Daily Archives: 19/05/2012

তিন মাসের অধিক সময় চলে গেলো: সাগর-রুনির খুনিদের ধরা হলো না!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। সাংবাদিক সাগর-রুনি হত‍্যাকান্ডের ঘটনায় চুনিপুটি কেউ নয় রাঘব-বোয়ালরাই জড়িত! এই বক্তব‍্য কী আপনাদের কারও কাছে অবিশ্বাস‍্য মনে হয়? সাহারা খাতুন ও শেখ হাসিনার বক্তব‍্য আর খুনিদের ধরতে না পারার ঘটনা অন্তত তাই মনে করাতে বাধ‍্য করছে আমাদের।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী এমনকি তথাকথিত এলিট ফোর্স র‍্যাপিড একশান ব‍্যাটালিয়ান বা র‍্যাব সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে মামলার তদন্ত করছে! দেশে চাঞ্চল‍্যকর হত‍্যাকান্ড বা গুমের ঘটনা ঘটলেই এসব কথার কথা বলে পুরো ঘটনাটিকেই পাল্টে দেয়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়। এই বাজে সংস্কৃতির সঙ্গে দেশের মানুষ বেশ পরিচিত। কিন্তু তারপরও আমাদের বেকুব ও মেরুদন্ডহীন তদন্ত সংস্থাগুলি ভাওতাবাজির আশ্রয় নিয়ে মানুষের দৃষ্টিকে অন্নদিকে ঘেরানোর চেষ্টা করে বারবার।
এই নৃশংস হত‍্যাকান্ডের পরপরই প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনা বলেছেন, “সরকারের পক্ষে কারও বেডরুম পাহারা দেয়া সম্ভব না”। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি সাহারা খাতুন বলেছেন “কারও পক্ষে বলা সম্ভব না যে কবে সাগর রুনি হত‍্যা মামলার তদন্ত শেষ হবে”? অথচ তিনিই বলেছিলেন ২৪ ঘন্টার মধে‍্য সাংবাদিক সাগর-রুনির খুনিদের ধরা হবে! পুলিশ প্রধান ও র‍্যাবের প্রাক্তন প্রধান হাসান মাহমুদ বলেছিলেন “সাগর-রুনি হত‍্যামামলায় প্রণিধানযোগ‍্য অগ্রগতি হয়েছে। এই পুলিশ কমর্কতর্া এখন মুখে কুলুপ এঁটেছেন! আরকে গোয়েন্দা কমর্কতর্া অথবর্ মনিরুল ইসলামও চুপচাপ।
দেশের সর্বোচ্চ আদালত সাগর-রুনি হত‍্যামামলার তদন্তকাযর্ক্রম ও সরকারি ভূমিকায় দারুণ খুশি হয়েছিলেন! অথচ আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে সাগর-রুনি হত‍্যা মামলার তদন্তে নিজেদের ব‍্যথর্তা স্বীকার করার পরও অন্ধ বিচারালয় কারও বিরুদ্ধে কোন ব‍্যবস্থা নেয়নি। আদালতে ভাবটা এমন যে একটা রাষ্ট্রী খুনি বাহিনী সাগর-রুনির খুনিদের ধরতে পারবে, মামলার তদন্তও সুচারুরুপে করবে! তাই তারা অতি উৎসাহের সাথে মামলাটির তদন্তভার র‍্যাবের হাতে ন‍্যস্ত করলো। অথচ র‍্যাবও আজ পযর্ন্ত খুনির টিকিটির নাগাল পেলো না। তারা সাগর-রুনিকে আবার কবর থেকে তুললো। ভিসেরা নমুনা সংগ্রহ করলো, মিডিয়ায় নানান কথা-বার্তা প্রচার করলো। কিন্তু মোল্লার দৌড় যেমন মসজিদ পর্যন্ত র‍্যাবের তৎপরতাও তেমন পযর্ায়েই আটকে গেলো!
সাংবাদিকরা গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর গান শুনে প্রীত হলেন!। তাঁরা এতটাই প্রীত ও মশগুল হলেন যে সাগর-রুনির খুনিদের ধরার ব‍্যাপারে শেখ হাসিনাকে কিছুই বলতে পারলেন না। আন্দোলনরত সাংবাদিক নেতারা আকস্মিকভাবেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারার দাওয়াত নিলেন। চা-পানের ওই দাওয়াতে মুগ্ধ হয়ে গোটা আন্দোলনটাকেই হত‍্যা করলেন সাংবাদিক নেতারা। এরপর দু’একজন ব্লগার নাকি ‘তেতিয়ে’ ওঠলেন! কেউ কেউ পুরস্কারও হাতিয়ে নিলেন। কিন্তু আন্দোলনের কোন ধারাবাহিকতা না থাকায় সাগর-রুনির খুনিদের গ্রেফতার ও বিচারেরর দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনের তাপ খুনিও খুনিদের আশ্রয়দাতাদের পযর্ন্ত গিয়ে পৌঁছলো না। ১১ ফেব্রুয়ারি সাগর-রুনি খুন হন নিজ ফ্ল‍্যাটে। কিন্তু আজঅবধি খুনিদের গ্রেফতার ও খুনের মোটিভ উদ্ধার করতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী, র‍্যাব ও গোয়েন্দারা। এই ব‍্যথর্ বাহিনীগুলিকে কোটি কোটি টাকা দিয়ে পোষেণ জনগণ। অথচ তারা খুনিদের গ্রেফতার করতে পারে না। মানুষ গুম করে ওরা, সাংবাদিক পেটায়, যে জনগণের টাকায় এইসব বাহিনীর বেতন ভাতা হয় সেই জনগণকেই তারা পেটায়। তাহলে এসব রেখে লাভ কী?
যাহোক এরইমধে‍্য আরও দুই সাংবাদিক (একজন ফটো সাংবাদিক ও একজন সাংবাদিক) সড়ক দূঘর্টনায় নিহত হলেন। সাংবাদিকরা এবার সাগর-রুনির খুনিদের বিচারের দাবির চেয়ে সড়ক দূঘর্টনায় নিহত সাংবাদিকদের ঘাতক বাসচালক নিয়েই ব‍্যস্ত হয়ে পড়লেন! ক’দিন আগে সাংবাদিকদের কর্মসূচীতে পুলিশ বাধা দিয়েছে। সাংবাদিকরা নতুন করে সাগর-রুনির খুনিদের গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে আন্দোলনের কর্মসূচী ঘোষনা করেছেন। আশা করবো এবার সাংবাদিকদের আন্দোলন গতি পাবে। ঐক‍্যবদ্ধ আন্দোলনের মুখে সরকার বাধ‍্য হবে সাগর-রুনির খুনিদের গ্রেফতার ও বিচার করতে। সেই প্রত‍্যাশায় লেখাটি শেষ করলাম। ছবি ফেইসবুক থেকে নেয়া।