রিমনের প্রতিবদেনে ইলিয়াস নিখোঁজ রহস্য উন্মোচন: বাঘে ধরলে ১৮ ঘা পুলিশে ছুঁলে ৩৬ আর বিশেষ বাহিনী ধরলে কোটি ঘা!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ।। ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’ এর একটি বিশেষ অনুসন্ধানী খবরে বিএনপি নেতা ইলিয়াস নিখোঁজ রহস্যের উন্মোচিত হয়েছে। সাহসী সাংবাদিক সাইদুর রহমান রিমন এই রহস্যটা বের করেছেন অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মন, মনন ও মেধাশৈলীকে কাজে লাগিয়ে। অনেক ধন্যবাদ রিমন ভাই আপনাকে। রিপোর্টটির শিরোনামই বলে দিচ্ছে ইলিয়াস নিখোঁজ রহস্যের পেছনে সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ বাহিনী এলিট ফোর্স এই সন্ত্রাসী ও ক্রিমিনাল অফেন্সটি সংঘটিত করেছে। কিন্তু সেই অপকর্মের অনেক তথ্য-প্রমাণাদিও তারা রেখে দিয়েছে তাদের অজান্তেই। যদিও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অনেককেই তারা ইতোমধ্যেই শায়েস্তাও করে ফেলেছে!
সাংবাদিক সাইদুর রহমান রিমনের প্রতিবেদনের শিরোনামটি হলো-“ইলিয়াস নিখোঁজ রহস্য। প্রত্যক্ষদর্শী এক পুলিশ কর্মকর্তা। ধমক দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয় পুলিশ কর্মকর্তাকে * গোপন ভিডিও ক্যামেরায় ঘটনাটি ধারণ করা হয় * উদ্ধার অভিযান লোক দেখানো”।
রিপোর্টে ইলিয়াস অপহরণ-নিখোঁজ কিংবা গুম নাটকের রচয়িতাদের নাম রিমনের রিপোর্টে পরোক্ষভাবে উঠে এসেছে। রিমন ভাই বিশেষ বাহিনী বলে উল্লেখ করেছেন রিপোর্টে। এটুকুই যথেষ্ট। বাংলাদেশে বিশেষ বাহিনী বলতে জনগণ এলিট ফোর্সকেই বোঝেন। যদিও সেই বিশেষ বাহিনীটা দেশে সাংবাদিকদের কাছে অনেকটা ভাসুরের মতোন!বাযালী সমাজের বধূরা সাধারণত: ভাসুরের নাম নেন না। তাই সাংবাদিকরা ভাসুরের নাম নিতে চায় না। আসলে সমস্যাটাতো নাম নেয়াতে নয়। এখানে ভাসুরের নাম নেয়াতে কোন লজ্জার বিষয়ও বা কাউকে অসন্মান করার ব্যাপারও না। প্রবাদ আছে “বাঘে ধরলে ১৮ ঘা। কিন্তু পুলিশে ছুঁলে ৩৬ ঘা। আর রেবে (এলিট ফোর্স বা রিমন ভাইদের মতে বিশেষ বাহিনী) ধরলে কোটি ঘা, জীবনও শেষ। তাই ওদের নাম নেয়া মানা! আর নাম নেবেনই বা কী করে? এই ফোর্সটিতো সকলকিছুর উর্দ্ধে। যাকে তাকে ধরে যখন তখন জীবনটা কেড়ে নেয়ার ক্ষমতা দিয়েছে দেশের দুর্বৃত্ত রাজনীতি। পরোক্ষভাবে সাংবাদিকরাও এই বিশেষ বাহিনীর হত্যা-খুনের সহযোগি ভূমিকাতেই থাকতে চায়! আর না থেকেই বা কী করার আছে সাংবাদিকদের? সাংবাদিকদের কাছে তো আর একে ৪৬ বা একে৪৭ নেই! সাংবাদিকদের অস্ত্রতো সেই ছোট্র একটা কলম আর সাদা কাগজ। তাছাড়া দেশেতো কোন নিয়ম, নীতি বা আইনের শাসন নেই। অনেকটা জোর যার মুল।লুক তার মতো অবস্থা! তাই উনাদের নামের বেলায় উহ্য রাখতে স্বাছ্যন্দবোধ করেন সাংবাদিকবন্ধুরা। এর কোন বিকল্পও সাংবাদিকদের সামনে আছে বলে মনে হয় না। প্রশ্নতো সেটা নয়। কথা বলতে চাই সাংবাদিকতার নৈতিকতা নিয়ে। একজন সাংবাদিক হিসেবে সহজ-সরল প্রত্যক্ষদর্শী সোর্স যাদের নিরাপত্তা নির্ভর করে অনেক সত্য উৎঘাটনে সেইসমস্ত নিরীহ মানুষদের নাম, ছবি প্রকাশ করবো কী করবো না? এটা খুব জটিল প্রশ্ন। বাংলাদেশের সাংবাদিকতাতো আর ইউরোপের সাংবাদিকতার সাথে তুলনা চলে না। সাংবাদিকতার স্বত:সিদ্ধ নৈতিকতা বলে সাংবাদিকের লেখনিতে কোন অপরাধ বিষয়ক রিপোর্টিংয়ের বেলায় সোর্স বা প্রত্যক্ষদর্শীর নাম ও ছবি প্রকাশে অবশ্যই সাংবাদিকদের সতর্ক হতে হবে। সোর্সকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। সোর্সের কোন বিপদ ঘটে এমন কোন কিছু লেখা বা বলা যাবে না। কৌশলে সোর্স এর নাম ব্যবহার করতে হবে যতটা সম্ভব!এক্ষেত্রে আমাদের অনৈতিক অপেশাদারি সাংবাদিকতা কিছুটা পটু বা এগিয়ে আছে বলা যায়!
সেদিন কোন এক চ্যানেলে দেখলাম একজন ডাবওয়ালা ও আরেকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর ছবিও দেখিয়ে দিলো। এভাবে সাধারণ মানুষদের জীবনটাকে সেই বিশেষ বাহিনীর ক্রসফায়ার বা গুম, গুপ্তহত্যার মুখে ঠেলে দেয়ার সাংবাদিকতা কী নৈতিকতার মানদন্ডে প্রশ্নবিদ্ধ নয়? খবরের সোর্সকে বাঁচানোর দায়িত্ব কিন্তু সাংবাদিকেরই। হ্যাঁ হয়ত অনেকেই বলবেন নিরাপদ দূরত্বে থেকে অনেক কিছুই বলা যায়। তবে হ্যাঁ নিরাপদ দূরত্বে নয়, জ্বলন্ত আগুনের মধ্যেও বলেছি সত্যটা সরাসরি। তারও খতিয়ান রাজশাহীবাসি ও দেশের সাংবাদিক বন্ধুদের কাছে নিশ্চয়ই আছে! তারপরও বলবো সাইদুর রহমান রিমন স্রোতের পক্ষে নয়, সত্যটাকে তুলে আনার সফল চেষ্টা করেছেন স্রোতের বিপরীতে যেয়ে। এই সত্য বলাটাইতো সেখানে (স্বদেশে) একটা সমস্যা। আবার সত্যটা যদি কোন সুপ্রিম পাওয়ারের বিপক্ষে যায়, তাহলে কী জীবন থাকে কারও? রিমন ভাই যে সেই বিশেষ বাহিনী বা কালো বাহিনী কিংবা এলিটবাহিনীর টার্গেট হবেন না তার কী নিশ্চয়তা আছে মায়ের ভূমিতে। আমরাতো জানি মাসুমের অবস্থা। আমারটা নাহয় নাইবা বললাম এখানে! সাইদুর রহমান রিমন আপনাকে অভিনন্দন, ধন্যবাদ।
দেশের প্রধানমন্ত্রিওতো এই এলিট বাহিনীর কথাই বলেছেন ইলিয়াস নিখোঁজ বিষয়ে। খালেদা ও এলিট বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে হাসিনা বলেছিলেন, ওদের নিজের সৃষ্টি এখন ওদেরকেই খাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রির এই বক্তব্য থেকেও রিমনের প্রতিবদেনের সঙ্গে একটটা পাওয়া যাচ্ছে। কাজেই এটাই সত্য! কে এখন বিশেষ এই বাহিনীকে জিজ্ঞাসা করবে যে ইলয়াস কোথায়? সেখানে কী কোন জবাবদিহিতা আছে, নাকি কোন সংবিধান-আইনের শাসনের দেখা মেলে ওই বধ্যভূমিতে? ছবি ফেইসবুক থেকে নেয়া।

Advertisements

One response to “রিমনের প্রতিবদেনে ইলিয়াস নিখোঁজ রহস্য উন্মোচন: বাঘে ধরলে ১৮ ঘা পুলিশে ছুঁলে ৩৬ আর বিশেষ বাহিনী ধরলে কোটি ঘা!

  1. আকাশ, শুধু প্রতিবাদ আর প্রতিবেদনের কারণে জীবনের উপর ভয়াল ঝুঁকি নিয়ে আপনারা কেউ কেউ সাংবাদিকদের সাহসীকতার উদাহরণ হয়ে আছেন। শামছুর রহমান, মানিক সাহা, আলাউদ্দিন, বালু ভাইসহ অনেকে নিজেদের জীবনটাও অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছেন। আমরা এসব সার্টিফিকেট ভাঙ্গিয়ে নিজেদের সম্মান আদায় করতে বড়ই উৎসাহী। কিন্তু আমি নিজে একটা ভীতুর ডিম-আপনাদের মতো সাহসী ভূমিকা নিয়ে উদাহরণ হবার সাহসটা পর্যন্ত দেখাতে পারিনি। বরং উগ্রপন্থী উলফাদের মৃত্যুদন্ড ঘোষণায় আতংকিত হয়ে কাপুরুষের মতো পালিয়ে পালিয়ে বেড়িয়েছি….
    তবু আপনাদের সহকর্মি হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতে সত্যি সত্যিই গৌরবান্বিত মনে করি। আপনাকে অযথা বাড়িয়ে বলে খুশী করার কোনো কারণ নেই, কারণ, আপনার কাছ থেকে কোনো সুযোগ-সুবিধা আদায়ের কিছু নেই। সঙ্গত কারণেই আমি মনের কথাটি এখানে লিখলাম এ ব্যাপারে নিশ্চিত থাকতে পারেন।

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s