বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড: দেশ গোল্লায় যাক তাতে কী, একই পথে দুই বেগম?


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।।আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড সম্ভবত: সিরাজ শিকদার হত্যাকান্ড দিয়েই শুরু হয়েছিল। রক্ষীবাহিনীতো ছিল সরকারি দলের ক্যাডারদের দ্বারা গঠিত রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার একটি বাহিনী। মোটাদাগে এরপরে আসলো বেগম জিয়ার অপারেশন ক্লিনহার্ট পরে এলিট কিলার। যার ধারাবাহিকতা রক্ষা করে চলেছেন বেগম হাসিনা! মানুষের বাঁচার উপায় বোধহয় সেখানে আর কল্পনা করা যাবে না কোনদিনও যদি না বড় ধরণের কোন আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক বৈপ্লবিক পরিবর্তন না ঘটে! এইতো হলো আমাদের স্বাধীন মাতৃভূমিতে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের ইতিহাস।
স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে আজ অবধি কত মানুষ বিনাবিচারে নিহত হয়েছেন তার সঠিক পরিসংখ্যান দেয়া কঠিন। তবে বিশেষ মর্যাদাশীল বাহিনী গঠন হবার পর তথা খালেদা-নিজামীর আমল ২০০৪ থেকে আজ র্পযন্ত সাত হাজারের অধিক মানুষ নিহত (গুপ্তহত্যা-অপহরণ, গুমসহ)হয়েছে বলে অসমর্থিতস সূত্রের খবর।
সন্ত্রাস দমনের নামে গণহারে বিনাবিচারে মানুষ মারার পরও দেশের প্রধানমন্ত্রিরই জীবনের নিরাপত্তা নেই। খোদ প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনার জীবন এখন অনিরাপদ। কাজেই সাধারণ মানুষের জীবনের কোন নিরাপত্তার প্রত্যাশা করাও পাপ। তাঁর জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রি অনিরাপদ মানেই দেশের ১৫ কোটি বা ১৬ কোটি মানুষই নিরাপত্তাহীন!
ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকা আর যেকোন উপায়ে ক্ষমতায় যাওয়ার দুই বেগমের এই মানসিকতার কারণে দেশ আজ আবার এক অনিশ্চয়তার অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছে।
এই দুই বেগম স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করলেও ক্ষমতার স্বার্থে উভয়ই সেই স্বৈরাচারকেই রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করেছেন পুনরায়। আর আজকে একজন যুদ্ধাপরাধীদের বন্ধু অন্যজন স্বৈরাচারের রাজনৈতিক পার্টনার। দেশবাসি অসহায় ক্ষমতাকে নিয়ে দুইয়ের কামড়াকামড়িতে। বিশ্বসভায় রসাতলে যাচ্ছে দেশের ভাবমূর্তি, শূণ্যের কোঠায় নেমে গেছে দেশের মানবাধিকার। বাড়ছে জনগণের কষ্ট আর দুর্ভোগ। জনগণকে দেখার যেন কেউ নেই!
সোনার বাংলাকে আবার তৃতীয় শক্তির হাতে তুলে দেয়ার নামে অরাজনীতিকরণ করা হচ্ছে। না অন্য কেউ নয় হাসিনা খালেদা হাত ধরাধরি করে সেই পথেই হাঁটছেন! এই দুইয়ের বিপরীতে জনজাগরণ ছাড়া দেশকে বাঁচানো যাবে কী? ছবি গুগল থেকে নেয়া।

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s