আর নয় অপেক্ষা, সাগর-রুনিদের খুনিদের এক্ষুণি ধরুন নইলে ব‍্যর্থতা স্বীকার করে পদত‍্যাগ করুন

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ।। “সাগর-রুনি হত‍্যামামলা নিয়ে আর কোন কথা বলবো না আমি।” এই কথা বলার কয়েক ঘন্টার মধে‍্যই তার মুখে ফের খই ফুটছে একই মামলা প্রসঙ্গে। তবে সেই পুরনো কাসুন্দি। নতুন কিছু নেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি সাহারা খাতুনের কথায়। সাহারা বলেন “অপেক্ষা করেন। দেখেন, ধরা হয় কি না। অবশ্যই ধরা হবে।” তিনি অবশ‍্য একটা কথা বলতে ভুলে গেছেন। সেটা হলো “আমরা ধরতে পারিনি, ধরার চেষ্টা করিনি, ধরার উদে‍্যাগ নিলেও রহস‍্যময় কারণে সেই উদে‍্যাগকে কবর দিয়েছি।” উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলিতে সাগর-রুনির হত‍্যাকান্ডের মতো নৃশংস ঘটনা ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই জনগণের নিরাপত্তা প্রদানে ব‍্যর্থতার দায় কাঁধে নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি পদত‍্যাগ করতেন। কিন্তু আমাদের চামড়াতো গন্ডারের চামড়ার চেয়েও পুরু। এমন শত হত‍্যাকান্ডেও আমাদের সেই চামড়ায় সূঁচ পরিমাণও কোন ব‍্যথা অনুভূত হয় না। আমাদের চামড়ায়, পিঠে হাতুড়ি বা গজাল মারলেও আমাদের চামড়ার কিছুই আসে যায় না। আমাদের অনুরাগ, বিচার, বুদ্ধি, বিবেক, অনুভূতি এত বেশি পরিমাণে লোপ পেয়েছে যে কোন নৃশংসতাই আমাদের হৃদয়-মনকে গলাতে পারে না।
চেয়ার, ক্ষমতা ও মন্ত্রিত্বের এত মধু তা ফেলে যাই কী করে বলুন? একবার যে এই মধু খেয়েছেন তিনি সেই মধু বারবার শতবার হাজারবার কোটিবার খেতে চাইবেন। এটাইতো স্বাভাবিক! এটাতো আর জার্মানি নয় যে কারও বিরুদ্ধে পরোক্ষভাবে কোন অভিযোগ ওঠা মাত্রই রাষ্ট্রপতির মতো ক্ষমতাবান কিংবা সম্মানজনক পদও ছেড়ে দিতে বিন্দুমাত্র বিলম্ব করবো না। এটা বাংলাদেশ। সংবিধানে আর মুখের ভাষায় গণতন্ত্র বলবৎ! বাস্তবে যার নূ‍্যনতম কার্যকারিতা নেই। যেখানে গণতন্ত্রই নেই সেখানে গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানোরতো কোন প্রশ্নই থাকার কথা নয়। বিদেশী একজন কূটনীতিক নিহত হলেন। প্রায় এক মাস হতে চললো। কিন্তু খুনি ধরা পড়লো না। পুলিশ, গোয়েন্দা ও র‍্যাব ব‍্যথর্ খুনি ধরতে। তাই খোদ সৌদী আরবের তদন্ত দল আসলো ঢাকায়। এতটুকু পরিমাণ লজ্জাবোধও নেই আমাদের। পররাষ্ট্রমন্ত্রিও পদত‍্যাগ করলেন না আজও! সাগর-রুনির খুনিদের এতদিনেও ধরা হলো না। অথচ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রিও পদত‍্যাগ করেননি এখনও। এতদিনেও খুনিদের ধরা হলো না। তদন্তের কী কতটুকু অগ্রগতি তাও দেশবাসিকে জানালো না সরকার আজও। অথচ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি এখন বলছেন আবার অপেক্ষা করার কথা।
মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি অপেক্ষার সময়সীমাটা নির্ধারণ করে দিলে আমাদের দু:শ্চিন্তাটা কম হতো আর কি? সাগর-রুনির মা ও প্রিয় সন্তান মেঘের কথা ভেবে কী আপনার মনে এতটুকু বেদনার সৃষ্টি করে না? খুনিদের গ্রেফতারে আপনার কী বিন্দুমাত্রও ব‍্যর্থর্তার কথা মনে পড়ে না? সে যাহোক খুনিদের ধরতে চেয়েছেন এটাই অনেক বড় কথা। কিন্তু যেন আসল খুনিদেরই ধরা হয়, সেইদিকটা খেয়াল রাখবেন ভালো করে! আসল খুনিদের বাঁচিয়ে দিয়ে নকল খুনি বা যাকে তাকে ধরে জজমিয়া কিংবা চুরি-ডাকাতির কোন ঘটনা সাজানোর প্রচেষ্টা শুধু আপনার পদ নয় সরকার রক্ষা করাও দায় হয়ে যাবে! দেশে বিদু‍্যতের চাহিদা বেড়েছে এই তত্ত্ব দিয়ে বিদু‍্যৎ সমস‍্যাকে হয়ত ঢাকতে পারবেন কিন্তু খুনিদের রক্ষা করে নিরীহ মানুষকে সাগর-রুনির খুনি বানানোর কোন বাহানাই দেশবাসি মানবেন না। এই সত‍্যটা যেন পুলিশ, পুলিশ প্রধান, আপনি পুলিশমন্ত্রি এবং আপনার সরকারের ভুলে গেলে আখেরে সরকারকেই তার খেসারত দিতে হবে আগামি নির্বাচনের ব‍্যালটযুদ্ধে।
একুশের টিভির খবরে দেখা গেলো, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি সাহারা রীতিমতো ক্ষেপে গেলেন। এবং বারবার উচ্চারণ করতে থাকলেন যে, “আমি অবশ‍্যই ব‍্যর্থ নই”। এখন প্রশ্ন হলো তিনি ব‍্যর্থ নাতো কী আমেরিকা, জার্মানি বা ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি ব‍্যর্থ? বাংলাদেশে সাগর-রুনি খুনের মামলার কিনারা হয় না। কূটনীতিক খালাফ হত‍্যাকান্ডের খুনি গ্রেফতার হয় না। এরদায়ভারও কী ওইসব দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রিদের, নাকি সাহারা খাতুনের?
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি মহোদয় দেশবাসি আরেকটি কথার স্পষ্ট জবাব জানতে চান আপনার কাছ থেকে। সেটা হলো সাগর-রুনির খুনিদের ধরতে আপনি যে ৪৮ ঘন্টা সময় বেঁধে দিয়েছিলেন সেই সময়টা পূর্ণ হবে কখন? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি মহোদয় আর নয় অপেক্ষা। সাগর-রুনিদের খুনিদের এক্ষুণি ধরুন, নইলে ব‍্যর্থতা স্বীকার করে পদত‍্যাগ করুন। ছবিটি ফেইসবুক থেকে নেয়া।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s