রক্ষকই যেখানে ভক্ষক সেখানে সাগর-রুনির খুনি ধরা পড়বে কেমনে?


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ।। বিচার বহির্ভূত হত‍্যাকান্ড কী বিচার ব‍্যবস্থা, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় ব‍্যর্থতার বিকল্প একটি রুপ? মানুষ তখনই একটা হত‍্যাকান্ডকে স্বাভাবিক মনে করতে পারেন যখন কোন সমাজে রক্ষক ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়! তাহলে কী বাংলায় এখন রক্ষকই ভক্ষক? সেখানে কী আইন ও শৃঙ্খলা দুটোই কী রসাতলে চলে গেছে? কে দায়ী এই অবস্থার জন‍্য? গোটা সমাজ, নাকি সমাজের “ক্রিম” অংশ যারা সমাজকে পরিচালনা করে? নাকি রাজনীতির ব‍্যর্থতার উল্টোপিঠের নাম বিচার বহির্ভূত হত‍্যাকান্ড?
যে লে.কর্ণেল হাসিনুর রহমান বহু “বন্দুকযুদ্ধ”র পরিচালনা করেছেন জীবনে তাকেই নাকি আজ আবার ক্রসফায়ারের ভয় দেখানো হচ্ছে! এটা আমার কথা নয়। হাসিনের মা কিছুদিন আগে সংবাদ সম্মেলন করে এমন অভিযোগ আনেন। হাসিন এখন বন্দিজীবন কাটাচ্ছেন। নিয়তির কী নির্মমম পরিহাস! কই যখন কোটি টাকার টেন্ডার ছিনতাই হচ্ছে, রাস্তাঘাটে মা-বোনেরা ইভটিজিংয়ের শিকার হচ্ছেন তখনতো কোন বন্দুকযুদ্ধ হতে দেখা যায় না। সাজানো বন্দুকযুদ্ধগুলি কেবল রাত আর নির্জন জায়গাগুলিতেই সংঘটিত করা হচ্ছে! কই যারা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কোটি টাকা ডাকাতি করছে তারতো বন্দুকযুদ্ধে মারা যায় না (ব‍্যক্তিগতভাবে কোন হত‍্যাকান্ড, মৃতু‍্যদন্ড সমর্থন করি না আমি)! সেই ডাকাতির ঘটনা তদন্তে গিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা রহস‍্যজনকভাবে মারা যান কিভাবে? বিচার বহির্ভূত হত‍্যাকান্ডই যদি সন্ত্রাস দমনের একমাত্র ওষুধ হয়, তাহলে কেন সেটা দমন হচ্ছে না। কেন সাংবাদিক সাগর-রুনির খুনিরা গ্রেফতার হয় না। র‍্যাব, গোয়েন্দা ও পুলিশ কী বসে বসে ঘোড়ার ঘাস কাটছে? রক্ষকই যেখন ভক্তক সেখানে সাগর-রুনির খুনি ধরা পড়বে কেমনে?
সমাজে খুন, ছিনতাই ও অপরাধ বেড়েছে বলেই একদল মানুষ র‍্যাব-পুলিশের বিচার বহির্ভূত হত‍্যাকান্ডকে “জায়েজ” করার এবং খুনের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন! আমার কথা হলো, খুনিদের ধরে বিচারের মুখোমুখি করার জন‍্যইতো আইন, আদালত, র‍্যাব, পুলিশ, সংবিধান, সরকার। সমাজ ও রাষ্ট্রে আইনের শাসন, সংবিধানের শাসন, ন‍্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা যায়নি বলেই কী রাষ্ট্র কাউকে খুন করতে পারে? মানবাধিকার কারও ব‍্যক্তিগত ব‍্যাপার নয়, এটা সবার জন‍্যই সমান এবং সার্বজনীন। রাজনীতি দুবর্ৃত্তমুক্ত হলে আর সমাজ থেকে দারিদ্র ও দুর্নীতি দূর করা গেলে সমাজে খুন-অপরাধ কমবে, র‍্যাব-পুলিশকেও আর হত‍্যার পথ বেছে নিতে হবে না। খুনের বদলে খুন কী সমাজে শান্তি স্থাপন করতে পারে? না, কখনও না। তাইতো এত বন্দুকযুদ্ধ রাষ্ট্রীয় হত‍্যা-নির্যাতনের পরও সমাজে সন্ত্রাস, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই কিছুই বন্ধ হচ্ছে না। বরং বাড়ছে! দেশটা কী মগের মুল্লুক? আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই একমাত্র মুক্তির পথ। এবিষয়ে কোন দ্বিধা-দ্বন্দ্ব থাকা উচিৎ নয়।

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s