আর কত রক্ত চায় ওরা!

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। সাংবাদিক সাগর-রুনির নৃশংস হত‍্যাকান্ডের পরও ঝড় উঠেছিল মিডিয়াপাড়ায়। সভা-সমাবেশ, গায়ে আগুন ধরানোর মতো সাংবাদিক নেতাদের বক্তৃতা, প্রতিবাদ, নিন্দা, হতাশা, আতংক, উদ্বেগ প্রকাশের সেই ঝড় থেমে গেছে। এরপর পারভেজ খানের ওপর হলো সন্ত্রাসী হামলা। পারভেজ খান ক্রাইম বিটের সাংবাদিক। নামকরা একজন সংবাদকর্মী। সেই ঘটনায়ও নিন্দা জানালেন সাংবাদিকরা। সম্ভবত এরপর কিংবা আগে সমকাল সম্পাদক গোলাম সারোয়ারকে হত‍্যার হুমকি। বেশ কিছু সম্পাদক (সবাই নন, কেন তার বর্ণনা করার দরকার আছে বলে মনে করি না) বিবৃতি দিলেন। নিউএইজ সম্পাদক নূরুল কবিরকেও হুমকি দেয়া হয়েছে অসংখ‍্যবার। মিডিয়া ও সাংবাদিকদের ওপর মানহানি আর আদালত অবমাননা মামলার আক্রমণতো হরহামেশাই ঘটছে স্বদেশে। একুশে টিভির বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে। বহু মিডিয়া বন্ধ হয়েছে, অনেকে জেল, সাংবাদিকদের কারাদন্ড ভোগ করেছেন। এইতো সেদিন ঢাকার রাজপথেই পুলিশ পেটালো দেশের শীর্ষস্থানীয় বাংলা দৈনিক প্রথম আলোর আলোকচিত্র সাংবাদিক খালেদ সরকার, জাহিদুল করিম ও সাজিদ হোসেনকে। একটার পর একটা সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতনের ঘটনা ঘটবে আর আমরা নিনন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েই চুচাপ বসে থাকবো। ফলে পরবর্তী নির্যাতনের ঘটনাটিও ঘটবে অবলীলায়, বাধাহীনভাবে। ফলে সর্বশেষ আজ ঘটলো বিডিনিউজ২৪ এর কার্যালয়ে আক্রমণের ঘটনা। সন্ত্রাসীরা রীতিমতো বিডিনিউজ কার্যালয়ে রক্তের বন‍্যা বইয়ে দিয়েছে! আজ সন্ধ‍্যায় তারা সেখানে হামলা চালায়। ঘটনা ঘটার পর পুলিশ, র‍্যাব গিয়ে সাঁড়াশি অভিযানে নামবে, কিন্তু কোন ফল দিতে পারবে না। কিংবা তারা গিয়ে পাহারা বসাবে। ঠিক যেভাবে র‍্যাব এখন পাহারা বসিয়েছে বিডিনিউজ২৪ এর কার্যালয়ে!
হাসপাতালে আশংকাজনক অবস্থায় ভর্তি হওয়া সাংবাদিক বন্ধু বিডিনিউজ২৪ এর সহসম্পাদক রিফাত নওয়াজ, প্রতিবেদক সালাউদ্দিন ওয়াহিদ প্রীতম এবং অফিস সহকারী রুহুল আমিন এর জন‍্য রক্ত প্রয়োজন বলে ফেইসবুকে একজন স্ট‍্যাটাস দিয়েছেন। আমার গ্রুপ ও পজিটিভ। কিন্তু দু:খিত স্বদেশ থেকে অনেক দূরে আছি। তাই সম্ভব না রক্ত দেয়া। আশা করছি রক্ত ম‍্যানেজ হয়ে যাবে। সাংবাদিক বন্ধুরা সুস্থ‍্য হয়ে ওঠবেন। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি যে সারাদেশজুড়েই সাংবাদিকরা এই ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোর বিবৃতি দিয়ে সংবাদপত্রের পাতা ভরে দেবেন। সবাই জানাবে আক্রমণকারিদের গ্রেফতারের দাবি। রাজনীতিকরা (কী সরকারি দল কী বিরোধী দল) হাসপাতালে দেখতে যাবেন আহত বা নির্যাতত সাংবাদিকদের দেখতে। কেউ কেউ আবার চিকিৎসার ভার নেয়ার ঘোষণাও দেবেন! এসব লোক দেখানো আর নাম ফুটানো কর্মকান্ডের ফলে খুনি ও নির্যাতনকারিরা আঁড়াল হয়ে যাবে। যেমনটা আমরা দেখছি জীবনভর। আর বিবৃতির ভেতরে হামলাকারি ঢাকা পড়বে, হারিয়ে যাবে কিংবা মিলিয়ে যাবে। র‍্যাব-পুলিশের সাঁড়াশি বলেন আর চিরুনি অভিযান বলেন কোন অভিযানই খুনি ও সন্ত্রাসী বা নির্যাতনকারিদের থামাতে পারবে না, পারেনি, পারছে না!
কিন্তু এভাবে আর কতকাল সাংবাদিকরা হত‍্যা-নির্যাতনের শিকার হবেন। সাংবাদিক সমাজের বিবেক খুলবে কবে, কবে উনারা এক কাতারে দাঁড়িয়ে বলতে পারবেন মানুষকে মুক্ত দিন, নিরাপত্তাবিঘ্নকারিদের ধরুন, আইন ও সংবিধানের শাসন কায়েম করুন? কবে এই সাংবাদিক সমাজ দলমতের উদ্ধর্ে উঠে পেশাগত ঐক‍্য, দৃঢ় ঐক‍্য গড়ে তুলতে সমর্থ হবেন? এটা না করলে যে সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতন চলতেই থাকবে, এই বোধটুকু কবে জাগবে আমাদের সংবাদকর্মীদের? সাংবাদিকদের শরীর থেকে আর কত রক্ত বেরুলে আমরা একটা ঐক‍্যবদ্ধ সাংবাদিক সমাজ পাবো? আর কত রক্তের বিনিময়ে রাষ্ট্র মুক্ত গণমাধ‍্যম ও সাংবাদিক এবং সাধারণ মানুষের জন‍্য একটা নিরাপদ সমাজ ব‍্যবস্থা উপহার দিতে পারবে? আর কত রক্ত চায় আমাদের দুবর্ৃত্ত রাজনীতি?
মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি মুখ খুলুন, কিছু একটা বলুন ২৪ ঘন্টা না হয় ২৪ মাস, কিছুতো একটা বলতেই হবে আপনাকে! আর আইনের শাসন ও গণতন্ত্রের যিনি নহর বইয়ে দিচ্ছেন দেশে সেই প্রধানমন্ত্রি আপনি কেন চুপ করে আছেন এখনও? আপনিও বলুন যে আপনারা সন্ত্রাসমুক্ত একটি দেশ উপহার দিয়েছেন বাঙালি জাতিকে এবং আরও বলুন যে আপনি এবং আপনার মহাজোটভুক্ত রাজনৈতিক দলগুলিই সবচেয়ে ভালো চালাচ্ছে দেশ! আর যাই বলুন জনগণ কিন্তু কথা নয় কাজ দেখতে চান। মানুষ চান শান্তি, নিরাপদে নিশ্চিন্তমনে ঘুমুতে। সেই রকম কোন উপহার কী জনগণকে দিতে পেরেছেন আজ অবধি? ছবি ফেইসবুক থেকে নেয়া।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s