আমজনতার স্বপ্ন: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ!

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ।। সুইডেনপ্রবাসী বাঙালি চিত্রা পাল ফেইসবুকে “ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ” এর একটি কর্মসূচীর রিপোর্ট তুলে দিয়েছেন হুবহু। ধর্মান্ধ এই মোল্লাদের মূল বক্তব্য হলো ” আগামীতে নারী নেতৃত্বকে ক্ষমতায় আসতে দেয়া হবে না”। কেউ কেউ অবশ্য এটা মনে করেন যে দেশটাকে আফগানিস্তান বা পাকিস্তানের পথে নেয়ার প্রচেষ্টা চলছে! দেশ যে পথেই নিয়ে যাবার তৎপরতা চালানো হোক না কেন দেশ যে ভালো নেই তা বোধহয় অন্ধ রাজনৈতিক সমর্থক চাটুকার-স্তাবক আর ক্ষমতাসিনরা ছাড়া সবাই স্বীকার করবেন।
ক্ষমতাকেন্দ্রিক খালেদা-হাসিনার একগুয়েমির কারণে দেশ আজ জ্বলতে শুরু করেছে! আগুনে পুড়ে জীবন্ত দ্গ্ধ হচ্ছেন দেশের মানুষ, যারা আমজনতা। একদিকে বাসে আগুন, আরেকদিকে গুপ্তহত্যা, অপহরণ গুম ও বিনাবিচারে মানুষ হত্যা। একটা বিরোধীপক্ষের কর্মসূচী অন্যটা সরকারি সিদ্ধান্ত। কোনটা জাতির জন্য মঙ্গল তা কে নির্ধারণ করবেন? আমার, আমাদের মার্তৃভূমি যে ভালো নেই তাতো সংবাদপত্রের দিকে তাকালেই বোঝা যায়। মহাজোট সরকার যেন যেনেশুনেই বিষ পান করতে চাইছে!
সরকার কেন সাগর-রুনির খুনিদের বাঁচাতে চাইছে, কেন তারা নিখোঁজ করলো ইলিয়াস আলীকে, কেন তারা পায়ে পা খিচে ঝগড়া করতে চাইছে বিরোধী দলের সঙ্গে? এসব প্রশ্নের উত্তর হয়তো সরকারের “সর্বপ্রধান!” হাসিনাই জানেন! যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করা, সাগর-রুনিসহ সকল হত্যার খুনিদের গ্রেফতার ও বিচার করা, মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিচার বহির্ভূত হত্যা-নির্যাতন, গুম-অপহরণ ও গুপ্ত হত্যা বন্ধ করা, দুর্নীতি বন্ধ ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া এবং জনজীবনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সমাধানের চেয়ে কী ইলিয়াসদের গুম করে বিএনপি-জামাতের হাতে আন্দোলনের মওকা তুলে দেয়াটা হাসিনা সরকারের প্রধান লক্ষ্য? ইলিয়াস আলীর নিখোঁজ (পরবর্তীতে এটা হত্যার পর গুম র্পযায়েও যেতে পারে, তবে বিএনপির জ্বালাও-পোড়াওয়ের কারণে সরকার পড়ে যাবার ভয়ে হয়ত এমন বোকামির পথে সরকার নাও যেতে পারে!) বিষয়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা নানা ধরণের বক্তব্য দিচ্ছে। যদি তর্কের খাতিরে ধরে নিই যে সরকার তাকে নিখোঁজ করেনি! তাহলে চৌধুরী আলমের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা সরকার পরিস্কার করছে না কেন?
দেশে একটার পর একটা ঘটনা ঘটেই চলেছে। কিন্তু সরকার কোনটারই কিনারা করতে পারছে না। ব্যর্থতা আর ব্যর্থতা। সরকার কী দেশের মানুষের মনোভাবটা বুঝতে পারছে? সরকার কী এটা বুঝতে পারছে না যে তাদের জনসমর্থন ক্রমশ: নিচের দিকেই নামছে? হাসিনা সরকার বড় নাটক করতে পারে! এখন ইলিয়াস উদ্ধারে নয়া নাটকের মহড়া চালাচ্ছে। হয়ত কিছুক্ষণের মধ্যেই ইলিয়াস সাহেবকে উদ্ধার করবে সরকারি বাহিনী। অথচ এটা পরিস্কার যে ওরাই তাকে অপহরণ করেছিল হত্যা করে লাশ গুম করার জন্য! দেশের মানুষ এমনটাই মনে করে। তবে দেশে-বিদেশে জ্ঞানপাপী অন্ধ আওয়ামী সমর্থকরা সরকারের সঙ্গে সঙ্গে তাল মেলাতে শুরু করেছে একইরকম বক্তব্য প্রদানের মাধ্যমে। কিন্তু চৌধুরী আলম কোথায়, সেই জবাব কে দেবে? বস্তাভর্তি ৭০ লাখ টাকা নাটকের অন্যতম চরিত্র সাবেক রেলমন্ত্রীর এপিএস ফারুকের গাড়িচালক আজম এখনও নিখোঁজ। তার ভাগ্যে কী ঘটেছে তাও সরকার জানাতে পারেনি, কিংবা জানাতে চায় না! আবার বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর গাড়ি চালক আনসার আলীকে সরকারি ফোর্স উদ্ধার করবে কিনা তাও জানানো হয়নি।
ওদিকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান, যিনি অকাজের কাজী বলেই মনে হয়। শুধু সুন্দর সুন্দর বক্তব্য দিয়ে যিনি সংবাদপত্রের শিরোনাম হতে পছন্দ করেন। কিন্তি সমাধান করার মতো মুরোৎ নেই যার তিনিই অধ্যাপক মিজানুর রহমান। যিনি একটা ঠুটো জগন্নাথ র্মাকা কমিশনের প্রধান। যে কমিশন মানবাধিকার লংঘণের ঘটনার কোন তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করার মতোও ক্ষমতা রাখে না সেই কমিশনের চেয়ারম্যান খেকে লাভ কি? লাভতো আছেই! সংবাদপত্র, মিডিয়ায় নিজের নাম ও ছবিটা সুন্দর করে দেখা যায়, দেশবাসি সবাই তাঁকে চিনতে পারেন! আজকের প্রসঙ্গ অধ্যাপক মিজান কিংবা একটা মেরুদন্ডহীন কমিশন নয়। প্রতিক্রিয়া জানাতে চাই চিত্রা পালের দেয়া রিপোর্ট নিয়ে।
যাহোক এবার চিত্রা পালের শেয়ার করা রিপোর্টের প্রতিক্রায়ায় আসতে চাই। নারী নের্তৃত্বই বলি আর পুরুষ নের্তৃত্বই বলি সবইতো পুরুষতান্ত্রিকতার আবরণের ভেতরেই থাকা! কোন নের্তৃত্বইতো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না। তাহলে সমাধানটা কোথায়? শুধু হাসিনা জিন্দাবাদ, বা খালেদা জিন্দাবাদ, মৌলবাদ জিন্দাবাদ, কিংবা এরশাদ জিন্দাবাদ করলেইতো আর দেশে হত্যা, খুন, গুম, সাংবাদিক হত্যার্নিযাতন, সংখ্যালঘু-আদিবাসি নির্যাতন বন্ধ হবে না।
কিংবা রাতারাতি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়ে সব দুর্নীতির মুলোৎপাটন করা সম্ভব না।দেশটাকে সকল প্রকারের অসভ্যতা, জংলিপনা, জঙ্গিপনা, দুর্নীতিপনার হাত থেকে উদ্ধারের উপায়টা কী? কেউ কী সেই উপায়টা বাতলে দিতে পারেন? কোথায় সত্যিকারের গণতন্ত্র আর গণতন্ত্রের প্রতি সহনশীলতা এবং গণতন্ত্রের চর্চা? কী দলে,কী সরকারে, কী বিরোধীদলে কোথাও কী গণতন্ত্র নামক সোনার হরিণটার দেখা মেলে? আমরা যারা আমজনতা তারা তো নারী-পুরুষ কোনটাই বুঝতে চাই না।
আমরা শুধু চাই সাম্য, মৈত্রী, সৌহার্দ্য, সহনশীলতা আর দৃর্বৃত্তমুক্ত একটা সোনার বাংলা। আমরাতো স্বাধীনতার চল্লিশবছর পরও যুদ্ধাপরাধীদের আস্ফালন দেখতে চাই না। চাই না বিচারের নামে কোন রাজনৈতিক সুবিধাবাদিতার কৌশলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রলম্বিত করার কোন নাটকের মঞ্চায়ন! মানুষ দু’বেলা দু’মুঠো ভাত খেয়ে শান্তিতে ঘুমোতে পারবে। সাগর-রুনিরা র্নিভয়ে সত্যটা জাতির সামনে তুলে ধরতে পারবেন। মেঘ বা র্পশিয়ারা বামা-মায়ের স্নেহ-ভালবাসা থেকে বঞ্চিত হবে না। মানুষের স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা থাকবে, ইলিয়াস কিংবা চৌধুরী আলমদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকলে তার বিচার হবে। বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড, নিখোঁজ, গুম, গুপ্ত হত্যাসহ সকল ধরণের মানবাধিকার লংঘণ বন্ধ করবে সরকার। প্রতারক-মিথ্যা অভিযোগকারিদের পক্ষ নিয়ে কোন সাংবাদিক বিউটিপারলারের বদনাম করে রিপোর্ট করবে না। কালো সাংবাদিকতা, কালো টাকার মালিক ও ব্যবসায়িরা মিডিয়ার মালিক হতে পারবে না কখনও।
মহান সংসদ ব্যবসায়িদের আড্ডাখানা না হয়ে হবে সত্যিকারের দেশদরদী ত্যাগি (নিজ পরিবার, দল, গোষ্ঠী ও আত্মীয়-স্বজনদের জন্য নয়, দেশের মানুষের প্রতি ত্যাগ) রাজনীতিকদের সভ্য বচনের তর্কমঞ্চ। দেশে থাকবে না কোন মৌলবাদ, ধর্মান্ধতা ও অন্ধ কু-সংস্কার। সেখানে থাকবে শুধুই মানবতার পরশ আর ভালোবাসার বন্ধন। রাজনীতিকরা কেবলই থাকবেন মানুষের পক্ষে দলের দুর্বৃত্তের বা র্দর্নীতিবাজদের পক্ষে নয়, সরকার, বিচারালয় হবে সকল মতপথ আর স্বার্থের উর্দ্ধে আইন ও সংবিধানের শাসন প্রতিষ্ঠায় সদা তৎপর।
মন্ত্রি-এমপি, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রি, বিরোধীদলীয় নেতা-নেত্রী, সরকারি আমলা, এনজিওকর্মী, সাংবাদিক,আইনজীবী, বিচারক, সুশিল সমাজ সবাই দুর্নীতি ও রাজনৈতিক পক্ষাবলম্বনমুক্ত হয়ে দেশের জন্য, দশের জন্য, মাটি-মানুষের জন্য দেশপ্রেমের ধারায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাবেন। তাঁরা সর্বদা থাকবেন সত্য, ন্যায় আর সুন্দরের পক্ষে।
এসবইতো আমাদের সাধারণ মানুষের স্বপ্ন। এই স্বপ্ন পূরণের রাজপুত্র, রাজকন্যার দেখা মিলবে কখন? আদৌ কী স্বপ্ন পুলণ হবে আমাদের এই জনমে? তবুও আশা ছাড়ি না আমরা। শত বঞ্চনা, দু:খ-কষ্টের ভেতরেও মোদের মনের ভেতরে আশার আলো বুদ বুদ করে জ্বলে থাকে সারাক্ষণ! একদিন না একদিন সকল অরাজকতা, অব্যবস্থা, অপশাসন ধ্বংস হবে নিশ্চয়ই। ছবি কালের কণ্ঠ থেকে নেয়া। editor.eurobangla@yahoo.de, http://www.eurobangla.org/

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s