Monthly Archives: জুন 2012

বঙ্গবন্ধু রবীন্দ্রনাথ-অমর্ত্যের পাশে ইউনুসকে মানায় কী?


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। বিদেশভুমে আমার প্রিয় ব্যক্তিত্ব বলি আর বন্ধুত্ব বলি (সেটা শ্রদ্ধার জায়গাটাকে ঠিক অবস্থায় রেখেও বলা যায়) তার তালিকা লম্বা নয়। একেবারেই ছোট। র্জামানিতে আবদুল্লাহ আল-হারুণ, সুইডেনে মুন শেখ, অষ্ট্রিয়ায় সাঈদ, নরওয়েতে মুহাম্মদ বদরুল আর আমার খুবই ক্লোজ বন্ধু কার্টুনিষ্ট আরিফ বাদে আর তেমন কোন উদাহরণ দেবার মতো কেউ আছে কিনা তা এই মুহুর্তে মনে করতে পারছি না। হঠাৎ প্রিয় মুন আপার একটা স্টাটাসে নজর এলো। স্টাটাসটি ফেইসবুকে লিখেছেন তিনি। মন্তব্য না করে থাকতে পারছি না। ওই স্টাটাসের ওপর মন্তব্য করার আগে অনলাইন বিষয়ে আমার তেতো অভিজ্ঞতার একটি ক্ষুদ্র অংশ আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করতে চাই। আশা করি আমাকে আপনারা ভুল বুঝবেন না। আমার ভেতরে চরম ক্ষোভ আর কষ্টের দাবানল জ্বলছে। কোনভাবেই নিজেকে আমি আর সামলাতে পারছি না। কারণ সন্তান যদি আক্স্মিকভাবে হারিয়ে যায় তাহলে সেই সন্তানের বাবা-মার যেমন কষ্ট লাগে, ব্যথা পান তারা হয়ত তার চেয়েও বেশি কষ্ট পাচ্ছি, ব্যথা লাগছে আমার। আমিও নিজ সন্তানের মতোই আমার সৃষ্টি ইউরো বাংলাকে আমি ভালবাসি। কিন্তু সেই ভালবাসাকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে শয়তানের দল যারা মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে হত্যা করতে এতটুকুও কার্পণ্য করে না কখনও।
আমার অনলাইন সংবাদপত্র “ইউরো বাংলা” হ্যাক করে দিয়েছে দুর্বৃত্ত, ভীরু ও কাপুরুষের দল। এর আগেও ওরা আমার হিউম্যান রাইটস টুডে’র ওপর আক্রমণ করে। ফলে ওটাও আমার হাত ছাড়া হয়ে যায়। মানবাধিকার বিষয়ক সর্বশেষ উদ্যোগটিকেও ওরা আমার কাছে থাকতে দিলো না। যাহোক সবমিলিয়ে এখন ভাবছি অনলাইনের লেখালেখি নিয়ে। মাঝে মাঝে অন্তরে এমন বিশ্বাসও জন্ম নেয় যে, অনলাইনে লেখালেখির কোন পজিটিভ ফল কেউই বোধহয় পায় না। এটা একটা অন্যরকমের বিতর্ক। সেদিকে যেতে চাই না। এখন মনে করছি অনলাইনে লেখালেখিটা ছেড়ে দেবো। সেজন্য মনটাকে প্রবোধ দেবার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ইন্টারনেট আর অনলাইন একটা হেরোইনের মতো আসক্তি বলেই আমার মনে হয়, তাই শত সহস্র হাজার কোটি পণ করেও অনলাইনকে ছাড়তে পারছি না। জানি না এটা কী কোন ভালবাসা, প্রেম নাকি স্রেফ মাদকাসক্তির ন্যায় কোন একটা আকর্ষণ?
মুন আপা কেন যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আর অর্মত্য সেনের মতো মহান মানুষদের সঙ্গে প্রঢফেসর ডক্টর মুহাম্মদ ইউনুসকে এক কাতারে দেখার মতো সাহস করলেন তা আমি ভেবে পাই না! শেষোক্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্য তিনজনের কেউই কিন্তু ব্যবসায়ি ছিলেন না বা গরীব নারীদের কষ্ট ঘাম আর রক্ত ঝড়ানো অর্থে নিজেদের জীবনকে আরাম আর আয়েশের মধ্যে ডুবিয়ে রাখেননি। তাঁরা মানুষের মুক্তির জন্য লড়াই করে গেছেন। আর শেষজন ৪০ থেকে ১২৫ শতাংশ সুদ নিচ্ছেন বাংলার দরিদ্র সহজ ও সরল লেখাপড়া না জানা নারী মা-বোনদের কাছ থেকে। যেখানে সরকারি সুদের হার ২০ শতাংশের ওপরে নয়।
এভারেষ্ট বিজয় নিয়ে বাংলাদেশের মিডিয়া এখন বেশ সরগরম। সেই বিয়টিকেও মুন আপার স্টাটাসে স্থান দেয়া হয়েছে। যেখানে তিনি এভারেস্ট বিজয়ী নিশাত আর ওয়াসিফার সাক্ষাৎকার বিষয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসকে টেনেছেন। তাতে দোষের কিছু দেখি না। সে বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। মায়ের ভাষার জন্য রক্ত দান করার মতো ত্যাগ এই পৃথীবীতে একমাত্র বাঙালি জাতির ইতিহাসেই পাওয়া যায় অন্য কোন জাতির সেরকম কোন র্গবের জায়গা আছে কিনা তাও আমার জানা নেই। তবে বাঙালি জাতির রক্ত বৃথা যায়নি। সালাম, রফিক, জব্বার, বরকতসহ নাম না জানা অগণিত শহীদের আত্মত্যাগ আজ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। ২১ ফেব্রুয়ারি আজ গোটা পৃথিবী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করছে। একই দিন বাংলাদেশ পালন করে শহীদ দিবস হিসেবেও।
আরেকটি বিষয়ে মুন আপার দৃষ্টি আর্কষণ করে বলতে চাই। তা হলো পৃথিবীতে এভারেস্ট বিজয়ী কেবল বাঙালি নারী নিশাত আর ওয়াসিফাই করেননি। পৃথিবীর বিভিন্শন প্রান্তত থেকে শত মানুষ এই এভারেস্ট জয় করছে ফি বছর। এইতো নিশাত ও ওয়াসিফার আগে বা পরে (সঠিক তারিখ ও সময়টা আমার মনে নেই বলে দু:খিত) ৭৪ বছর বয়সী এক নারী (যিনি বাংলাদেশের নন) এভারেস্ট জয় করলেন। নিশাত ও ওয়াসিফাকে নিয়ে বাংলাদেশের মিডিয়ার যত চিৎকার ও মাতামাতি অন্য বিজয়ীদের বেলায় সেইসব সংশ্লিষ্ট দেশগুলিতে তেমন কোন হৈ-চৈ দেখা যায় না।
দেশে দুর্নীতি, হত্যা, গুম বিনা বিচারে মানুষ হত্যা, নারী ধর্ষণ ও নির্যাতনসহ আরও কত হাজারো সমস্যায় মানুষ ক্রমশ: নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ছেন। সেইসব বিষয়ে মাতামাতি নেই কিন্তু কেউ কোন এডভেঞ্চারে গেলে তা নিয়ে একেবারে শোরগোল ফেলে দেয়।
বাংলায় আরেকজন বঙ্গবন্ধু আর কখনও আসবে কিনা তা বলতে পারি না। সমস্যা, সংকট আর সংশয় সব অবস্থায় বাঙালি ছুটে যান রবীন্দ্রনাথের কাছে। কিন্তুৃ ইউনুসের কাছে নয়। বরং একবার যিনি ইউনুসের ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন নিজেদের ভাগ্য বদলানোর জন্য তার ভাগ্যতো ফেরেইনি উপরন্তু তিনি ঋণের জালে আটকা পড়েছেন!
কেউ কেউ আত্মহত্যা করেছেন, সুদের টাকা ও ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় অনেকের বাড়ি-ঘরের টিন খুলে নিয়ে গেছে গ্রামীণ ব্যাংক। তারা আবার কারও ঘরের ঘরু-বাছুরও নিয়ে গেছে বলে বিভিন্ন সময়ে সংবাদপত্রে খবর বেরিয়েছে। মমুন আপার স্টাটাসে এই মহাজন, সুদখোর ও দারিদ্রতা নিয়ে ব্যবসাকারির নাম কী করে বঙ্গবন্ধু, রবীন্দ্রনাথ ও অমত্য সেনের নামের পাশাপাশি স্থান পেলো তা আমি কোনভাবেই মিলাতে পারছি না। আমার প্রত্যাশা এবিষয়ে মুন আপা খোলাসা করবেন পরবর্তী স্টাটাসে। ছবি নিউ এইজ, গুগল থেকে নেয়া।

Advertisements

হিউম‍্যান রাইটস টুডে’র পর ইউরো বাংলাকেও ওরা নিয়ে নিলো!

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। ওরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। তাই ওরা অনে‍্যর মতও সহ‍্য করতে পারে না। ওরা মানুষের বলার স্বাধীনতাকে, মানুষের মত প্রকাশের অধিকারকে হরণ করতে পছন্দ করে। অন্ধকারে থাকা এই কালো লোকগুলি সৃষ্টিকে ধ্বংস করতে পারে কেবল। এরা সত‍্যকে ভয় পায়। ওরা দেশ, জাতি ও মানবাধিকারের শত্রু। এদের শাস্তি দেবে কে?
মানবাধিকার, গণমাধ‍্যমের স্বাধীনতা, শান্তি ও গণতন্ত্র নিয়ে আমার লেখালেখির একমাত্র অবলম্বনটিও ওরা (কারা, আমি জানি না) আমার কাছ থেকে কেড়ে নিলো, কিন্তু কেন, তবে ওরা কী আমাকে খুব বেশি ভয় পায়? এর আগেও আমার একটি ওয়েবসাইট ওরা কৌশলে বন্ধ করে দিয়েছিল। হিউম‍্যান রাইটস টুডে নামের ওই সাইটি আমি অনেক কষ্ট করে গড়ে তুলেছিলাম। বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল আমার সেই প্রথম ওয়েবসাইট। এরপর নতুন নাম নিতে হলো। এবার নাম দিলাম ইউরো বাংলা। প্রথমে শুরু করলাম বাংলা ওয়েব সাইট হিসেবে। পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে তা ইংরেজী ভাষায় করলাম। আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে মানবাধিকার ও গণতন্ত্র বিষয়ক বাংলাদেশের আসল রুপটা তুলে ধরার জন‍্য বাংলায় ওয়েবসাইট যথেষ্ট মনে কিরিনি। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জানানোর উদ্দেশে ইউরো বাংলাকে ইংরেজীতে গড়ে তুলার উদে‍্যাগ নিলাম। অল্প সময়েই ইউরো বাংলা জনপ্রিয় হলো। ইউরো বাংলাকে কোন ব‍্যবসায়িক উদ্দেশে নয় শুধুমাত্র মানবাধিকার, শান্তি ও গণতন্ত্রকে এগিয়ে নেয়ার লক্ষে‍্য ইউরো বাংলা চলতে শুরু করলো বেশ ভালোভাবেই। প্রতিদিন গড়ে দেড় হাজার মানুষ ইউরো বাংলা পড়তে থাকলেন।
অনেক কাঠখড় ও টাকা খরচ করে ইউরো বাংলা চালু করেছিলাম। এখন এটাও গেলো। তাহলে যাবো কোথায় বলুন? নিজে ধূমপান করি না, কোন কিছু পান করি না, আজেবাজে খরচ করি না। সেই সঞ্চিত অর্থে আমি কেবল মানুষের জন‍্য অধিকারহারা মানুষের পক্ষে স্বাধীনভাবে সত‍্য তুলে ধরার জন‍্যই এই প্রচেষ্টা আমার। কিন্তু কী আমার অপরাধ, ওরা কেন আমাকে আমার কলম থামিয়ে দিতে চাইছে?

সাগর-রুনি হত‍্যাকান্ড।। ঢাকায় সাংবাদিক সমাবেশে হামলা, মুন্নি-মামুন ও এটিএন বাংলার কী পরিকল্পনা?

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। আমার ভীষণ লজ্জা হচ্ছে এই জন‍্য যে আমিও দীর্ঘ দুই দশক ধরে সাংবাদিকতা করেছি বাংলাদেশে! আমার বন্ধু শওকত মিল্টন যিনি বরিশাল থেকে আর আমি রাজশাহী থেকে কাজ করতাম। পরে এই বন্ধুটি ঢাকায় চলে গেলেন। আমি কোনদিনও রাজশাহী ছেড়ে যেতে চাইনি। আর এজন‍্যই হয়ত আজ আমি মাতর্ৃভূমি ছাড়া। কিংবা আমি হয়ত স্রোতের বিপক্ষে সাতরাতেই পছন্দ করতাম বেশি। তাই রাজশাহীর প্রতি বাড়তি প্রেম ও ভালোবাসার টানেই হয়তো সেখানেই পড়ে থাকতে চেয়েছিলাম। আমার ভেতরে জনপ্রিয় বা বিখ‍্যাত হবার কোন আকাঙ্খাই কাজ করেনি কখনও। যাহোক প্রসঙ্গ সেটা নয়। আজ দু’একটি কথা লিখতে চাই সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর-রুনি হত‍্যাকান্ডের বিচার দাবিতে সাংবাদিকদের চলমান আন্দোলন এবং সেই আন্দোলনের সর্বশেষ পরিণতি কোন দিকে যেতে চাইছে তা নিয়ে।
১৯৮৪ সাল থেকে দেশে এ পর্যন্ত ৪২ জন সাংবাদিক ও একজন জনপ্রিয় লেখক নিহত হয়েছেন। বলতে গেলে কোন ঘটনারই কার্যকর ও সঠিক তদন্ত হয়নি আজও। প্রকৃত খুনিরা ধরা পড়েনি। আর কোনদিন পড়বেও না। তাই আমার সাফ কথা সাংবাদিক হত‍্যার বিচার চাই না চাই আইনের শাসন ও প্রকৃত গণতন্ত চর্চা।
একটা দেশের গণতন্ত্র কোন পর্যায়ে কার্যকর আছে তা অনেকটা নির্ভর করে সেই দেশ ও সমাজে বসবাসরত মানুষ বিশেষ করে সুবিধাভোগী ও অর্থ বিবেচনায় উন্নত শ্রেণীর মানুষদের ভেতরে সহনশীলতার মাত্রা কী পরিমাণ ক্রিয়াশীল তার ওপর। সাগর-রুনির নৃশংস হত‍্যাকান্ডের পর যখন সংখ‍্যাগরিষ্ট সাংবাদিক সমাজ একত্রিত হয়ে খুনিদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানাচ্ছেন ঠিক তখনই এটিএন বাংলার চেয়ারম‍্যান তথাকথিত ডক্টর মাহফুজুর রহমান লন্ডনে গিয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক মেহেরুন রুনির চরিত্র হননের খেলায় মেতে ওঠলেন। অথচ তারই (মাহফুজের) প্রতিষ্ঠানে রুনির ঘাম ঝরানো কষ্ট ও আনন্দ বেদনার বহু স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় যারা বিশ্বাসী তারা হয়ত মাহফুজের বিরুদ্ধে পাল্টা বক্তব‍্য দিতে পারেন, কিন্তু মাহফুজকে বা তার ওপর কিন্তু কোন আক্রমণ করতে পারে না। সেটা কেউ করেওনি। নিয়মতান্ত্রিকপন্থায় সাংবাদিক সমাজ মাহফুজুর রহমানকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করার দাবি জানিয়ে আসছিল। মাহফুজ রহমানও তার সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে শিল্পী ও সুহৃদদেরকে মাহফুজের পক্ষে মাঠে নামানোর প্রচেষ্টা নেন। বাংলা সমাজের তথাকথিত অগ্রসর অংশের সুবিধাভোগী ও তোষামদকারি-চাটুকাররা সবসময় সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। নাটক প্রচার, সঙ্গীত পরিবেশন ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং খবরের নায়ক হবার মতো লোভ ক’টা মানুষ (তথাকথিত ওপরতলার মানুষেরা, সবাই নন) সামলাতে পারে, বলুন?
রাজধানী ঢাকায় আজকের ঘটনার একটা ছোট্র বিবরণ দেয়া দরকার। বিডিনিউজ২৪ লিখেছে, ১১ ফেব্রুয়ারি নিহত সাংবাদিক মেহেরুন রুনি ও সাগর সরওয়ারের হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে আজ ২৪ জুন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি এবং জাতীয় প্রেসক্লাবের নেতারা অংশ নেন। মানববন্ধন শুরুর পর ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির মৃত্যুর জন্য এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমানকে দায়ী করে তার কার্যালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচি ঘোষণার দাবি জানান। তিনি বলেন, “সাংবাদিক সাগর-রুনির মৃত্যুর জন্য এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান দায়ী। তার কার্যালয় ঘেরাও করার কর্মসূচি ঘোষণা করার দাবি জানাচ্ছি।” তার বক্তব্য শেষ করার পর এটিএন বাংলার বিশেষ প্রতিনিধি শওকত মিল্টন তেড়ে গিয়ে বলেন, “কর্মসূচি ঘোষণা করার আপনি কে?” এ সময় মিল্টন ও এটিএন বাংলার অন্য সাংবাদিকদের সঙ্গে জাহাঙ্গীর আলমের হাতাহাতি হয়। এক পর্যায়ে জাহাঙ্গীর দৌঁড়ে প্রেসক্লাবের ভেতরে চলে যেতে চাইলে ধাওয়া করে তার ওপর চড়াও হন মিল্টন, জ ই মামুন, এসএম বাবু, রাহাত মিনহাজসহ এটিএন বাংলার অন্য সাংবাদিকরা। জাহাঙ্গীর পরে প্রেসক্লাবের ভেতরে গিয়ে অন্য সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়ে এটিএন বাংলার কর্মীদের পাল্টা ধাওয়া করেন। এরপর ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরীর নেতৃত্বে সাংবাদিক নেতাদের চেষ্টায় পরিস্থিতি শান্ত হয়। সাংবাদিকদের চারটি সংগঠনের আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, “আমরা সাগর রুনিসহ সব সাংবাদিকদের হত্যা নির্যাতনের বিচারের দাবিতে আন্দোলন করে আসছি। কিন্তু আজকের এ ঘটনা সাংবাদিকদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করেছে। একটি কুচক্রি মহল বিভেদ তৈরিতে কাজ করছে।”
এবিষয়ে আর কিছু বলার বা লেখার কিছু আছে বলে মনে করি না। সচেতন ও বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন যেকোন মানুষই লজ্জা পাবেন এই ভেবে যে কী করলেন “জাতির বিবেক” রা? একপক্ষ হামলা করলেন, অন‍্যপক্ষের তর সইলো না তারাও পাল্টা আক্রমণ করলেন! আপনি মারবেন আম কেন চুপ থাকবো? আমিও আমার ক্ষমতা দেখাবো-এটাই স্বাভাবিক। শান্তি, মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের দেশ নরওয়েতে যখন একের পর এক গুলি করে মেধাবি তরুণদের হত‍্যা করছিল তখনও নরওয়ের পুলিশ, প্রশাসন কিংবা নাগরিকদের মধে‍্য কেউ বলেননি যে ব্রেইভিককেও গুলি করো বা মারো! আর আমার স্বদেশে কেউ কারও ওপর ইট মারলে তাকে পাটকেলটিও খেতে হয়! নরওয়ে আর বাংলাদেশের গণতন্ত্র, সমাজ ব‍্যবস্থা এবং মানুষের মানসিকতার পার্থক‍্যটা এখানেই।
মাহফুজুর রহমান গ্রেট বৃটেনে যখন সাগর-রুনির চরিত্র হনন করলেন তখন জ ই মামুন মাহফুজকে কুরুচিপূর্ণ মানসিকতার মানুষ বলে মন্তব‍্য করেন। এবং কতিপয় “হুজুগে বাঙালি” তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে সোশ‍্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো ঝড় তুলে দিলেন। আর এখন সেই জ.ই মামুনই তেড়ে মারতে গেলেন আরেক সহকর্মীকে। এটাইতো আমাদের সহনশীলতা ও সংস্কৃতি! এর থেকে যে কবে বেরিয়ে আসতে পারবো আমরা তা বোধহয় সৃষ্টিকর্তাও বলতে পারবেন না? এটিএন বাংলার আরেক সাংবাদিক কর্ণধার যিনি সাগর ও রুনির আত্মাতুল‍্য প্রিয় সন্তান শিশু মেঘের সাক্ষাৎকার নিয়ে বাহবা কুড়িয়েছেন বলে কেউ কেউ হাততালি মারছেন কিংবা মাহফুজ আজ হাতে তুড়ুপের তাস পেয়ে খুশিতে গদগদ হয়ে পড়েছেন সেই মুন্নি সাহা নাকি জার্মানিতে আসছেন। তিনি নাকি একটা বড় বাজেট ও মিশন নিয়ে ডয়েচেভেলে গ্লোবাল মিডিয়া ফোরামের সম্মেলনে কোন আমন্ত্রণ পানিন। তারপরও নাকি নিজ খরচে সেই সম্মেলনে অংশ নিতে নিবন্ধন করেছেন। জার্মানি থেকে একজন ব্লগার জানালেন, মুন্নি সাহা নাকি আসছেন অনুসন্ধান করতে যে কারা এটিএন বাংলা ও মাহফুজ সম্পর্কে লেখালেখি করছে তাদের একটা তালিকা তৈরী করতে! এবং সেই অনুযায়ী তাদের (যারা লিখছেন তাদের) বাংলাদেশে বসবাসকারি আত্মীয় স্বজনদেরকে র‍্যাব বা প্রশাসনকে দিয়ে শায়েস্তা করার একটা কু-পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই নাকি মুন্নি সাহা জার্মানির পথে?
বাংলাদেশের চলমান সমস‍্যা দারিদ্রতা, দুর্নীতি, হত‍্যা-খুন, সন্ত্রাস, গুম, বিচার বহির্ভূত হত‍্যাকান্ডসহ অন‍্যান‍্য সমস‍্যার মূলে যে সমস‍্যাটি সবচেয়ে বড় তা হলো গণতন্ত্র চর্চার অভাব। কী রাজনৈতিক দল, কী সরকার, কী বিরোধী দল, কী পেশাজীবী সংগঠন কোথাও কী গণতন্ত্র চর্চার পরিপূর্ণ রুপ লক্ষ‍্য করা যায় সেখানে? গণতন্ত্রহীনতাই আইনের শাসন, মানবাধিকার রক্ষা, গণমাধ‍্যমের স্বাধীনতা ও সহিষ্ণুতার পথের একমাত্র বাধা। কাজেই গণতন্ত্রকে সামনে এগিয়ে নিতে না পারলে দুর্নীতিও থাকবে, দুবর্ৃত্তায়নও চলবে, মানুষ হত‍্যা, সাংবাদি পেটানো এবং দলাদলি, হাতাহাতি, সংঘাত, সংঘষর্ কোনটারই যবনিকাপাত হবে না।
উপসংহারে বলবো, আমরা কেউই জানি না যে মুন্নি-মামুন ও এটিএন বাংলার কী পরিকল্পনা কিংবা উনারা কি চাইছেন? সাংবাদিক সাগর-রুনি যেকারণেই নিহত হোক না কেন সেই কারণটাতো দেশবাসি জানতে চান। সাংবাদিক সমাজ ও দেশের মানুষ চান না যে খুনিরা ধরাছোয়ার বাইরে থাকুক। খুনিদের যেকোন মূলে‍্য গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করাইতো সমাজ, সরকার ও সাংবাদিক সকলেরই মহান দায়িত্ব হওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু জাতির দুর্ভাগ‍্য যে হত‍্যাকান্ডের চার মাসেও সরকার খুনিদের গ্রেফতার করতে পারেনি বা গ্রেফতার করেনি। সাংবাদিক সাগর-রুনির হত‍্যাকান্ড নিয়ে যত গল্পই সাজানো হোক না কেন সাগর ও রুনি যে নিজেরাই পরস্পরকে খুন করেননি সেটা পৃথিবীর কোন মানুষের কাছেই বিশ্বাসযোগ‍্য হবে না কোনদিনও। তাই সবপক্ষ সব মহলকেই আহবান জানাবো প্লিজ খুনিদের পক্ষ নেবেন না। আর এই আত্মঘাতি পথে পা বাড়ালে গণমাধ‍্যমের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র উভয়কেই বিপদের মুখে ঠেলে দেয়া হয়। এই সত‍্যটা ঢাকঢোল বাজিয়ে জানানোর কিছু নেই। যারা আজ পরস্পরের বিপক্ষে হাতাহাতি ও নিহত সহকর্মীদের চরিত্র হননের মিশন নিয়ে মাঠে আছি তারা কিন্তু কেউই কচি খোকা নই। মাঝে মাঝে মনে হয় এটা কী সাংবাদিকতা নাকি সন্ত্রাসবাদ? প্রিয় পাঠক আপনারাই বলুন সাংবাদিক কী কখনও সন্ত্রাসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারে? কেউ কোন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে যুক্ত হলে তাকে কী সাংবাদিক বলা যায় নাকি সন্ত্রাসী? পরিশেষে বলবো জাতির বিবেক বলে যারা নিজেদেরকে আমরা জাহির করি তাদের অসহিষ্ণু হলে সাগর-রুনির খুনিরাই উপকৃত হবে! ছবি বাংলানিউজ, ফেইসবুক থেকে নেয়া।

বাবা দিবসের শান্তনা!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। ২০০৭ সালের ২৩ অক্টোবর দিবাগত মধ্যরাতে প্যারামিলিটারি ফোর্সের লোকেরা যখন আমাকে আমার বাসা থেকে ধরে তখন আমাদের ছোট্র শিশু সন্তান ফিমান ছিল আমার কোলেই। ওর বয়স মাত্র চার মাস। কিছুই বোঝে না। দুই বছর বয়সে যখন জার্মানিতে চলে আসলাম তখন আমি ও ফারহানা তাকে আস্তে আস্তে সেই দু:সহ নির্মমতাগুলি গল্পের ছলে বলেছিলাম। সবকিছুই তার মনে আছে। শিশু মনতো একেবারেই পরিস্কার ও স্বচ্ছ, নিখাদ। আস্তে আস্তে ও স্পাইডারম্যানের ভালাবাসায় পড়ে। স্পাইডারম্যান ছাড়া এখন আর কিচ্ছু বোঝে না ও। জুতা, কিন্ডারগার্ডেনের ব‍্যাগ থেকে শুরু করে শাটর্ গেঞ্জি সবকিছুই ওর স্পাইডারম্যানের ছবিসমেত হওয়া চাই-ই চাই।

আজ সকালে পুলিশের একটি গাড়ি সাইরেন বাজতে বাজতে রাস্তার পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। এসময় তার স্বদেশের প্যারামিলিটারি ফোর্সের কথা মনে পড়েছে। ও বললো বাবা রেব (অনলাইনে এই বানানটি র এর পরে জফলা দিয়ে লেখা যায় না) যদি তোমাকে আবার ধরতে আসে তবে আমি স্পাইডারম্যান হয়ে ওদের সাথে “ফাইটিং” করে তোমাকে নিয়ে আসবো। ও ভালো করে বোঝে না এখনও মা দিবস কিংবা বাবা দিবসের মর্ম কী? কিন্তু আজ একটা বিশেষ দিনে ফিমান আমাকে এই উপহারটিই দিলো। মাঝে মধ্যে ফিমান আমাকে প্রশ্ন করে বলে, “বাবা রেব তোমাকে কেন ধরেছিল, কেন মেরেছিল?”

আমি বলি যে, আমি ওদের কাজ নিয়ে রিপোর্ট লিখেছিলাম, বাবা। পাল্টা প্রশ্ন ওর, তুমি কেন রিপোর্ট লিখেছো বাবা? আমি বলি, ওটা আমার পেশাগত দায় বাবা। তখন বলে তুমি আরও লিখো বাবা, রেব আর তোমকে ধরতে পারবে না। ফিমান বলে বাবা, রেব কী তাহলে ড. অক্টোপাসের (ফিল্মে অক্টোপাস স্পাইডারম্যানকে মারধোর করে তাই ওর ধারণা রেব ওদের মতো দুষ্টু) মতো দুষ্ট! আমি স্পাইডারম্যান হয়ে ওদেরকে মেরে দেবো!

আমি আবার বলি বাবা, কারণে কিংবা বিনা কারণে কোনভাবেই কাউকে মারতে হয় না। কাউকে মারা অন‍্যায় এবং অপরাধ। তখন ও আমাকে বলে তাহলে আমি ওদেরকে মারবো না, কিন্তু তোমাকে আমি ওদের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসবো। ফিমান ১১ জুনে পাঁচ বছর পূর্ণ করেছে।

বাংলাদেশে ক্রমাগত সাংবাদিক হত‍্যা-নির্যাতন: তবুও মিডিয়া ও সাংবাদিকরা শতভাগ স্বাধীন!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। কোথায় রিজভী নেওয়াজ এবং নরওয়ে থেকে পুরস্কারপ্রাপ্ত ব‍্যবসায়ী ও মিডিয়া মালিক লতিফুর রহমান? এই দুজন শান্তি ও মানবাধিকারের দেশ নরওয়েতে কিছুদিন আগে বলে গেলেন যে, “বাংলাদেশের মিডিয়া ও সাংবাদিকরা শতকরা একশত ভাগ স্বাধীনতা ভোগ করছেন”। এরপরই লতিফুর রহমানের পত্রিকা দৈনিক প্রথম আলোর তিন ফটো সাংবাদিককে জনারন‍্য রাস্তায় পেটালো পুলিশ। অনলাইন সংবাদ সংস্থা বিডিনিউজ এ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটলো। ওই ঘটনায় দুই সাংবাদিক ও এক কর্মচারি আহত হলেন। সাংবাদিক সাগর-রুনির খুনিরা আজও ধরা পড়েনি। আর গতরাতে দেশে আরেক সাংবাদিক খুন হলেন। যশোর থেকে প্রকাশিত বাংলা দৈনিক গ্রামের কাগজ এর সাংবাদিক জামালউদ্দীনকে সন্ত্রাসীরা বেশ কিছুদিন ধরে হত‍্যার হুমকি দিয়ে আসছিল। এবিষয়ে তিনি থানায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সাধারণ ডায়েরিও করেছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশের ঠুটো জগন্নাথমার্কা পুলিশ, র‍্যাব জামালউদ্দিনকে শেষ পর্যন্ত হত‍্যাই করে ফেললো। এ থেকেই বোঝা যায় দেশে সন্ত্রাসী, মাদক ব‍্যবসায়ীরাই র‍্যাব-পুলিশের চেয়ে শক্তিশালী। দুবর্ৃত্ত রাজনৈতিক শক্তির মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী-মস্তান ও গুন্ডাদের হাতে একের পর এক সাংবাদিক খুন এবং নির্যাতিত হচ্ছেন। তারপরও একদল সরকারি চাটুকার ও দালাল সাবাদিক-মিডিয়া মালিক সত‍্য চেপে রাখতেই স্বাচ্ছন্দ‍্যবোধ করছেন। কিন্তু কেন, তাতে কী মিডিয়া ও সাংবাদিকরা লাভবান নাকি ক্রমাগত ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন?
নিহত সাংবাদিক জামালউদ্দিন শার্শা প্রেসক্লাবের ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। সবর্নাশা মাদক ব‍্যবসার ওপর একটি অনুসন্ধানী প্রতিবদেন লিখেছিলেন এই সাহসী সাংবাদিক। আর সেটাই কাল হয়ে গেলো এই সাংবাদিকের জীবনে। সন্ত্রাসীরা তাকে কুপিয়ে, হাত পায়ের রগ কেটে ও চোখ উপড়ে হত্যা নৃশংসভাবে হত‍্যা করে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের পাবনা প্রতিনিধি এ বি এম ফজলুর রহমানের ওপর হামলাকারীরাও আজও গ্রেফতার হয়নি। এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ক্ষমতাসিন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও বাংলাদেশের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি মোহাম্মদ নাসিম। এই নেতার কথা, “সাংবাদিকের ওপর হামলাকারী সন্ত্রাসীরা গ্রেপ্তার না হলে সরকারের সুনাম নষ্ট হয়। একটি স্বাধীন দেশে এ অবস্থা চলতে পারে না।” গত ১৯ মে দুপুরে এডওয়ার্ড কলেজ ক্যাম্পাসের শিক্ষক ডরমেটরির সামনে সন্ত্রাসীরা পাবনা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমানকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এই সন্ত্রাসীরা ক্ষমতাসীন দলের চিহ্নিত সন্ত্রাসী বলেও অভিযোগ আছে! আসলে সুনাম থাকলেতো সেই সুনাম নষ্টের প্রসঙ্গ আসতে পারে!
রিজভী নেওয়াজ নামে এক সাংবাদিক নরওয়ে থেকে বাংলঅদেশে ফিরে গিয়ে আমাকে রীতিমতো ধমক দিয়ে একটা চিঠি লিখেছেন। চিঠিতে তার দাবি, “আমি নাকি বাংলাদেশ সম্পর্কে কুৎসা রটাচ্ছি! তিনি একইসঙ্গে নরওয়জিয়ানদের ব্লাডি বলে গালমন্দও করেন সেই চিঠিতে।” আমার প্রশ্ন সাংবাদিক হত‍্যা নির্যাতনের ঘটনাগুলির তথ‍্য তুলে ধরলে কী তাকে কুৎসা রটানো বলে অভিহিত করা যায়? সত‍্যটাকে চেপে যায় যারা তাদেরকে সুবিধাবাদি বা মতলবাজ বললে কী খুব বেশি ভুল বলা হয়? রিজভী নেওয়াজ ও লতিফুর রমানকে বলছি সত‍্য কখনও বিপদজনক হতে পারে না।
রিজভী নেওয়াজরা কী বলতে পারেন মেঘেরা কেন এতিম হচ্ছেন বাংলাদেশে? সাগর-রুনির হত‍্যাকান্ড, বিডিনিউজে হামলা, জামালউদ্দিন, মানিক সাহা, হুমায়ুন কবির বালু, দীপংকর গৌতম, গৌতম সাহা,হারুন রশিদ খোকন, শ ম আলাউদ্দিন, শামছুর রহমান কেবলসহ ৪২ জন সাংবাদিক হত‍্যা কী প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের মিডিয়া ও সাংবাদিকরা শতভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন? সাংবাদিক জামালউদ্দিনের হত‍্যাকান্ড নিয়ে ১৯৮৪ সাল থেকে বাংলাদেশে ৪২ জন সাংবাদিক ও একজন বিখ‍্যাত লেখক অধ‍্যাপক ড. হুমায়ুন আজাদ নিহত হলেন। এরমধে‍্য ক’টি হত‍্যাকান্ডের বিচার পাওয়া গেছে বা সঠিক ও কার্যকর তদন্ত হয়েছে তা কী লতিফুর রহমানরা বলতে পারবেন? আর কত শত সাংবাদিক নির্যাতিত এবং মিথ‍্যা ও হযরাণিমূলক মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন তার হিসাব কী রিজভী নেওয়াজদের হাতে আছে? মাত্র ছয় বছরের শিশু মাহির সরোয়ার মেঘ কে আজ একাই জন্মদিন পালন করবে, সেই উত্তর কী আছে রিজভী নেওয়াজ ও লতিফুর রহমানের কাছে?
নিহত সাংবাদিকরা হলেন ১. মানিক সাহা (বিবিসি, দৈনিক সংবাদ ও নিউ এইজ), ২. হুমায়ুন কবির বালু (সম্পাদক দৈনিক জন্মভূমি), ৩. সাইফুল আলম মুকুল (সম্পাদক দৈনিক রানার), ৪. দীপংকর চক্রবর্ত্তী (নির্বাহী সম্পাদক দৈনিক দুর্জয় বাংলা), ৫. শামছুর রহমান কেবল (বিশেষ সংবাদদাতা দৈনিক জনকণ্ঠ), ৬. শ ম আলাউদ্দিন (সম্পাদক দৈনিক পত্রদূত), ৭. শেখ বেলালউদ্দিন (দৈনিক সংগ্রাম), ৮. হারুন রশিদ খোকন (দৈনিক পূর্বাঞ্চল), ৯. গৌতম দাশ (দৈনিক সমকাল), ১০. ফরহাদ খাঁ (যুগ্ম সম্পাদক দৈনিক জনতা), ১১. ফতেহ ওসমানী (সাপ্তাহিক ২০০০), ১২. মোহাম্মদ গোলাম মাহফুজ (সম্পাদক দৈনিক কুমিল্লা মুক্তকণ্ঠ), ১৩. ফারুক হোসেন (দৈনিক রানার), ১৪. কামাল হোসেন (দৈনিক আজকের কাগজ), ১৫. সৈয়দ ফারুক আহম্মেদ (দৈনিক পূবালি বার্তা), ১৬. নহর আলী (দৈনিক অনির্বাণ), ১৭. শুকুর হোসেন (দৈনিক অনির্বাণ), ১৮. মোহাম্মদ কামরুজ্জামান (সাপ্তাহিক নীলসাগর), ১৯. এম এম আহসান হাবিব বারী (নির্বাহী সম্পাদক সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক সময়), ২০. আবুল হাসান আসিফ (দৈনিক ইনকিলাব), ২১. আলতাফ হোসেন (সাপ্তাহিক ব্রজকণ্ঠ), ২২. মাহবুব টুটুল (আজকের প্রত‍্যাশা), ২৩. ফরিদুল ইসলাম রনজু (দৈনিক ভোরের ডাক), ২৪. রফিকুল ইসলাম (দৈনিক লোকসমাজ), ২৫. মনির হোসেন রাঢ়ী (সভাপতি মুলাদী প্রেসক্লাব), ২৬. জামালউদ্দিন (রাঙ্গামাটি), ২৭. আহসান আলী (নারায়ণগঞ্জ), ২৮. বজলুর রহমান (চুয়াডাঙ্গা), ২৯. আবদুল হান্নান (ডেমরা), ৩০. সারওয়ারুল আলম নোমান (ময়মনসিংহ), ৩১. আবদুল গফ্ফার চৌধুরী (যশোর), ৩২. রেজাউল করিম রেজা, ৩৩. নাবিল আবদুল লতীফ, ৩৪, আনোয়ার এ‍্যাপোলো, ৩৫. শফিকুল ইসলাম মিঠু ( ফটো সাংবাদিক, এটিএন বাংলা), ৩৬. আতিক ইসলাম আতিক (ভিডিও সম্পাদক এনটিভি), ৩৭. নূরুল ইসলাম রানা (মুক্তমন), ৩৮, মীর ইলিয়াস হোসেন দিলীপ (দৈনিক বীর দর্পণ), ৩৯. গোলাম মাজেদ (প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক দৈনিক রানার), ৪০. সাগর সরোয়ার (বার্তা সম্পাদক মাছরাঙ্গা টিভি), ৪১. মেহেরুন রুনি (সিনিয়র রিপোর্টার এটিএন বাংলা), ৪২. জামালউদ্দিন (দৈনিক গ্রামের কাগজ)। এছাড়া মৌলবাদি জঙ্গিদের হামলায় গুরুতর আহত ঢাকা বিশ্বিবদ‍্যালয়ের অধ‍্যাপক বিশিষ্ট লেখক ড. হুমায়ুন আজাদ পরবর্তীতে মারা যান।
এতকিছুর পরও সরকারি দালাল ও জ্ঞানপাপীরা বলবে যে দেশে মিডিয়ার স্বাধীনতা আছে? ছবি ফেইসবুক থেকে নেয়া।

শুভ জন্মদিন মেঘ!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। স্বদেশে রাষ্ট্রযন্ত্র চালানোর দায়িত্ব নিয়েছেন যারা তাদের ভেতরে কী একটা সরিষার দানার পরিমাণের মতোও কোন মানবিকতা, জবাবদিহিতা, দায়বদ্ধতা, দেশপ্রেম কাজ করে? পরিস্থিতি, পারিপাশ্বর্িকতা আর ঘটনাক্রম বিশ্লেষণ করলে উত্তর আসবে না, একেবারেই নয়! মানুষ খুন হয়, গুম হয়, রাষ্ট্রীয় বাহিনী মানুষ খুন করে, মানুষ খুন করে আবার মিথ‍্যা প্রতিবেদন তৈরি করে ওরা। সেই কাল্পনিক ও ডাহা মিথ‍্যা প্রতিবেদন আবার “তথাকথিত গণমাধ‍্যম” হুবুহু তুলে ধরে দেশ-জাতির সামনে। মানুষ বিচার পান না। কিন্তু বিনাবিচারে বছরের পর বছর জেলে কাটে কারও জীবন।
আজ ১৬ জুন। মাহির সরোয়ার মেঘ এর ষষ্ঠ জন্মদিন। গত বছরের এই দিনে মেঘ বাবা-মার সঙ্গে কতই না মজা করেছিল! কিন্তি আজ, আজ সবকিছুই যেন ফাঁকা, এলোমেলো। দুবর্ৃত্তরা মেঘের বাবা সাগর ও মা রুনিকে নৃশংসভাবে হতঅ করেছে ১১ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু খুনিরা আজও শনাক্ত হয়নি ধরা পড়েনি। এই জোড়া খুনের বিচার পাওয়া যাবে কোনদিনও তা কী আশা করা যায়? এই ছবিটার দিকে তাকিয়েও রাষ্ট্রপরিচালকদের মন গলে না। কোন মুখে আমি বলবো “শুভ জন্মদিন মেঘ”? আমাদের প্রিয় সাগর-রুনির খুনিদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত আমাদের লজ্জা কী নিবারণ হবে কখনও। কী জবাব দেবো আমরা মেঘকে? আমাদের নিলর্জ্জ শাসকগোষ্ঠীর ঘুম ভাঙবে কবে? সাগর-রুনি হত‍্যাকান্ডের পর শেখ হাসিনা শিশু মেঘকে দেখভালের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তাঁর ভাষায় তিনি মেঘের সব দায়িত্ব নিলেন বলে ঘোষণা দেন। কিন্তু সেই ঘোষণা কেবল ঘোষণাই রয়ে গেলো আর দশটি রাজনৈতিক মিথ‍্যা প্রতিশ্রুতি বা ঘোষণার মতোই!
লজ্জায় আর অপমানে নিজের প্রতি প্রচন্ড রাগ, আক্রোশ হচ্ছে! তবুও তোমার কাছে ক্ষমা চাওয়া ছাড়া আর কিছুই করার ক্ষমতা যে নাই বাবা “মেঘ”! আজকের এই দিনটা যে কত আনন্দের হতে পারতো তোমার জন‍্য তা কী এই সমাজ, রাষ্ট্র, সরকার, সুশিল মানুষেরা বুঝতে পারছে? মেঘ তুমি কিন্তু ক্ষমা করো না আমাদের কাউকেই না। বড় হও, একদিন তুমি এমন বড় হবে যে তোমার প্রিয় বাবা-মার খুনিদের সেদিন আর কেউ রক্ষা করতে পারবে না। বাংলাদেশে এখথন ১৬ জুন। আর আমার এথানে এখনও ১৫ জুন। তবুও বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী মেঘকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতেই এই ছোট্র লেখা। এবারের জন্মদিনে মেঘের পাশে থাকবে না কেউ। মেঘ হয়তো এখনও ভাবছে বাবা-মা ফিরে আসবে! কিন্তু সেতো আর পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারছে না যে তার বাবা মাকে এই নষ্ট পচা ও দুর্গন্ধময় সমাজটা পাঠিয়ে দিয়েছে দূরে বহু দূরে। যেখান থেকে মানুষ আর ফেরে না কখনও। শুভ জন্মদিন মেঘ! ছবি ফেইসবুক থেকে নেয়া।

রক্তাক্ত মায়ানমার: অমানবিক উক্তি নয় সাগরে ভাসা মানুষদেরকে আশ্রয় দিন!


জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ।। সহিংসতাপূর্ণ রক্তাক্ত মায়ানমার থেকে মানুষ বাঁচার জন‍্য সীমান্ত ও নদী পেরিয়ে আসতে চাইছে বাংলাদেশের সবুজ মাটিতে। আর বাংলাদেশ সরকার সেই নি:স্ব ও বিপদাপন্ন মানুষদেরকে মৃতু‍্যর মুখে ঠেলে দিচ্ছে! নৌকাভর্তি মানুষ যাতে বাংলাদেশে ঢুকতে না পারে তারজন‍্য বাংলাদেশ সরকার বডর্ার গার্ড বা বিজিবিকে সতর্কতা অবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রি ডা. দীপু মনি সাফ জানিয়ে দিলেন “এটা আমাদের স্বার্থ নয় যে, মিয়ানমার থেকে নতুন করে শরনার্থী আসুক।” মায়ানমারে সহিংসতার প্রেক্ষিতে রাখাইন প্রদেশ থেকে জীবন পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ঢুকতে দিতে সরকারকে সরকারকে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরনার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। এরপরই দীপু মনির এই অমানবিক বক্তব‍্য প্রদান বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে কী বাড়িয়ে দেবে বিশ্বসম্প্রদায়ের কাছে? যেখানে সরকার ভাবমূর্তি নিয়ে সবসময় একটা জিহাদী মানসিকতা প্রদর্শন করে আসছে বরাবরই সেখানে সরকারের শরনার্থীবিরোধী, মানবাধিকারবিরোধী অবস্থান কিসের সাক্ষ‍্য বহন করে?
কোন মানবিক, গণতান্ত্রিক সরকার যারা মানবাধিকারে বিশ্বাস করে কখনও কোন সাহায‍্যপ্রার্থীকে এভাবে বিপদের মুখে ঠেলে দিতে পারে? আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রতিবেশি ভারত আমাদের শরনার্থীদের স্থান না দিলে কী অবস্থা ঘটতো, এই ইতিহাস দীপুমণিরা ভুলে গেছেন বোধহয়! আসলে উনারা অন্তর্মুখী থাকতে চান, পেছনের দিকে যেতে চাইছেন, সামনে নয়। সর্বোপরি আন্তর্জাতিক আইন-কানুন ও রীতি-নীতিকে অস্বীকার করছেন উনারা। দীপু মণিরা পলিটিক্স বোঝেন কিনা তা নিয়েও সন্দেহ করার মতো কথা থেকেই যায়!
আমরা আশা করি সরকার এই কঠিন বিপদের মুহুর্তে মায়ানমার থেকে বিতাড়িত বা প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেশের ভেতরে আসার এবং তাদের নিরাপত্তা ও অন‍্যান‍্য জরুরি প্রয়োজনীয় চাহিদাগুলি মেটানোর উদে‍্যাগ নেবে। এটা সরকারের মানবিক ও আন্তর্জাতিক দায়ও বটে!
মায়ানমারে যে মানবহত‍্যাযজ্ঞ চলছে তা বন্ধে সেখানকার রাজনীতিক, সুশিল সমাজ ও প্রশাসন জরুরি ব‍্যবস্থা নেবে বলেও আমাদের দৃঢ় প্রত‍্যাশা। বিশ্ববিবেক জাগ্রত হোক মানুষ ও মানবতা রক্ষায়। জাতি, ধমর্, বিশ্বাস, বর্ণ নয় সকল মানুষকে মানুষ হিসেবেই দেখতে হবে সব পক্ষকেই। মানুষ হত‍্যা কোনভাবেই কোন অজুহাতেই গ্রহণযোগ‍্য নয়, হতে পারে না। মুসলমান, বৌদ্ধ, কিংবা হিন্দু ও খ্রিষ্টান বলে কোন পার্থক‍্য করার মানেই হলো সাম্প্রদায়িকতা, ধমর্ান্ধতা। এসবকিছুই পরিহার করে আলোচনা, সহনশীল পরিবেশ ও সমস‍্যা বা দ্বন্দ্ব সংঘাতের কারণগুলি চিহ্নিত করে তার একটা কার্যকর সমাধানে পৌঁছতে সবাইকে সমান ত‍্যাগ স্বীকার ও দায় নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে মানবতা ও মানবমুক্তির পথে। এক্ষেত্রে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক বা অন‍্য কোন ষড়যন্ত্র, উদ্দেশ‍্য বা প্রভোকেশন বরদাশত করার মতো নয়! কোথায় কথিত মানবাধিকারের সোল এজেন্টরা, কী করছেন নোবেলজয়ী গণতান্ত্রিক নেত্রী অং সান সুচী? সকলধরণের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ পরিহার করে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ তথা বিশ্বসম্প্রদায়কে এই বিশ্বসভায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিরপেক্ষভাবে একযোগে একসাথে কাজ করতে হবে। নইলে কোন এক বিশেষ দেশ বা অঞ্চলের সংকটের পাশ্বর্প্রতিক্রিয়া সবখানেই ছড়িয়ে পড়বে।
মানুষ সাগরে ভাসছে! তারা বৌদ্ধ কী মুসলমান সেটা বড় কথা নাকি জরুরি প্রয়োজনে মানুষের জীবন বাঁচানোটাই বড় কথা? মানুষের প্রতি নিষ্ঠুরতা প্রদর্শন ও ভৌগোলিক সীমারেখার অজুহাত ভুলে যান। মানবিকতার, ভালবাসার জায়গাটাকে বড় করতে না পারলে কী আমরা কেউ কাউকে সভ্য বলে দাবি করতে পারি? ছবি ফেইসবুক থেকে নেয়া।