Daily Archives: 13/05/2012

এএইচএম খা. লিটনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। রাজশাহীর মেয়োর এ এইচ এম খা. লিটনের বিরুদ্ধে এবার গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলো। তাও আবার আদালত অবমাননার অভিযোগ। কিন্তু পুলিশ ভয়ে গ্রেফতার করছে না। সূত্র দৈনিক কালের কণ্ঠ। কারণ উনি সরকারদলীয় মেয়োর। অবশ‍্য এমন আদালত অবমাননার অভিযোগ যদি একজন সাধারণ মানুষের নামে বা বিরোধীদলীয় নেতার নামে আসতো তবে এতোক্ষণে দলীয় ক‍্যাডারের ভূমিকায় অবতীণর্ হয়ে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে ফলতো! এই হলো বাংলাদেশ, যেখানে আইন সকলের জন‍্য কখনোই সমানভাবে চচর্িত হয় না। সেখানে আইনের শাসন পদদলিত!
এই মেযর শুধু সাংবাদিককে হত‍্যার পরিকল্পনাই করেন না আদালত অবমাননাও করেন! আবার একজন কমর্চারিকে তাঁর প্রাপ‍্য পারিতোষিকও দিতে চান না। এই মেয়রই রাজশাহীর বোডর্ চেয়ারম‍্যান প্রফেসর দীপককে হত‍্যার হুমকি দিয়েছিলেন তাঁর মেয়ের পরীক্ষার ফলাফল ভালো করে নেবার জন‍্য। (সূত্র ইংরেজী দৈনিক ডেইলি স্টার)। ছি, ছি, ধিক্কার এইসব রাজনীতিকদের যারা কেবল নিজেদের স্বাথর্ ছাড়া জনকল‍্যাণ বলতে কিছু বোঝেন না। জাতীয় নেতার ছেলে লিটন আবার বঙ্গবন্ধু কন‍্যা শেখ হাসিনার খুবই প্রিয়!
জানি না বা বলতে পারি না যে, সাহসী সাংবাদিক আনু মোস্তফাকেও আবার হুমকি না দিয়ে বসেন এই মেয়োর। শুনেছি মেযর লিটন নাকি যা ইচ্ছে তাই করছেন এখন সেখানে!!! আবার বিচারকের যে কী হয় সেটা হয়ত সৃষ্টিকর্তাও জানেন না? মেয়োর বলে কথা! কী দরকার ছিল তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার? উনি কী জানেন না যে দেশে আইনের শাসনের চেয়েও বেশি ক্ষমতাবান হলো অন‍্যায় করা আর ক্ষমতার অপব‍্যবহার করে নিজের স্বাথর্ পূণর্ করা? এখন দেখার বিষয় বিচারকের ভাগে‍্য কী ঘটান লিটন, নাকি আবার হুমকি ও বদলি করে দেন অধ‍্যাপক দীপকের ন‍্যায়, সেটা সময়ই বলে দেবে? ছবি ফেইসবুক থেকে নেয়া।

ড. ইউনুস হাসে আর ঋণের ফাঁদে আটকেপড়া দরিদ্র নারীরা কাঁদে!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। প্রকৃত অথর্ে সেখানে নারীর উন্নয়নও ঘটেনি, দারিদ্রতাও মরেনি। তবুও দারিদ্রমুক্তি বা মোচনের নাম করে অনেকেই অনেক ফায়দা লুটছে সেখানে। চলছে পুরস্কার দেবার প্রতিযোগিতা। কেউ পুরস্কার পেয়ে খুশিতে গদগদ, আবার কেউ না পেয়ে অন্তজর্ালায় মরছে! কিন্তু আসল অবস্থার কোনই পরিবর্তন নেই। দারিদ্রতা কমছে না। বরং বাড়ছে মানবাধিকারের লংঘণ। বাড়ছে প্রতারণা, বাড়ছে সুদের হার। ৪০ থেকে ১২৫ ভাগ সুদ দিচ্ছেন সেই গ্রামের অতি দরিদ্র নারী মা-বোনেরা। এই হতদরিদ্রদের করুণ অবস্থার চিত্র তুলে ধরে কেউ আঙুল ফুলে কলাগাছ আবার মূল পাত্র-পাত্রীদের সবর্নাশ!
সামাজিক ব‍্যবসা বা ক্ষুদ্র ঋণ ব‍্যবসা যেটাই হোক না কেন বাংলাদেশের বাস্তবতায় গরিবকে গরীব বানানো ছাড়া অন‍্য কিছু নয়। ড. ইউনুস খ‍্যাতির শীষর্ে পৌঁছে গেছেন গ্রামের সবচেয়ে দরিদ্র থেকে দরিদ্রতম নারীদেরকে বিশ্ববাসির কাছে তুলে ধরে। তিনি পুরস্কারও পেয়েছেন, এমনকি নোবেলের মতো সম্মানজনক পুরস্কারও। কিন্তু দুই যুগ আগে যে নারী গ্রামীণ ব‍্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তথাকথিত সামাজিক ব‍্যবসা বা ক্ষুদ্রঋণ ব‍্যবসা শুরু করেছেন সেই নারীর ভাগে‍্যর উন্নয়ন ঘটেনি। কিন্তু গ্রামীণ ব‍্যাংক ও ইউনুস উভয়ের ভাগ‍্য পাল্টে গেছে। আর গ্রামীণ দরিদ্র সহজ-সরল লেখাপড়া না জানা নারী মা-বোনেরা জড়িয়ে পড়েছেন বহু ঋণের জালে। এই জাল ছিন্ন করতে দিনরাত পরিশ্রম করতে হয় তাঁদেরকে। কিন্তু তবুও ঋণের জাল ছেঁড়া সম্ভব হয় না। ঋণের বোঝা টানতে চা পেরে অনেকে আত্মহত‍্যার পথ বেছে নিয়েছেন। কারও ঘরের টিন খুলে নিয়েছেন ড. ইউনুস ও তাঁর ব‍্যাংক, কারও গরু নিয়ে গেছেন আবার কারও জমি, ভিটেমাটিটুকুনও সপে দিতে হয়েছে ঋণের টাকা পরিশোধ করার জন‍্য। এই বাস্তবতাটুকুর কতটুকুই বা জানে বিশ্ববাসি। আর জানলেই বা তাদের করার কী আছে? তাদেরতো আছে নিহজ নিজ ব‍্যবসা। সেই ব‍্যবসার লোভ আর মুনাফার কাছে মানবতা পদদলিত, লাঞ্ছিত, অপমানিত প্রতিনিয়ত।
ড. ইউনুস ও তাঁর ব‍্যাংক গ্রামীণ ব‍্যাংক প্রায় তিনদশক ধরে বাংলাদেশে লাভজনক ব‍্যবসা করে যাচ্ছেন। ব‍্যবসার লাভের টাকায় ড. ইউনুস বলতে গেলে আকাশে পৌঁছে গেছেন। কিন্তু যাদের ভাগ‍্য বদলানোর নামে তিনি ব‍্যবসা করেছেন এবং করছেন তাদের ভাগ‍্যতো বদলায়ইনি বরং ভাগে‍্যর চাকা ঘুরে গেছে পেছনপথে। ২০১০ সালে নরওয়েজিয়ান সরকার নিয়ন্ত্রিত টিভি এনআরকোর এক ডকুমেন্টারিতে ড. ইউনুস ও তাঁর ব‍্যাংকের মানবাধিকার লংঘণের প্রকৃত চিত্র বিশ্ববাসি দেখেছে। ঐতিহাসিক ওই ডকুমেন্টারিটা তৈরী করেছেন ডেনমাকর্ের অনুসন্ধানী সাংবাদিক টম হাইনেমান।
ইউনুস ও গ্রামীণ ব‍্যাংক হাসে! কাঁদে মানুষ, নারী ও বাংলার মা-বোনেরা যাঁরা ইউনৃস সৃষ্ট ব‍্যবসার জালে আটকা পড়েছেন। বাস্তবিকঅথর্ে বাংলাদেশে ভিক্ষুক ও দরিদ্র মানুষের সংখ‍্যা কী কমেছে? ছবি গুগল থেকে নেয়া।

অপরাধ ও অপরাধীকে আঁড়াল আর ঘটনাকে ধামাচাপা দিতেই তদন্ত!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ।। অপরাধ ও অপরাধীকে আঁড়াল আর ঘটনাকে ধামাচাপা দিতেই তদন্ত! এটা একধরণের সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে ওখানে আমাদের মায়ের ভূমিতে।
তদন্ত কমিটি গঠন মানেই ঘটনার রহস‍্য উৎঘাটন বা দোষীদের শনাক্তকরণ নয়। তদন্ত কমিটি অথর্ অপরাধীকে বাঁচানো বা আঁড়াল করা বা ঘটনাটিকে যেকোনপ্রকারেই হোক ধামাচাপা দেয়া। দোষ গণতন্ত্রহীনতার। রাজনীতিকরাই এজন‍্য দায়ি (সব রাজনীতিক নন যারা সৎ, দেশপ্রেমিক তাঁরা ব‍্যতিক্রম)। আমরা গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক বলে নিজেদের জাহির করি দেশে এবং বিদেশে। কিন্তু গণতন্ত্রের যে প্রধান শতর্ই হলো মতপ্রকাশ, ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, সহনশীলতা এসব মৌলিক কথাই আমরা ভুলে যাই।
আমরা কেবল যেনতেন এবং যেভাবেই হোক তালগাছটাকেই চাইছি সবাই। তালগাছ না পেলে বিচার ও শালিশ মানি না। এই শয়তানি সংস্কৃতির থেকে দেশ-জাতিকে বেরিয়ে আনার জন‍্য যে সাহসী নেতৃত্ব দরকার তা হয়ত আছে দেশের ভেতরেই। কিন্তু একটা আদশর্ যে আদশর্ হবে জনগণ জনগণ এবং জনগণ সেই আদশর্কে সামনে এগিয়ে নিতে পারছি না আমরা কেউই। সমস‍্যাটা কোথায়? প্রতিদিন অহনর্িশ আমাদের বুদ্ধিজীবীগণ লিখছেন (আওয়ামী সমথর্করা বিএনপির বিরুদ্ধে আর বিএনপি সমথর্করা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে, এইজোটভুক্তদলগুলি এই দু’টি দলেই সম্পৃক্ত) কিন্তু সমাধান বেরুচ্ছে না।
আমাদের দেশে অভিযোগ ওঠে যার বা যে বিভাগের বিরুদ্ধে সেই বিভাগই তার তদন্ত করে। ফলে তদন্তের উদ্দেশ‍্যই থাকে সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা ব‍্যক্তিকে রক্ষা করা। কারণ রাজনৈতিক উপরমহলের তৎবির। পরিণামে যা হবার তাই হয়, অপরাধীর কিছুই হয় না। অপরাধ ঘটতে থাকে বারবার, সমানভাবে। অপরাধী হয় উৎসাহিত। জনগণ হয়ে পড়েন অসহায়, দিশেহারা আর ক্ষতিগ্রস্ত। এই যে ৭০ লাখ টাকা নগদ পাওয়া গেলো একটা কারে। এই টাকার উৎস কী তাও ইহজনম নয় পরজনমেও জানা যাবে না। এটাই হলো সোনার বাংলা, বাংলাদেশ! বাংলাদেশেতো সিংহভাগ মানুষের আয়ের সঙ্গে ব‍্যয়ের কোন মিল নেই। কে দায়ি? জীবন, সমাজ সংসারের প্রয়োজন মেটাতে মানুষ অসাধু, অনৈতিক পথ তথা দুর্নীতির আশ্রয় নিচ্ছেন। পুরো পদ্ধতি ও কাঠামোটাকে ভেঙ্গে নতুন করে একটা সমাজ বিনির্মাণ করা ছাড়া কী চলমান হরিবোল অবস্থাকে পাল্টানো যাবে?
জনগণকে আর কত মূল‍্য দিতে হবে একটা সুন্দর, শান্তিপূণর্ সোনার বাংলাদেশ, যেখানে থাকবে না কোন বৈষম‍্য, অন‍্যায়-অবিচার, থাকবে শুধু আইনের শাসন, মানবাধিকার, সুশাসন, বিশ্বাস, শ্রদ্ধা, ভালবাসা আর মানবকল‍্যাণ প্রতিষ্ঠার জন‍্য। মোটা দাগে যাকে বলি আমরা মানবমুক্তি। সেই মুক্তি ছাড়া কী কোন একটা সমাজকে সভ‍্য ও গণতান্ত্রিক বলা যায়? ছবি বিডিনিউজ

আমার মা ও মাতৃভূমি!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। মাকে হারিয়েছি বহুবছর আগেই। মায়ের আগেই বাবাও চলে যান। আজ মা দিবস। অনেকে মনে করতে পারেন যে দিবস উপলক্ষে‍্য মাকে মনে পড়ছে। কিন্তু ব‍্যাপারটি সেরকম নয় আমার কাছে। মাকে সবসময় প্রতিক্ষণেই মনে পড়ে। হয়ত সবার ক্ষেত্রেই ব‍্যাপারটি এমন এরকমই। আমার মা কখনই ছবি তুলতে চাইতেন না। একদিন কৌশলে লুকিয়ে একটা ছবি তুলেছিলাম। সেই ছবিটাই এখানে আডলোড করবো আজ।
আমরা সবাই বলি যে “আমার মা পৃথিবীর সেরা মা”। ব‍্যক্তিগতভাবে আমি এমন বা এভাবে বলতে চাই না। তবে এটা বলবো সব মা’ই মা। মা, মা-ই। মায়ের সঙ্গে কারও কোনরকমের তুলনা হয় না, কেউ এটা করতেও পারবেন না কোনদিনও।
যাহোক যার মা নেই তারজন‍‍্য পৃথিবীটা একটা অন্যধকার কবরের ন‍্যায়! পৃথিবীটা আমার কাছে যেন এক শ্মশান, মরুভূমি। মাকে হারিয়েছি অনেক আগেই। মাতৃভূমিকেও হারাতে হয়েছে দুবর্ৃত্ত রাজনীতির কারণে। মা আর মাতৃভূমি এই দুইকে কী কখনও আলাদা করা যায়? ছোট্র শিশু মাহির সরোয়ার মেঘ কী করে এই ধকল সইবে বলুন। অতটুকুন বাচ্চা মাকেও হারালো, বাবাও চলে গেলো। না রুনি হারাননি, সাগরও চলে যাননি। তাঁদেরকে বহু কষ্ট আর যন্ত্রণা দিয়ে ওই দুবর্ৃত্ত, দানব, নষ্টের দল সরিয়ে দিয়েছে আমাদের কাছ থেকে চিরদিনের মতো।
মেঘের কী যে কষ্ট, বেদনা তা কী এই পচা, দুর্গন্ধময় সমাজ বুঝতে চাইছে নাকি এটা বোঝার মতো ক্ষমতা আছে এই সমাজের? কাকে দোষ দেবো, দোষতো আমার, আমাদেরই! আমরা জন্মেছি এই দেশে যেখানে মা অপমানিত হন প্রতিনিয়ত (নানাভাবে)! মা, মাগো, জননী মা (মা ও মাতৃভূমি) আমার, আমাদের ক্ষমতা করো তুমি। আমাদের চোখের সামনে কত লাঞ্ছনা-বঞ্চনা আর কষ্ট ও যন্ত্রণার পাথর চেপে রাখো তুমি তোমার বুকের মাঝে! তবুও তোমার নেই কোন আক্ষেপ, অনুযোগ, অভিমান বা অভিযোগ। তুমি কত বড় কত মহান। তোমার চরণে ঠেকাই মাথা শত সহস্র কোটিবার।