Monthly Archives: মে 2012

সাংবাদিক নির্যাতনের মহাউৎসব: সবকিছুই ওই দুবর্ৃত্ত রাজনীতির হাতেই আটকা পড়েছে!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। বাংলাদেশে কী কোন যুদ্ধ চলছে? দেশে কী হচ্ছে? কী হতে যাচ্ছে? কী হবে দেশের ভবিষ‍্যৎ, কী আছে দেশের ভাগে‍্য? একের পর এক সাংবাদিক নির্যাতন ও হত‍্যার ঘটনাগুলির সঙ্গে কী কোন বিশেষ শক্তি জড়িত? সেই শক্তি কী দেশের সরকারের চেয়েও ক্ষমতাধর? যা ঘটছে তা কী পরিকল্পিত কোন ঘটনার পূর্বমহড়া? দেশে কী বড়ধরণের কোন ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে? বিরামহীনভাবে চলা সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনাগুলি কী অনাগত সেই শক্ত কোন ষড়যন্ত্র বা ঘটনা ঘটানোর আলামত? চারিদিকে একটা আতংকাবস্থা। কেমন জানি একটা ভয়, আতংক, হতাশা, উদ্বেগ, নিরাপত্তাহীনতা ভর করছে দেশের মানুষের মনে। মহাজোট সরকারের ভেতরেই কী মোশতাকরুপী কোন মীরজাফরের আমদানি বা আবির্ভাব ঘটেছে? সরকার কী বুঝতে পারছে না যে সব ঘটনাই সরকারের বিরুদ্ধেই যাচ্ছে? নাকি জ্বি-হুজুর, জ্বি নেত্রী, জ্বি-আপাদের খপ্পড়ে পড়েছে সরকার? সরকারের ভেতরের কোন অংশই কী তবে এসব ঘটনাকে জিইয়ে রেখে যুদ্ধাপরাধীদের চলমান আন্দোলনকে ভন্ডুল করতে চাইছে? নাকি যুদ্ধাপরাধীদের নানান প্রশ্ন আসছে মাথার মধে‍্য। এসব জটিল প্রশ্নের উত্তর আমাদের জানা নেই। তবে দেশের পরিস্থিতি যে মোটেও ভালো নেই তা কেউ কী অস্বীকার করবেন?
সাংবাদিকরা বেডরুম, রাজপথ, নিজের অফিস কোথাও কী নিরাপদ আছেন? নাকি সরকার কোন নিরাপত্তা দিতে পারছে সাংবাদিকদের? সাংবাদিক হত‍্যা-নির্হযাতনের ঘটনাগুলির কী কোন কার্যকর তদন্ত করতে পেরেছে সরকার? অতীতের সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতনের কথা বাদই দিলাম। মহাজোট সরকারের আমলে সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতনের কতগুলি ঘটনা ঘটলো! কোন ঘটনায় সঠিক ও সন্তোষজনক তদন্ত করতে পেরেছে সরকার? বরং তদন্তের নামে সরকার নাটক করছে। অন্ততপক্ষে সাগর-রুনির হত‍্যাকান্ডের ঘটনা তারই প্রমাণ দেয়। প্রায় চার মাস অতিবাহিত হলো, কিন্তু সাগর-রুনির খুনিরা ধরা পড়েনি।
হত‍্যার আগে সাংবাদিক সাগর-রুনি বিষ পান করেননি কিংবা তাদেরকে বিষপ্রয়োগ করা হয়নি। ভিসেরা রিপোর্টে একথা বলা হয়েছে। গত ১১ ফেব্রুয়ারি চাঞ্চল‍্যকর এই হত‍্যাকান্ড ঘটে রাজধানী ঢাকায়। এরপর নানান নাটকীয়তার পর পুলিশ তদন্ত কাযর্ক্রম বিষয়ে নিজেদের ব‍্যর্থতা স্বীকার করে আদালতে। এরপর আদালত (সর্বোচ্চ আদালত) সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব‍্যবহার করে সাগর-রুনি হত‍্যা মামলা তদন্তের ভার দেয় এলিট ফোর্স র‍্যাবকে। সেই বিশেষ বাহিনীও এখন পর্যন্ত কোন খুনিকে শনাক্ত করতে পারেনি। তদন্ত কার্যক্রম কতদূর এগিয়েছে তাও দেশবাসি জানতে পারেননি আজও। সাগর-রুনির খুনিদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে সাংবাদিকদের “লোকদেখানো: আন্দোলন চলছে। সাংবাদিক ঐক‍্য নিয়ে ব‍্যাপক আলোচনা ও সুন্দর সুন্দর বক্তব‍্য দিলেও সাংবাদিক নেতারা আজ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বিভক্ত সাংবাদিক ইউনিয়নকে এক করতে পারেননি। জাতীয় প্রেসক্লাব, রিপোর্টার্স ইউনিটি, ফটো সাংবাদিক এসোসিয়েশন, বিভক্ত সাংবাদিক ইউনিয়নসহ অন‍্যান‍্য সাংবাদিক ও এনজিওসাংবাদিক সংগঠনগুলির ঐক‍্যবদ্ধ কোন স্টিয়ারিং কমিটি বা মোর্চাও গড়ে ওঠেনি।
হালআমলে সাংবাদিক নির্যাতনে পুলিশ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। পুলিশ কেন সহিংস হয়ে উঠলো সাংবাদিকদের ওপর? এনিয়ে হয়ত কোন গবেষণা পরিচালনা করলে চাঞ্চল‍্যকর তথ‍্যও বেরিয়ে আসতে পারে! চলতি মাসে ধানমণ্ডিতে বাসচাপায় ইংরেজি দৈনিক দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট পত্রিকার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক বিভাস চন্দ্র সাহা নিহত হন। এরপর বিক্ষুব্ধ সাংবাদিক ও স্থানীয় জনতাকে লাঠিপেটা করে ধানমন্ডি থানা পুলিশ। ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোপালগঞ্জের হওয়ায় তার বিরুদ্ধে আজও কোন ব‍্যবস্থা নেয়া হয়নি। যদিও সাংবাদিকদের “ভাসুরের নাম মুখে আনতে মানা” জাতীয় আন্দোলন কর্মসূচী চলছে! কিন্তু মনিরের খুঁটিতো প্রধানমন্ত্রির কার্যালয় পর্যন্ত পোতা আছে। কে নড়াতে পারে সেই খুঁটি?
আজ (২৯ মে) আবার পুলিশের আক্রমণের লক্পুষ‍্যবস্রাতু হলেন সাংবাদিক। পুরান ঢাকার আদালতপাড়াযর এ ঘটনায় আহত তিন সাংবাদিক হলেন প্রথম আলোর আদালত প্রতিবেদক প্রশান্ত কর্মকার, কালের কণ্ঠের আদালত প্রতিবেদক এম এ জলিল উজ্জ্বল ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের আদালত প্রতিবেদক তুহিন হাওলাদার। এর আগে গত ২৬ মে দায়িত্ব পালনের সময় আগারগাঁওয়ে পুলিশি পিটুনির শিকার হন প্রথম আলোর তিন আলোকচিত্র সাংবাদিক খালেদ সরকার, সাজিদ হোসেন ও জাহিদুল করিম। এই ঘটনায় হাইকোর্ট তিন পুলিশ কর্মকর্তার কাছে ব‍্যাখ‍্যা চেয়ে তলব করেছে। ব‍্যাখ‍্যা চাওয়ার কী আছে? সংবিধানতো স্পষ্ট বলে দিয়েছে কোন অবস্থাতেই কেউ কাউকে নির্যাতন করতে পারবে না। হাইকোর্টে এর আগেও পুলিশ সাগর-রুনির হত‍্যা মামলার তদন্ত বিষয়ে ব‍্যর্থতা স্বীকার করলেও আদালত সেই ব‍্যর্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোন ব‍্যবস্থা নিয়েছে বলে জানা যায়নি। বিচার বহির্ভূত হত‍্যাকান্ড বিষয়েও কোটর্ অসংখ‍্যবার রুল জারি করেছে, সংশ্লিষ্টদের আদালতে তলব করে ব‍্যাখ‍্যা দাবি করেছে। কিন্তু তাতে কী বিচার বহির্ূভত হত‍্যাকান্ড বন্ধ হয়েছে? বরং গুপ্ত হত‍্যা ও গুম বেড়েছে। যেগুলির সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে।
২৮ মে বিডিনিউজ২৪ এর কার্যালয়ে ঘটলো সন্ত্রাসী হামলা ও সাংবাদিক-কর্মচারিদের ওপর আক্রমণ। এরপর কোথায় কে আক্রমণের শিকার হবে তা বলা মুশকিল! বিডিনিউজ এর রিপোর্ট অনুযায়ী, কিছুদিন আগে সাতক্ষীরায় এক সাংবাদিককে একটি রিপোর্টের জন্য মারধর করে হাত পা বেঁধে নদীর পাড়ে ফেলে আসা হয়েছে। দেশে সরকারের টার্গেট বিরোধী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা! আর পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের আক্রমণের লক্ষ‍্যবস্তু হলেন সাংবাদিকরা। দেশে আইনের শাসন থাকলে, গণতন্ত্র বলতে যা বোঝায় বাস্তবে তার চর্চা থাকলে আজ দেশের অবস্থা এমনটা হতে পারতো না!
কিছুক্ষণ আগে ফেইসবুকের এক স্ট‍্যাটাস থেকে জানা গেলো যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি রেগে গেছেন! সাংবাদিক নির্যাতনের বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করার পরই তিনি নাকি বলেছেন যে, “কথা থাকলে অফিসে আসেন। এখানে একটি অনুষ্ঠানে এসেছি।” আসলে রেগে যাওয়ার বাইরে উনাদের আর কী-ই বা করার আছে বলুন? এই ব‍্যর্থদের কারণেইতো দেশ, দেশের মানুষের এতো কষ্ট। বিএনপি-জামাত আমলে আমরা শুনেছি আল্লাহর মাল আল্লায় নিয়ে গেছে। আর এখন শুনতে হচ্ছে ২৪ ঘন্টা, শিগগির ইত‍্যাদি।
বিডিনিউজ এর কার্যালয়ে হামলা ও সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া যুবক জাহেদুল ইসলাম সৌরভ নিজেকে সরকারি দল আওয়ামী লীগের যুব সংগঠন যুবলীগের কর্মী বলে দাবি করেছে। এই যুবক হামলার দায়ও নাকি স্বীকার করেছে! স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রি শামসুল হক টুকু বলেছেন,”কোথাও সাংঘর্ষিক অবস্থা সৃষ্টি হলে সেখানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালন করার সময় সংবাদকর্মীরা নিরাপদ দূরত্বে থাকলে অনেক ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা এড়িয়ে যাওয়া যাবে।” বাহ্ চমৎকার পরামর্শ! শুনেছি এই প্রতিমন্ত্রির এক ছেলে শান্তি, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের দেশ নরওয়েতে এসেছিলেন পড়ালেখা করতে। তিনি নাকি এখন সেই দেশেই থাকার প্রচেষ্টা করছেন। টুকু সাহেবকে বলবো প্লিজ আপনরার ছেলেকে জিজ্ঞাসা করুন নরওয়েতে পুলিশ কী ধরণের ব‍্যবহার করে একজন সাধারণ মানুষের সঙ্গে? ছেলের কাছ থেকে গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক চর্চা, মানবাধিকার, আইনের শাসন ও সভ‍্য সমাজ সম্পর্কে একটা ধারণা পেলেও যদি আপনাদের মতিভ্রম কাটে! তাতেও দেশের মানুষ লাভবান হবেন-নিশ্চয়ই।
প্রতীকি প্রতিবাদে জীবনেও সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতন বন্ধ হবে না ওখানে! নিরাশাবাদী ভাইবেন না প্লিজ! মুখের কথা, প্রতীকি প্রতিবাদে, শোক প্রকাশ আর দু’একটি মানববন্ধন, ঘেরাও ও বিবৃতিতে কোন কাজ হবে না। চাই সাংবাদিকদের মাঝে একতা, ঐক‍্যবদ্ধ মহাঐক‍্য। যা কেবল সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতন নয় দেশের আমূল পরবর্তনও ঘটাতে সক্ষম হবে বলে আমার বিশ্বাস এবং আশা। সেই জায়গাটাতে আমরা কী করে যাবো বা কী করে পাবো? শোক প্রকাশ বা নিন্দা জানানো কিংবা প্রকাশের সময় অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। দরকার সাংবাদিকদের মহাঐক‍্য, পেশাদার সাংবাদিকদের ঐক‍্য, এবং সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতনের বিপরীতে একটা ঐক‍্যবদ্ধ সাংবাদিক সংগঠনের পতাকাতলে দুর্বার আন্দোলন। সেই আন্দোলনের ফসল হিসেবে হয়ত দেশের মানুষ মুক্তিও পেতে পারেন দুর্নীতি, দু:শাসন, হত‍্যা, নির্যাতন, মানবাধিকার লংঘণ ও আইনের শাসনহীনতা থেকে!
ফেইসবুকে আমার কাছে একটি প্রশ্ন কতরেছেন একজন প্রিয় মানুষ। এই প্রশ্নের উত্তর দেবার ব‍্যর্থ চেষ্টা করেই লেখার উপসংহারে যাবো। প্রশ্নটি হলো এমন, “ভোর হবার আর কত দেরি (বাংলাদেশে)?
আমাদের স্বদেশের চলমান নিরাশ‍্যজনক অবস্থায় এই প্রশ্নের উত্তর বোধহয় প্রকৃতিও দিতে ভয় পাবে! আমার কাছে কোন জবাব নেই! নিজের জান-মাল, মান-সম্মান, মর্যাদা সবকিছুই ওই দুবর্ৃত্ত রাজনীতির হাতেই আটকা পড়েছে! দুবর্ৃত্ত রাজনীতির বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসার বা বার করে আনার উপায়টা দেখাবে কে? সেই উজ্জ্বল সময়ের অপেক্ষায় আমরা সবাই! ছবি বিডিনিউজ২৪ থেকে নেয়া।

সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতন: বেডরুম থেকে রাজপথ হয়ে মিডিয়া অফিস!!!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। বেডরুম থেকে রাজপথ হয়ে মিডিয়া কার্যালয়ে গিয়ে পৌঁছলো সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতনের ধারা! হত‍্যা বা নির্যাতন যে কারণেই বা যেভাবেই হোক হত‍্যা হত‍্যাই, নির্যাতন নির্যাতনই। রাষ্ট্র বা সরকার এর দায় কী এড়াতে পারে? “কোন নাগরিকের বেডরুম পাহারা দেয়া সম্ভব না” বলে কী কেউ দায়-দায়িত্ব এড়াতে পারেন? কিংবা “উনাদের আমলে সাংবাদিকরা ঐক‍্যবদ্ধ হননি কেন, আমার আমলে বেশি স্বাধীনতা তাই উনারা রাজপথে নেমেছেন” এমন অর্বাচিন মন্তব‍্য কী মেনে নেয়া যায়? বিশেষ করে এমন বক্তব‍্য যদি আসে সরকার প্রধানের মুখ থেকে! এটাকে কী তবে ‘স্লিপ অব টাংগ’ বা কোন সাধারণ ভুল বলে গণ‍্য করা যায়?
প্রবীণ সাংবাদিক ফরহাদ খাঁ এবং তাঁর স্ত্রীকে হত‍্যা করা হলো রাজধানী ঢাকায় নিজ ফ্ল‍্যাটে। এরপরে এলো টিভি সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনীর পালা। উনারা নৃশংসভাবে খুন হলেন নিজ শোবার ঘরে। প্রধানমন্ত্রি বললেন, সরকারের পক্ষে কারও বেডরুম পাহারা দেয়া সম্ভব নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি বললেন সাগর-রুনির খুনিদের ২৪ ঘন্টার মধে‍্য ধরা হবে। তিনি কথা রাখলেন না! সরকার নাহয় বেডরুম পাহারা দিতে নাইবা পারলো কিন্তু রাজপথ? রাজপথেতো অনেক পুলিশ, র‍্যাব! সেখানে কেন রক্ষকই ভক্ষক হবে? রাজপথে সাংবাদিকদেরকে কী নিষ্ঠুর নির্যাতন করলো পুলিশ। প্রথম আলোর তিন ফটো সাংবাদিক নির্যাতিত হলেন অমানবিক পুলিশ বাহিনীর হাতে। প্রধানমন্ত্রি মুখে কুলুপ আঁটলেন।
সাংবাদিক নির্যাতনের সর্বশেষ অপারেশন হলো দেশের সর্ববৃহৎ অনলাইন প্রকাশনা বিডিনিউজ২৪ এর কার্যালয়ে। সন্ত্রাসীরা সেখানে দুই সাংবাদিকসহ তিনজনকে গুরুতর আহত করলো। এবারেও প্রধানমন্ত্রি কোন কথা বললেন না। তবে স্বভাবসুলভভঙ্গিতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি কথা বলেছেন এবারও। অবশ‍্য এবার তিনি সময় বেধে দেননি। বিডিনিউজ২৪ কার্যালয়ে হামলা ও সাংবাদিক নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের নাকি শিগগিরই ধরবে পুলিশ! এটা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রির কথা। এই ‘শিগগির’ কত লম্বা সময়ের তা উনি নিজেও হয়ত জানেন না। যেমনটা তিনি আজও বলতে পারছেন না যে সাগর-রুনির খুনিদের ধরতে বেধে দেয়া ২৪ ঘন্টা হতে আর কত মাস বাকি!
বাংলাদেশে ধারাবাহিক ও ক্রমবর্সাংধমান সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতনের বিচার ও দোষীদের গ্রেফতার দাবি করে ঘটনাগুলির নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোর ঝড় উঠেছে দেশে এবং বিদেশে। ব্লগ, ফেইসবুক, টুইটারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ‍্যমে ব‍্যাপক লেখালেখি। আমি কোন বিচার চাই না, নিন্দাও জানাবো না। কারণ এসব করে কোন লাভ আছে বলে মনে করি না আমি। স্বদেশে যা জরুরি তা হলো আইনের শাসন, প্রকৃতঅর্থে গণতন্ত্র চর্চা। আইনের শাসন ও গণতন্ত্র (প্রকৃতঅর্থের গণতন্ত্র)পুন:প্রতিষ্ঠা করা গেলেই দেশে সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতন বন্ধ করা সম্ভব। তার আগে নয়। তাই বলছি দুবর্ৃত্ত রাজনীতির অবসানে জাগাতে হবে বাঙালিকে। এককাতারে আনতে হবে মানুষকে।
দলীয়করণ, দুর্নীতি ও দুবর্ৃত্তায়নবিরোধী একটা গণজাগরণ দরকার। সেইরকম একটা জাগরণের নেতৃত্ব দেয়ার জন‍্য কোন স্বচ্ছ রাজনৈতিক শক্তি সামনে এগিয়ে না আসলে দেশের ভবিষ‍্যৎ অন্ধকার ছাড়া আলোর কোন নিশানা খুঁজে পাওয়া কঠিন! আমি মনে করি না যে বাংলাদেশে মানবমুক্তির জন‍্য কোন রাজনৈতিক শক্তি নেই। কিন্তু সেই ঘুমন্ত শক্তিকে জাগাতে পারে একমাত্র গণমাধ‍্যমই। এটা বিদ‍্যমান গণমাধ‍্যম সংস্কৃতিতে সম্ভব কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। কারণ গণমাধ‍্যম জনগণের মাধ‍্যম এখনও হয়ে উঠতে পেরেছে কিনা তাও প্রশ্নসাপেক্ষ?
গণমাধ‍্যমের ভেতরেই একটা শুদ্ধি অভিযান দরকার। যে অভিযানে কালো টাকার মিডিয়া মালিক, দলীয় সাংবাদিক ও সম্পাদকদের ঝেঁটিয়ে বের করে না দেয়া পর্যন্ত মিডিয়াকমর্ীদের ঐক‍্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলাটাও দুস্কর। ঐক‍্যবদ্ধ গণমাধ‍্যমই পারে দেশে আইনের শাসন ও প্রকৃত গণতন্ত্র চর্চার পথ পরিস্কার করতে। সাংবাদিকঐক‍্যই পারে অবিচার, অত‍্যাচার, দুর্নীতি ও দু:শাসনের বিরুদ্ধে দেশে একটা গণজাগরণ তৈরী করতে। তার আগে গণমাধ‍্যমকেই নিজেদের স্বচ্ছতা ও পরিচ্ছন্নতা (দলীয় লেজুড়বৃত্তিমূলক সাংবাদিকতা পরিহার করে)প্রমাণ করতে হবে। জনগণ তার প্রমাণ পাবেন তখনই যখন গণমাধ‍্যমকমর্ীরা একটি প্লাটফরমে দাঁড়াতে সক্ষম হবেন। সেইদিন কবে কতদিনে আসবে তা এই মুহুর্তে বলা কঠিন হলেও তা আসতেই হবে একদিন। জয় হবে মানুষ আর মানবতার। ধ্বংস হোক ক্ষমতালোভী, দুর্নীতিবাজ দুবর্ৃত্ত রাজনীতির। ছবি ফেইসবুক থেকে নেয়া।

আর কত রক্ত চায় ওরা!

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। সাংবাদিক সাগর-রুনির নৃশংস হত‍্যাকান্ডের পরও ঝড় উঠেছিল মিডিয়াপাড়ায়। সভা-সমাবেশ, গায়ে আগুন ধরানোর মতো সাংবাদিক নেতাদের বক্তৃতা, প্রতিবাদ, নিন্দা, হতাশা, আতংক, উদ্বেগ প্রকাশের সেই ঝড় থেমে গেছে। এরপর পারভেজ খানের ওপর হলো সন্ত্রাসী হামলা। পারভেজ খান ক্রাইম বিটের সাংবাদিক। নামকরা একজন সংবাদকর্মী। সেই ঘটনায়ও নিন্দা জানালেন সাংবাদিকরা। সম্ভবত এরপর কিংবা আগে সমকাল সম্পাদক গোলাম সারোয়ারকে হত‍্যার হুমকি। বেশ কিছু সম্পাদক (সবাই নন, কেন তার বর্ণনা করার দরকার আছে বলে মনে করি না) বিবৃতি দিলেন। নিউএইজ সম্পাদক নূরুল কবিরকেও হুমকি দেয়া হয়েছে অসংখ‍্যবার। মিডিয়া ও সাংবাদিকদের ওপর মানহানি আর আদালত অবমাননা মামলার আক্রমণতো হরহামেশাই ঘটছে স্বদেশে। একুশে টিভির বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে। বহু মিডিয়া বন্ধ হয়েছে, অনেকে জেল, সাংবাদিকদের কারাদন্ড ভোগ করেছেন। এইতো সেদিন ঢাকার রাজপথেই পুলিশ পেটালো দেশের শীর্ষস্থানীয় বাংলা দৈনিক প্রথম আলোর আলোকচিত্র সাংবাদিক খালেদ সরকার, জাহিদুল করিম ও সাজিদ হোসেনকে। একটার পর একটা সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতনের ঘটনা ঘটবে আর আমরা নিনন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েই চুচাপ বসে থাকবো। ফলে পরবর্তী নির্যাতনের ঘটনাটিও ঘটবে অবলীলায়, বাধাহীনভাবে। ফলে সর্বশেষ আজ ঘটলো বিডিনিউজ২৪ এর কার্যালয়ে আক্রমণের ঘটনা। সন্ত্রাসীরা রীতিমতো বিডিনিউজ কার্যালয়ে রক্তের বন‍্যা বইয়ে দিয়েছে! আজ সন্ধ‍্যায় তারা সেখানে হামলা চালায়। ঘটনা ঘটার পর পুলিশ, র‍্যাব গিয়ে সাঁড়াশি অভিযানে নামবে, কিন্তু কোন ফল দিতে পারবে না। কিংবা তারা গিয়ে পাহারা বসাবে। ঠিক যেভাবে র‍্যাব এখন পাহারা বসিয়েছে বিডিনিউজ২৪ এর কার্যালয়ে!
হাসপাতালে আশংকাজনক অবস্থায় ভর্তি হওয়া সাংবাদিক বন্ধু বিডিনিউজ২৪ এর সহসম্পাদক রিফাত নওয়াজ, প্রতিবেদক সালাউদ্দিন ওয়াহিদ প্রীতম এবং অফিস সহকারী রুহুল আমিন এর জন‍্য রক্ত প্রয়োজন বলে ফেইসবুকে একজন স্ট‍্যাটাস দিয়েছেন। আমার গ্রুপ ও পজিটিভ। কিন্তু দু:খিত স্বদেশ থেকে অনেক দূরে আছি। তাই সম্ভব না রক্ত দেয়া। আশা করছি রক্ত ম‍্যানেজ হয়ে যাবে। সাংবাদিক বন্ধুরা সুস্থ‍্য হয়ে ওঠবেন। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি যে সারাদেশজুড়েই সাংবাদিকরা এই ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোর বিবৃতি দিয়ে সংবাদপত্রের পাতা ভরে দেবেন। সবাই জানাবে আক্রমণকারিদের গ্রেফতারের দাবি। রাজনীতিকরা (কী সরকারি দল কী বিরোধী দল) হাসপাতালে দেখতে যাবেন আহত বা নির্যাতত সাংবাদিকদের দেখতে। কেউ কেউ আবার চিকিৎসার ভার নেয়ার ঘোষণাও দেবেন! এসব লোক দেখানো আর নাম ফুটানো কর্মকান্ডের ফলে খুনি ও নির্যাতনকারিরা আঁড়াল হয়ে যাবে। যেমনটা আমরা দেখছি জীবনভর। আর বিবৃতির ভেতরে হামলাকারি ঢাকা পড়বে, হারিয়ে যাবে কিংবা মিলিয়ে যাবে। র‍্যাব-পুলিশের সাঁড়াশি বলেন আর চিরুনি অভিযান বলেন কোন অভিযানই খুনি ও সন্ত্রাসী বা নির্যাতনকারিদের থামাতে পারবে না, পারেনি, পারছে না!
কিন্তু এভাবে আর কতকাল সাংবাদিকরা হত‍্যা-নির্যাতনের শিকার হবেন। সাংবাদিক সমাজের বিবেক খুলবে কবে, কবে উনারা এক কাতারে দাঁড়িয়ে বলতে পারবেন মানুষকে মুক্ত দিন, নিরাপত্তাবিঘ্নকারিদের ধরুন, আইন ও সংবিধানের শাসন কায়েম করুন? কবে এই সাংবাদিক সমাজ দলমতের উদ্ধর্ে উঠে পেশাগত ঐক‍্য, দৃঢ় ঐক‍্য গড়ে তুলতে সমর্থ হবেন? এটা না করলে যে সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতন চলতেই থাকবে, এই বোধটুকু কবে জাগবে আমাদের সংবাদকর্মীদের? সাংবাদিকদের শরীর থেকে আর কত রক্ত বেরুলে আমরা একটা ঐক‍্যবদ্ধ সাংবাদিক সমাজ পাবো? আর কত রক্তের বিনিময়ে রাষ্ট্র মুক্ত গণমাধ‍্যম ও সাংবাদিক এবং সাধারণ মানুষের জন‍্য একটা নিরাপদ সমাজ ব‍্যবস্থা উপহার দিতে পারবে? আর কত রক্ত চায় আমাদের দুবর্ৃত্ত রাজনীতি?
মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি মুখ খুলুন, কিছু একটা বলুন ২৪ ঘন্টা না হয় ২৪ মাস, কিছুতো একটা বলতেই হবে আপনাকে! আর আইনের শাসন ও গণতন্ত্রের যিনি নহর বইয়ে দিচ্ছেন দেশে সেই প্রধানমন্ত্রি আপনি কেন চুপ করে আছেন এখনও? আপনিও বলুন যে আপনারা সন্ত্রাসমুক্ত একটি দেশ উপহার দিয়েছেন বাঙালি জাতিকে এবং আরও বলুন যে আপনি এবং আপনার মহাজোটভুক্ত রাজনৈতিক দলগুলিই সবচেয়ে ভালো চালাচ্ছে দেশ! আর যাই বলুন জনগণ কিন্তু কথা নয় কাজ দেখতে চান। মানুষ চান শান্তি, নিরাপদে নিশ্চিন্তমনে ঘুমুতে। সেই রকম কোন উপহার কী জনগণকে দিতে পেরেছেন আজ অবধি? ছবি ফেইসবুক থেকে নেয়া।

প্রসঙ্গ: সাংবাদিক সাগর-রুনি নিয়ে লেখালেখি ।। একটি বামবুর্জোয়া উপদেশ


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। বাংলাদেশের বামবুর্জোয়া একটি রাজনৈতিক দলের এক তরুণ নেতা আমাকে একটি উপদেশবার্তা পাঠিয়েছেন! উপদেশের সারমর্ম হলো আমার লেখাগুলি অন‍্য কোন গ্রুপে দেয়া যাবে না। “সাংবাদিক সাগর-রুনির হত‍্যাকান্ড নিয়ে আমার সর্বশেষ লেখায় কেউ লাইক দেননি এমনকি মন্তব‍্যও করেননি” এমন মন্তব‍্যও করেছেন বামপন্থি (বর্তমানে হাসিনাপন্থি বলাই শ্রেয়) এই রাজনৈতিক বন্ধুটি। আমি জানি না বন্ধুটির উপদেশ মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে খর্ব করছে কিনা? প্রিয় পাঠক আপনারাই তা বিবেচনা করুন।
কারও লেখার প্রতি কারও দ্বিমত থাকতেই পারে, খুবই স্বাভাবিক ব‍্যাপার! তবে কারও লেখার লাইক, ডিসলাইক বা মন্তব‍্য এসবের ওপর ভালমন্দ নির্ভর করে না! তারপরও আপনার উপদেশের জন‍্য আপনাকে ধন‍্যবাদ। আমি যা লিখি তারজন‍্য কোন বাহবা বা পুরস্কার কিংবা পছন্দ অপছন্দ ও মন্তব‍্য পাবার আশায় লিখি না। মনের মধে‍্য যে চিন্দাগুলি ঘুরপাক খায়, যেসকল প্রশ্ন জাগে সেগুলি কেবল তুলে ধরার চেষ্টা করিমাত্র। কিন্তু আপনি যেভাবে বললেন সেভাবে কোন এডমিন আমাকে আজ পর্যন্ত জানায়নি। আর আমি নিজে উদে‍্যাগী হয়ে কোন গ্রুপের সদস‍্য হতে যাইনি কখনও। আমি একজন অতি নগন‍্য ও সামান‍্য একটা প্রাণী, মানুষ হবার সংগ্রাম করি। হালুয়া/রুটি নিয়ে কখনও ভাবিনি, ভাবতেও চাই না। রাজনৈতিক পছন্দ অপছন্দকে কখনও আমি আমার পেশার বা লেখালেখির মধে‍্য এক করে দেখিনি, দেখতেও চাই না। তারমানে এই নয় যে জামাতিরা, যুদ্ধাপরাধীরা আমার বন্ধু! জীবনের তিন ভাগের দুই ভাগই নষ্ট করেছি এসব শয়তানদের বিরুদ্ধে পেশাগত ও রাজনৈতিক লড়াই করার পেছনে।
আরেকটি কথা কেউ বা কোন গ্রুপ যদি মনে করে আমি তাদের জন‍্য বিব্রতকর তাহলে তিনি বা তারা আমাকে তাদের গ্রুপ থেকে বাদ দিয়ে দিতে পারেন আমার কোন আপত্তি থাকবে না। যেমনটি করেছে বাংলাদেশের একজন নামকরা পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্লগার কাম সাংবাদিক! আর সব লেখা সবাইকে ভালো লাগবে এমনটাও নয়। প্রতিটি লেখকেরই আছে নিজস্বতা, একটি স্বতন্ত্র স্টাইল।
আসলে রাজনৈতিক এই বন্ধুটির উপদেশের একটা অন্তনর্িহিত অর্থ বা তাৎপর্য‍্য আছে! আর তা হলো দেশে যে রাষ্ট্রীয় অরাজকতা চলছে, আইনের শাসন ও সংবিধানের লংঘণ চলছে, মানবাধিকার লংঘণ চলছে, সাংবাদিক হত‍্যা-নির্াতন চলছে এসব নিয়ে যাতে লেখালেখি না করি তারই একটা প্রচ্ছন্ন হুমকি আছে উপদেশের ভেতরে। একসময়ের বিপ্লবী এবং বৈপ্লবিক সমাজতন্ত্রের স্বপ্ন দেখানোর রাজনৈতিক দলটির এই নেতার রাজনৈতিক দলটি মহাজোট সরকারের অংশিদার। বিচার ব‍্যবস্থাকে দলীয়করণ, সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতনকারিদের গ্রেফতার না করাসহ নানান বিষয় নিয়ে লেখালেখি করলে কী আর সরকারপন্থি কারও ভালো লাগে বলুন? তারপর যদি পরমত সহিষ্ণুতা, গণতান্ত্রিক মন-মানসিকতা কিংবা আইনের শাসন ও মানবাধিকারে বিশ্বাস না থাকে তাহলে কী আর কোন সমালোচনা কারও পছন্দ হয়?
এই রাজনৈতিক বন্ধুটির সবচেয়ে প্রিয় সরকার এখন গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় সভাপতি মন্টু ঘোষকে পেটায়, রাজনৈতিক নেতাদের গুম করে, বিচারক ও বিচারালয়কে নিজের মতো করে ব‍্যবহার করে, ক্ষমতাগ্রহণের সাড়ে তিন বছর পরও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ করতে পারে না, ব‍্যবসায়িদের আড্ডাস্থলে পরিণত করেছে মহান সংসদকে, সাংবাদিক সাগর-রুনির খুনিদের আঁড়াল করে, ঢাকার রাজপথে সাংবাদিক-ফটো সাংবাদিকদের পিটিয়ে পঙ্গু (প্রতিবন্ধি) করে দেয়, জাতীয় সম্পদ তেল-গ‍্যাস সাম্রাজ‍্যবাদিদের হাতে তুলে দেবার চিন্তা করে, মানবাধিকার লংঘণ করে। আর এসব নিয়ে লেখালেখি করলে কী আর এই বন্ধুটির সহ‍্য হয়, বলুন? পাদটীকা: ঠিক লেখাটি যখন শেষ করবো তখন ফেইসবুকে গিয়ে দেখলাম একটা ভয়ানক খবর। সন্ত্রাসীরা বিডিনিউজ২৪ এর কার্যালয়ে গিয়ে সাংবাদিকদের এলোপাতাড়ি পিটিয়েছে। সংবাদকমর্ীদের লাল রক্তে রঞ্জিত হয়েছে বিডিনিউজ এর কাযর্ালয়। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর এর সহ সম্পাদক রিফাত নেওয়াজ এবং প্রতিবেদক সালাহউদ্দিন ওয়াহিদ প্রীতমের পায়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়েছে সন্ত্রাসীরা। গুরুতর অবস্থায় তাদের দুজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এরপরও কী এই রাজনৈতিক বন্ধুটি বলবেন যে হাসিনা এবং তাঁর মহাজোট সরকার দেশ ভালো চালাচ্ছেন? ছবি বিডিনিউজ থেকে নেয়া

সাংবাদিক নির্যাতন চলছে, চলেছে এবং চলবে!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ।। সাংবাদিক নির্যাতন চলছে, চলেছে এবং চলবে! কে আছে মানবাধিকার লংঘণের এই খেলা থামায়? কোন সরকার বা কোন নেতা-নেত্রীর বুকের পাটা আছে সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতন থামাতে পারে বাংলাদেশে? উত্তরে যদি বলি কেউ নেই কারও এমন সৎ সাহস নেই তাহলে পাঠক আপনারা নিশ্চয়ই বলবেন আমি চরম হতাশাবাদি। কিন্তু আমি সবসময় একটা আশাবাদি মানুষ। পরিস্থিতির মূল‍্যায়ণ ও সত‍্য প্রকাশ করতে গিয়ে কখনও কখনও আমার নিজেরও মনে হয় যে আমি বুঝি একজন নিরাশাবাদি মানুষ! কিন্তু আশাটা জন্মাবে কেমনে বলেন? স্বাধীনতা যুদ্ধ দেখিনি, মুক্তিসংগ্রামের অনেক পরে জন্ম আমার। ইতিহাস ও জন্মপরবর্তী অভিজ্ঞতা বলছে বাংলাদেশের মানুষ আশাবাদি হলেও দুবর্ৃত্ত রাজনীতি আর ক্ষমতার মোহ ও গদি রক্ষা কিংবা গদিতে যাবার লড়াই মানুষের আশা বার বার ভেঙ্গে দিচ্ছে!
পুলিশ আবার পেটালো সাংবাদিক। এবার দেশের জনপ্রিয় বাংলা দৈনিক প্রথম আলোর তিন সাংবাদিককে রাজপথে প্রকাশে‍্য পেটালো পুলিশ। শুধু তাই নয় কী অসাধারণ! দম্ভোক্তি প্রকাশ করলো নির্যাতনকারি পুলিশের এক কর্মকর্তা? এতো স্পর্ধা আসে কোত্থেকে? সাংবাদিক সমাজই এই শক্তি সৃষ্টি করছে নির্যাতনকারিদের মধে‍্য! কথাটা হয়তা একটা বেশি তেতো হয়ে গেলো। কিন্তু এটাই সত‍্য এবং বাস্তবতা। একের পর এক সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতন হচ্ছে সাংবাদিকরা বসে বসে আঙুল চুষে কেন? কেন তারা পেশাগত মর্যাদা, নিরাপত্তা আর মুক্ত গণমাধ‍্যম সৃষ্টির পরিবেশকে এগিয়ে নেয়ার জন‍্য দলমত, গোষ্ঠী ও গ্রুপ ছেড়ে এক কাতারে শামিল হতে পারছেন না? সমস‍্যাটা কোথায়? একই পেশা, একই উদ্দেশ‍্য আর তা হলো জনগণকে তথ‍্য জানানো, সত‍্য উন্মোচন, গণতন্ত্রকে সামনে এগিয়ে নেয়া ও সমাজের অনাচার-অবিচারের বিরুদ্ধেই তো গণমাধ‍্যম ও গণমাধ‍্যমকমর্ীদের মহান ব্রত! যদি তাই হবে তাহলে কেন তারা হাসিনা বা খালেদা এই দুই রাজনৈতিক মতের সঙ্গে পুরো সাংবাদিক সমাজ বিভক্ত?
শুনেছি ঢাকায় নাকি গোপালগঞ্জের কানেকশন আছে এমন লোকেরাই পুলিশের বড় বড় পদগুলিতে আছেন। তাই তারা নাকি খোদ সরকারপ্রধানের হুকুম ছাড়া কারও কথা শোনেননা! এমনকি আইন, সংবিধান কোনটাই মুখ‍্য নয় তাদের কাছে। উনারা দলীয় ক‍্যাডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। মজার ব‍্যাপার হলো সাংবাদিকরা একের পর এক মার খাচ্ছেন কিংবা নিহত হচ্ছেন কিন্তু তারা একতাবদ্ধ নন। এমনকি প্রথম আলোর সাংবাদিকরা নাকি কোন ইউনিয়নের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন না! তাছাড়া মিডিয়া হাউজগুলির প্রায় সবারই আছে আপন আপন ব‍্যবসাপাতি। সেই ব‍্যবসাপাতিতে ফাঁকি-টাকি (কর, ট‍্যাক্স বা ভ‍্যাট) দিতে গেলেতো সরকারের সঙ্গে আপোস করতেই হয়! ফলে সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতন চলছে, চলবেই! এটা বন্ধ হবার কোন কারণ নেই সেখানে। গণতন্ত্র, পরমত সহিষ্ণুতা, আইনের শাসন ছাড়া কী একটা সমাজ সভ‍্য হয়, নাকি সেই ধরণের কোন সমাজকে সভ‍্য বলা যায়? মিডিয়াগুলি প্রত‍্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বিচার বহির্ভূত হত‍্যা-নির্যাতনের পক্ষ নিয়েছে (দু’একটি ব‍্যতিক্রম ছাড়া)। তাই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এটা জানে যে দু’চারজন সাংবাদিক হত‍্যা ও মেরে তাদের কিছুই হবে না! তারা এও জানে যে সাংবাদিকরা বহু ভাগে বিভক্ত এবং রাজনীতির পাশাপাশি চলে। হয় হাসিনা ও তার মহাজোটের সমর্থক নয়তো খালেদা বা চারদলীয় জোটের সমর্থক। এর বাইরে একেবারেই ব‍্যতিক্রম ছাড়া কোন সাংবাদিক খুঁজে পাওয়া যাবে না সেখানে।
সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতনের একটা করে ঘটনা ঘটবে আর সাংবাদিকরা দু’একদিন মিছিল-মিটিং, সভা-সমাবেশ করবেন, শোকসভা আয়োজন করবেন, মানববন্ধন করবেন, বড় বড় গলায় সাংবাদিক নেতারা চিৎকার করে বক্তব‍্য রাখবেন রাজপথে, গণমাধ‍্যমে ছবি প্রকাশ ও প্রচার করবেন। ব‍্যস, সব বন্ধ হয়ে গেলো? এক পর্যায়ে সবাই চুপসে যাবেন! ফলে সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতনের পরবর্তী ঘটনা ঘটবে অবলীলায়! সাংবাদিক সাগর-রুনি হত‍্যাকান্ডের পর মিডিয়াগুলি চুপচাপ থাকায় বোধহয় সাংবাদিক নির্যাতনের এই পরিণতি দেখতে হচ্ছে খুব অসহায়ভাবে!
গতানুগতিকতার ধারাবাহিকতায় এই ঘটনার পরও দায়ি বা দোষী পুলিশদের লোকদেখানো বরখাস্ত না সাময়িক বরখাস্ত বা ক্লোসড করা হবে! সাংবাদিকরা বিক্ষোভফে ফেটে পড়বেন, একেবারেই ফেটে পড়বেন, এমন ফাটা ফাটবেন যে ২৪ ঘন্টা, ৪৮ ঘন্টা, ৭২ দিন, এক সপ্তা, এক মাস পর সব চুপচাপ হয়ে যাবেন? ফলে পরের নির্যাতনের ঘটনাটিও ঘটবে সবার চোখের সামনেই!
এই লেখাটি যখন লিখছি তখন শাহরিয়ার কবির নামে একজন ফেইসবুকার স্ট‍্যাটাসে লিখলেন। তার লেখার প্রেক্ষিতে একটা মন্তব‍্য করেই লেখাটির সমাপ্তি টানবো। তিনি বললেন, “সামনে দিন আসছে ঐক বদ্ধ ভিক্ষুক শ্রেনীও আপনাদের গায়ে হাত দিতে ভয় পাবে না”। শাহরিয়ার কবির ভাই, এভাবে ভিক্ষুক ভাই-বোনদের আপনি ছোট করতে পারেন না? উনারা এতো নিচুমনের নন যে কারও গায়ে হাত দেবেন। বরং তখাকথিত শিক্ষিত, সুশিল ও ভদ্রবেশি কাপুরুষের দলই এমনটা করতে পারেন, যারা হাসিনা ও খালেদার অনুসারি! ছবি বিডিনিউজ২৪, ফেইসবুক থেকে নেয়া।

সাংবাদিক সাগর-রুনির হত‍্যাকান্ড নিয়ে আর কত খেলা?


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। না, সাংবাদিক সাগর-রুনিকে কেউ হত্যা করেনি! উনারা নাকি নিজেরাই নিজেদেরকে হত্যা করেছেন? শয়তানি কাকে বলে আর কী? চুরি বা ডাকাতির গল্পটা বিশ্বাসযোগ্য হবে না বলে এমন একটি গাজাখুরি গল্প বানানোর নাকি উদ্যোগ নিয়েছে তথাকথিত এলিট ফোর্স বা রাষ্ট্রীয় খুনিবাহিনী! না, অবাক হই না, আশ্চর্য্য হবারও কিছু নেই। ওই শ্মশানে, গোরস্থানে, মৃত্যুউপত্যকায় সব সম্ভব! কাউকে দোষ দেবো না। দোষ আমাদের নিয়তির! এই কারণে যে আমরা ওখানেই জন্মেছি! এজন্য কোন আক্ষেপ নেই। কারণ মা ও মাটি কখনও বেইমানি করে না। তবে কুলাঙ্গার সন্তান মাকে অপমান করে কখনও কখনও! সেরকমই সন্তানদের কাঁধে ভার পড়েছে দেশ চালানোর! তাই যা হবার তাই হচ্ছে, আর কী? রাজনীতি যখন দুর্বৃত্ত হয় তখন সেখানে করার কিছুই থাকে না। তবে একটা জনজাগরণ আসবে যে জাগরণের বন্যায় অপশাসন, দুর্নীতি, দুর্বৃত্তপনা ভেসে যাবে, যেতেই হবে। সেরকম কোন পরিবর্তন হয়ত অত সহজে দ্রুত আসবে না। তবে আসতেই হবে। মেঘের কাছে মাফ বা ক্ষমা চাবার মতো সৎ সাহস আমাদের রাষ্ট্রনায়ক, সমাজপতিদের কিংবা সাংবাদিক নেতাদের(যারা চাপান করেন, গণভবনে গিয়ে প্রীত হন) আছে কি? সাংবাদিক বন্ধু সাগর-রুনির হত‍্যাকান্ড নিয়ে আর কত খেলা চলবে? ছবিটি ফেইসবুক থেকে নেয়া।

ভালবাসা না নির্মমতা?


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। ভালবাসা নয়, নির্মমতা! কোথায় ভালবাসা, স্নেহ, মায়া আর মমতা? একটা নয়, দু’টা নয় রীতিমতো চার চারটি নতুন সৃষ্টি যারা দেশের র্কণধার হতে পারতো কোন একদিন। সেই চার নবজাতককে কে ডাস্টবিনে ফেলে দেবার মতো নৃশংসতা দেখাতে পারলো। না এটা ইউরোপের ঘটনা নয় আমার স্বদেশের র্নিমমতা! একটি পশুও বাচ্চা জন্ম দেবার পর কতনা আদর-ভালবাসা দেয়! কিন্তু আমরা বলে মানুষ! ওই নবজাতকগুলির কী দোষ? তারাতো কারও না কারও ভালবাসারই ফল। হয়ত পরে ভালবাসার সঙ্গে কোন একজন (দুইজনের মধ্যে) প্রতারণা করেছে। তাতেই এই নতুন সৃষ্টিকে ওভাবে ডাস্টবিনে কেউ ফেলে? ওদের ভেতরে বিন্দুমাত্র ভালবাসা নেই তাদের নিজেরই ওপর। ধিক্কার!!! ছবি গুগল থেকে নেয়া।

সাংবাদিক সাগর-রুনির দেশি-বিদেশি সহকর্মীরা নিরব কেন?


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। ইউরোপপ্রবাসী এক বাঙালি/বাংলাদেশি সাংবাদিক সাগর-রুনির হত‍্যাকান্ডের তদন্ত করার জন‍্য ব্লগার ও আমজনতার প্রতি আহবান জানিয়েছেন। ভালো কথা, উত্তম প্রস্তাব! কিন্তু তাতে কী হবে? সরকার কী খুনিদের ধরবে?
তদন্তের কিছু নেই। কারণগুলিতো কোননা কোনভাবে আলোচিত হয়েই গেছে ইতোমধে‍্য। আপনাদের হাতে কী এমন ক্ষমতা আছে যে তদন্ত করলেই খুনিদের সরকার ধরবে বা বিচার করবে? খুনিরাতো এক. সরকারের ভেতরের শক্তিশালী কেউ, দুই. একজন প্রভাবশালী সাংবাদিকের নাম আলোচিত হয়েছে যিনি সরকারের খাস লোক, তিন. একজন মিডিয়া মালিক যিনিও সরকারেরই ঘনিষ্টজন! খুনিরাতো এই তিনের বাইরের কেউ নযরে ভাই! এভাবে এতো কথা না বলে যে যেখানে আছেন বা আছি সেখানেই কালোকাপড় নিয়ে একটা সাদা ব‍্যানার ও তাতে ” বাংলাদেশে হত‍্যা, খুন (সাংবাদিক সাগর-রুনি হত‍্যাকান্ডসহ) গুম ও বিচার বহির্ভূত হত‍্যাকান্ড চলছে, সেখানে কোন মানবাধিকার ও আইনের শাসন নেই। বাংলাদেশকে বাঁচান” কথাগুলি লিখে এক নাগারে এক মাস দাঁড়াতে পারলেই খুনি ধরতে সরকার বাধ‍্য হবে বলে মনে করি। কারণ এরফলে আন্তর্জাতিক মহল বাংলাদেশ সরকারের ওপর নজর দেবে এবং সরকার বাধ‍্য হয়ে জনচাহিদার প্রতি মনোযোগ দিতে বাধ‍্য হবে। তাই কথা নয় কাজ করি আসুন। ইউরোপ, আমেরিকার যেখানেই বাঙালি/বাংলাদেশি আছেন বা আছি সেখানেই এমন ব‍্যতৃক্রম কর্মসূচী করতে শুরু করলে ফল পাওয়া যাবে একশভাগ। তবে একটা কার্যকর লিঁয়াজো ও অভিন্ন কর্মসূচীর মধ‍্য দিয়ে একযোগে এগুতে হবে। আসুন না কেন এই পথে এগোই আমরা সবাই।
আরেকটি প্রশ্ন? সাগর-রুনির দেশি-বিদেশি সহকর্মীরা কেন চুপচাপ বসে আছেন? তাঁদের কী কিছুই করার নেই। নাকি তাঁরাও সরকারকেই সমর্থন করতে চাইছেন এই চাঞ্চল‍্যকর মামলার তদন্ত বিষয়ে? অনেকে মনে করেন সাগর-রুনির দেশি-বিদেশি সহকর্মীরা যদি মনে-প্রাণে চাইতেন খুনিদের সরকার ধরুক, তারা যদি এ বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচার ও প্রকাশ করতেন তাহলে সরকার খুনিদের রক্ষা করতে চাইতো না! ছবি ফেইসবুক থেকে নেয়া। বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে মাহির সরোয়ার মেঘকে অর্থ সহায়তা দিতে গিয়ে দৈনিক কালের কণ্ঠ সম্পাদক কথাসাহিতি‍্যক ইমদাদুল হক মিলনকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন সাগর সরোয়ার এর প্রিয় মা।

বিচার বহির্ভূত হত‍্যাকান্ড ও সাংবাদিক হত‍্যা: পুরস্কারপ্রাপ্ত এক ব্লগারের মানসিকতা!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। বাংলাদেশের কেউ কেউ সীমানা পেরিয়ে আর্ন্তজাতিক পুরস্কার পাচ্ছেন। এতে বাঙালি হিসেবে আনন্দবোধ করি বটে। কিন্তু তাদের অনেকেই সীমানা পেরিয়ে গেলেও মনের সীমাবদ্ধতার সীমানা পেরুতে পারছেন না কেন সেই প্রশ্নটি সামনে আসছে বারবার! একজন ব্লগার, না শুধু ব্লগার বললে ভুল হবে রীতিমতো নামকরা বিখ‍্যাত। হাল আমলে তিনি বিচার বহির্ভূত হত‍্যাকান্ড নিয়ে লিখতে শুরু করেছেন (সম্ভবত যদি ভুল না হয় হংকং টুরের আগে এবিষয়ে লেখালেখি শুরু করেছেন তিনি)। তাও আবার কোন পুরস্কার পাবার আশায় কিনা সেটা জানা নেই! তিনি যে সংস্থার রিপোর্টার সেই সংবাদ সংস্থার আবার পুরস্কারদাতা জার্মানির গণমাধ‍্যম প্রতিষ্ঠানটির একটা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট চুক্তি আছে। অর্থাৎ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পকর্। অন‍্যদিকে বাংলাদেশ থেকে যিনি বিচারক ছিলেন তার সঙ্গেও ওই ব্লগারের আছে মধুর সম্পর্কের। তিনি অবশ‍্য বিচার বহির্ভূত হত‍্যাকান্ডের বিরুদ্ধে কাজ করেন সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই, কোন পুরস্কার পাবার আশায় নয়।
সে যাইহোক লেখার মূল বিষয়ে আসা যাক। সেই ব্লগার কাম সাংবাদিক “Say no to extra judicial killings in Bangladesh” নামের একটি ফেইসবুক গ্রুপে সদস‍্য হবার জন‍্য আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। আমিও সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে গ্রুপে যোগ দিলাম। এরপর থেকেই মাঝে মাঝে বিচার বহির্ভূত হত‍্যাকান্ড এবং সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতন বিষয়ে পোষ্ট করতে থাকি। সর্বশেষ গত ৩ মে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ‍্যম দিবসে একটা পোষ্ট করি বাংলাদেশে সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতনের বিষয়ে। লেখাটির শিরোনাম ছিল “বিশ্বমুক্ত গণমাধ্যম দিবস: বাংলাদেশে বেপরোয়া সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতন ও দায়মুক্তি”। এরপর আর ঢোকা হয়নি গ্রুপে। আজ মনে মনে একটা সিদ্ধান্ত নিলাম যে বিচার বহির্ভূত হত‍্যাকান্ড নিয়ে একটা পোষ্ট দেবো ওই গ্রুপে। সে লক্ষ্যে গ্রুপে প্রবেশ করা। সেখানে গিয়ে আশ্চযর্‍্য ও অবাক হলাম। কারণ আমি আর গ্রুপের সদস‍্য নই। কিন্তু কেন? গ্রুপের পক্ষ থেকে কেউ কোন নোটিশ কিংবা কিছুই জানায়নি আমাকে।
গণতন্ত্রের প্রথম ও প্রধান শর্তগুলির মধে‍্য সহনশীলতা অন‍্যতম। সেই সহনশীলতা ছাড়া যেমন গণতন্ত্র টেকসই হয় না, তেমনি কাউকে কোন কিছু না জানিয়ে তাকে কোন গ্রপ থেকে বাদ দেয়াটাও সভ‍্যতার সাক্ষ‍্য বহন করে না। বিচারবহির্ভূত হত‍্যাকান্ড নিয়ে গ্রুপ করে কিংবা উদ্দেশ‍্যমূলকভাবে লেখালেখি করে কোন পুরস্কার পাবার আশা আমার কোনকালেই ছিল না। আজও নেই। এপ্রসঙ্গে কিছু ব‍্যক্তিগত তথ‍্য জানিয়ে রাখা ভালো। র‍্যাব বা এলিট ফোসর্ গঠনের আগে বিএনপি-জামাত অপারেশন ক্লিনহাটর্ শুরু করে মানুষ হত‍্যা করে। ওই অপারেশনে ৫৮ জন মানুষ নিহত হয়। তখন থেকেই মূলত: আমি বিচার বহির্ভূত হত‍্যাকান্ড নিয়ে অনুসন্ধানী রিপোর্ট করতে শুরু করি। যার ধারাবাহিকতা অব‍্যাহত ছিল র‍্যাপিড একশান ব‍্যাটালিয়ন বা র‍্যাবের হাতে অন‍্যায়ভাবে গ্রেফতার ও নির্যাতনের ঘটনার আগদিন পর্যন্ত। জেল থেকে বেরিয়ে বিচার বহির্ভূত হত‍্যাকান্ড নিয়ে বইও লিখেছি (বিচার বহির্ভূত হত‍্যাকান্ড এবং প্রতিহিংসা)। এছাড়া আমার ওপর বর্বর নির্যাতনের বিষয়ে আরেকটি বই লিখি যেটি প্রকাশ করার জন‍্য বাংলাদেশের নামকরা, বিখ‍্যাত প্রকাশকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। কিন্তু কেউ প্রকাশ করেনি। “অন্ধকারে ১৫ ঘন্টা” নামের বইটি পরবর্তীতে বাধ‍্য হয়ে নিজেই প্রকাশক সেজে ছাপি ডানা প্রিন্টার্স থেকে।
“বিচারবহির্ভূত হত‍্যাকান্ড এবং প্রতিহিংসা”, “জঙ্গি গডফাদার ও অন‍্যান‍্য প্রসঙ্গ”, “অন্ধকারে ১৫ ঘন্টা”, “উদীচী থেকে পিলখানা” বাংলা বইগুলির ইংরেজী ভার্সন “PAIN” (http://www.amazon.ca/Pain-Jahangir-Alam-Akash/dp/1456858025) এ ছাপা হয়েছে। এই বইটি আমেরিকা থেকে প্রকাশিত হয়েছে। আমার বিশ্বাস বাংলাদেশে বিচার বহির্ভূত হত‍্যাকান্ড, সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতন, আদিবাসি হত‍্যা-নির্যাতন, ধমর্ীয় সংখ‍্যালঘু হত‍্যা-নির্যাতন এবং বাংলাদেশের জন্ম ও ইতিহাস ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটা দলিল হয়ে রইবে বইটি।
২০০৪ সালে খুলনায় সাংবাদিক মানিক সাহা, হুমায়ুন কবির বালু নিহত হলেন। বগুড়ায় মার্ডার হলেন দীপংকর চক্রবত্তর্ী। সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতনের বিরুদ্ধে মিছিল-সভা সমাবেশ করার জন‍্য কাউকে কাছে পাওয়া খুব সহজসাধ‍্য ছিল না। বাধ‍্য হয়ে একাই রাজপথে নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছি। ২০০৫ সালের ১৫ জানুয়ারি আমিই প্রথম দেশে বিচার বহির্ভূত হত‍্যাকান্ডের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাই।
ব‍্যক্তিগত প্রসঙ্গ নিয়ে আর লেখার কলেবর বাড়াতে চাই না। একটা কথা বলে রাখা ভালো মুক্ত গণমাধ‍্যম, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের পক্ষে আমার অবস্থান ছিল পরিস্কার। কখনও কোন রাজনৈতিক দলের দালালি করিনি বা কারও কাছ থেকে কোন সুবিধা-উপঢৌকন গ্রহণ করিনি। কোন পুরস্কার পাবার আশায় কিংবা জার্মানি, অষ্ট্রিয়া বা ইউরোপে আসার জন‍্যও সাংবাদিকতা করিনি। যা করেছি একজন পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছিমাত্র। পাশাপাশি একজন নাগরিক হিসেবে সমাজের প্রতি একটা দায় আছে বলে আমি মনে করি। সেই দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে মাঝে মাঝে কিছু একটা করার চেষ্টা করেছি। বহু মানুষ বিশ্রি ও অসভ‍্য ভাষায় গালমন্দ করে এবং ডাহা মিথ‍্যা ও কাল্পনিক বক্তব‍্য লিখে আমার লেখা ও পোষ্টে মন্তব‍্য করছেন, কিন্তু কারও মন্তব‍্য কোনদিন মুছে ফেলিনি। এটাইতো গণতন্ত্র। অন্যের মতামত পছন্দ নাও হতে পারে আমার। কিন্তু তার মতামতের একটা মূল‍্যতো আছেই।
পরিশেষে ওই বিখ‍্যাত ও পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্লগারের কাছে একটা প্রশ্ন রাখলাম কাউকে কোন গ্রুপের সদস‍্য হবার আমন্ত্রণ জানানোর পর আবার তার সদস‍্যপদ বিনা নোটিশেই খারিজ করে দেয়াটার কোন নৈতিকমূল‍্য বা গণতান্ত্রিক মূল‍্য আছে কিনা? ছবিটি ২০০৫ সালের ১৫ জানুয়ারি রাজশাহীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্ট থেকে তোলা। ছবিতে বিচার বহির্ভূত হত‍্যাকান্ড বন্ধ এবং সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতন বন্ধ ও সকল সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতনের বিচারের দাবিতে মাথায় কালোকাপড়ের টুপি পরে এবং হাত বেধে দাঁড়িয়ে আছি আমি নিজেই। র‍্যাব পরে আমাকে আমার বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে এভাবেই মাথায় কালো কাপড়ের টুপি পরিয়ে উপরে ১৫ ঘন্টা ধরে ঝুলিয়ে রেখে অমানুষিক নির্যাতন করে। জরুরি অবস্থার মধে‍্যও র‍্যাবের হত‍্যা-নির্যাতনের বিষয়ে বই লিখেছি।

তিন মাসের অধিক সময় চলে গেলো: সাগর-রুনির খুনিদের ধরা হলো না!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। সাংবাদিক সাগর-রুনি হত‍্যাকান্ডের ঘটনায় চুনিপুটি কেউ নয় রাঘব-বোয়ালরাই জড়িত! এই বক্তব‍্য কী আপনাদের কারও কাছে অবিশ্বাস‍্য মনে হয়? সাহারা খাতুন ও শেখ হাসিনার বক্তব‍্য আর খুনিদের ধরতে না পারার ঘটনা অন্তত তাই মনে করাতে বাধ‍্য করছে আমাদের।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী এমনকি তথাকথিত এলিট ফোর্স র‍্যাপিড একশান ব‍্যাটালিয়ান বা র‍্যাব সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে মামলার তদন্ত করছে! দেশে চাঞ্চল‍্যকর হত‍্যাকান্ড বা গুমের ঘটনা ঘটলেই এসব কথার কথা বলে পুরো ঘটনাটিকেই পাল্টে দেয়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়। এই বাজে সংস্কৃতির সঙ্গে দেশের মানুষ বেশ পরিচিত। কিন্তু তারপরও আমাদের বেকুব ও মেরুদন্ডহীন তদন্ত সংস্থাগুলি ভাওতাবাজির আশ্রয় নিয়ে মানুষের দৃষ্টিকে অন্নদিকে ঘেরানোর চেষ্টা করে বারবার।
এই নৃশংস হত‍্যাকান্ডের পরপরই প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনা বলেছেন, “সরকারের পক্ষে কারও বেডরুম পাহারা দেয়া সম্ভব না”। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি সাহারা খাতুন বলেছেন “কারও পক্ষে বলা সম্ভব না যে কবে সাগর রুনি হত‍্যা মামলার তদন্ত শেষ হবে”? অথচ তিনিই বলেছিলেন ২৪ ঘন্টার মধে‍্য সাংবাদিক সাগর-রুনির খুনিদের ধরা হবে! পুলিশ প্রধান ও র‍্যাবের প্রাক্তন প্রধান হাসান মাহমুদ বলেছিলেন “সাগর-রুনি হত‍্যামামলায় প্রণিধানযোগ‍্য অগ্রগতি হয়েছে। এই পুলিশ কমর্কতর্া এখন মুখে কুলুপ এঁটেছেন! আরকে গোয়েন্দা কমর্কতর্া অথবর্ মনিরুল ইসলামও চুপচাপ।
দেশের সর্বোচ্চ আদালত সাগর-রুনি হত‍্যামামলার তদন্তকাযর্ক্রম ও সরকারি ভূমিকায় দারুণ খুশি হয়েছিলেন! অথচ আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে সাগর-রুনি হত‍্যা মামলার তদন্তে নিজেদের ব‍্যথর্তা স্বীকার করার পরও অন্ধ বিচারালয় কারও বিরুদ্ধে কোন ব‍্যবস্থা নেয়নি। আদালতে ভাবটা এমন যে একটা রাষ্ট্রী খুনি বাহিনী সাগর-রুনির খুনিদের ধরতে পারবে, মামলার তদন্তও সুচারুরুপে করবে! তাই তারা অতি উৎসাহের সাথে মামলাটির তদন্তভার র‍্যাবের হাতে ন‍্যস্ত করলো। অথচ র‍্যাবও আজ পযর্ন্ত খুনির টিকিটির নাগাল পেলো না। তারা সাগর-রুনিকে আবার কবর থেকে তুললো। ভিসেরা নমুনা সংগ্রহ করলো, মিডিয়ায় নানান কথা-বার্তা প্রচার করলো। কিন্তু মোল্লার দৌড় যেমন মসজিদ পর্যন্ত র‍্যাবের তৎপরতাও তেমন পযর্ায়েই আটকে গেলো!
সাংবাদিকরা গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর গান শুনে প্রীত হলেন!। তাঁরা এতটাই প্রীত ও মশগুল হলেন যে সাগর-রুনির খুনিদের ধরার ব‍্যাপারে শেখ হাসিনাকে কিছুই বলতে পারলেন না। আন্দোলনরত সাংবাদিক নেতারা আকস্মিকভাবেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারার দাওয়াত নিলেন। চা-পানের ওই দাওয়াতে মুগ্ধ হয়ে গোটা আন্দোলনটাকেই হত‍্যা করলেন সাংবাদিক নেতারা। এরপর দু’একজন ব্লগার নাকি ‘তেতিয়ে’ ওঠলেন! কেউ কেউ পুরস্কারও হাতিয়ে নিলেন। কিন্তু আন্দোলনের কোন ধারাবাহিকতা না থাকায় সাগর-রুনির খুনিদের গ্রেফতার ও বিচারেরর দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনের তাপ খুনিও খুনিদের আশ্রয়দাতাদের পযর্ন্ত গিয়ে পৌঁছলো না। ১১ ফেব্রুয়ারি সাগর-রুনি খুন হন নিজ ফ্ল‍্যাটে। কিন্তু আজঅবধি খুনিদের গ্রেফতার ও খুনের মোটিভ উদ্ধার করতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী, র‍্যাব ও গোয়েন্দারা। এই ব‍্যথর্ বাহিনীগুলিকে কোটি কোটি টাকা দিয়ে পোষেণ জনগণ। অথচ তারা খুনিদের গ্রেফতার করতে পারে না। মানুষ গুম করে ওরা, সাংবাদিক পেটায়, যে জনগণের টাকায় এইসব বাহিনীর বেতন ভাতা হয় সেই জনগণকেই তারা পেটায়। তাহলে এসব রেখে লাভ কী?
যাহোক এরইমধে‍্য আরও দুই সাংবাদিক (একজন ফটো সাংবাদিক ও একজন সাংবাদিক) সড়ক দূঘর্টনায় নিহত হলেন। সাংবাদিকরা এবার সাগর-রুনির খুনিদের বিচারের দাবির চেয়ে সড়ক দূঘর্টনায় নিহত সাংবাদিকদের ঘাতক বাসচালক নিয়েই ব‍্যস্ত হয়ে পড়লেন! ক’দিন আগে সাংবাদিকদের কর্মসূচীতে পুলিশ বাধা দিয়েছে। সাংবাদিকরা নতুন করে সাগর-রুনির খুনিদের গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে আন্দোলনের কর্মসূচী ঘোষনা করেছেন। আশা করবো এবার সাংবাদিকদের আন্দোলন গতি পাবে। ঐক‍্যবদ্ধ আন্দোলনের মুখে সরকার বাধ‍্য হবে সাগর-রুনির খুনিদের গ্রেফতার ও বিচার করতে। সেই প্রত‍্যাশায় লেখাটি শেষ করলাম। ছবি ফেইসবুক থেকে নেয়া।