জয় দুর্নীতি-অবিচার জয় ডেসটিনি!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ।। দেশজুড়ে এখন ডেসটিনি নামের একটি সংস্থার দুর্নীতি নিয়ে আলোচনা চলছে। মিডিয়ার দারুণ ব্‍্যস্ততা লক্ষ‍্য করা যাচ্ছে এনিয়ে প্রতিবেদন তৈরীর জন‍্য। ডেসিটিনি হয়ত কোটি কোটি শতশত হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। যা জনগণের অর্থ। ছোট বড় এমন হাজারো ডেসটিনি দেশের আনাচে কানাচে গজিয়ে উঠেছে। যে দেশের ৪০ ভাগ মানুষ এখনও দারিদ্রসীমার নিচে বাস করেন সেই দেশের সংসদ সদস‍্যরা কোটি টাকার বেশি মূলে‍্যর গাড়িতে চড়বেন! প্রত‍্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে দুনর্ীতির সঙ্গে জড়িত মানুষের সংখ‍্যা ১০ ভাগের বেশি নয় বলেই আমার বিশ্বাস। আর এই ১০ ভাগ মানুষের জন‍্য বাকি ৯০ ভাগ মানুষ অবিচার, অন‍্যায়ের যাতাকলে পিষ্ট হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। বাড়ছে দেশে দারিদ্র, ক্ষুধা আর অপরাধ। আজও লাখো মানুষ রাস্তার ধারে, গাছতলায় পার্কে ঘুমান। মুক্তিযোদ্ধা ভিক্ষা করেন, রিকশা চালান। নোবেলজয়ীর বিরুদ্ধেও ওঠে দুর্নীতি ও অস্বচ্ছতার অভিযোগ। আমরা এমনই এক দেশে জন্মেছি! আর দুনর্ীতি দমন কমিশন ব‍্যবহৃত হয় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনের হাতিয়ার হিসেবে। কোন বিশেষ সরকারের আমল নয় সব আমলেই সরকারপক্ষ এই কমিশনকে ব‍্যবহার করে সেখানে। ফলে কমিশনেও ঢুকে পড়েছে দুর্নীতি এমন অভিযোগ প্রায়শ:ই শোনা যায়।
ফেইসবুকে আহমেদ ফারুক ডেসটিনির দুনর্ীতি সংক্রান্ত একটি কার্টুন শেয়ার করেছেন। মনের ক্ষোভে আর রাগে সেখানে মন্তব‍্য করেছি “জয় দুনর্ীতি জয় অবিচার” বলে। ফেইসবুকের একটি স্ট‍্যাটাসের ওপর মন্তবে‍্যর মধ‍্য দিয়ে লেখাটির উপসংহার টানতে চাই। ইফতি আবীর নামে একজন ফেসবুক ব‍্যবহারকারি বাংলাদেশের একটি দৈনিকের বিরুদ্ধে হলুদ সাংবাদিকতার অভিযোগ সম্বলিত একটি স্ট‍্যাটাস শেয়ার করেছেন। স্ট‍্যাটাসটি মূলত: “ডেসটিনেশন ইনসপিরাশন” এর। এনিয়ে তিনি হলুদ সাংবাদিকতাকে ধিক্কার জানাই বলে একটি মন্তব‍্য ও কার্টুন এঁটে দেয়া হয়েছে ফেইসবুকে।
আমি বলবো রাজনীতিতে দুনর্ীতি, দুবর্ৃত্তপনা ও সমাজ-রাষ্ট্রে আইনের শাসন গণতন্ত্র পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত কোন পেশার কাছেই শতভাগ খাঁটি সাদা কোন কিছু আশা করাটা বাঞ্ছনীয় নয়! কোন পেশায় এমন দুনর্ীতি দুবর্ৃত্তপনা নেই? দুর্নীতির খবর এখন আর ব‍্যতিক্রম কিছু নয় সেখানে।
শরীরের কোন এক জায়গায় যদি কোন ফোঁড়া ওঠে, কেটে যায় কিংবা পুড়ে যায় সেটা সারানো সম্ভব। কিন্তু কারও যদি রক্তক‍্যান্সার বা ব্লাডক‍্যান্সার হয় তাহলে তাকে কী বাঁচানো যায়? বিজ্ঞানের কল‍্যাণে অনেক অসম্ভবকে এখন সম্ভব করা যাচ্ছে বটে। কিন্তু ক‍্যান্সার আক্রান্ত কাউকে বাঁচানোটা অতটা সহজ নয় এখনও। সাগর-রুনি, খালাফ হত‍্যাকান্ডের তদন্ত থেকে শুরু করে নরসিংদীর গণহত‍্যা সবখানেই দুর্নীতি। নরসিংদীর বর্বর হত‍্যাকান্ডের ঘটনার শিকার নিহতদের একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। বিনাবিচারে হত‍্যা হচ্ছেন মুক্তিযোদ্দার সন্তান। অথচ এই মুক্তিযোদ্ধারাই দেশটাকে শত্রুমুক্ত করেছিলেন। হায়রে বাংলাদেশ! ছবি গুগল থেকে নেয়া।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s