সাংবাদিক নির্যাতন চলছে, চলেছে এবং চলবে!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ।। সাংবাদিক নির্যাতন চলছে, চলেছে এবং চলবে! কে আছে মানবাধিকার লংঘণের এই খেলা থামায়? কোন সরকার বা কোন নেতা-নেত্রীর বুকের পাটা আছে সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতন থামাতে পারে বাংলাদেশে? উত্তরে যদি বলি কেউ নেই কারও এমন সৎ সাহস নেই তাহলে পাঠক আপনারা নিশ্চয়ই বলবেন আমি চরম হতাশাবাদি। কিন্তু আমি সবসময় একটা আশাবাদি মানুষ। পরিস্থিতির মূল‍্যায়ণ ও সত‍্য প্রকাশ করতে গিয়ে কখনও কখনও আমার নিজেরও মনে হয় যে আমি বুঝি একজন নিরাশাবাদি মানুষ! কিন্তু আশাটা জন্মাবে কেমনে বলেন? স্বাধীনতা যুদ্ধ দেখিনি, মুক্তিসংগ্রামের অনেক পরে জন্ম আমার। ইতিহাস ও জন্মপরবর্তী অভিজ্ঞতা বলছে বাংলাদেশের মানুষ আশাবাদি হলেও দুবর্ৃত্ত রাজনীতি আর ক্ষমতার মোহ ও গদি রক্ষা কিংবা গদিতে যাবার লড়াই মানুষের আশা বার বার ভেঙ্গে দিচ্ছে!
পুলিশ আবার পেটালো সাংবাদিক। এবার দেশের জনপ্রিয় বাংলা দৈনিক প্রথম আলোর তিন সাংবাদিককে রাজপথে প্রকাশে‍্য পেটালো পুলিশ। শুধু তাই নয় কী অসাধারণ! দম্ভোক্তি প্রকাশ করলো নির্যাতনকারি পুলিশের এক কর্মকর্তা? এতো স্পর্ধা আসে কোত্থেকে? সাংবাদিক সমাজই এই শক্তি সৃষ্টি করছে নির্যাতনকারিদের মধে‍্য! কথাটা হয়তা একটা বেশি তেতো হয়ে গেলো। কিন্তু এটাই সত‍্য এবং বাস্তবতা। একের পর এক সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতন হচ্ছে সাংবাদিকরা বসে বসে আঙুল চুষে কেন? কেন তারা পেশাগত মর্যাদা, নিরাপত্তা আর মুক্ত গণমাধ‍্যম সৃষ্টির পরিবেশকে এগিয়ে নেয়ার জন‍্য দলমত, গোষ্ঠী ও গ্রুপ ছেড়ে এক কাতারে শামিল হতে পারছেন না? সমস‍্যাটা কোথায়? একই পেশা, একই উদ্দেশ‍্য আর তা হলো জনগণকে তথ‍্য জানানো, সত‍্য উন্মোচন, গণতন্ত্রকে সামনে এগিয়ে নেয়া ও সমাজের অনাচার-অবিচারের বিরুদ্ধেই তো গণমাধ‍্যম ও গণমাধ‍্যমকমর্ীদের মহান ব্রত! যদি তাই হবে তাহলে কেন তারা হাসিনা বা খালেদা এই দুই রাজনৈতিক মতের সঙ্গে পুরো সাংবাদিক সমাজ বিভক্ত?
শুনেছি ঢাকায় নাকি গোপালগঞ্জের কানেকশন আছে এমন লোকেরাই পুলিশের বড় বড় পদগুলিতে আছেন। তাই তারা নাকি খোদ সরকারপ্রধানের হুকুম ছাড়া কারও কথা শোনেননা! এমনকি আইন, সংবিধান কোনটাই মুখ‍্য নয় তাদের কাছে। উনারা দলীয় ক‍্যাডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। মজার ব‍্যাপার হলো সাংবাদিকরা একের পর এক মার খাচ্ছেন কিংবা নিহত হচ্ছেন কিন্তু তারা একতাবদ্ধ নন। এমনকি প্রথম আলোর সাংবাদিকরা নাকি কোন ইউনিয়নের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন না! তাছাড়া মিডিয়া হাউজগুলির প্রায় সবারই আছে আপন আপন ব‍্যবসাপাতি। সেই ব‍্যবসাপাতিতে ফাঁকি-টাকি (কর, ট‍্যাক্স বা ভ‍্যাট) দিতে গেলেতো সরকারের সঙ্গে আপোস করতেই হয়! ফলে সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতন চলছে, চলবেই! এটা বন্ধ হবার কোন কারণ নেই সেখানে। গণতন্ত্র, পরমত সহিষ্ণুতা, আইনের শাসন ছাড়া কী একটা সমাজ সভ‍্য হয়, নাকি সেই ধরণের কোন সমাজকে সভ‍্য বলা যায়? মিডিয়াগুলি প্রত‍্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বিচার বহির্ভূত হত‍্যা-নির্যাতনের পক্ষ নিয়েছে (দু’একটি ব‍্যতিক্রম ছাড়া)। তাই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এটা জানে যে দু’চারজন সাংবাদিক হত‍্যা ও মেরে তাদের কিছুই হবে না! তারা এও জানে যে সাংবাদিকরা বহু ভাগে বিভক্ত এবং রাজনীতির পাশাপাশি চলে। হয় হাসিনা ও তার মহাজোটের সমর্থক নয়তো খালেদা বা চারদলীয় জোটের সমর্থক। এর বাইরে একেবারেই ব‍্যতিক্রম ছাড়া কোন সাংবাদিক খুঁজে পাওয়া যাবে না সেখানে।
সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতনের একটা করে ঘটনা ঘটবে আর সাংবাদিকরা দু’একদিন মিছিল-মিটিং, সভা-সমাবেশ করবেন, শোকসভা আয়োজন করবেন, মানববন্ধন করবেন, বড় বড় গলায় সাংবাদিক নেতারা চিৎকার করে বক্তব‍্য রাখবেন রাজপথে, গণমাধ‍্যমে ছবি প্রকাশ ও প্রচার করবেন। ব‍্যস, সব বন্ধ হয়ে গেলো? এক পর্যায়ে সবাই চুপসে যাবেন! ফলে সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতনের পরবর্তী ঘটনা ঘটবে অবলীলায়! সাংবাদিক সাগর-রুনি হত‍্যাকান্ডের পর মিডিয়াগুলি চুপচাপ থাকায় বোধহয় সাংবাদিক নির্যাতনের এই পরিণতি দেখতে হচ্ছে খুব অসহায়ভাবে!
গতানুগতিকতার ধারাবাহিকতায় এই ঘটনার পরও দায়ি বা দোষী পুলিশদের লোকদেখানো বরখাস্ত না সাময়িক বরখাস্ত বা ক্লোসড করা হবে! সাংবাদিকরা বিক্ষোভফে ফেটে পড়বেন, একেবারেই ফেটে পড়বেন, এমন ফাটা ফাটবেন যে ২৪ ঘন্টা, ৪৮ ঘন্টা, ৭২ দিন, এক সপ্তা, এক মাস পর সব চুপচাপ হয়ে যাবেন? ফলে পরের নির্যাতনের ঘটনাটিও ঘটবে সবার চোখের সামনেই!
এই লেখাটি যখন লিখছি তখন শাহরিয়ার কবির নামে একজন ফেইসবুকার স্ট‍্যাটাসে লিখলেন। তার লেখার প্রেক্ষিতে একটা মন্তব‍্য করেই লেখাটির সমাপ্তি টানবো। তিনি বললেন, “সামনে দিন আসছে ঐক বদ্ধ ভিক্ষুক শ্রেনীও আপনাদের গায়ে হাত দিতে ভয় পাবে না”। শাহরিয়ার কবির ভাই, এভাবে ভিক্ষুক ভাই-বোনদের আপনি ছোট করতে পারেন না? উনারা এতো নিচুমনের নন যে কারও গায়ে হাত দেবেন। বরং তখাকথিত শিক্ষিত, সুশিল ও ভদ্রবেশি কাপুরুষের দলই এমনটা করতে পারেন, যারা হাসিনা ও খালেদার অনুসারি! ছবি বিডিনিউজ২৪, ফেইসবুক থেকে নেয়া।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s