সোশ্যাল মিডিয়া ও নৈতিকতা!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। সোশ্যাল মিডিয়ায় কী প্রচার বা প্রকাশ করা যাবে? কোনটা নৈতিক আর কোনটা অনৈতিক? ইউরোপে এসব কঠোরভাবে অনুসৃত হলেও এশিয়া বিশেষত: বাংলাদেশে এর কোন বালাই নেই। ফেইসবুকারদের অনেকেই যা খুশি তাই ছাপছে, প্রচার করছে!
এম জাকির হোসেন নামে জনৈক এক ফেইসবুকার একটি ছবি আপলোড করেছেন ফেইসবুকে। ছবির ক্যাপশনে বলা হয় “অপরাধকণ্ঠের মিরপুর এলাকার নামধারী সাংবাদিক মাসুদ রানা”। ছবিটিতে এক ব্যক্তি এক নগ্ন নারীকে চুম্বন করছেন। এই ছবিটি তোলাই হয়েছিল একটা উদ্দেশ্য নিয়ে। ছবিটি প্রকাশ করার মধ্য দিয়ে ব্যক্তিগত অধিকার লংঘণ ঘটনো হয়েছে। সেটা যেই করুক না কেন!
মাসুদ রানা এই কর্মটি করেছেন! আর এই ছবিটি প্রকাশ করেছেন যিনি তিনিও একই কাজটি করলেন। উভয়ই সমান অপরাধী! ব্যক্তিগতজীবনে বুকে হাত কে বলতে পারবেন এমন ন্যুড মানসিকতার লোভ সংবরণ করতে পেরেছেন? অনেকেই বিশেষ করে বাংলাদেশে ফেইসবুক ও সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করা হচ্ছে পর্ণোগ্রাফি মানসিকতাকে উস্কে দেবার জন্য। কেউ কোন অপরাধ বা কোন প্রতারণা, ব্লাকমেইলিংয়ের সাথে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে থানা-পুলিশ আইন-আদালত করা যেতে পারে। কিন্তু কারও ব্যক্তিগত বিষয় পাবলিক করাটা কী নৈতিক? এমন কত শত হাজারো মাসুদ বাংলাদেশের মিডিয়া জগতে আছে, তার কী কোন পরিসংখ্যান আছে কারও কাছে? অনেক সংবাদকর্মী আছেন ঢাকায় যাদের আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের আকাশ-পাতাল ফারাক, তারা কী অনৈতিকভাবে অর্থ কামাই করে জীবন ধারণ বা বিলাসবহুল জীবন-ডাপন করছে না?
আমরা যে কত বিকৃত রুচি, মানসিকতার হতে পারি তা ফেইসবুকে ছবি কারসাজি নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যাবে না! ছি, লজ্জা হয় নিজেকে মানুষ বলে দাবি করতে? কাউকে রাজনৈতিক কারণে কিংবা তার কৃতকর্মের কারণে আমার পছন্দ নাও হতে পারে। তার মানে এই নয় যে তার ছবি অন্য কোন নগ্ন বা অর্ধনগ্ন ছবির সঙ্গে যুক্ত করে দিয়ে নিজের কুরুচিপূর্ণ মানসিকতাটাকে প্রকাশ করবো! জামায়াত ও তাদের দোসর, আশ্রয়দাতা ছাড়া সকলেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চান। কিন্তু কোন চিহ্নিত রাজাকারের ছবি কারসাজি (যেটা আসল নয়, নকল) করে ফেইসবুকে আপলোড করবো। এমনটা দেখা যায় খালেদা, হাসিনার ছবিতেও। কিন্তু কেন? যারা এটা করছি তারা কী বুঝতে পারছি না যে কি সংস্কৃতির উপহার দিচ্ছি আমরা এই বিশ্বকে। বাংলা/বাঙালি সংস্কৃতির তো একটা তাৎপর্যপূর্ণ ঐতিহ্য আছে নাকি?শুধু কী তাই এই ইউরোপে কারও ছবি (বিকৃত নয় স্বাভাবিক) ফেইসবুক বা অন্যকোথাও আপলোড করতে চাইলে তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুমতি নিতে হয়। এমনকি কোন শিশুর পর্যন্ত। এই ন‌্যূনতম সৌজন্যতা, ভদ্রতা, ভব্যতার তো কোন বালাই নেই অনেকেরই কাছে। তারপর আবার কারও ছবি বিকৃত করা, এটা কী কোন সভ্য মানুষ কল্পনায়ও ভাবতে পারেন? কখনও না!
যাহোক এভাবে হাসিনা, খালেদা, এরশাদ, সুরঞ্জিৎ থেকে শুরু করে নিজামি পর্যন্ত কেউই বাদ যাননা। সবাইকে ন্যাংটো করে ছবি দেয়া হচ্ছে বিকৃত মানসিকতার পরিস্ফুট প্রকাশের মাধ্যমে। অনেকে আবার অশ্রাব্য অসভ্য ভাষা প্রয়োগের মাধ্যমেও সোশ্যাল মিডিয়াকে কলুষিত করছে। যা সম্পূর্ণ অনৈতিক, অনৈতিক, অনৈতিক এবং গর্হিত কাজ, এধরণের বিকৃত লালসাপূর্ণ মানসিকতাকে কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। যারা অসভ্য-অশ্রাব্য ও অভদ্র ভাষায় ফেইসবুকে ব্যবহার করে এবং যারা বিকৃত ও কুরুচিপূর্ণ ছবি আপলোড করে তাদেরকে ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ শনাক্ত করে তাদের একাউন্ট বাতিল করলে সবচেয়ে ভালো হতো। এমন অসভ্যতা কেবল ফেইসবুকেই নয় অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়াতেও দেখা যায়। এসব বন্ধ হওয়া উচিৎ। ছবি ফেইসবুক থেকে নেয়া।

Advertisements

One response to “সোশ্যাল মিডিয়া ও নৈতিকতা!

  1. ভাই আপনি কি কার্টুনেরও বিরোধি? মানুষের সুন্দর দেহের ভেতরে কংকাল আছে, এইটা ভুলে গেলে কী চলবে!

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s