আসুন লিনার সহায়তায় হাত বাড়িয়ে দিই আমরা সবাই!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। সদা হাসিমুখের একটি মানুষ। গণমাধ‍্যমকমর্ীদের কাছে একটি অতি প্রিয় মুখ। বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক্সমিডিয়ায় এমন কেউ নেই যাঁকে চেনেন না। সেই প্রিয় নাহিদ জাহান লিনা। প্রথম জীবনের একুশে টেলিভিশন ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় এক নবদিগন্তের সূচনা করেছিল। সেই একুশে টিভিতে রাজশাহী থেকে কাজ করার সময়ই পরিচয় হয়েছিল এই বন্ধুবৎসল লিনার সঙ্গে। আমি আমার জীবনে খুব কমই মানুষ দেখেছি যাঁদের মুখে সারাক্ষণই হাসি লেগে থাকে। দু:খেও যিনি হাসেন। চরম দু:সময় এখন যাঁর। সেই মানুষটি হাসপাতালের বেডে শুয়েও হাসছেন। ক’জন পারেন এমন হাসতে।
মানবতা আর মানুষের পাশে দাঁড়ানোই ছিল লিনার ছাত্রজীবনের একটি ব্রত। যেখানেই মানুষের বিপদ এবং প্রয়োজন যেখানেই মানবতার বিপর্য়য় সেখানেই ছুটে যেতেন এই চঞ্চলা লিনা। মানুষের সহায়তায় হাত বাড়িয়ে দিতেন। ক্ষুধার্ত, শীতার্ত ও দূর্গত মানুষ মানুষের সহায়তা করেই যিনি আনন্দ পেতেন। সেই মানুষটিরই প্রতিটি মুহুর্ত কাটে এখন অনিশ্চয়তার দোলাচলে। লিনা চরম বিপদের মুখে। জীবন-মৃতু‍্যর সন্ধিক্ষণে আজ তাঁর বসবাস।
২০০৯ সালের ৩০ অক্টোবর ঘাতক ব‍্যধি ক‍্যান্সারে আক্রান্ত হন নাহিদ জাহান। পরের বছর জুন মাসে তিনি শেষ করেন সার্জারি (ম‍্যাসটাকটমি), ৬ সাইকেল কেমোথেরাপী এবং রেডিওথেরাপী। পরবর্তীতে তিনি নিতে থাকেন পাঁচ বছরের জন‍্য হরমোনাল থেরাপী। ২০১০ সালের জুনে তাঁর ডান পায়ের হাড়ে আক্রমণ করে ক‍্যান্সার। নানানরকমের থেরাপী, ইনজেকশন ও ট‍্যাবলেট ব‍্যবহার চলতে থাকে। ক‍্যান্সার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। লিনা ছুটে যান ভারতের চেন্নাইয়ে। লক্ষ‍্য উন্নত চিকিৎসা নেয়া। সেখানকার চিকিৎসকরা নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। পাশাপাশি চিকিৎসাও চালাতে থাকেন।
কিন্তু চিকিৎসা অত‍্যন্ত ব‍্যয়বহুল। ডা লিনা ও তাঁর পরিবারের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। বন্ধু-বান্ধব ও সহকর্মীরা সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন সাধ‍্যমতো। ইতোমধে‍্য ৩০ লক্ষাধিক টাকা ব‍্যয় হয়ে গেছে লিনার চিকিৎসার জন‍্য। চিকিৎসকদের আশা লিনা সম্পূর্ণ সুস্থ‍্য হয়ে ওঠবেন চিকিৎসা প‍্যাকেজ শেষ করা গেলে। এই প‍্যাকেজ শেষ করতে আরও অন্তত কুড়ি লাখ টাকার প্রয়োজন। লিনা তাঁর চিকিৎসার প্রায় দশ মাস অতিক্রম করছেন। আর সামান‍্য কিছু সহায়তা পেলে লিনা সুস্থ‍্য হয়ে যাবেন বলে সবার প্রত‍্যয়। লিনার চার বছর বয়সী একটি শিশু রয়েছে।
ইউরোপ-আমেরিকায় আমরা যাঁরা থাকি একটু একটু করে সহায়তা করলে লিনার শিশুকন‍্যা মায়ের আদর, ভালবাসা আর স্নেহ থেকে বঞ্চিত হবে না। কথায় বলে দশের লাঠি একের বোঝা, দশে মিলে করি কাজ হারিজিতি নাহি লাজ। আমরা সবাই যদি একটু একটু করে সাধ‍্যমতো সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিই তাহলে একটি মা, একজন বোন এবং একজন সংবাদ/মিডিয়াকর্মীকে আমরা ফিরিয়ে দিতে পারবো তাঁর পরিবারের কাছে। বিশেষ করে তাঁর ছোট্র ফুটফুটে সোনার টুকরো মেয়েটির দিকে তাকিয়ে আমরা কী পারি না এক মাসের জন‍্য ধূমপান বন্ধ করে দিতে (যারা ধূমপান করি)। আর সেই ত‍্যাগের অর্থ হয়ত লিনার জীবনকে বাঁচিয়ে দেবে।
শুনেছি ঢাকায় সাংবাদিক বন্ধুদের অনেকেই লিনার সহায়তায় কাজ করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে মোস্তফা জামান রায়হানি, তুষার আবদুল্লাহসহ আরও অনেকে। ঢাকায় যতো সাংবাদিক, সম্পাদক আছেন বিশেষ করে টিভি চ‍্যানেল ও বহুল প্রচারিত বাংলা ও ইংরেজী দৈনিকগুলির কমর্ীগণ সবাই সাহাযে‍্যর হাত বাড়িয়ে দিলে একজন নয় শত লিনাকে বাঁচিয়ে রাখা যায়! সাংবাদিক বন্ধুরা শতজনকে না হোক আজ এখন অন্তত একজন লিনার পাশে এসে দাঁড়াবেন এবং সাহাযে‍্যর হাত বাড়িয়ে দেবেন এই বিশ্বাসটুকু আমার আছে।
আপনারা যাঁরা লিনার প্রতি সহায়তার হাত প্রসারিত করতে চান তাঁদের সুবিধার্থে লিনার ব‍্যাংক হিসাব এখানে উল্লেখ করছি।
Account Name: Nahid Jahan, Account Number: 18341104401, Standard Chartered Bank, Uttara Branch, Dhaka, Bangladesh. SWIFT CODE: SCBLBDDX
উল্লেখ‍্য, নাহিদ জাহান লিনা একুশে টেলিভিশন দিয়েই সাংবাদিকতা জগতে প্রবেশ করেন। এরপর সিএসবি নিউজ, এটিএন বাংলায় কাজ করেন। বতর্মানে তিনি এনটিভিতে সংবাদ বিভাগে রেফারেন্স সমন্বয়কারি হিসেবে কর্মরত। যাহোক পরিশেষে ভূপেন হাজারিকার একটি গানের উদ্ধৃতি দিয়ে লেখাটি শেষ করতে চাই। “মানুষ মানুষের জন‍্য, জীবন জীবনের জন‍্য”। জয় হোক মানুষ আর মানবতার। ছবি ফেইসবুক থেকে নেয়া। editor.eurobangla@yahoo.de

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s