সাংবাদিকদের ঘুম পাড়িয়ে খুনিদের না ধরে সাগর-রুনিকে কবর থেকে তুলছে ওরা!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। সাংবাদিকদের ঘুম পাড়িয়ে খুনিদের না ধরে সাগর-রুনিকে কবর থেকে তুলছে ওরা! এ কোন খেলা, নাটক? কবর খুঁড়ে সাংবাদিক সাগর-রুনির লাশ তুলতে চাইছে এলিট ফোর্স। তারা নাকি এবার ভিসেরা রিপোর্ট বের করবে! আড়াই মাস পর লাশ তুলে কী ভিসেরা পাওয়া যাবে? এই প্রশ্নের উত্তর দেবেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু সাধারণ জ্ঞান বলে এখন আর ওটা করে কোন লাভ হবে না। এই কাজটাতো হত্যাকান্ড ঘটার পরপরই করা উচিৎ ছিল। সেটা না হয় পুলিশ ভুল করেছে। কিন্তু লাশ কবর দেবার পরওতো এটা করতে পারতো বিশেষ এই বাহিনী। নাকি খুনের যাতে সকল আলামতই নষ্ট হয়ে যেতে পারে তাই নিশ্চিত করার জন্য এতোদিন বাদে তারা এবার সাগর-রুনিকে আবার তুলবেন কবর থেকে! দেশবাশিকে তারা হয়তো এমন একটা ধারণা দিতে চায় যে “আমরাতো (সরকার) চেষ্টার কোন ত্রুটি করছি না। সবরকম সম্ভাবনাগুলিকে যাচাই-বাছাই করে নিচ্ছি। কিন্তু তারপরও খুনিদের ধরতে পারছি না। কারণ খুনিরাতো অনেক পাওয়ারফুল। ওদের গায়ে হাত দিলে হয়ত দেশ থেকে বন্দুকযুদ্ধের মতো ডাহা মিথ্যা কল্পকাহিনীও আর কোনদিন বানানো যাবে না। কিংবা হাসিনার জোট, মহাজোট সরকারও পড়ে যেতে পারে।”
এলিট ফোর্সের সৎ ইচ্ছা থাকলে তারা এতোদিনে ঠিকই সাগর-রুনির খুনিদের ধরতো। সমস্যাটাতো সেখানে নয়। সমস্যার শেকড় অনেক গভীরে। খুনিদের সাথে সম্পর্ক অনেক উপরের! তাই এলিট ফোর্স এবার নয়া নাটকের অবতারণা করেছে সময়টাকে মানুষের চোখ থেকে দূরে নিয়ে যাবার জন্য। দুর্যোগের ঘনঘটা, অশনিসংকেত, চারিদিকে হতাশা আর ষড়যন্ত্রের গন্ধ। এমন পরিস্থিতি তৈরীতে হাসিনা-হানিফদের অনেক সফলতা। সরকারের ভুলে, ভুল অংকের ফল জনগণের নাভিশ্বাস অবস্থা। তাহলে কী হবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের? খালেদা-নিজামি কিংবা মোল্লা-যুদ্ধাপরাধীরাতো সুযোগ নিতে চাইবেই, কিন্তু সেই ফাঁদে কী কেউ নিজে নিজেই পা দেয়?
বিনাবিচারে মানুষ মারায় সিদ্ধহস্ত এই বাহিনীর পারঙ্গমতার ধার কতো তাতো আড়াই মাসে বুঝে ফেলেছেন দেশবাসি। আসলে এটা নতুন নাটক। বস্তাভর্তি টাকা ও সুরঞ্জিৎ নাটক, ইলিয়াস নাটক, সমুদ্রজয় নাটকসহ আরও কত নাটকের সফল মঞ্চায়ন? আর এথন সরকার সাগর-রুনির নিথর হাঁড়-গোড়গুলিকে সম্ভবত খুন করতে চায়!
রুনির ভাই নওশের বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন শিশু মেঘের দায়িত্ব নেয়া প্রধানমন্ত্রি আড়াই মাসেও আর কোন খোঁজ নেননি মেঘের।
মেঘের হৃদয়জুড়ে অবিরাম কষ্টের বর্ষণে এতটুকুও দাগ কাটেনি মৌখিকভাবে মেঘের সব দায়িত্ব নেয়া সরকার প্রধানের। যাহোক সাগর-রুনির গলিত লাশ তুলে তাদের পরিবারের কান্না ও কষ্টকে আরও না বাড়িয়ে বরং খুনিদের ধরাই যেকোন বাহিনী বা সরকারের প্রধান কাজ হওয়াটা জরুরি। সাগর-রুনি কোন ভুত-পেত্নি খুন করেনি যে খুনিরা গায়েব হয়ে গেছে।
অষ্ট্রেলিয়াপ্রবাসী সাংবাদিক ফজলুল বারীর লেখায় জানলাম আজ প্রথিতযশা প্রখ্যাত সাংবাদিক তোয়াব খান এর শুভ জন্মদিন। প্রিয় ও শ্রদ্ধেয় এই সাংবাদিককে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর মাধ্যমে লেখার সমাপ্তি টানতে চাই। দৈনিক বাংলায় কনিষ্ঠ সংবাদদাতা হিসেবে (পঞ্চগড় থেকে কাজ করার সময়) তোয়াব ভাইকে কাছে থেকে দেখেছি। কথা বলেছি। একজন আপাদমস্তক স্মাট মানুষ। দীর্ঘজীবি হোন তোয়াব ভাই। শুভ জন্মদিন।
পরিশেষে আশা করবো সাংবাদিকদের ঘুম ভাঙবে শিগগিরই! সাগর-রুনিসহ সকল সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতনের প্রতিবাদে তাঁরা আবার মাঠে নামবেন। খুনিদের শনাক্ত না করা পর্যন্ত, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সাংবাদিকদের লেখনি এবং সংগ্রাম পাশাপাশি চলতে থাকবে। স্বরাষ্টমন্ত্রির বাসায় গিয়ে চা পান আর গণভবনে গিয়ে প্রীত হলেও অসুবিধা নেই কিন্তু খুনিদের ছাড় দিলে গণতন্ত্র গণমাধ্যমের কোনটারই অস্তিত্ব থাকবেনা। ছবি ফেইসবুক থেকে নেয়া।

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s