সংবিধান আইন ও বিচার ব‍্যবস্থার বুকে লাথি মেরে বিনা বিচারে মানুষ হত‍্যা অব‍্যাহত!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ।। দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি বাংলা দৈনিকের একটি শিরোনাম “বন্দুকযুদ্ধের ঘটনাটি সাজানো”। শিরোনাম পড়েই বোঝা যায় র‍্যাবের সর্বশেষ কীতর্ি নরসিংদীর গণহত‍্যা। ছয়জনকে গুলি করে হত‍্যার ঘটনার কথাই লিখছে পত্রিকাটি। বন্দুকযুদ্ধে নিহতদের একজন ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। পত্রিকাটির শিরোনাম পড়ে মনে হচ্ছে র‍্যাব এই প্রথম সাজানো বন্দুকযুদ্ধ করলো! আসলেতো ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ র‍্যাব যখন জন্ম নেয় এপ্রিলেই এক শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি হান্নানকে হত‍্যা করে। সন্ত্রাসী মরেছে বলে দেশের অধিকাংশ মানুষই খুশি হয়েছিলেন। সাধারণ মানুষ, বিচারবঞ্চিত মানুষ যাদের কণ্ঠস্বর সমাজের উপরতলায় পৌঁছায় না। যারা দুবর্ৃত্ত রাজনীতির শিকার হয়ে অসহায় হয়ে আছেন। যারা বিচার, ন‍্যায়বিচার দেখার অধিকার হারা। সেইসব সহজ-সরল মানুষগুলি নানাধরণের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজির অত‍্যাচারে অতিষ্ঠ হয়েই সন্ত্রাসীকে হত‍্যা করলে খুশি হলে বলার কিছু নেই। কিন্তু যারা সমাজের বিবেক, কণ্ঠস্বর বলে দাবি করে সেই বিবেক যখন খুনকে প্রশ্রয় দেয়, তা কী মানা যায়? আইন, সংবিধান, বিচারালয়, সংসদ ভুলে গিয়ে সন্ত্রাসী হত‍্যা করার পক্ষে কোন সভ‍্য, শিক্ষিত মানুষ কী দাঁড়াতে পারে? কখনই না, কিন্তু তারপরও আমরা এই প্রবণতা দেখছি বাংলাদেশে। খালেদার আমলে খালেদাপন্থি বুদ্ধিজীবীরা নিরব! আর হাসিনার আমলে হাসিনাপন্থি বুদ্ধিজীবীরা বিচার বহির্ভূত হত‍্যাকান্ডের বিপক্ষে কথা বলে না!
বাংলাদেশে ভাসুরের নাম নাকি নেয়া যায় না, তাই ধরি মাছ নাছুঁই পানি করেই চলছে র‍্যাবের অমানবিক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে নামকাওয়াস্তে প্রতবাদ! কারণ একটাই র‍্যাব যে কাউকে হত‍্যা করে বলবে এটা বন্দুকযুদ্ধ। আর আমাদের মিডিয়া, বিবেবক, বুদ্ধিজীবী তথাকথিত সুশিলরা বলবে যে মরেছে সে দুধর্ষ সন্ত্রাসী, অমুক বাহিনীর প্রধান, তার নামে অনেক মামলা ইত‍্যাদি। র‍্যাবের এই ঘটনাটিই কেবল সাজানো নয়, সব ঘটনাই সাজানো মিথ‍্যা গল্প। মিডিয়ার কারণেই হাসিনা-খালেদার এত জোর র‍্যাবকে কোটি কোটি টাকা দিয়ে পুষিয়ে রাখার। তারা এভাবে মানুষ মেরে সন্ত্রাস বন্ধ করছে না প্রতিপক্ষকে খুশি করছে! খুন, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, প্রতারণা, গুম, অপহরণসহ আরও কত শত অভিযোগ র‍্যাবের বিরুদ্ধে। তারপরো তারা যাতে আকাশ থেকেও বন্দুকযুদ্ধ চালাতে পারে সেজন‍্য হাসিনার সরকার হেলিকপ্টার উপহার দিয়েছে। হেলিকপ্টারের পুরো টাকাই জনগণই দিয়েছে। হাসিনা বা খালেদা কোন টাকা নেই সেই হেলিকপ্টার কেনায়! র‍্যাবের এসব মিথ‍্যা কাহিনীর প্রকৃত সত‍্যটা অন্তরালের রহস‍্যটা তুলে ধরে রিপোর্ট করেছে তারা দেশে থাকতে পারেনি। তথাকথিত ব‍্যালান্স ও এমবেডেড সাংবাদিকতার কারণেই বন্দুকযুদ্ধ নামীয় গল্পটি মানুষকে হজম করতে হচ্ছে।
র‍্যাব ও পুলিশ “সন্ত্রাস” নির্মূলের নামে যাকে তাকে ধরে নেয়। এরপর ক্রসফায়ার করে। কেসফায়ারের পর বিভিন্ন থানায় হত‍্যা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী মামলায় নিহতের নাম জিড়য়ে মিডিয়ার জন‍্য বিবৃতি প্রস্তুত করা হয়। এরপর মিডিয়ার হাতে তুলে দেয়া হয় সেই ডাহা মিথ‍্যা গল্প। এই গল্প কখনও বন্দুকযুদ্ধ, কখনও এনকাউন্টার আবার কখনও ক্রসফায়ার নামে সাজানো হয়। প্রকৃতঅর্থে কোনটাই ঘটেনা বাস্তবে। বেশিরভাগ হত‍্যাকান্ডই ঘটানো হয় রাতে, বিশেষত: ভোর রাতে যখন মানুষ ঘুমিয়ে থাকেন। মিডিয়া হুবহু র‍্যাব বা পুলিশের বক্তব‍্য প্রচার/প্রকাশ করে দেয়। সমাজে সন্ত্রাসী কেন সৃষ্টি হয়, কারা সন্ত্রাসীদের সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন অপরাধ ও অপকর্মে ব‍্যবহার করে সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার সময় নেই মুনাফা ও আপন ব‍্যবসার স্বার্থলোভী মিডিয়ার। মিডিয়া কখনও বন্দুকযুদ্ধের পেছনের কাহিনী খুঁজে বের করার চেষ্টা করে না। গত আট বছরে র‍্যাব নাকি লক্ষাধিক মানুষকে গ্রেফতার করে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে। কিন্তু এই বিপুল সংখ‍্যক মানুষের মধে‍্য কতভাগ প্রকৃত অপরাধী তা নিয়ে মিডিয়া কখনও প্রশ্ন তোলে না। সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ ধরাই যাদের দায়িত্ব, কর্তব‍্য তারা যখন কোন বড় অপরাধী ধরে তখন মিডিয়া র‍্যাব-পুলিশের প্রশংসায় পঞ্চমুখ থাকে। কিন্তু সংবিধান, আইন, বিচার ব‍্যবস্থার বুকে লাথি মেরে র‍্যাব বিনা বিচারে মানুষ হত‍্যা করেই চলেছে, সে প্রশ্ন কখনও সামনে আনে না মিডিয়া। মিডিয়া ও বিবেক যেন অন্ধ হয়ে গেছে! যারা বিনাবিচারে মানুষ হত‍্যার পক্ষে তাদের কাছে প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করে, কেউ সন্ত্রাসী, ছিনতাই কিংবা ডাকাতি করার প্রস্তুতি নিলেই তাকে হত‍্যা করতে হবে নাকি তাকে গ্রেফতার করে তার বিচার করতে হবে? দেশে কী কোন সরকার, আইন, আদালত, সংবিধান আছে? ছবি বিডিনিউজ২৪ থেকে নেয়া।

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s