচেষ্টা করা আর কী? কিন্তু দেশে কর্মরত অনেক সংবাদকর্মী আমার লেখালেখিগুলিকে ভালো চোখে দেখছে না। তাদের সহ‍্য হচ্ছে না। তারা কী বলার স্বাধীনতাও আমার কেড়ে নিতে চায়। কেন তা তারাই ভালো বলতে পারবেন। আমার জানা নেই। তবে বাংলাদেশে তথাকথিত শিক্ষিত বা সুশিল সমাজের মধে‍্য একটা অসুস্থ‍্য মানসিকতা লক্ষ‍্য করা যায়। কেউ কাউকে পছন্দ না করলে তার বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লাগে। তার বিরুদ্ধে কোন সত‍্য অভিযোগ থাক আর না থাক কাল্পনিক অভিযোগের রং লাগিয়ে তাকে হেনস্থা করতে শুরু করে দেয়। সেখানে কাউকে সমাজে ছোট করার সহজ পথ হলো তার বিরুদ্ধে নারীকে জড়িয়ে মিথ‍্যা অপবাদ দেয়া। আর রাজনৈতিক দল বা প্রশাসনের দালালি করতে পারলে তো কাউকে ঘায়েল করা কোন ব‍্যাপারই নয় সেখানে। কোন নারীকে জড়িয়ে কারও বিরুদ্ধে মিথ‍্যা অপবাদ ধোপে টেকে না। তাই ভিন্নপন্থাও অবলম্বন করে অনেকে। ঠুকে দেয় চাঁদাবাজির মিথ‍্যা অভিযোগের মামলা। যেমনটা রাজশাহীর মেয়র, আর র‍্যাব করেছিলেন আমার নামে। সেই সময় অবশ‍্য জরুরি অবস্থা চলছিল। শেখ হাসিনা, বেগম খালেদা জিয়ার নামেও এমন অভিযোগ করা হয়েছিল। র‍্যাব ও মেয়রকে সাহায‍্য করেছিল সাংবাদিক-সংস্কৃতিকর্মী নামধারী কতিপয় দুবর্ৃত্ত।
ফেইসবুকে একটা স্ট‍্যাটাস লিখেছি আজ সকালে। সেটা ছিল এরকম, “যে সমাজে কোন গণতন্ত্র চর্চা হয় না সেখানে কোন জবাবদিহিতাও থাকে না। যে রাষ্ট্র বিনাবিচারে মানুষ হত‍্যাকে অনুমোদন দেয় সেই রাষ্ট্র সভ‍্য হতে পারে না। যে সমাজে নিজ নিজ ব‍্যবসাপাতি রক্ষায় মিডিয়ার জন্ম দেয় অনেকে সেই সমাজে মিডিয়া জনগণের স্বার্থ রক্ষা করতে পারে কী? ধারাবাহিক দুর্বার আন্দোলন কর্মসূচী ছাড়া কোন আন্দোলনকে সফল করা যায় কী? দু’একটা ঘেরাও কর্মসূচী দিয়ে কোন খুনি ধরা যাবে কী?” এই স্ট‍্যাটাসটা দেয়ার পরই তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলেন এক সংবাদকর্মী। তিনি হলেন মেহেবুব আলম বর্ণ। তিনি লিখলেন, “দেশের বাইরে গিয়ে বড় বড় লেকচার মেরেও দেশের জন্য তেমন কিছু করা যায় না…”। জবাবে লিখি, “দেশের ভেতরেও করার চেষ্টা করিনি কী? দেশের ভেতরে ডেভাবে বলেছি বাইরেও একইভাবে বলে যাচ্ছি। আপনার কী মনে হয়? সাংবাদিক হিসেবে আপনি আপনারাতো সবই জানেন কী ঘটেছে কেন ঘটেছে, কারা খুনিদের বাঁচাতে চায়, তো লিখছেন না কেন? বর্ণ’র কাছ থেকে পাল্টা জবাব এলো, “দেশে থেকে যা কিছু করেছেন তার সব কিছুই ছিলো ঐ বিদেশে গিয়ে নিজের জীবনের নিশ্চয়তা তৈরি করা তাতে তো আপনি সফল। আমার আর মুখ খুলিয়েন না প্লিজ”।
আমার জবাব লিখলাম, “আপনি মুখ খুলতে থাকেন। তাতে কোনই অসুবিধা নেই। কারণ বিন্দুমাত্র দুর্বলতা নেই আমার। আমিতো আসতে চাইনি। এখনও থাকতে চাই না। আপনি স্বাভাবিক মৃতু‍্যর নিশ্চয়তা দিলে এখনই রওনা হবো। আর কেউ বিদেশে আসলেই তার প্রতি এতো হিংসার আগুন জ্বলে কেন। আর আপনি কীবা মুখ খুলবেন, আমিওতো মুখ চালাতে জানি নাকি? নিজের দিকে তাকান প্লিজ, অনে‍্যর সমালোচনা করার আগে ভাববেন নিজেকে, নিজের জীবন দিয়ে! আপনাদের মতো লোকেদের বিপদের সময়েই চেনা যায়। যুক্তি দিয়ে মত খন্ডন করার প্রতিযোগিতা করেন, কিন্তু কাউকে মিথ‍্যা অপবাদ দিয়ে ঘায়েল করার প্রচেষ্টা ভালো হয় না কখনও। সেটা যিনি করেন তারজনে‍্যও না। ব‍্যক্তিগতভাবে অনেক মিডিয়াম‍্যানকে কাছে থেকে দেখেছি। যাদের অনেকেই নিজের বউকে পর্যন্ত পেটান, কিন্তু আবার নারী নির্যাতনবিরোধী সেমিনারে গিয়ে নারী নির্যাতনের বিপক্ষে কথা বলেন!”
এরপরই মি. বর্ণ চলে এলেন ব‍্যক্তিগত আক্রমণে। এই আক্রমণ যদি নীতির উপর থাকেতো মোকাবেলা করার মানসিকতা থাকে। কিন্তু আক্রমণটা যখন অন‍্যায় ও মিথ‍্যার মাধ‍্যমে হেয় করা ছোট করার হয় তখন কী করা যায়? যাহোক তিনি লিখলেন, “রাজশাহীতে যারা আপনার ও আমার সঙ্গে কাজ করেছেন তারা প্রত্যেকেই জানেন আমাদের দুজনের চরিত্র সম্পর্কে…”। আমি বলি, “চরিত্র বলতে কী বুঝালেন, বুঝতে পারিনি।” বণর্ এবারে সরাসরি ব‍্যক্তিগতভাবে আমাকে আঘাত করলেন। তিনি লিখলেন, “নিজের সেটা থাকলে তো বুঝবেন! যিনি যে পাতে খান আবার সে পাতেই মল ত্যাগ করেন তার পক্ষে তো চরিত্র কি তারা বোঝা মুশকিল।” আমি ছোট্র একটা লাইনটুকু লিখে ইতি টানলাম। আমি বললাম, “ফালতু কথা বলবেন না প্লিজ!”
আমি শুধু এটুকুই বলবো যে, বর্ণ’র সঙ্গে অযৌক্তিক তর্ক করতেও আমার রুচিতে বাধে। ছি, এই হলো এক সংবাদকর্সংমী-সংস্কৃতিবান মানুষের বক্তব‍্য! কে চাঁদাবাজ সেটা আপনি (বর্ণ) নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করুন। কত টাকা বেতন পান, আর কতটাকার বাসা ভাড়া গুনেন রাজধানীর বুকে? কী খান কী পরেন, সংসার চলে কী করে? আপনার মতো করে আপনার পছন্দের আরেকজন র‍্যাবের মিথ‍্যা অভিযোগ করেছিলেন আমার নামে!
অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় হিংসার আগুনে জ্বলছেন উনি। কেন আমি বিদেশে আসলাম? কেন আমার জীবনটা নিরাপদ হলো? এসবই উনার আমার ওপরে রাগের কারণ, বোধকরি। আমিওতো পাল্টা প্রশ্ন করে বলতে পারি, আমার ওপর যখন অন‍্যায় অত‍্যাচার-জুলুম চলছিল আপনিতো সাহাযে‍্যর হাত বাড়িয়ে দেননি তখন, কেন এবং কিসের ভয়ে? ২০০৯ সালে যখন জার্মানিতে আসলাম তখন আরেক সাংবাদিক বলেছিলেন যে দেশপ্রেমিকরা দেশ ছেড়ে যায় না। অথচ তিনিও র‍্যাবের পক্ষ নিয়েই রিপোর্ট করেছিলেন। আমিতো কখনও কোথাও বলিওনি আবার লিখিওনি যে আমি দেশপ্রেমিক। তাহলে কী সাগর-রুনির খুনিরা যাতে গ্রেফতার হয়, তাদের বিচার হয়, মেঘ জানতে পারে যে কোন নরপশু তার প্রিয় বাবা-মাকে তার কাছ থেকে চিরজীবনের জন‍্য সরিয়ে দিয়েছে ইত‍্যাদি নিয়ে আর লেখালেখি করবো না আমি। এই বার্তাটিই কী আমাকে দিতে চাইছেন বর্ণরা। এধরণের আবদার কী খুনিদেরকেই উৎসাহিত করে না? ছবি-ফেইসবুক থেকে নেয়া।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s